ঢাকা    শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে: তারেক রহমান

পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে: তারেক রহমান

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণেরা পরিবর্তন এনেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তেও তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তরুণেরা চাইলে দেশকে পরিবর্তন করা সম্ভব।শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শতভাগ প্রতিরোধ সম্ভব না হলেও ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সরকার তিন মাসের মধ্যে ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে। তারেক রহমান বলেন, প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা নিজের আশপাশ পরিষ্কার করি। রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা ফেলি না। দেশকে পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় নিজেকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশকে সুস্থ রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

দুর্গাপূজায় বাংলাদেশি ইলিশ চেয়েছে ভারত

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক চিঠি দিয়েছে।ভারতীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গসহ আসাম ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পূজার আগে সীমিত পরিমাণে হলেও ইলিশ রপ্তানির সুযোগ চান তাঁরা। এ বিষয়ে সংগঠনটির নেতারা বাংলাদেশ সফর করে বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠি পাওয়া গেছে। কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা যায়, তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। তবে রপ্তানির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ হয়নি।ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন সময়ে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে অনুমোদিত পরিমাণের তুলনায় বাস্তবে রপ্তানি হয়েছে অনেক কম। সর্বশেষ ১ হাজার ২০০ টন অনুমোদনের বিপরীতে ভারতে গেছে মাত্র ১৫০ টন ইলিশ। পশ্চিমবঙ্গ ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ বলেন, এবার বেশি পরিমাণ ইলিশ আমদানির বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী। একই সঙ্গে রপ্তানির সময়সীমা তুলে দেওয়া এবং ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

দুর্গাপূজায় বাংলাদেশি ইলিশ চেয়েছে ভারত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব আজ মঙ্গলবার নিচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দীর্ঘ চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশ আবারও নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছে।দায়িত্ব গ্রহণের আগে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খলিলুর রহমান। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ এবং অধিবেশন পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।সোমবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বার্তায় খলিলুর রহমানকে ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছে।আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধন করবেন খলিলুর রহমান। তিনি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্বজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ইউএনজিএর ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রায় চার দশক পর আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশ একজন প্রতিনিধি পেল।যেভাবে নির্বাচিত হন খলিলুর রহমানগত ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে খলিলুর রহমানকে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত করেন।নির্বাচনে তিনি সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে ৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। আজ দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামী এক বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের কার্যক্রমে সভাপতিত্ব করবেন খলিলুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর আলোচনা ও সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে খলিলুর রহমান

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামরিক সহযোগিতার কারণে অনেকে এটিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বললেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি ন্যাটোর মতো কোনো সামরিক জোট নয়।তুরস্কের হাসান কালিয়ানকু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি বিশ্লেষক মুরাত আসলাম বলেন, জোটটিকে আক্রমণাত্মক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর একটি উদ্যোগ। এর কোনো নির্দিষ্ট শত্রু দেশ নেই। একই সঙ্গে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সংঘাত এড়ানো এবং বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোও এর লক্ষ্য।প্রাথমিকভাবে তিন দেশ নিয়ে চুক্তি হলেও ভবিষ্যতে আরও দেশ এতে যুক্ত হতে পারে। সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের নামও আলোচনায় এসেছে।বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে ঢাকা ইতিবাচক। তবে এখনো জোটে যোগ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমান সদস্যরা বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানালে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজের মতে, বাংলাদেশ এই জোটে যুক্ত হলে যৌথ সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। বিশেষ করে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়তে পারে। তুরস্ক থেকে বাংলাদেশের বায়রাক্তার ড্রোন ও অটোকার কোবরা ভেহিকেল আমদানির বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।তবে মুরাত আসলাম মনে করেন, মক্কা জোটকে ন্যাটোর সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না। কারণ এর কোনো ন্যাটো-ধাঁচের সামরিক কমান্ড কাঠামো বা যৌথ সেনাবাহিনী নেই।তবে জোটটি নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান এই জোটের সদস্য হওয়ায় ভারত বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছে। ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তানের কোনো সংঘাত হলে জোটটির অবস্থান কী হবে এবং বাংলাদেশ এতে যুক্ত হলে কোনো সামরিক পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে কি না- এগুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।সূত্র: বিবিসি বাংলা

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা

মির্জা ফখরুলকে পুতিনের অভিনন্দন, বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ কামনা

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেছেন তিনি।ঢাকার রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুলকে পাঠানো এক অভিনন্দনবার্তায় পুতিন আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।বার্তায় রুশ প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনার পাশাপাশি বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের কল্যাণে তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে সাফল্য কামনা করেন।রুশ প্রেসিডেন্টের এই অভিনন্দনবার্তাকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুলকে পুতিনের অভিনন্দন, বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ কামনা

নেপালের বন্যা-ভূমিধসে শোক বাংলাদেশের, সহায়তায় প্রস্তুত ঢাকা

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ঢাকা।বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে বাংলাদেশের জনগণ গভীরভাবে শোকাহত। ভয়াবহ এই পরিস্থিতি বাংলাদেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। পর্যটকসহ আরও অনেকের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ এই কঠিন সময়ে নেপাল সরকার এবং দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়েছে।বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশাও জানিয়েছে ঢাকা।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নিহতদের জন্য আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।’এদিকে নেপালের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।’নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানাল বাংলাদেশ।

নেপালের বন্যা-ভূমিধসে শোক বাংলাদেশের, সহায়তায় প্রস্তুত ঢাকা

তামিম-মুশফিকের চোট নিয়ে স্বস্তি, খেলতে পারেন দুজনই

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের আগে স্বস্তি ফিরেছে বাংলাদেশ শিবিরে। অনুশীলনে চোট পাওয়া তানজিদ হাসান তামিম ও মুশফিকুর রহিমের খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলেও দুজনেরই মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।ম্যাকাইয়ে শুক্রবার ম্যাচের আগে শেষবারের মতো অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। আগের দিনের অনুশীলনে আঙুলে চোট পাওয়া তানজিদ হাসান তামিম সকালে স্ক্যান করান। পরে তাঁকে ব্যাটিং করতেও দেখা গেছে। মুশফিকুর রহিমের চোটও গুরুতর নয় বলে জানিয়েছেন শান্ত।সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘মুশফিক ভাই ঠিক আছে। তামিমও আজকে ব্যাট করেছে। আশা করছি কালকে সকালে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’তামিমের খেলার বিষয়ে আরও আশাবাদী শান্ত। তবে ম্যাচের দিন সকালে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘তামিম আজকে ব্যাট করেছে। মেডিকেল টার্মস অনুযায়ী, কালকে সকাল পর্যন্ত দেখতে হবে। আমাদের হাতে সব ধরনের অপশন আছে। আমার মনে হয় না খুব বেশি সমস্যা হবে।’এদিকে ম্যাকাইয়ের উইকেটে বোলাররা বাড়তি সহায়তা পেতে পারেন বলে মনে করছেন শান্ত। বিশেষ করে বাতাস কাজে লাগাতে পারলে পেসাররা সুইং আদায় করতে পারবেন বলে তাঁর প্রত্যাশা।শান্ত বলেন, ‘বাতাসের জন্য বোলাররা সাহায্য পাবেই, সুইং কিছুটা পেতে পারে। বাতাস যদি কাজে লাগাতে পারে বোলাররা, অবশ্যই তাদের জন্য ভালো সুযোগ থাকবে।’অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে শনিবার ভোর ৬টায়। তামিম ও মুশফিককে নিয়ে আপাতত বড় কোনো শঙ্কা না থাকলেও তাঁদের খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ম্যাচের দিন সকালে।

তামিম-মুশফিকের চোট নিয়ে স্বস্তি, খেলতে পারেন দুজনই

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর লাল গোলাপের শুভেচ্ছা

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম পেয়েছেন ৮৮ ভোট।দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোট গ্রহণ করা হয়। ভোট শেষে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। তাঁদের মধ্যে তিনজন ভোট দিতে পারেননি। তাঁরা হলেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর লাল গোলাপের শুভেচ্ছা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট শেষ, ফল ঘোষণা কিছুক্ষণ পর

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোট গ্রহণ চলে। এখন ভোটের ফলাফল ঘোষণা করার প্রস্তুতি চলছে।নির্বাচনি কর্তা এ এমএম নাসির উদ্দিন কিছুক্ষণের মধ্যে ভোটের ফল ঘোষণা করবেন।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরদিনই নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, ২১ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি কায়সার কামাল।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফল ঘোষণার পরই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট শেষ, ফল ঘোষণা কিছুক্ষণ পর

বাংলাদেশে পাঠানো কয়েক বাংলাভাষীকে ভারতে ফেরানো হয়েছে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া কয়েকজন বাংলাভাষীকে আবার ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশটির সুপ্রিম কোর্টকে এ তথ্য জানিয়েছে। এরপর আদালত সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করেছেন। তবে নাগরিকত্ব ও বহিষ্কারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত রাখা হয়েছে।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত শর্মার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশে পাঠানো কয়েকজনকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিষয়টি নথিভুক্ত করে আদালত বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতে ফিরে আসায় আপাতত মামলাগুলো চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।হাইকোর্টের নির্দেশের পর ফেরানোর উদ্যোগএর আগে কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার সুনালি খাতুন, সুইটি বিবিসহ কয়েকজনকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে বাংলাদেশে পাঠানোর কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। একই সঙ্গে তাঁদের এক মাসের মধ্যে ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়।সুনালি খাতুনের পরিবারের অভিযোগ ছিল, তাঁকে স্বামী ও সন্তানসহ আটক করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। একই ধরনের অভিযোগ ওঠে সুইটি বিবি ও তাঁর সন্তানদের ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশে পাঠানোর পর তাঁদের কয়েকজনকে স্থানীয় পুলিশ আটক করেছিল।নাগরিকত্ব যাচাই করবে ভারতগত ২২ মে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল, বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশে পাঠানো কয়েকজনকে ভারতে ফিরিয়ে এনে তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্বের দাবি যাচাই করা হবে। সরকার তখন জানিয়েছিল, এ সিদ্ধান্ত কোনো নজির হিসেবে বিবেচিত হবে না। যাচাই শেষে তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এর আগে গত ডিসেম্বরে মানবিক কারণে সুনালি খাতুন ও তাঁর আট বছর বয়সী সন্তানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। অন্তঃসত্ত্বা সুনালির চিকিৎসা ও প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশও দিয়েছিলেন আদালত।সর্বশেষ শুনানিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনজীবী জানান, সলিসিটর জেনারেলের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং সবাই ভারতে ফিরে এসেছেন।তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, নাগরিকত্ব এবং কাউকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নগুলোর বিষয়ে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকছে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

বাংলাদেশে পাঠানো কয়েক বাংলাভাষীকে ভারতে ফেরানো হয়েছে

পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে: রামদেব

একদিন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের বিতর্কিত যোগগুরু রামদেব। এ জন্য ভারতীয়দের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ মন্তব্য করেন রামদেব।তিনি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তা সংবিধান ও নৈতিকতার সীমার মধ্যে থাকা উচিত।রামদেব আরও বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন ও অবিচার মানবসভ্যতার ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ঘটনা। ভবিষ্যতে ধর্মের কারণে কেউ যেন নির্যাতনের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।ভারতে হিন্দু, মুসলিম কিংবা খ্রিষ্টান- কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ই হুমকির মুখে নেই দাবি করে রামদেব বলেন, ‘হুমকির মুখে রয়েছে ভারতের সম্মান ও মর্যাদা।’তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়াসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশের কাছ থেকে ভারত সমান সম্মান পাক-এটাই তাঁর প্রত্যাশা।

পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে: রামদেব

খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার

খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন।শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে জাতীয় কিকবক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘বেস্ট অব বেস্ট জাতীয় কিকবক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠমন্ত্রী বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া চর্চাকে উৎসাহিত করতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।তিনি আরও বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মতো কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান শিশু খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা হচ্ছে। এসব খেলোয়াড় ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে’ কিকবক্সিং যুক্ত করার দাবিঅনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কিকবক্সিংকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কিকবক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইশতিয়াক আবেদিন। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফিজ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ক্রীড়াবিদ, কোচ, রেফারি, মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকরাও।

খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার

গ্যাসের সংকটে চুলা জ্বলছে না, বাড়ছে লোডশেডিং

গ্যাসের সংকটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সারা দেশে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। একই সময়ে বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কোথাও চুলা জ্বলছে না, কোথাও আবার মাটির চুলা বা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে।গ্যাসের সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানা ও সার উৎপাদনেও। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও কারখানা বন্ধ রেখে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হলেও তা চাহিদার তুলনায় ৬০ শতাংশ কম। গ্যাসের অভাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অর্ধেকের বেশি বর্তমানে উৎপাদনে নেই। সার কারখানাগুলোতে চাহিদার মাত্র ৩৮ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতিদেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করেও এসব কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এর আগে এসব কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছিল।জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, লোডশেডিং কমাতে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। এরপরও বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে।উৎপাদন কমেছে শিল্পকারখানায়গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদনেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিং খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ১৫ দিন ধরে অনেক কারখানায় তীব্র গ্যাস সংকট চলছে।গাজীপুরের একটি নিট কারখানায় আগে দিনে ২৬ টন কাপড় উৎপাদিত হলেও গ্যাসের সংকটে তা কমে ১১ থেকে ১২ টনে নেমে এসেছে।বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সংগঠনের সদস্যভুক্ত প্রায় ৭০ শতাংশ কারখানা থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আগে মূলত গ্যাস সংকটের কথা জানানো হলেও গত কয়েক দিনে বিদ্যুৎ সংকটের অভিযোগও বেড়েছে।সার কারখানায়ও সংকটগ্যাসের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল)।উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংকঋণের সুদ ও যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খরচ চালিয়ে যেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। এতে প্রতি মাসে ১০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।দেশের অন্যান্য সার কারখানাতেও চাহিদার তুলনায় মাত্র ৩৮ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস নেই, মাটির চুলায় রান্নাগ্যাস উৎপাদনে দেশের অন্যতম প্রধান জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও আবাসিক গ্রাহকেরা গ্যাস সংকটে ভুগছেন। গত দুদিন ধরে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।বৃহস্পতিবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গ্যাসের চুলা না জ্বলায় বাসাবাড়িতে মাটির চুলায় রান্না করছেন অনেকে। কেউ কেউ সিলিন্ডার গ্যাস কিনে ব্যবহার করছেন।টেংকের পাড় এলাকার বাসিন্দা রুনা দাস বলেন, বেলা ১১টার পর গ্যাসের চুলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর গ্যাস আসেনি। বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় রান্না করতে হয়েছে।কাজীপাড়ার বাসিন্দা ইয়াদে রিবা পাপিয়া বলেন, এমনিতেই তাঁদের এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকে। গত দুদিন ধরে একেবারেই গ্যাস নেই। তাই সিলিন্ডার গ্যাস কিনে রান্না করতে হচ্ছে।যানবাহনচালকেরাও গ্যাস সংকটের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় গাড়িতে ঠিকমতো গ্যাস নিতে পারছেন না।কুমিল্লায় ৩১ ঘণ্টা ধরে গ্যাস নেইটানা দুদিন ধরে গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকার জনজীবন। কোথাও গ্যাস একেবারেই নেই, কোথাও আবার মিলছে খুব কম চাপে। ফলে রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে বিকল্প জ্বালানির খরচ।বাগিচাগাঁও এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন জানান, তাঁদের বাসায় ৩১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার আনতে হচ্ছে। তবে গ্যাস সংকটের কারণে অনেক হোটেলেও পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া যাচ্ছে না।রেসকোর্স এলাকার গৃহবধূ খালেদা আক্তার বলেন, বুধবার ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করেছিলেন। বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎও না থাকায় বাড়ির পাশে অস্থায়ী চুলা তৈরি করে রান্না করতে হয়েছে।কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)।সুনামগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ নেইগ্যাসের পাশাপাশি তীব্র বিদ্যুৎ সংকটেও ভুগছে সুনামগঞ্জের মানুষ। শহরে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও জেলার বিভিন্ন গ্রামে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।এতে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ছাতকের জাউয়াবাজার এলাকায় বিদ্যুতের দাবিতে এলাকাবাসী মিছিলও করেছেন।তাহিরপুরের বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, রাতে ১২টার পর বিদ্যুৎ আসে, আবার ৩টার দিকে চলে যায়। সকালে থাকে না। দুপুরে আধা ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না বললেই চলে।অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জকে দায়ী মন্ত্রীদেশের বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জন্য পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের লুটপাট এবং ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশার বিস্তারকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।মন্ত্রী বলেন, অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি রাতে চার্জ দেওয়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ঠিক না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ও অপেক্ষা করা ছাড়া আপাতত উপায় নেই। দেশে গ্যাস উত্তোলন বাড়ানো এবং আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ- দুই ক্ষেত্রেই এখন সমস্যা রয়েছে।তিনি জানান, এলএনজি সরবরাহ বাড়াতে আরও তিনটি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি টার্মিনালের জন্য ১০ থেকে ১২ দিন আগে অর্ডার দেওয়া হয়েছে। মোংলা-হিরণ পয়েন্ট এলাকাতেও আরেকটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালগুলো মেরামতের কাজও চলছে।মন্ত্রীর আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হবে। ততদিন দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গ্যাসের সংকটে চুলা জ্বলছে না, বাড়ছে লোডশেডিং

১৫ আগস্ট ঘিরে দেশজুড়ে র‌্যাবের বাড়তি নজরদারি

১৫ আগস্ট ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সভা-সেমিনার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন থাকবে।র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।র‌্যাবের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, মাঠপর্যায়ে নজরদারি, রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে নিরাপত্তা এবং অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।কোনো স্থানে বিস্ফোরক বা বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।প্রতিটি ব্যাটালিয়নে আলাদা পরিকল্পনার‌্যাব সূত্র জানায়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পৃথক পরিকল্পনা করেছে। এর ভিত্তিতে সংবেদনশীল এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা তৎপরতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগকারী ব্যক্তি ও তথ্যদাতাদের মাধ্যমে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানস্থলে যাতায়াতের রুটগুলোতেও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা কাজ করবেন। তাঁরা সন্দেহজনক ব্যক্তি, যানবাহন ও গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত বা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়েও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।র‌্যাবের পরিকল্পনায় আরও গুরুত্ব পেয়েছে—নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন যাতে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে বা গোপনে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ না পায়।কর্মসূচির আশপাশে নজরদারিরাজনৈতিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় র‌্যাব সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো দুষ্কৃতকারী, উগ্রবাদী গোষ্ঠী বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য যাতে কর্মসূচিতে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এ নজরদারির অন্যতম উদ্দেশ্য।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজর১৫ আগস্টের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কেউ যাতে জনমনে আতঙ্ক কিংবা মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি করতে না পারে, সে জন্য সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।র‌্যাবের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, মন্তব্য, ছবি বা অন্য কোনো কনটেন্টের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ১৫ আগস্ট ঘিরে অনলাইন প্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরির নজির রয়েছে। গত বছরও ধানমন্ডির ৩২ নম্বর এলাকায় ১৫ আগস্ট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করেছিল এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের জমায়েত ঠেকাতে তৎপরতা চালিয়েছিল।প্রস্তুত বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটনিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোথাও বিস্ফোরক বা বিস্ফোরকসদৃশ কোনো বস্তু পাওয়া গেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ইউনিটটি।অতীতের বিভিন্ন কর্মসূচির অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে ১৫ আগস্ট ঘিরে বিস্ফোরক ব্যবহারের আশঙ্কার বিষয়টিও নিরাপত্তা পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান১৫ আগস্ট উপলক্ষে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে র‌্যাব। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে নিজেরা পরিস্থিতি মোকাবিলা না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

১৫ আগস্ট ঘিরে দেশজুড়ে র‌্যাবের বাড়তি নজরদারি

ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে পুরোনো ব্যবস্থায় ফেরছে সরকার, বাড়ছে উদ্বেগ

খাবারের খরচ কমানো যায়, কিন্তু ওষুধ তো কম খাওয়া যায় না। রাজধানীর কাজীপাড়ার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মিজানুর রহমানের কথায় উঠে এসেছে চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে থাকা একটি পরিবারের চিত্র। মা-বাবার চিকিৎসা ও ওষুধ বাবদ প্রতি মাসে তাঁর ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা ও সংসারের অন্যান্য ব্যয় মেটাতে গিয়ে তিনি এখন হিমশিম খাচ্ছেন।মিজানুর রহমানের মা-বাবা দুজনই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাঁর বাবার হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসাও চলছে। নিয়মিত চিকিৎসক দেখানো, ওষুধ কেনা এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রতি মাসে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। আয় বাড়ার তুলনায় চিকিৎসা ব্যয় দ্রুত বাড়ায় সংসারের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে তাঁর।মিজানুর রহমানের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত পরিবারের সংখ্যা কম নয়। মূল্যস্ফীতির চাপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ সামলানোর পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক পরিবার সঞ্চয় ভাঙছে, ঋণ করছে। কেউ কেউ চিকিৎসা কিংবা ওষুধ কেনা কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।এর মধ্যেই অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণের নীতিতে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।পুরোনো ব্যবস্থায় ফেরার সিদ্ধান্তগত ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়।সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন ১৯৯৪ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং সে সময়ের সরকারি মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা বহাল থাকবে। একই সঙ্গে নতুন করে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়ন করা হবে।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা তৈরির আগে জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ নেওয়ার বিধান রয়েছে। নতুন তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে এ বিধান অনুসরণ করা হয়নি। এ কারণেই সেগুলো বাতিল করা হয়েছে।তবে ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন।স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় অংশই মানুষের পকেট থেকেবাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা অনুযায়ী, দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হয়। চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার সঞ্চয় হারাচ্ছে এবং ঋণগ্রস্ত হচ্ছে। কেউ কেউ নতুন করে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতেও পড়ছেন।বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর ওপর এর চাপ বেশি। চিকিৎসার ব্যয়ের আশঙ্কায় অনেকে চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। আবার আর্থিক সংকটের কারণে কেউ কেউ চিকিৎসার মাঝপথে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে গেলে উৎপাদন ব্যয়, কাঁচামালের দাম, বিপণন ব্যয় ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির মতো কারণ দেখিয়ে ওষুধের দাম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।তিন দশকেও বড় পরিবর্তন হয়নিঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রথম জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়ন করা হয় ১৯৮২ সালে। ওই নীতিতে ১৫০টি ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। ১৯৯৪ সালের নীতিতে সংখ্যা কমিয়ে ১১৭ করা হয়।তালিকার বাইরে থাকা অধিকাংশ ওষুধের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। এরপর প্রায় তিন দশক এই ব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর হাইকোর্টের এক রায়ে পুরোনো ১১৭টি ওষুধের তালিকা বাতিল করে নতুন তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৯৭ করা হয়। নতুন তালিকায় যুক্ত হয় আরও ১৭৮টি ওষুধ।গত ৩ ফেব্রুয়ারি গেজেটের মাধ্যমে নতুন তালিকাটি প্রকাশ করা হয়। এর আগে ৮ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তালিকাটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান এ উদ্যোগকে ‘ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।বিশেষজ্ঞদের ভিন্নমতনতুন তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি। গত বছরের ১৩ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের ওষুধ খাতের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি নীতিটিকে ‘অস্বচ্ছ ও একপেশে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ৩২ বছর আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, ১৯৯৪ সালের তালিকায় থাকা অনেক ওষুধ বর্তমানে অকার্যকর হয়ে গেছে। আবার প্রযুক্তির উন্নতির কারণে কিছু ওষুধ উৎপাদনের খরচ কমেছে। তাই পুরো ব্যবস্থা বাতিল না করে প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ নীতি সংশোধন করা উচিত ছিল।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, শুধু ওষুধ নয়, রোগ শনাক্তকরণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসার প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে ওষুধ উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। দীর্ঘদিন জেনেরিক ওষুধের তালিকা পর্যালোচনা না হওয়ায় তা হালনাগাদ করা প্রয়োজন।তাঁর মতে, নতুন তালিকা তৈরির সময় এমন নীতি দরকার, যাতে ওষুধ ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারেন এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেও ওষুধের দাম রাখা যায়।ওষুধশিল্প সমিতির স্বস্তিতবে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি। সংগঠনটির মহাসচিব মোহাম্মদ হালিমুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত নীতিটি তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করেই করা হয়েছিল। এর ফলে প্রায় দুই বছর ধরে ওষুধশিল্পে এক ধরনের স্থবিরতা ছিল।তাঁর দাবি, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেই অচলাবস্থা কাটবে এবং বাজারে স্বস্তি ফিরবে। নতুন নীতিমালা বাতিলের কারণে ওষুধের দাম বাড়ার আশঙ্কাও তিনি নাকচ করেছেন।ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আকতার হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক আদেশ পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা ঠিক হবে না।দেশে উৎপাদিত হয় ৯৭ শতাংশ ওষুধসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশের চাহিদার প্রায় ৯৭ শতাংশ ওষুধ দেশেই উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানিও হচ্ছে।দেশে বর্তমানে ৩১০টি অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ৪ হাজার ১৮০টি জেনেরিকের ৩৫ হাজার ২৯০টি ব্র্যান্ডের ওষুধ উৎপাদন করে। এর মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ ওষুধের খুচরা মূল্য বা এমআরপি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর নির্ধারণ করে। বাকি প্রায় ৯৭ শতাংশ ওষুধের দাম নির্ধারণ করে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের জাতীয় তালিকা রয়েছে। ওষুধ কেনা, সরকারি সরবরাহ, ব্যয় পরিশোধ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে এসব তালিকা গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।ফলে বাংলাদেশে নতুন করে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি কীভাবে করা হবে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের ভবিষ্যৎ।

ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে পুরোনো ব্যবস্থায় ফেরছে সরকার, বাড়ছে উদ্বেগ