ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে: রাষ্ট্রপতি

দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে: রাষ্ট্রপতি

দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতিতে দেশের সব প্রতিষ্ঠান ছেয়ে গেছে। তবে এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। সবাই ধৈর্য ধরে এগিয়ে গেলে সফলতা আসবেই।আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শন শেষে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। মির্জা ফখরুল বলেন, কৃষি এখন লাভজনক না হওয়ায় অনেকে এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারি প্রণোদনা সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দিতে হবে।কৃষি খাতের মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধানে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে কৃষিবিজ্ঞানীদের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। প্রয়োজন হলে আইন সংশোধন করে হলেও তাঁদের পেনশনের সুব্যবস্থা করতে হবে।রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, শাকসবজি ও ফলমূল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণ করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়ন, গবেষণার সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।

চলে গেলেন বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ

বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ মারা গেছেন। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।)সালাউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বড় ছেলে তানভীর আহমেদ। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তাঁর মৃত্যুর খবরে বিএনপির নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ এবং জানাজা ও দাফনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

চলে গেলেন বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ

দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হবে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি

দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজু শহরের আন্তর্জাতিক জাদুঘর কমপ্লেক্সে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন এশিয়ান কালচারাল সেন্টারের (এসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কিম সাং-উক।৮ থেকে ১১ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজু শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে চার দিনব্যাপী ‘এশিয়ান কালচার উইক ফেস্টিভ্যাল’। উৎসব চলাকালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিম সাং-উক বাংলাদেশের সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে তা তুলে ধরার পরিকল্পনার কথা জানান।পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসিসির সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে ‘দক্ষিণ এশিয়া জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। সেখানে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সংগীত, লোকশিল্প ও সমসাময়িক জীবনযাত্রার বিভিন্ন উপাদান প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে তুলে ধরতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।গবেষণায় গুরুত্ব, বাড়বে বই সংগ্রহএসিসির এশিয়ান লাইব্রেরিতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিবিষয়ক বই রয়েছে। তবে উচ্চতর গবেষণা এবং তথ্য বিনিময়ের সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ থেকে আরও বই ও গবেষণাসামগ্রী সংগ্রহ করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানটি।এ উদ্যোগের বিষয়ে হানসুং বিশ্ববিদ্যালয়ের রিয়েল এস্টেট বিভাগের অধ্যাপক ইয়োন গিল ইউ বলেন, আন্তর্জাতিক এই সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করতে পারে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে।এশীয় সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক কেন্দ্র২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এশিয়ান কালচারাল সেন্টার দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। স্থপতি উ ক্যু-সংয়ের ‘ফরেস্ট অব লাইট’ বা ‘আলোর বন’ দর্শনের ভিত্তিতে নির্মিত এই কেন্দ্রে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিল্প ও সংস্কৃতির বিনিময় হয়।ভূগর্ভে চার তলাবিশিষ্ট এই কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী, গবেষণা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশটির ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও গবেষণার সুযোগও বাড়তে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হবে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি

সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি, বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে প্রস্তাবিত সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রকল্পটি স্থগিত না হলে বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পাঠানো একটি ই-মেইলে এসব উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান মেটাকোরের দাবি, প্রযুক্তি সরবরাহকারী পরিবর্তন এবং নোকিয়া ও ইনফার্নার প্রযুক্তি গ্রহণের পর আগের বাধা কেটে গেছে।গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের ইকোনমিক মিনিস্টার ফজলে রাব্বি তৎকালীন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীকে একটি ই-মেইল পাঠান। বর্তমানে আশিক চৌধুরী ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান। ই-মেইলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আপত্তি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।দৈনিক আমার দেশ-এর হাতে আসা নথি অনুযায়ী, চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে মেরিনের নির্মিত এবং মিয়ানমার থেকে সিঙ্গাপুরগামী সিগমা ক্যাবলের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি ছিল। মার্কিন পক্ষের আশঙ্কা, প্রকল্পটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আকর্ষণের সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।বর্তমান সরকারের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা এবং গুগল, ফেসবুক ও অ্যামাজনের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।এডিবির ঋণ প্রস্তাব নিয়ে আপত্তিই-মেইলটি পাঠিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা লরা এন্ডারসন। এর সঙ্গে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের লাইসেন্স পাওয়া মেটাকোরের প্রকল্পে মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে চাওয়া ঋণ প্রস্তাবের নথি সংযুক্ত ছিল।ই-মেইলে বলা হয়, প্রকল্পটির জন্য প্রস্তাবিত ঋণ নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি এডিবির বোর্ডে ভোট হওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, প্রকল্পটি নিয়ে তাদের গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। ঢাকায় কর্মরত মার্কিন কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে প্রকল্পটির বিষয়ে আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও অবহিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেছে ওয়াশিংটন।মার্কিন পক্ষের মতে, প্রকল্পটি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, ক্যাবলটির আয়ুষ্কাল সীমিত এবং এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।ই-মেইলে আরও বলা হয়, ঢাকায় অনুষ্ঠিত আলোচনার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, অন্তর্বর্তী সরকারও প্রকল্পটির প্রতি সমর্থনশীল নয়। এ অবস্থায় বাংলাদেশকে ঢাকায় ও ম্যানিলায় এডিবির প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের আপত্তির কথা জানাতে এবং প্রকল্পটি এডিবির বোর্ডের বিবেচনা থেকে প্রত্যাহারের অনুরোধ করতে বলা হয়।প্রকল্পটির বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এডিবির কাছে তুলে ধরতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এডিবির কাছে বার্তাটি পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।ই-মেইলটি পরে ফজলে রাব্বি আশিক চৌধুরীর কাছে পাঠান। এর অনুলিপি দেওয়া হয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এডিবির প্রতিনিধিদেরও।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগমার্কিন ই-মেইলে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচএমএন টেকনোলজিসকে (সাবেক হুয়াওয়ে মেরিন নেটওয়ার্কস) ‘আনট্রাস্টেড’ বা অবিশ্বস্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের এন্টিটি লিস্টে রয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এটিকে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সঙ্গে সাইবার গোয়েন্দা কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে ই-মেইলে দাবি করা হয়।যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে হুয়াওয়ে ও চীনভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সাইবার নজরদারি, অননুমোদিত তথ্য সংগ্রহ এবং গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোয় হস্তক্ষেপের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।সাবমেরিন ক্যাবল আন্তর্জাতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এর নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা থাকায় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ কারণে চীন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের আপত্তি রয়েছে।খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে আমার দেশ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির মুখে বিভিন্ন দেশে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের চুক্তি বাতিল বা ক্যাবলের রুট পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে সিমিউই-৬ এবং চিলি ও অস্ট্রেলিয়াকে যুক্ত করা ট্রান্স-প্যাসিফিক ক্যাবল প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।সিগমা ক্যাবলের সঙ্গে সংযোগ নিয়েও প্রশ্নমার্কিন ই-মেইলে বলা হয়েছে, মেটাকোরের প্রস্তাবিত ক্যাবলটি পুরোনো ও ‘আনট্রাস্টেড’ ইউএমও ট্রাংক ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং নতুন ক্যাবলের দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ইউএমও ক্যাবলটি বর্তমানে সিগমা ক্যাবল নামে পরিচিত, যা সিঙ্গাপুর ও মিয়ানমারকে যুক্ত করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে এর স্থাপন কার্যক্রম শুরু হয় এবং ওই বছরের সেপ্টেম্বরে এটি চালু করা হয়। ফলে প্রস্তাবিত বাংলাদেশি সংযোগটি এমন একটি আন্তর্জাতিক ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা, যার কার্যক্রম শুরু হয়েছে প্রায় তিন বছর আগে।যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, এই সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ডিজিটাল যোগাযোগ অবকাঠামো এমন একটি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে, যার প্রযুক্তিগত সরবরাহকারী নিয়ে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে।মার্কিন প্রযুক্তি বিনিয়োগ হারানোর আশঙ্কাই-মেইলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা হলো—প্রকল্পটি চলমান থাকলে বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে।খাতসংশ্লিষ্ট একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ডিজিটাল বিনিয়োগের জন্য উদ্বেগজনক। সরকারের লক্ষ্য হলো ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা, দেশে এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা এবং ফেসবুক, গুগল ও অ্যামাজনের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বাংলাদেশে বড় আকারের ডেটা সেন্টার ও অন্যান্য ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আস্থা প্রয়োজন। হুয়াওয়ে মেরিন-নির্মিত সিগমা ক্যাবলের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপিত হলে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রশ্ন উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন।এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান উপেক্ষা করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে সিঙ্গাপুর প্রান্তে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব শুধু সাবমেরিন ক্যাবল খাতেই সীমিত না থেকে ডেটা সেন্টার, ক্লাউড কম্পিউটিং, ব্যাংকিং, ই-কমার্স, সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা রপ্তানির মতো খাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।মেটাকোরের বক্তব্যমেটাকোরের অন্যতম মালিক ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল হাকিমের কাছে প্রকল্পটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়ে সতর্কবার্তা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।জবাবে তিনি বলেন, মেটাকোরের কার্যক্রম নিয়ে আগে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু উদ্বেগ বা নিষেধাজ্ঞা থাকলেও হুয়াওয়ের পরিবর্তে নোকিয়া ও ইনফার্নার প্রযুক্তি গ্রহণ এবং মার্কিন ওয়ার্ক অর্ডার নিশ্চিত হওয়ার পর সেই বাধা কেটে গেছে।আমিনুল হাকিমের ভাষ্য, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত চিঠি দেওয়া হয়নি। তবে সমঝোতার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি দল মেটাকোরের কার্যালয় পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে নোকিয়ার সঙ্গে চুক্তি সইয়ের সময় ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই চুক্তির পর পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক ও সহজ হয়ে আসে বলে দাবি করেন তিনি।প্রকল্পটির অগ্রগতি সম্পর্কে আমিনুল হাকিম বলেন, প্রয়োজনীয় মোট নয়টি অনাপত্তিপত্রের (এনওসি) মধ্যে সাতটি পাওয়া গেছে। বাকি রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) অনুমতি। এনএসআই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আপত্তি বা মতামত জানায়নি বলে জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ শুরু হলেও ২০২৬ সালের শুরুর দিকে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির কার্যক্রম চূড়ান্ত অগ্রগতি লাভ করে।নথির সময়ক্রমে ভিন্ন চিত্রতবে মেটাকোরের বক্তব্যের সঙ্গে আমার দেশ-এর হাতে আসা নথির সময়ক্রমে অসংগতি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।নথি অনুযায়ী, মেটাকোর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নোকিয়ার সঙ্গে টার্মিনাল ইকুইপমেন্ট সরবরাহের চুক্তি করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট ই-মেইলটি বাংলাদেশ সরকারকে পাঠানো হয় ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি—নোকিয়ার সঙ্গে চুক্তির প্রায় দুই মাস পর।অর্থাৎ নোকিয়ার কাছ থেকে টার্মিনাল ইকুইপমেন্ট কেনার পর যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি বা কথিত নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে বলে আমিনুল হাকিম যে দাবি করেছেন, নথির সময়ক্রম তার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। বরং নোকিয়ার সঙ্গে চুক্তির পরও যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি জানানোর বিষয়টি নথিতে উঠে এসেছে।বক্তব্য জানতে যোগাযোগএ বিষয়ে জানতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ফজলে রাব্বি, লরা এন্ডারসন ও আশিক চৌধুরীকে ই-মেইল করে আমার দেশ। আশিক চৌধুরী ও ফজলে রাব্বিকে হোয়াটসঅ্যাপেও বার্তা পাঠানো হয়।পরে ৫ অক্টোবর ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় প্রশ্ন পাঠাতে বলা হয়। সেদিনই ই-মেইল করা হলেও পরদিন পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ইনভেস্ট বাংলাদেশের জনসংযোগ কর্মকর্তা তাসনিম সিকদার ৬ অক্টোবর প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৭ অক্টোবরের মধ্যে হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার কথা জানান। ৮ অক্টোবর পুনরায় যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁরা ইকোনমিক মিনিস্টার ফজলে রাব্বির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাঁর সাড়া পেলেই জানাতে পারবেন।অন্যদিকে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় থাকা একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছিলেন, তবে এ-সংক্রান্ত কোনো নথি তখন দেখেননি। সব মিলিয়ে মেটাকোরের সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি, প্রকল্পের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতে সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগের প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে প্রকল্পটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান এবং মেটাকোরের দাবি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি, বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান বাংলাদেশের

ডিজিটাল পরিবেশে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।বৃহস্পতিবার রাশিয়ার মস্কোয় ‘ডিজিটাল চাইল্ডহুড উইদাউট বর্ডারস: বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল প্র্যাকটিসেস ফর চাইল্ড সেফটি অনলাইন’ শীর্ষক প্রাতরাশ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এ সময় উদ্যোগটির জন্য গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরাম ও অ্যালায়েন্স ফর দ্য প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ইন দ্য ডিজিটাল এনভায়রনমেন্টকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।শুধু অভিভাবক বা শিক্ষকের দায়িত্ব নয়ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শিশুরা শিক্ষা ও বিকাশের জন্য অনলাইন জগতের নানা সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা নতুন নতুন ও পরিবর্তনশীল অনলাইন ঝুঁকির মুখেও পড়ছে।শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু অভিভাবক বা শিক্ষকদের দায়িত্ব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সুশীল সমাজসহ সব অংশীজনকে এ দায়িত্ব যৌথভাবে পালন করতে হবে।জাতীয় আইনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজনশিশুদের তথ্য সুরক্ষা ও অনলাইন শোষণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী।তবে শুধু জাতীয় আইন দিয়ে এ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সমাধান এবং কার্যকর অনুশীলন বিনিময় এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।মস্কোর বৈঠকে ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স টু প্রটেক্ট চিলড্রেন ইন দ্য ডিজিটাল এনভায়রনমেন্ট’-এর খসড়া যৌথ ঘোষণা ও টার্মস অব রেফারেন্স পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানান ফকির মাহবুব আনাম।তিনি বলেন, প্রস্তাবিত দলিলটি জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের আলোকে শিশুদের অধিকারকেন্দ্রিক একটি সমন্বিত কাঠামো তুলে ধরেছে।তিন নীতিতে বাংলাদেশের সমর্থনউদ্যোগটির তিনটি মূল নীতির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথা জানান মন্ত্রী। এগুলো হলো—শিশুর সার্বিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া, সব অংশীজনের যৌথ দায়বদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা বিনিময়।তিনি বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলসহ সব ভৌগোলিক অঞ্চলের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে বহুপক্ষীয় কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ বৈশ্বিক কৌশলে প্রতিফলিত হবে।শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা সূচক বা ‘ডিজিটাল চাইল্ডহুড সেফটি ইনডেক্স’ এবং গবেষণার জন্য বিশেষ প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাবকেও বাংলাদেশ স্বাগত জানায় বলে জানান তিনি।ডিজিটাল সাক্ষরতার ওপর গুরুত্বকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সময়ে শিশু, অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন ফকির মাহবুব আনাম।তিনি বলেন, ডিজিটাল বিষয়ে সচেতনতা ও জ্ঞান বাড়ানো গেলে অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।অনলাইন বুলিং, যৌন হয়রানি ও তথ্য চুরি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদে ও নির্ভয়ে ডিজিটাল বিশ্বে বিচরণ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই বৈশ্বিক অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।আন্তর্জাতিক এ ফোরামে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান বাংলাদেশের

১৩ ওভার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ, শেষ সাত ওভারে শ্রীলঙ্কার ঝড়

শুরুটা ছিল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু শেষ দিকে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেল। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে বাংলাদেশকে ১৬৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। টস হেরে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান করেছে তারা।দুই প্রান্ত থেকে স্পিন দিয়ে আক্রমণ শুরু করে বাংলাদেশ। তাতে প্রথম চার ওভারের মধ্যেই চার উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে না থাকা আলিস আল ইসলাম এদিন বল হাতে দারুণ কার্যকর ছিলেন। প্রথম স্পেলে ৩ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। তাঁর করা ১৮ বলের ১২টিই ছিল ডট বল।শেখ মেহেদী হাসানও চাপ ধরে রাখেন। ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। আগের ম্যাচে বোলিং না করা সাইফ হাসানকেও এদিন ব্যবহার করেন অধিনায়ক লিটন দাস। তবে প্রথম দুই ওভারে ১৮ রান দেন সাইফ।মোস্তাফিজের ওভারেই বদলে গেল ম্যাচ১৩ ওভার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে থাকা শ্রীলঙ্কা এরপর পাল্টা আক্রমণে যায়। ১৪তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে আনার পরই ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। নিজের প্রথম ওভারেই ২৫ রান দেন বাঁহাতি এই পেসার। বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারে দেন আরও ১১ রান।১৩ থেকে ১৮—এই ছয় ওভারেই ৮৩ রান তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। ১৮ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৭ রান।এরপর অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ান মোস্তাফিজ। নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই ফিফটি করা থারিন্ডু রত্ননায়েকেকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ওই ওভারে দেন মাত্র ৭ রান।শেষ ওভারে বল হাতে নেন সাইফ হাসান। ওভারে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানে আটকে রাখেন তিনি।বাংলাদেশের হয়ে শেখ মেহেদী ২টি উইকেট নেন। আলিস আল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমানও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট পেয়েছেন। এখন এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ পদক জিততে বাংলাদেশকে ২০ ওভারে করতে হবে ১৬৬ রান।

১৩ ওভার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ, শেষ সাত ওভারে শ্রীলঙ্কার ঝড়

এশিয়ান গেমসে হকিতে ইন্দোনেশিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়

এশিয়ান গেমসের পুরুষ হকিতে দারুণ ছন্দে রয়েছে বাংলাদেশ। ‘এ’ পুলের ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে রোমান সরকারের দল।আজ জাপানের গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে জোড়া গোল করেছেন আমিরুল ইসলাম। অন্য গোলটি এসেছে রাসেল মাহমুদ জিমির স্টিক থেকে।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। প্রথম কোয়ার্টারের ১১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে লাল-সবুজ দলকে এগিয়ে দেন আমিরুল ইসলাম। তাঁর গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথম ১৫ মিনিট শেষ করে বাংলাদেশ।দ্বিতীয় কোয়ার্টারে দুই দলের কেউই গোলের দেখা পায়নি। ফলে বিরতিতে ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।তৃতীয় কোয়ার্টারের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ায় বাংলাদেশ। ৩১ মিনিটে আবারও পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আমিরুল। এরপর ৩৭ মিনিটে ফিল্ড গোল করে বাংলাদেশের ব্যবধান ৩-০ করেন রাসেল মাহমুদ জিমি।শেষ কোয়ার্টারে অবশ্য একটি গোল পরিশোধ করে ইন্দোনেশিয়া। ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে আল আরধ আওলিয়া গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-১। এরপর আর কোনো গোল না হওয়ায় এই ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ করে বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পয়েন্ট আরও বাড়ল। এর আগে আসরের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছিল লাল-সবুজের দল। এবার ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে জয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল বাংলাদেশ।

এশিয়ান গেমসে হকিতে ইন্দোনেশিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়

পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে: তারেক রহমান

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণেরা পরিবর্তন এনেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তেও তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তরুণেরা চাইলে দেশকে পরিবর্তন করা সম্ভব।শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শতভাগ প্রতিরোধ সম্ভব না হলেও ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সরকার তিন মাসের মধ্যে ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে। তারেক রহমান বলেন, প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা নিজের আশপাশ পরিষ্কার করি। রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা ফেলি না। দেশকে পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় নিজেকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশকে সুস্থ রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে: তারেক রহমান

দুর্গাপূজায় বাংলাদেশি ইলিশ চেয়েছে ভারত

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক চিঠি দিয়েছে।ভারতীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গসহ আসাম ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পূজার আগে সীমিত পরিমাণে হলেও ইলিশ রপ্তানির সুযোগ চান তাঁরা। এ বিষয়ে সংগঠনটির নেতারা বাংলাদেশ সফর করে বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠি পাওয়া গেছে। কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা যায়, তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। তবে রপ্তানির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ হয়নি।ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন সময়ে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে অনুমোদিত পরিমাণের তুলনায় বাস্তবে রপ্তানি হয়েছে অনেক কম। সর্বশেষ ১ হাজার ২০০ টন অনুমোদনের বিপরীতে ভারতে গেছে মাত্র ১৫০ টন ইলিশ। পশ্চিমবঙ্গ ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ বলেন, এবার বেশি পরিমাণ ইলিশ আমদানির বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী। একই সঙ্গে রপ্তানির সময়সীমা তুলে দেওয়া এবং ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

দুর্গাপূজায় বাংলাদেশি ইলিশ চেয়েছে ভারত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব আজ মঙ্গলবার নিচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দীর্ঘ চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশ আবারও নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছে।দায়িত্ব গ্রহণের আগে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খলিলুর রহমান। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ এবং অধিবেশন পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।সোমবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বার্তায় খলিলুর রহমানকে ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছে।আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধন করবেন খলিলুর রহমান। তিনি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্বজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ইউএনজিএর ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রায় চার দশক পর আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশ একজন প্রতিনিধি পেল।যেভাবে নির্বাচিত হন খলিলুর রহমানগত ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে খলিলুর রহমানকে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত করেন।নির্বাচনে তিনি সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে ৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। আজ দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামী এক বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের কার্যক্রমে সভাপতিত্ব করবেন খলিলুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর আলোচনা ও সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে খলিলুর রহমান

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামরিক সহযোগিতার কারণে অনেকে এটিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বললেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি ন্যাটোর মতো কোনো সামরিক জোট নয়।তুরস্কের হাসান কালিয়ানকু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি বিশ্লেষক মুরাত আসলাম বলেন, জোটটিকে আক্রমণাত্মক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর একটি উদ্যোগ। এর কোনো নির্দিষ্ট শত্রু দেশ নেই। একই সঙ্গে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সংঘাত এড়ানো এবং বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোও এর লক্ষ্য।প্রাথমিকভাবে তিন দেশ নিয়ে চুক্তি হলেও ভবিষ্যতে আরও দেশ এতে যুক্ত হতে পারে। সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের নামও আলোচনায় এসেছে।বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে ঢাকা ইতিবাচক। তবে এখনো জোটে যোগ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমান সদস্যরা বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানালে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজের মতে, বাংলাদেশ এই জোটে যুক্ত হলে যৌথ সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। বিশেষ করে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়তে পারে। তুরস্ক থেকে বাংলাদেশের বায়রাক্তার ড্রোন ও অটোকার কোবরা ভেহিকেল আমদানির বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।তবে মুরাত আসলাম মনে করেন, মক্কা জোটকে ন্যাটোর সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না। কারণ এর কোনো ন্যাটো-ধাঁচের সামরিক কমান্ড কাঠামো বা যৌথ সেনাবাহিনী নেই।তবে জোটটি নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান এই জোটের সদস্য হওয়ায় ভারত বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছে। ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তানের কোনো সংঘাত হলে জোটটির অবস্থান কী হবে এবং বাংলাদেশ এতে যুক্ত হলে কোনো সামরিক পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে কি না- এগুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।সূত্র: বিবিসি বাংলা

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা

মির্জা ফখরুলকে পুতিনের অভিনন্দন, বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ কামনা

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেছেন তিনি।ঢাকার রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুলকে পাঠানো এক অভিনন্দনবার্তায় পুতিন আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।বার্তায় রুশ প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনার পাশাপাশি বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের কল্যাণে তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে সাফল্য কামনা করেন।রুশ প্রেসিডেন্টের এই অভিনন্দনবার্তাকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুলকে পুতিনের অভিনন্দন, বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ কামনা

নেপালের বন্যা-ভূমিধসে শোক বাংলাদেশের, সহায়তায় প্রস্তুত ঢাকা

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ঢাকা।বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে বাংলাদেশের জনগণ গভীরভাবে শোকাহত। ভয়াবহ এই পরিস্থিতি বাংলাদেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। পর্যটকসহ আরও অনেকের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ এই কঠিন সময়ে নেপাল সরকার এবং দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়েছে।বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশাও জানিয়েছে ঢাকা।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নিহতদের জন্য আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।’এদিকে নেপালের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।’নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানাল বাংলাদেশ।

নেপালের বন্যা-ভূমিধসে শোক বাংলাদেশের, সহায়তায় প্রস্তুত ঢাকা

তামিম-মুশফিকের চোট নিয়ে স্বস্তি, খেলতে পারেন দুজনই

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের আগে স্বস্তি ফিরেছে বাংলাদেশ শিবিরে। অনুশীলনে চোট পাওয়া তানজিদ হাসান তামিম ও মুশফিকুর রহিমের খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলেও দুজনেরই মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।ম্যাকাইয়ে শুক্রবার ম্যাচের আগে শেষবারের মতো অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। আগের দিনের অনুশীলনে আঙুলে চোট পাওয়া তানজিদ হাসান তামিম সকালে স্ক্যান করান। পরে তাঁকে ব্যাটিং করতেও দেখা গেছে। মুশফিকুর রহিমের চোটও গুরুতর নয় বলে জানিয়েছেন শান্ত।সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘মুশফিক ভাই ঠিক আছে। তামিমও আজকে ব্যাট করেছে। আশা করছি কালকে সকালে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’তামিমের খেলার বিষয়ে আরও আশাবাদী শান্ত। তবে ম্যাচের দিন সকালে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘তামিম আজকে ব্যাট করেছে। মেডিকেল টার্মস অনুযায়ী, কালকে সকাল পর্যন্ত দেখতে হবে। আমাদের হাতে সব ধরনের অপশন আছে। আমার মনে হয় না খুব বেশি সমস্যা হবে।’এদিকে ম্যাকাইয়ের উইকেটে বোলাররা বাড়তি সহায়তা পেতে পারেন বলে মনে করছেন শান্ত। বিশেষ করে বাতাস কাজে লাগাতে পারলে পেসাররা সুইং আদায় করতে পারবেন বলে তাঁর প্রত্যাশা।শান্ত বলেন, ‘বাতাসের জন্য বোলাররা সাহায্য পাবেই, সুইং কিছুটা পেতে পারে। বাতাস যদি কাজে লাগাতে পারে বোলাররা, অবশ্যই তাদের জন্য ভালো সুযোগ থাকবে।’অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে শনিবার ভোর ৬টায়। তামিম ও মুশফিককে নিয়ে আপাতত বড় কোনো শঙ্কা না থাকলেও তাঁদের খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ম্যাচের দিন সকালে।

তামিম-মুশফিকের চোট নিয়ে স্বস্তি, খেলতে পারেন দুজনই

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর লাল গোলাপের শুভেচ্ছা

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম পেয়েছেন ৮৮ ভোট।দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোট গ্রহণ করা হয়। ভোট শেষে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। তাঁদের মধ্যে তিনজন ভোট দিতে পারেননি। তাঁরা হলেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর লাল গোলাপের শুভেচ্ছা