ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু

ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু

ভারী বৃষ্টিতে তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে সড়ক, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে পড়েছে, আটকে পড়েছে যানবাহন। বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহরজুড়ে উদ্ধারকর্মী, যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।আল-জাজিরার যাচাই করা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ইস্তাম্বুলের ফাতিহ জেলার বালাত এলাকায় একটি গাড়ি পার্কিংয়ের প্রবেশপথে জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে হাঁটছিল কিশোরটি। হঠাৎ সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ভারী বৃষ্টির মধ্যে পানিতে পা দেওয়ার পর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়।ইস্তাম্বুলের গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, কিশোরটিকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসক ও উদ্ধারকর্মীদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইস্তাম্বুলের গভর্নর দাভুত গুল। বেসমেন্ট ও নিচতলার ফ্ল্যাটে বসবাসকারীদের রাতে ভবনের ওপরের তলায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে খাল ও ছোট নদীর তীর, আন্ডারপাস এবং বন্যাপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলতে বলেছেন।স্কুল বন্ধ, মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞাঅ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলের স্কুলগুলোতে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। মোটরসাইকেল চলাচলও নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবন্ধী সরকারি কর্মচারী এবং ছোট শিশুর মায়েদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত ৯টা থেকে মোটরসাইকেল চলাচলের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের কয়েকটি প্রদেশে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের শহর ইস্তাম্বুলে প্রায় ৮ হাজার উদ্ধারকর্মী এবং ২ হাজার যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।আড়াই হাজারের বেশি জরুরি খবরতুরস্কের আবহাওয়া বিভাগের সতর্কবার্তার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ইস্তাম্বুলে বৃষ্টি শুরু হয়। পরে শহরের বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও আন্ডারপাস পানিতে ডুবে যায়। এসেনইউর্ট ও সুলতানগাজিসহ কয়েকটি এলাকায় যানবাহন আটকে পড়ে। বাড়িঘর, দোকানপাট ও বেসমেন্টেও পানি ঢুকে পড়ে।ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবহাওয়াজনিত ঘটনায় জরুরি সেবাকেন্দ্রে আড়াই হাজারের বেশি খবর আসে। কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ২৭৭টি বন্যার ঘটনা এবং ১৫টি ভূমিধসের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। বন্যার পানিতে ৪৭ জন আটকা পড়েন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮০০টির বেশি বাড়ি, ২৮০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ৭৬টি যানবাহন।তুরস্ক টুডের খবরে বলা হয়েছে, শহরের আইয়ুপসুলতান ও গাজিওসমানপাশা জেলায় সড়কের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসেনইউর্ট এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এক নারীকে উদ্ধার করেন পথচারীরা।বন্যার পানি দুটি হাসপাতালেও পৌঁছেছে। হাচিওসমান মেট্রো স্টেশনের ছাদ থেকেও পানি ঢুকে পড়ে। সুলতানগাজি এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের ঠেকনাদেয়াল ধসে পড়ে। তবে এতে কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি।১২ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিইস্তাম্বুলের এশীয় অংশের বেইকোজ জেলার ওমেরলি এলাকায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ডেইলি সাবাহর তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ১৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত ইস্তাম্বুল মেয়র নুরি আসলান জানিয়েছেন, শহরের কয়েকটি এলাকায় ১২ ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।বুধবার সন্ধ্যায় কর্মব্যস্ত সময়ে শহরের যানজটের মাত্রা প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছায়। তবে ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

ইস্তাম্বুলে ভবনধসে নিহত ৫, তিনজনই শিশু

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে একটি ভবন ধসে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন শিশু। শুক্রবার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।নগর কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়, ধ্বংসস্তূপের নিচে উদ্ধার অভিযান শেষে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সর্বশেষ নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্য দিয়ে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ শেষ হয়। এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৯ জনকে।ভবনটির নিচের তিনটি তলা ধসে পড়ে। ইস্তাম্বুলের উপমেয়র নুরি আসলান জানান, ১৯৮৭ সালে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সে সময়ের নির্মাণবিধি মেনে বেসমেন্ট, নিচতলা এবং প্রথম ও দ্বিতীয় তলা তৈরি করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে ভবনটির ওপরের তলাগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল।দুর্ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের এলাকার ৫৫ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।তুরস্কের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবনটির নিচতলায় থাকা একটি দোকানের ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, গত এপ্রিল থেকেই ভবনটির কাঠামোয় ফাটল দেখতে পেয়েছিলেন তিনি। সূত্র: বাসস

ইস্তাম্বুলে ভবনধসে নিহত ৫, তিনজনই শিশু

তুরস্ক-মালয়েশিয়ার নারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে জামায়াতের মহিলা বিভাগের মতবিনিময়

তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার নারী প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে মতবিনিময়, সেমিনার ও পরিচিতিমূলক সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত সভায় তুরস্কের প্রতিনিধিদল, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য এবং ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।তুরস্কের প্রতিনিধিদলে ছিলেন এসরা সাইদওগলু ও ড. ফৌজিয়াহ বিনতি মোহাম্মদ হাসান। সভাটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহবুবা জাহান।সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দিকা এমপি। তিনি নারী বিভাগের কার্যক্রম, নারীর নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।নূরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, তুরস্কের নারী প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফর ও মতবিনিময় দুই দেশের নারীসমাজের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করেছে।সভায় ইসলামী ছাত্রীসংস্থার পরিচিতি তুলে ধরেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নাহিয়ান ফাইরুজ নাজিফা। এ সময় তুরস্কের প্রতিনিধিরা নারী নেতৃত্ব, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক কার্যক্রম, তরুণীদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশ এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত দেন।গ্লোবাল ইউনিটি অন মুসলিম সেমিনারএকই দিন বিকেলে রাজধানীর আলফালাহ মিলনায়তনে গ্লোবাল ইউনিটি অন মুসলিম শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সফররত প্রতিনিধিদলের সদস্য ও মানবতাবাদী কর্মী ড. ফৌজিয়াহ বিনতি মোহাম্মদ হাসান।সেমিনারে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মার্জিয়া বেগম এমপি, আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার এমপি, সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সেক্রেটারি ফেরদৌস আরা বকুল এবং ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নাহিয়ান ফাইরুজ নাজিফা। মহিলা বিভাগের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলূ এমপি স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

তুরস্ক-মালয়েশিয়ার নারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে জামায়াতের মহিলা বিভাগের মতবিনিময়

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামরিক সহযোগিতার কারণে অনেকে এটিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বললেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি ন্যাটোর মতো কোনো সামরিক জোট নয়।তুরস্কের হাসান কালিয়ানকু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি বিশ্লেষক মুরাত আসলাম বলেন, জোটটিকে আক্রমণাত্মক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর একটি উদ্যোগ। এর কোনো নির্দিষ্ট শত্রু দেশ নেই। একই সঙ্গে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সংঘাত এড়ানো এবং বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোও এর লক্ষ্য।প্রাথমিকভাবে তিন দেশ নিয়ে চুক্তি হলেও ভবিষ্যতে আরও দেশ এতে যুক্ত হতে পারে। সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের নামও আলোচনায় এসেছে।বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে ঢাকা ইতিবাচক। তবে এখনো জোটে যোগ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমান সদস্যরা বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানালে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজের মতে, বাংলাদেশ এই জোটে যুক্ত হলে যৌথ সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। বিশেষ করে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়তে পারে। তুরস্ক থেকে বাংলাদেশের বায়রাক্তার ড্রোন ও অটোকার কোবরা ভেহিকেল আমদানির বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।তবে মুরাত আসলাম মনে করেন, মক্কা জোটকে ন্যাটোর সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না। কারণ এর কোনো ন্যাটো-ধাঁচের সামরিক কমান্ড কাঠামো বা যৌথ সেনাবাহিনী নেই।তবে জোটটি নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান এই জোটের সদস্য হওয়ায় ভারত বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছে। ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তানের কোনো সংঘাত হলে জোটটির অবস্থান কী হবে এবং বাংলাদেশ এতে যুক্ত হলে কোনো সামরিক পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে কি না- এগুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।সূত্র: বিবিসি বাংলা

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা

তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হতে পারে আরও কয়েকটি দেশ

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা জোটে আরও কয়েকটি দেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের দৃষ্টিভঙ্গি হলো- জোটটি তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োজনে আরও দেশকে এর আওতায় আনা।গত শুক্রবার তিন দেশ ‘মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির আওতায় কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।মিসর হতে পারে পরবর্তী সদস্যসম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে মিসর। হাকান ফিদান মিসরকে জোটের ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, কিছু কারিগরি বিষয় সমাধান হলে কায়রো এই জোটে যোগ দিতে পারে।তবে চুক্তির সামরিক বাধ্যবাধকতা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে মিসর। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি এবং লিবিয়াসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বজায় রাখতে চায় দেশটি।কাতার-কুয়েত নিয়েও আলোচনাজোট সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কাতার ও কুয়েতের নামও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তিন প্রতিষ্ঠাতা দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এই দুই দেশের জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি আশা প্রকাশ করেছেন, সৌদি আরব ছাড়া অন্য সব উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য—কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—জোটে যোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেবে।এ ছাড়া আজারবাইজান, সিরিয়া ও জর্ডানও ভবিষ্যতে তুলনামূলক দ্রুত এই জোটে যুক্ত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জোটটি এখনই পূর্ণাঙ্গ ন্যাটো-ধাঁচের আঞ্চলিক সামরিক জোটে পরিণত হবে-এমনটা নিশ্চিত নয়। বরং প্রতিটি দেশ নিজেদের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করে ধাপে ধাপে এতে যোগ দিতে পারে।আঞ্চলিক নিরাপত্তায় প্রভাবমিসর ও কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ জোটে যোগ দিলে এর রাজনৈতিক প্রভাব, আঞ্চলিক গ্রহণযোগ্যতা ও সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।তবে সম্ভাব্য সদস্য দেশগুলোর ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক বিরোধ জোটটিকে একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক ব্লকে পরিণত করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হতে পারে আরও কয়েকটি দেশ

পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি, যেকোনো হামলা তিন দেশ মোকাবিলা করবে

পবিত্র মক্কা নগরীতে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।মক্কায় অনুষ্ঠিত যৌথ প্রতিরক্ষা সম্মেলনে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান।চুক্তির বিষয়ে এরদোয়ান বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতায় আগ্রহী অন্যান্য ভ্রাতৃপ্রতিম দেশও ভবিষ্যতে এতে যোগ দিতে পারবে।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, এ চুক্তি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতার প্রতিফলন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একসঙ্গে কাজ করার রাজনৈতিক সদিচ্ছারও বহিঃপ্রকাশ এটি।পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করা।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষায়, এটি তিন দেশের জন্য একটি ‘শান্তির ঢাল’ হিসেবে কাজ করবে এবং বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।সূত্র: ডন, জিও নিউজ

পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি, যেকোনো হামলা তিন দেশ মোকাবিলা করবে