ঢাকা    বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামরিক সহযোগিতার কারণে অনেকে এটিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বললেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি ন্যাটোর মতো কোনো সামরিক জোট নয়।তুরস্কের হাসান কালিয়ানকু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি বিশ্লেষক মুরাত আসলাম বলেন, জোটটিকে আক্রমণাত্মক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর একটি উদ্যোগ। এর কোনো নির্দিষ্ট শত্রু দেশ নেই। একই সঙ্গে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সংঘাত এড়ানো এবং বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোও এর লক্ষ্য।প্রাথমিকভাবে তিন দেশ নিয়ে চুক্তি হলেও ভবিষ্যতে আরও দেশ এতে যুক্ত হতে পারে। সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের নামও আলোচনায় এসেছে।বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে ঢাকা ইতিবাচক। তবে এখনো জোটে যোগ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমান সদস্যরা বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানালে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজের মতে, বাংলাদেশ এই জোটে যুক্ত হলে যৌথ সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। বিশেষ করে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়তে পারে। তুরস্ক থেকে বাংলাদেশের বায়রাক্তার ড্রোন ও অটোকার কোবরা ভেহিকেল আমদানির বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।তবে মুরাত আসলাম মনে করেন, মক্কা জোটকে ন্যাটোর সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না। কারণ এর কোনো ন্যাটো-ধাঁচের সামরিক কমান্ড কাঠামো বা যৌথ সেনাবাহিনী নেই।তবে জোটটি নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান এই জোটের সদস্য হওয়ায় ভারত বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছে। ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তানের কোনো সংঘাত হলে জোটটির অবস্থান কী হবে এবং বাংলাদেশ এতে যুক্ত হলে কোনো সামরিক পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে কি না- এগুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।সূত্র: বিবিসি বাংলা

তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হতে পারে আরও কয়েকটি দেশ

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা জোটে আরও কয়েকটি দেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের দৃষ্টিভঙ্গি হলো- জোটটি তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োজনে আরও দেশকে এর আওতায় আনা।গত শুক্রবার তিন দেশ ‘মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির আওতায় কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।মিসর হতে পারে পরবর্তী সদস্যসম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে মিসর। হাকান ফিদান মিসরকে জোটের ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, কিছু কারিগরি বিষয় সমাধান হলে কায়রো এই জোটে যোগ দিতে পারে।তবে চুক্তির সামরিক বাধ্যবাধকতা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে মিসর। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি এবং লিবিয়াসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বজায় রাখতে চায় দেশটি।কাতার-কুয়েত নিয়েও আলোচনাজোট সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কাতার ও কুয়েতের নামও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তিন প্রতিষ্ঠাতা দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এই দুই দেশের জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি আশা প্রকাশ করেছেন, সৌদি আরব ছাড়া অন্য সব উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য—কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—জোটে যোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেবে।এ ছাড়া আজারবাইজান, সিরিয়া ও জর্ডানও ভবিষ্যতে তুলনামূলক দ্রুত এই জোটে যুক্ত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জোটটি এখনই পূর্ণাঙ্গ ন্যাটো-ধাঁচের আঞ্চলিক সামরিক জোটে পরিণত হবে-এমনটা নিশ্চিত নয়। বরং প্রতিটি দেশ নিজেদের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করে ধাপে ধাপে এতে যোগ দিতে পারে।আঞ্চলিক নিরাপত্তায় প্রভাবমিসর ও কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ জোটে যোগ দিলে এর রাজনৈতিক প্রভাব, আঞ্চলিক গ্রহণযোগ্যতা ও সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।তবে সম্ভাব্য সদস্য দেশগুলোর ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক বিরোধ জোটটিকে একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক ব্লকে পরিণত করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হতে পারে আরও কয়েকটি দেশ

পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি, যেকোনো হামলা তিন দেশ মোকাবিলা করবে

পবিত্র মক্কা নগরীতে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।মক্কায় অনুষ্ঠিত যৌথ প্রতিরক্ষা সম্মেলনে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান।চুক্তির বিষয়ে এরদোয়ান বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতায় আগ্রহী অন্যান্য ভ্রাতৃপ্রতিম দেশও ভবিষ্যতে এতে যোগ দিতে পারবে।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, এ চুক্তি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতার প্রতিফলন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একসঙ্গে কাজ করার রাজনৈতিক সদিচ্ছারও বহিঃপ্রকাশ এটি।পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করা।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষায়, এটি তিন দেশের জন্য একটি ‘শান্তির ঢাল’ হিসেবে কাজ করবে এবং বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।সূত্র: ডন, জিও নিউজ

পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি, যেকোনো হামলা তিন দেশ মোকাবিলা করবে