ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের নিঃশর্ত সমর্থন, ইরানে নতুন হামলার শঙ্কা

নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের নিঃশর্ত সমর্থন, ইরানে নতুন হামলার শঙ্কা

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্য ও নিঃশর্ত সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি ইরানকে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। ফলে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে ইরানকে ঘিরে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে চলমান জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং শান্তির জন্য আরও বড় অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে সামরিক ও আর্থিকভাবে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। ইরান তার আচরণ পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই বাকি কাজ শেষ করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।ট্রাম্প লেখেন, ইসরায়েলের নেতৃত্বে নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কেউ থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে একাই এই কাজ করতে হবে, যা করতে তিনি আগ্রহী নন। একই পোস্টে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতাসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতানিয়াহু শক্ত, সাহসী ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।পোস্টের শেষ দিকে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি ‘সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন’ ঘোষণা করেন। তিনি লেখেন, ‘বিবি নেতানিয়াহু কখনো আপনাদের হতাশ করবেন না।’নির্বাচনে কঠিন লড়াইয়ের মুখে নেতানিয়াহুইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সংবাদমাধ্যম হারেৎজের আসন পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫১। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোনো দল বা জোটই এখন পর্যন্ত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার অবস্থানে নেই।ট্রাম্পের এই সমর্থন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর আগে নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে অনীহা দেখিয়েছিলেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে টাইম সাময়িকী তাঁকে দুবার প্রশ্ন করেছিল, নেতানিয়াহুর আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকা উচিত কি না। দুইবারই সরাসরি উত্তর না দিয়ে ট্রাম্প ইসরায়েল ও ওয়াশিংটনে নিজের জনপ্রিয়তা এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কথা বলেন।বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স তাঁকে ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চায়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চায় আমি এতে জড়িত হই। হ্যাঁ, তারা তা-ই চায়।’ নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না।’যুক্তরাজ্যের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিলের মতে, দুই নেতার মধ্যে কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ট্রাম্পের এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেকে অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।তবে নির্বাচনে এই সমর্থনের প্রভাব অতিরঞ্জিত করে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন ভাকিল। তাঁর মতে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং ইরান যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে ইসরায়েলি ভোটারদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর বিদ্যমান সমর্থকদের আরও সংহত করতে পারে, কিন্তু তাঁর নেতৃত্বের অতীত রেকর্ড নিয়ে বড় প্রশ্নগুলোর সমাধান করবে না।লন্ডনের কিংস কলেজের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ ট্রাম্পের ঘোষণাকে নেতানিয়াহুর জন্য ‘রাজনৈতিক উপহার’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রচারে চাপের মুখে থাকা নেতানিয়াহু এই সমর্থন থেকে সুবিধা পেতে পারেন। তবে এর মাধ্যমে নির্বাচনের ফল পুরোপুরি বদলে যাবে, এমন ধারণাও ঠিক নয়।ক্রিগের ভাষ্য, ডানপন্থী দলগুলোর বিভক্তি, অতি-রক্ষণশীল ইহুদি ভোটারদের হতাশা এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার উত্তরাধিকার নেতানিয়াহুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্পের সমর্থন লিকুদ পার্টির অনাগ্রহী ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহিত করতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে এতে এক বা দুটি আসন বাড়তে পারে। কিন্তু যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেতানিয়াহুর নেই, ট্রাম্প তা তৈরি করে দিতে পারবেন না।ইরান যুদ্ধ ঘিরে নতুন হামলার জল্পনানেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানাতে গিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরান প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এমন সময় এই অবস্থান সামনে এল, যখন কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অথবা পরে ইরানে আবার হামলার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন ট্রাম্প।গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা হয়। বর্তমানে যুদ্ধ কার্যত স্থবির থাকলেও সামরিক উত্তেজনা কমেনি।যুদ্ধ শুরুর পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। একসময় বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। দুই পক্ষই নিজেদের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালায়।গত মাসে মার্কিন নৌবাহিনী ক্রমবর্ধমানসংখ্যক তেলবাহী ট্যাংকারকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে ইরানের ধারাবাহিক হামলার কারণে এই প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আবার কমে যায়।এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ৫৭ সেন্টে দাঁড়ায়। শুক্রবার দাম সাময়িকভাবে ১১০ ডলারে উঠেছিল, যা গত ১৯ মে-র পর সর্বোচ্চ। পরে সোমবার দাম কিছুটা কমে আসে।হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবগত মাসে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি চালুর প্রস্তাবের সঙ্গে ইরান সাতটি শর্ত দেয়। এর মধ্যে ছিল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। তবে শর্তগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়।রোববার ইরানের সংবাদমাধ্যমকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর রয়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের শর্ত মেনে নিলে ছয় দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। এরপরের দিন থেকেই আলোচনা আবার শুরু হতে পারে বলেও জানান তিনি।তবে একই দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি অভিযোগ করেন, কারাগারে যাওয়া এড়াতে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে আবার হামলা চালাতে চান।আরাগচি লেখেন, ‘গতবার যখন আপনারা কাজ শেষ করতে চেয়েছিলেন, তখন ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছিল। আবার ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান? স্বাগতম। তবে সাবধান, আমাদেরও কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়েছে।’তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহু নিজের কারাবাস এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছেন। এর পরিণতি ইসরায়েলের জন্য কী হবে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য কী হবে, তা নিয়েও তিনি ভাবছেন না।সামরিক চাপ, নাকি কূটনীতির পথ?কিংস কলেজের গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প মূলত ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশলকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি কূটনীতির পরিবর্তে যুদ্ধকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।ক্রিগের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ইরানকে যথেষ্ট চাপে ফেলছে। ওয়াশিংটন মনে করছে, সময় তাদের পক্ষেই রয়েছে। ট্রাম্পের হিসাব হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে বড় কোনো ছাড় দিতে না হলেও একপর্যায়ে ইরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হবে।নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন এই কৌশলের পেছনে থাকা সামরিক হুমকিকে আরও জোরালো করেছে। তবে কূটনীতির পথ এখনো বন্ধ হয়নি। ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি চান, যেটিকে তিনি নিজের বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন বলে মনে করেন ক্রিগ।তবে এই কৌশলে ঝুঁকিও রয়েছে। আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে তেহরান সংঘাত আরও বাড়ানোর পথ বেছে নিতে পারে।চ্যাথাম হাউসের সানাম ভাকিলের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দেশের যৌথ সামরিক অভিযানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এই অবস্থান ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া পক্ষ হিসেবে তুলে ধরা কঠিন করে তুলবে।ভাকিলের ভাষ্য, ট্রাম্প প্রকাশ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের দায় নিজের কাঁধে নিচ্ছেন। তবে এই সমর্থনের অর্থ এই নয় যে দুই নেতা ইরানে আরেকটি অভিযান চালানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর জন্য প্রথমে কে সবচেয়ে বেশি চাপ দিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নেরও এখনো মীমাংসা হয়নি।তেহরানের দৃষ্টিতে ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে কার্যকর কোনো পার্থক্য নেই—এমন ধারণাকে আরও জোরদার করতে পারে বলে মনে করেন ভাকিল। তবে নেতানিয়াহু ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যেতে ট্রাম্পের অনাগ্রহকে ওয়াশিংটনের আরেকটি যুদ্ধ শুরু করার সীমিত আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবেও ব্যাখ্যা করতে পারে ইরান।মার্কিন নির্বাচনের পর বাড়তে পারে ঝুঁকিট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে হামলা চালাবেন না। তবে দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের আগেই ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে পেন্টাগন।গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, দুই দেশের নির্বাচনের আগে ইরানে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে আলোচনা হয়েছে।তবে ইরান এমন কোনো হামলা না চালালে, যার জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়, সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা এখনো কম বলে মনে করেন ক্রিগ।তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় শুরু হতে পারে ৩ নভেম্বরের পর, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক বাধাগুলো আর থাকবে না। দুই দেশের সামরিক বাহিনীই সেই সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ক্রিগের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার আগেই ট্রাম্প বা নেতানিয়াহুকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে এই সমর্থন থেকেই দুই নেতা নতুন সামরিক অভিযান চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো নেই। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী হিসাব এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিই আগামী দিনে সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাশিয়ার জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ঐতিহাসিক মুহূর্ত বললেন পুতিনের দূত

রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের মার্কিন পরিকল্পনা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাজারকে বড় ধরনের সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে।শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের আয় লক্ষ্য করে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দিন পর এসব পদক্ষেপ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দিমিত্রিয়েভ বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘গ্রাহাম আইন’ স্থগিতের সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সত্যিকার অর্থেই ঐতিহাসিক ঘটনা। তাঁর ভাষ্য, আইনটি কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাজার।এমন এক সময়ে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার বিষয়ে মার্কিন নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।তবে নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের বিষয়ে পুতিন কিংবা ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। শুক্রবার সামরিক পোশাক পরা অবস্থায় পুতিন বলেছেন, পূর্ব ইউক্রেনের বাকি অংশ দখলের পরিকল্পনা করছে মস্কো।যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে প্রস্তাবিত আইনটিতে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি পুতিন এবং দেশটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল।২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কোর ওপর ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে পশ্চিমা দেশগুলো। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।

রাশিয়ার জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ঐতিহাসিক মুহূর্ত বললেন পুতিনের দূত

মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিতে অপেক্ষায় আছি: ইরানের আইআরজিসি কমান্ডার

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে ইরান এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ওজমায়ি। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ বিষয়ে সন্দেহ থাকলে মার্কিন বাহিনীকে যুদ্ধজাহাজ নিয়ে ওই জলপথের কাছাকাছি আসার চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন তিনি।টেলিভিশনে দেওয়া নিজের প্রথম সাক্ষাৎকারে ওজমায়ি বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি মনে করে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত, তাহলে তারা আরও কাছে আসুক। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’আইআরজিসির এই কমান্ডার দাবি করেন, ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির কাছে যাওয়ার সাহস না পেয়ে জাহাজটি ওই জলপথ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে।ওজমায়ি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর আসার অপেক্ষায় রয়েছি আমরা, যাতে সেগুলো ডুবিয়ে দিতে পারি। এই ঘটনা ঘটার মুহূর্ত গুনছি আমরা।’তথ্যপ্রবাহ বন্ধের অভিযোগসাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন ওজমায়ি। তাঁর দাবি, নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার খবর যাতে বিশ্ববাসী জানতে না পারে, সে জন্য এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও জানান, নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে শাস্তির মুখে পড়া দুটি জাহাজের ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করেছে আইআরজিসির নৌবাহিনী।তবে ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অকার্যকর হয়ে পড়া এবং হরমুজ প্রণালি থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে সরে যাওয়ার বিষয়ে আলী ওজমায়ির দাবির স্বাধীন কোনো সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।সূত্র: তাসনিম নিউজ

মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিতে অপেক্ষায় আছি: ইরানের আইআরজিসি কমান্ডার

মার্কিন নির্বাচনের আগে জাহাজে হামলার কৌশল বদলাচ্ছে ইরান

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া রাখতে এবং ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কৌশল পরিবর্তন করছে ইরান। দেশটির জ্যেষ্ঠ দুই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি আশপাশের বিস্তৃত জলসীমায়ও হামলার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে তেহরান।বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ দিন আগে ইরান এমন কিছু জাহাজের বিরুদ্ধে হামলার ধরন ও গতি পরিবর্তন করেছে, যেগুলোকে তারা নিজেদের আরোপিত বিধিনিষেধ লঙ্ঘনকারী বলে মনে করে। এর ফলে ওই ধরনের জাহাজে হামলার সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা।তাঁদের ভাষ্য, নতুন কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলা। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে।তেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টায় বাধাইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বৈশ্বিক তেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করাই লক্ষ্য।’অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, নভেম্বরের নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তেলের দাম কমাতে দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, ‘যখনই তারা ভাববে, দাম কমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, তখনই আমরা তাদের সেই অবস্থান থেকে দূরে ঠেলে দেব। এটি দাবার খেলা।’ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন কৌশল গ্রহণের সিদ্ধান্ত দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে এবং সরকারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে এ বিষয়ে সমন্বয় রয়েছে।ছোট নৌকায় নজরদারি, লক্ষ্য চিহ্নিত করছে ইরানএক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের রাডার সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হওয়ার পর দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত করতে ছোট নৌকায় নিরস্ত্র পর্যবেক্ষক ব্যবহার শুরু করেছে। এসব পর্যবেক্ষক মার্কিন নৌযানসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান শনাক্ত করে আইআরজিসিকে তথ্য দিচ্ছেন বলে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন।গত সপ্তাহে এমনই একটি ঘটনায় ইরানি পর্যবেক্ষকেরা একটি ধৌ নৌযান থেকে লক্ষ্যবস্তুর তথ্য পাঠাচ্ছিলেন বলে মার্কিন সামরিক বাহিনী নির্ধারণ করে। পরে মার্কিন বাহিনী নৌযানটির মুখোমুখি হয়, আরোহীদের নৌযান ছেড়ে যেতে বলে এবং সেটি ধ্বংস করে। মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, নিজেদের অবশিষ্ট দ্রুতগতির নৌযানগুলো ঝুঁকির মুখে ফেলতে না চাওয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি বৃদ্ধি পুরোপুরি ঠেকাতে পারছে না। বিশেষ করে মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনী ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।হরমুজের বাইরেও হামলার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির বাইরেও অভিযান বিস্তৃত করতে চায় তেহরান। ওমান উপসাগর এবং আরও দূরের জলসীমাও এর আওতায় আসতে পারে।সামুদ্রিক নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালির বাইরেও জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলসংলগ্ন জলসীমায় হামলার তথ্যও রয়েছে।এক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, সাম্প্রতিক হামলার গতি বেড়েছে এবং তা পরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে।গত ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে ট্যাংকারসহ বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে অন্তত পাঁচটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) কাছে জানানো তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার মধ্যে ড্রোন হামলাও রয়েছে।জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের তথ্যেও হামলার এই বৃদ্ধি প্রতিফলিত হয়েছে। গত ৩ থেকে ৫ অক্টোবরের হামলার হারের সঙ্গে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির তুলনা করে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।‘শিগগিরই পুরোপুরি বন্ধ’ হতে পারে হরমুজহরমুজ প্রণালিতে নিজেদের বিধিনিষেধ লঙ্ঘনকারী কোনো জাহাজকে চলাচল করতে না দেওয়ার পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে ইরান—এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির দুই কর্মকর্তা। তাঁদের একজন বলেছেন, ‘শিগগিরই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।’যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে তেহরান। চলাচলে বিধিনিষেধ ও জাহাজে হামলার কারণে প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।এদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করছে ওয়াশিংটন। সংঘাতের অবসানে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানকে চাপ দেওয়াই এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা বিবেচনা করছেন। তবে নির্বাচনের আগে ইরানে আর হামলা চালাবেন না বলে তিনি জানিয়েছেন।জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তাইরান যুদ্ধ ও এর অর্থনৈতিক ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারণায়ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মাসিক ব্যয় প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হামলার হুমকি, জাহাজ চলাচলের বাড়তি খরচ এবং বিমার উচ্চ ব্যয় স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচল পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে।মার্কিন নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি) রোববারের সর্বশেষ প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকিকে ‘গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেছে। এটি তাদের ঝুঁকি মূল্যায়নের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তর।সংস্থাটি জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নজরদারি, ড্রোনের উড্ডয়ন এবং ভিএইচএফ রেডিওতে যোগাযোগের মাধ্যমে হয়রানিসহ আইআরজিসির হামলা ও হামলার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে পেন্টাগন ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: রয়টার্স

মার্কিন নির্বাচনের আগে জাহাজে হামলার কৌশল বদলাচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আর আগের অবস্থায় ফিরবে না: রেজাই

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেওয়া সাতটি শর্তের কয়েকটি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড় দিলেও তা তেহরানের দাবির তুলনায় যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নিরাপত্তা প্রধান মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজাই বলেন, ইরানের কূটনীতিতে পরিবর্তন এসেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। ইরানের সব শর্ত পূরণে ওয়াশিংটনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।রেজাইয়ের অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যর্থতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধইরানের দাবি অনুযায়ী, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা এবং সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের অনুমোদন ও সমন্বয়ের শর্ত রয়েছে বলেও দাবি করেছে তেহরান।তবে ইরানের অভিযোগ, সমঝোতা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র সমন্বয় ছাড়াই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে তেহরানইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে দেওয়া সাতটি শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। এই পথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।সূত্র: প্রেসি টিভি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আর আগের অবস্থায় ফিরবে না: রেজাই

বিভাজন ও মতপার্থক্যে চাপে যুক্তরাষ্ট্রের জি-২০ সম্মেলন

জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক বিরোধ ও সদস্যদেশগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জি-২০-এর কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতিত্বে ২০২৬ সালের সম্মেলন সামনে রেখে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দুর্বল হয়ে পড়লে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সম্প্রতি এক মতামত নিবন্ধে এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলএসই আইডিয়াসের সহযোগী অ্যান্ড্রু হ্যামন্ড।জি-২০-এর এবারের আয়োজন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার, দক্ষিণ আফ্রিকার অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক এবং রাশিয়ার অভিযোগ—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি রূপান্তরের মতো বিষয়ে সদস্যদেশগুলোর অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।সংকট মোকাবিলায় জি-২০-এর ভূমিকা১৯৯৮ সালের এশীয় অর্থনৈতিক সংকটের পর ১৯৯৯ সালে জি-২০ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যুক্তরাষ্ট্র। বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো ছিল এই ফোরাম গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য।২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় জি-২০ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০০৯ সালের এপ্রিলে লন্ডন সম্মেলনে চাহিদা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সমন্বিত সহায়তা প্যাকেজে সম্মত হন বিশ্বনেতারা। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের কূটনৈতিক উদ্যোগ ওই সমঝোতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।সেই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছিল, বড় অর্থনীতিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব কমানো সম্ভব। কিন্তু বর্তমান ভূরাজনৈতিক বিভাজন দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পথ কঠিন করে তুলছে।দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘিরে বিরোধযুক্তরাষ্ট্রের এবারের জি-২০ আয়োজন নিয়ে বিতর্কের অন্যতম বিষয় দক্ষিণ আফ্রিকার অংশগ্রহণ। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ কার্যক্রম বর্জন করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে হত্যা ও জমি কেড়ে নেওয়ার শিকার হিসেবে তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে অভিযোগ করেছিলেন, তা এই বিরোধের পটভূমির অংশ। তবে তাঁর এসব অভিযোগ ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।এবার যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে জি-২০-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে পোল্যান্ডকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ইউরোপের কয়েকটি দেশের আপত্তির কারণ হয়েছে। ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের উদ্বেগ, জি-২০-এর পূর্ণ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে আয়োজনের বাইরে রাখলে ফোরামটির অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র প্রশ্নের মুখে পড়বে।এ বিরোধ কেবল দুটি দেশের সম্পর্কের বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক ফোরামে সদস্যদের সমান অংশগ্রহণের সুযোগ, আয়োজক দেশের দায়িত্ব এবং বৈশ্বিক আলোচনার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও এটি প্রশ্ন তুলেছে।‘নতুন জি-২০’ এজেন্ডায় জলবায়ু নিয়ে উদ্বেগমার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বর্ণিত ‘নতুন জি-২০’ এজেন্ডা নিয়েও সদস্যদেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এজেন্ডায় জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি, অভিবাসন, নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিবিধান কমানো এবং বিদেশি বিনিয়োগের মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জ্বালানি রূপান্তরের মতো বিষয়গুলো তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ অগ্রাধিকার ডিসেম্বরের যৌথ ঘোষণার খসড়াতেও প্রভাব ফেলছে।ফলে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন ও জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে সদস্যদেশগুলোর অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা কঠিন হতে পারে। তবে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। যৌথ ঘোষণায় কোন বিষয়গুলো স্থান পাবে, তা নিয়ে দর-কষাকষি এবারের সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।রাশিয়ার অভিযোগ, যৌথ বিবৃতি ছাড়াই বৈঠকজি-২০-এর আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে রাশিয়াও অসন্তোষ জানিয়েছে। জি-২০ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত-অ্যাট-লার্জ মারাত বেরদিয়েভের অভিযোগ, ভিসা প্রত্যাখ্যান ও স্বীকৃতি না দেওয়ার কারণে রাশিয়ার প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজিত আর্থিক বৈঠকগুলোতে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশ নিতে পারেননি।এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক কোনো যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সেখানে সংবাদ সম্মেলনও হয়নি।রাশিয়ার অভিযোগগুলো মস্কোর বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে অভিযোগের সত্যতা ও পরিসর নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ, প্রতিনিধিদের স্বীকৃতি এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া বহুপক্ষীয় কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।জি-২০-এর কার্যকারিতা শুধু বৈঠক আয়োজনের ওপর নির্ভর করে না। সদস্যদের মধ্যে আলোচনা, মতবিনিময় ও গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানোর সক্ষমতাও এ ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ।ভূরাজনৈতিক বিভাজনে দুর্বল বহুপক্ষীয় সহযোগিতাকোভিড-১৯ মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়েছে। চীন ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা, রাশিয়াকে ঘিরে বিরোধ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বৈঠকে কূটনৈতিক সংঘাত জি-২০-এর কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে।এ পরিস্থিতিতে এবারের সম্মেলনের গুরুত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। জি-২০ ও জি-৭-এর মতো বহুপক্ষীয় ফোরাম ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর জি-৭-এরও আয়োজন করবে। ফলে এবারের জি-২০ সম্মেলনে সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক, আলোচনার পদ্ধতি এবং যৌথ অবস্থান তৈরির অভিজ্ঞতা পরবর্তী আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোর জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।বৈশ্বিক সংকটে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেইমহামারি, আর্থিক বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো সমস্যা কোনো একক দেশের পক্ষে পুরোপুরি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এসব ক্ষেত্রে তথ্য বিনিময়, অর্থনৈতিক নীতির সমন্বয়, যৌথ সিদ্ধান্ত এবং পারস্পরিক আস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।জি-২০-এর মতো ফোরাম এসব বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদিও সদস্যদেশগুলোর মতপার্থক্যের কারণে সব সময় অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয় না, তবু সহযোগিতার কাঠামো সচল রাখা জরুরি।যুক্তরাষ্ট্রের এবারের জি-২০ সভাপতিত্ব তাই ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের সুযোগ হওয়ার পাশাপাশি বহুপক্ষীয় কূটনীতির কার্যকারিতা ধরে রাখার পরীক্ষাও। সদস্যদেশগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, মতপার্থক্য গ্রহণযোগ্যভাবে সামাল দেওয়া এবং যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সক্ষমতাই নির্ধারণ করবে, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জি-২০ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

বিভাজন ও মতপার্থক্যে চাপে যুক্তরাষ্ট্রের জি-২০ সম্মেলন

ট্রাম্পের সংবাদ প্রচার বন্ধ, পাঁচ টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংবাদ প্রচার বন্ধ রাখার ঘটনায় পাঁচটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। নেটওয়ার্কগুলো ফেডারেল অ্যান্টিট্রাস্ট আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তের আওতায় রয়েছে এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, এনবিসি ও ফক্স নিউজ। বিচার বিভাগের মুখপাত্র এমিলি কনভিংটন গত শনিবার তদন্ত শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।কনভিংটন বলেন, বাণিজ্যিক প্রতিযোগীরা সম্মিলিতভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বর্জন করলে তা শেরম্যান অ্যাক্টের লঙ্ঘন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আইন প্রতিযোগিতা-বিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে। পাঁচটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা নির্ধারণে বিচার বিভাগের অ্যান্টিট্রাস্ট বিভাগ তদন্ত করছে।ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দেশটির প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর চলমান বিরোধের মধ্যে এ তদন্ত নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ট্রাম্প নিয়মিত মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ বলে সমালোচনা করেন। বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলন ও সরাসরি আলাপেও সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁকে বিরোধে জড়াতে দেখা যায়।তদন্তের ফলে প্রশাসনের সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেও প্রেসিডেন্টের সংবাদ প্রচার চালিয়ে যেতে সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর আইনি চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি আর্থিক ঝুঁকিও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তদন্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি নেটওয়ার্ক তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।যেভাবে শুরু হয় বিরোধগত মাসে হোয়াইট হাউস সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্টের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ বাতিল করে। এর প্রতিবাদে পাঁচটি সম্প্রচারমাধ্যমের সমন্বয়ে গঠিত টেলিভিশন পুল ট্রাম্পের সংবাদ প্রচার বন্ধ করে দেয়।১৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ কোনো অধিকার নয়, বরং একটি ‘সুযোগ’। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমগুলো প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে।তাদের অভিযোগ, সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে হোয়াইট হাউস যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করেছে। প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করে তারা।আদালতের নির্দেশে ফিরেছিল প্রবেশাধিকারএবিসি, সিবিএস, সিএনএন, এনবিসি ও ফক্স নিউজ হোয়াইট হাউসের প্রধান টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহকারী দলের অংশ। নেটওয়ার্কগুলো প্রেসিডেন্টের সংবাদ সংগ্রহের ব্যয় ভাগাভাগি করে। তারা পালাক্রমে সংবাদ সংগ্রহের আয়োজন করে এবং সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করে নেয়।হোয়াইট হাউসে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ বাতিলের প্রতিবাদে পাঁচটি নেটওয়ার্কই ট্রাম্পের সংবাদ প্রচার স্থগিত করে। এমনকি অন্য সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিকল্প ফুটেজ সরবরাহ করতেও তারা অস্বীকৃতি জানায়। নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি তুলনামূলকভাবে অনুকূল অবস্থানের জন্য পরিচিত ফক্স নিউজও ছিল।পরে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক টিমোথি কেলি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রায় দেন। তিনি প্রশাসনকে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দেন। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউস সাংবাদিকদের সেই প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেয়।তবে প্রেসিডেন্টের নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশ এবং সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বিরোধ পুরোপুরি মেটেনি।তদন্তের সমালোচনা সিপিজেরসাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) আমেরিকা অঞ্চলের পরিচালক হোসে জামোরা শনিবার বিচার বিভাগের তদন্তের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ রক্ষায় অবস্থান নিলে তাদের ভয় দেখানোর জন্য সরকারের অ্যান্টিট্রাস্ট তদন্ত ব্যবহার করা উচিত নয়। জনগণের জানার অধিকার এই প্রবেশাধিকারের ওপর নির্ভর করে।

ট্রাম্পের সংবাদ প্রচার বন্ধ, পাঁচ টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত

যুদ্ধ বন্ধে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান ট্রাম্পের

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম এমন একজন নেতার প্রয়োজন ইউক্রেনের।শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ কথা বলেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, এসব হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বাড়ছে। দেশটিতে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ট্রাম্প এ মন্তব্য করলেন।ট্রাম্প বলেন, ‘আমি পরামর্শ দেব, তারা যেন এমন একজন নতুন নেতা বেছে নেয়, যিনি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন।’ জেলেনস্কির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কোনো এক কারণে জেলেনস্কি কখনোই তা করেন না।’ইউক্রেনের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প দাবি করেন, জেলেনস্কির নেতৃত্বে দেশটি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং ৩০ শতাংশ ভূখণ্ড হারিয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন মিলিয়ে এ যুদ্ধে ২০ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, যুদ্ধটি কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না। এখন ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে।জেলেনস্কির পক্ষে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্রতা এড়িয়েও জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। তিনি বলেন, জেলেনস্কির প্রতি ইউক্রেনের জনগণের সমর্থন রয়েছে। দেশটির নেতা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ইউক্রেনের জনগণের।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিবিহা বলেন, বিদেশ থেকে আসা এ ধরনের বক্তব্য বরং প্রমাণ করে, জেলেনস্কি তাঁর দায়িত্ব ঠিকভাবেই পালন করছেন। তাঁর সমর্থন পাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার ঘোষণা ট্রাম্পেরশুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা জানান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং তার পরপরই ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে। এর অল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে জেলেনস্কিকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্যও তিনি ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করছেন।তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সেই প্রভাবের চেয়ে ইউক্রেনের হামলার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।শনিবার ট্রাম্প আরও বলেন, ২০২২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুই হতো না। তাঁর দাবি, অযোগ্যতার কারণে এ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল এবং যুদ্ধটি শুরু হওয়ার কোনো কারণ ছিল না।জাপোরিঝঝিয়ায় হামলায় নিহত অন্তত ২০ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। তাঁদের তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন।ক্রমবর্ধমান হামলা মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে ইউক্রেন। মস্কোর পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর সাড়ে চার বছরের বেশি সময় পরও দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। দূরপাল্লার বিমান হামলা অব্যাহত থাকলেও স্থলযুদ্ধের সম্মুখসারিতে বড় ধরনের অগ্রগতি নেই।রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জেলেনস্কি। শনিবার জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে হামলার পর এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ রাশিয়া ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে জাপোরিঝঝিয়ায় আবাসিক ভবনে পাঁচটি গ্লাইড বোমা ফেলে।’জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়ার ওপর চাপ কমানো হলে মস্কো সেটিকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং ইউক্রেনের শহরগুলোতে বোমা হামলা অব্যাহত রাখার সুযোগ হিসেবে দেখবে।তিনি বলেন, জ্বালানি রপ্তানি থেকে রাশিয়ার আয় বাড়লে সেই অর্থ অস্ত্রের যন্ত্রাংশ কেনা, ড্রোনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি এবং ভাড়াটে যোদ্ধা নিয়োগে ব্যয় করা হবে। রাশিয়ার যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা কমানো না গেলে মস্কো যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রস্তুত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে তৎপরতারাশিয়ার বাড়তি আয় মোকাবিলায় ইউক্রেন বিভিন্ন পদক্ষেপ সমন্বয় করছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আগামী কয়েক দিনে আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাবের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহৃত এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের জন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গোলাবারুদ পাবে ইউক্রেন।এদিকে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার চুক্তিতে ইউরোপের মিত্ররা হতাশা প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিতে তারা অটল রয়েছে।ট্রাম্পের এ ঘোষণা তাঁর আগের নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। গত মাসেই তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে মস্কো তেল ও গ্যাস থেকে যে আয় করে, তা কমানোই ছিল ওই আইনের লক্ষ্য।যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহতশুক্রবার ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার মিয়ামিতে ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।একই দিনে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। একদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা, অন্যদিকে রাশিয়ার জ্বালানি কেনার উদ্যোগ এবং জেলেনস্কির নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য সমালোচনা সব মিলিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান ট্রাম্পের

বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের আবেদন আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র

বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগে মাইক্রোসফটসহ আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নতুন ও বিচারাধীন স্থায়ী নিয়োগসংক্রান্ত আবেদন অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান দেশটির শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং।মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার করে আমেরিকান কর্মীদের পরিবর্তে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে। এ অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে মাইক্রোসফট।ভ্যান্সের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি একই সময়ে প্রায় ছয় হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে এবং ৬ হাজার ৮০০টি এইচ-১বি ভিসার আবেদন করেছে। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন কর্মীদের বাদ দিয়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগ এবং তাঁদের মজুরি কমিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে এ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, ‘আমেরিকার অন্য কোনো কোম্পানি মাইক্রোসফটের চেয়ে বেশি এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করেনি।’মাইক্রোসফট ছাড়াও অ্যাডোবি, কগনিজেন্ট, ইনফোসিস, টাটা, উইপ্রো, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেননি ভ্যান্স।আট প্রতিষ্ঠানের পার্ম আবেদন অনুমোদন নয়শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং জানান, মাইক্রোসফটসহ আটটি প্রতিষ্ঠানের নতুন ও বিচারাধীন পার্ম (PERM) আবেদন অনুমোদন করবে না সরকার।তাঁর অভিযোগ, মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘ভিসা তৈরির কারখানায়’ পরিণত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভাসিয়ে’ দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বিষয়টি নিয়ে বিবিসি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।যা বলছে মাইক্রোসফটএইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিটির অধিকাংশ কর্মীই আমেরিকান।মুখপাত্রের ভাষ্য, গত অর্থবছরে মাইক্রোসফটের দাখিল করা এইচ-১বি ভিসার আবেদনের ৮০ শতাংশ ছিল আগে থেকে কর্মরত কর্মীদের জন্য। সেগুলো নতুন কর্মী নিয়োগের আবেদন ছিল না। এ ছাড়া এই কর্মসূচির আওতায় নিয়োগ পাওয়া আন্তর্জাতিক কর্মীদের একই পর্যায়ের মার্কিন কর্মীদের সমান বেতন দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করে এলিস নামের একটি কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোসফটে এইচ-১বি ভিসাধারী একজন কর্মীর গড় বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার।মাইক্রোসফটের মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসনকে আরও তথ্য দিতে তারা আগ্রহী। বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীর সংখ্যা দুই লাখের বেশি।এইচ-১বি ও পার্ম কর্মসূচি কীএইচ-১বি হলো যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি ভিসা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে বিশেষায়িত দক্ষতা প্রয়োজন হয়—এমন পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা যায়। কয়েক দশক ধরে প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এ কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ করে আসছে। বছরে এ ধরনের ভিসার সংখ্যা সর্বোচ্চ ৮৫ হাজারে সীমাবদ্ধ।অন্যদিকে, পার্ম হলো যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীর স্থায়ী নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রম সনদ পাওয়ার একটি প্রক্রিয়া। এ সনদের ভিত্তিতে নিয়োগকর্তা পরবর্তী সময়ে ওই কর্মীর জন্য স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অনির্দিষ্টকালের জন্য বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান।গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তর ১০টি ব্যবসায়িক বিভাগে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি পার্ম আবেদন অনুমোদন করেছে।নাদেলাকে পুরস্কার, ভ্যান্সের সমালোচনামাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য একটি পদক গ্রহণ করেন। তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, নাদেলাকে পদক দিতে পেরে হোয়াইট হাউস ‘সম্মানিত’। এটি তাঁর যোগ্যতার স্বীকৃতি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।নাদেলা ছাড়াও ইলন মাস্ক, জেনসেন হুয়াং, লিসা সু, সের্গেই ব্রিন ও মাইকেল ডেলসহ প্রযুক্তি খাতের আরও কয়েকজন ব্যক্তিত্ব ট্রাম্পের কাছ থেকে পদক পেয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক মধ্যাহ্নভোজ এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন।তবে একই দিন ভ্যান্সের সমালোচনার কেন্দ্রে ছিল মাইক্রোসফট। তিনি বলেন, ‘মাইক্রোসফটের প্রতি আমাদের বার্তা খুবই সহজ: আপনারা একটি মহান আমেরিকান কোম্পানি। আপনাদের অবশ্যই আমেরিকান কর্মী নিয়োগ করতে হবে। আপনারা আমেরিকান কর্মীদের ছাঁটাই করে তাঁদের জায়গায় বিদেশি চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করতে পারেন না।’চাকরি হারালে ৬০ দিনের সময়ভ্যান্সের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা কোনো কর্মী তাঁর ভিসার পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানে চাকরি হারালে দেশটিতে অবস্থান নিয়ে জটিলতায় পড়তে পারেন। সাধারণত এ ধরনের কর্মীরা নতুন চাকরি খোঁজার জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিনের অতিরিক্ত সময় পান।গত মাসে মার্কিন সরকার এই সময়সীমা পুরোপুরি বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছিল।যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় সবই এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে। অ্যামাজন, গুগল, মেটা, অ্যাপল ও এনভিডিয়াও এ কর্মসূচি ব্যবহার করে আসছে। তবে বৃহস্পতিবার ভ্যান্সের অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল না। বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ এবং স্থানীয় কর্মীদের চাকরির সুযোগ রক্ষার প্রশ্নে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের আবেদন আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র

সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি, বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে প্রস্তাবিত সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রকল্পটি স্থগিত না হলে বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পাঠানো একটি ই-মেইলে এসব উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান মেটাকোরের দাবি, প্রযুক্তি সরবরাহকারী পরিবর্তন এবং নোকিয়া ও ইনফার্নার প্রযুক্তি গ্রহণের পর আগের বাধা কেটে গেছে।গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের ইকোনমিক মিনিস্টার ফজলে রাব্বি তৎকালীন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীকে একটি ই-মেইল পাঠান। বর্তমানে আশিক চৌধুরী ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান। ই-মেইলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আপত্তি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।দৈনিক আমার দেশ-এর হাতে আসা নথি অনুযায়ী, চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে মেরিনের নির্মিত এবং মিয়ানমার থেকে সিঙ্গাপুরগামী সিগমা ক্যাবলের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি ছিল। মার্কিন পক্ষের আশঙ্কা, প্রকল্পটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আকর্ষণের সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।বর্তমান সরকারের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা এবং গুগল, ফেসবুক ও অ্যামাজনের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।এডিবির ঋণ প্রস্তাব নিয়ে আপত্তিই-মেইলটি পাঠিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা লরা এন্ডারসন। এর সঙ্গে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের লাইসেন্স পাওয়া মেটাকোরের প্রকল্পে মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে চাওয়া ঋণ প্রস্তাবের নথি সংযুক্ত ছিল।ই-মেইলে বলা হয়, প্রকল্পটির জন্য প্রস্তাবিত ঋণ নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি এডিবির বোর্ডে ভোট হওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, প্রকল্পটি নিয়ে তাদের গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। ঢাকায় কর্মরত মার্কিন কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে প্রকল্পটির বিষয়ে আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও অবহিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেছে ওয়াশিংটন।মার্কিন পক্ষের মতে, প্রকল্পটি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, ক্যাবলটির আয়ুষ্কাল সীমিত এবং এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।ই-মেইলে আরও বলা হয়, ঢাকায় অনুষ্ঠিত আলোচনার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, অন্তর্বর্তী সরকারও প্রকল্পটির প্রতি সমর্থনশীল নয়। এ অবস্থায় বাংলাদেশকে ঢাকায় ও ম্যানিলায় এডিবির প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের আপত্তির কথা জানাতে এবং প্রকল্পটি এডিবির বোর্ডের বিবেচনা থেকে প্রত্যাহারের অনুরোধ করতে বলা হয়।প্রকল্পটির বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এডিবির কাছে তুলে ধরতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এডিবির কাছে বার্তাটি পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।ই-মেইলটি পরে ফজলে রাব্বি আশিক চৌধুরীর কাছে পাঠান। এর অনুলিপি দেওয়া হয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এডিবির প্রতিনিধিদেরও।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগমার্কিন ই-মেইলে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচএমএন টেকনোলজিসকে (সাবেক হুয়াওয়ে মেরিন নেটওয়ার্কস) ‘আনট্রাস্টেড’ বা অবিশ্বস্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের এন্টিটি লিস্টে রয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এটিকে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সঙ্গে সাইবার গোয়েন্দা কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে ই-মেইলে দাবি করা হয়।যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে হুয়াওয়ে ও চীনভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সাইবার নজরদারি, অননুমোদিত তথ্য সংগ্রহ এবং গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোয় হস্তক্ষেপের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।সাবমেরিন ক্যাবল আন্তর্জাতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এর নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা থাকায় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ কারণে চীন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের আপত্তি রয়েছে।খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে আমার দেশ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির মুখে বিভিন্ন দেশে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের চুক্তি বাতিল বা ক্যাবলের রুট পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে সিমিউই-৬ এবং চিলি ও অস্ট্রেলিয়াকে যুক্ত করা ট্রান্স-প্যাসিফিক ক্যাবল প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।সিগমা ক্যাবলের সঙ্গে সংযোগ নিয়েও প্রশ্নমার্কিন ই-মেইলে বলা হয়েছে, মেটাকোরের প্রস্তাবিত ক্যাবলটি পুরোনো ও ‘আনট্রাস্টেড’ ইউএমও ট্রাংক ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং নতুন ক্যাবলের দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ইউএমও ক্যাবলটি বর্তমানে সিগমা ক্যাবল নামে পরিচিত, যা সিঙ্গাপুর ও মিয়ানমারকে যুক্ত করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে এর স্থাপন কার্যক্রম শুরু হয় এবং ওই বছরের সেপ্টেম্বরে এটি চালু করা হয়। ফলে প্রস্তাবিত বাংলাদেশি সংযোগটি এমন একটি আন্তর্জাতিক ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা, যার কার্যক্রম শুরু হয়েছে প্রায় তিন বছর আগে।যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, এই সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ডিজিটাল যোগাযোগ অবকাঠামো এমন একটি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে, যার প্রযুক্তিগত সরবরাহকারী নিয়ে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে।মার্কিন প্রযুক্তি বিনিয়োগ হারানোর আশঙ্কাই-মেইলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা হলো—প্রকল্পটি চলমান থাকলে বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে।খাতসংশ্লিষ্ট একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ডিজিটাল বিনিয়োগের জন্য উদ্বেগজনক। সরকারের লক্ষ্য হলো ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা, দেশে এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা এবং ফেসবুক, গুগল ও অ্যামাজনের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বাংলাদেশে বড় আকারের ডেটা সেন্টার ও অন্যান্য ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আস্থা প্রয়োজন। হুয়াওয়ে মেরিন-নির্মিত সিগমা ক্যাবলের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপিত হলে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রশ্ন উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন।এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান উপেক্ষা করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে সিঙ্গাপুর প্রান্তে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব শুধু সাবমেরিন ক্যাবল খাতেই সীমিত না থেকে ডেটা সেন্টার, ক্লাউড কম্পিউটিং, ব্যাংকিং, ই-কমার্স, সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা রপ্তানির মতো খাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।মেটাকোরের বক্তব্যমেটাকোরের অন্যতম মালিক ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল হাকিমের কাছে প্রকল্পটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়ে সতর্কবার্তা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।জবাবে তিনি বলেন, মেটাকোরের কার্যক্রম নিয়ে আগে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু উদ্বেগ বা নিষেধাজ্ঞা থাকলেও হুয়াওয়ের পরিবর্তে নোকিয়া ও ইনফার্নার প্রযুক্তি গ্রহণ এবং মার্কিন ওয়ার্ক অর্ডার নিশ্চিত হওয়ার পর সেই বাধা কেটে গেছে।আমিনুল হাকিমের ভাষ্য, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত চিঠি দেওয়া হয়নি। তবে সমঝোতার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি দল মেটাকোরের কার্যালয় পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে নোকিয়ার সঙ্গে চুক্তি সইয়ের সময় ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই চুক্তির পর পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক ও সহজ হয়ে আসে বলে দাবি করেন তিনি।প্রকল্পটির অগ্রগতি সম্পর্কে আমিনুল হাকিম বলেন, প্রয়োজনীয় মোট নয়টি অনাপত্তিপত্রের (এনওসি) মধ্যে সাতটি পাওয়া গেছে। বাকি রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) অনুমতি। এনএসআই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আপত্তি বা মতামত জানায়নি বলে জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ শুরু হলেও ২০২৬ সালের শুরুর দিকে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির কার্যক্রম চূড়ান্ত অগ্রগতি লাভ করে।নথির সময়ক্রমে ভিন্ন চিত্রতবে মেটাকোরের বক্তব্যের সঙ্গে আমার দেশ-এর হাতে আসা নথির সময়ক্রমে অসংগতি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।নথি অনুযায়ী, মেটাকোর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নোকিয়ার সঙ্গে টার্মিনাল ইকুইপমেন্ট সরবরাহের চুক্তি করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট ই-মেইলটি বাংলাদেশ সরকারকে পাঠানো হয় ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি—নোকিয়ার সঙ্গে চুক্তির প্রায় দুই মাস পর।অর্থাৎ নোকিয়ার কাছ থেকে টার্মিনাল ইকুইপমেন্ট কেনার পর যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি বা কথিত নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে বলে আমিনুল হাকিম যে দাবি করেছেন, নথির সময়ক্রম তার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। বরং নোকিয়ার সঙ্গে চুক্তির পরও যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি জানানোর বিষয়টি নথিতে উঠে এসেছে।বক্তব্য জানতে যোগাযোগএ বিষয়ে জানতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ফজলে রাব্বি, লরা এন্ডারসন ও আশিক চৌধুরীকে ই-মেইল করে আমার দেশ। আশিক চৌধুরী ও ফজলে রাব্বিকে হোয়াটসঅ্যাপেও বার্তা পাঠানো হয়।পরে ৫ অক্টোবর ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় প্রশ্ন পাঠাতে বলা হয়। সেদিনই ই-মেইল করা হলেও পরদিন পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ইনভেস্ট বাংলাদেশের জনসংযোগ কর্মকর্তা তাসনিম সিকদার ৬ অক্টোবর প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৭ অক্টোবরের মধ্যে হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার কথা জানান। ৮ অক্টোবর পুনরায় যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁরা ইকোনমিক মিনিস্টার ফজলে রাব্বির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাঁর সাড়া পেলেই জানাতে পারবেন।অন্যদিকে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় থাকা একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছিলেন, তবে এ-সংক্রান্ত কোনো নথি তখন দেখেননি। সব মিলিয়ে মেটাকোরের সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি, প্রকল্পের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতে সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগের প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে প্রকল্পটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান এবং মেটাকোরের দাবি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি, বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ

নিউইয়র্কে হাম ছড়াচ্ছে, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছরের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটিতে ১০৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।সোমবার নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এ জরুরি অবস্থা বহাল থাকবে।নতুন ব্যবস্থার আওতায় নিবন্ধিত নার্সরা সন্দেহভাজন হাম রোগীর পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারবেন। একই সঙ্গে ফার্মাসিস্টদের দুই বছর বয়সী শিশুদেরও হাম, মাম্পস ও রুবেলা (এমএমআর) টিকা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।অঙ্গরাজ্যটিতে শনাক্ত ১০৮ রোগীর মধ্যে ৭ জন নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা। বাকি ১০১ জন অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য এলাকার। এর মধ্যে ১৫ জুলাইয়ের পরই ৯২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই অঙ্গরাজ্যের ১৮টি গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা, যেখানে টিকাদানের হার তুলনামূলক কম।গভর্নর ক্যাথি হকুল বলেন, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব এমন কোনো রোগে মানুষের গুরুতর অসুস্থ হওয়া বা মৃত্যুর ঘটনা কাম্য নয়।নিউইয়র্কের পাশের অঙ্গরাজ্য পেনসিলভানিয়াতেও হামের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সোমবার পর্যন্ত সেখানে ১ হাজার ৪টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৯৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে এটিই হামের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব।এ ছাড়া টেক্সাস, ইউটা, ওহাইও ও সাউথ ক্যারোলাইনাতেও হাম ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি হাম শনাক্ত হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর দেশটিতে হামের পরিস্থিতি এতটা খারাপ আর হয়নি।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়াই হামের পুনরায় বিস্তারের অন্যতম কারণ। ২০০০ সালে দেশটিতে স্থানীয়ভাবে হামের সংক্রমণ নির্মূল করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় রোগটি আবারও ছড়িয়ে পড়ছে।আগামী নভেম্বরে প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের (পাহো) কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো হামমুক্ত দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে পারবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নিউইয়র্কে হাম ছড়াচ্ছে, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

দুই শতাধিক সেনাসহ ভারতে নামল যুক্তরাষ্ট্রের ছয় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান

প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে অবতরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। অত্যাধুনিক এসব যুদ্ধবিমানের সঙ্গে দুই শতাধিক মার্কিন সেনাসদস্যও ভারতে এসেছেন। যোধপুরে শুরু হওয়া বহুজাতিক বিমান মহড়া ‘তরং শক্তি’তে অংশ নিতে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলো ভারতে এসেছে।ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো এবার ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলোর সঙ্গে একই আকাশে মহড়ায় অংশ নেবে। বিষয়টিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের বলে উল্লেখ করেন।যোধপুর বিমানঘাঁটিতে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক এ মহড়া আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত ছাড়াও বাংলাদেশ, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অংশ নিচ্ছে।মহড়ায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য ভারতীয় বিমানবাহিনীও বিভিন্ন যুদ্ধবিমান নিয়ে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফরাসি প্রযুক্তির রাফাল, দেশীয়ভাবে তৈরি তেজস এবং রাশিয়ার মিগ-২৯।ভারতে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের প্রথম উপস্থিতির কারণে এবারের মহড়া বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত এফ-৩৫-এর ভারতীয় বিমানবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশগ্রহণকে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি

দুই শতাধিক সেনাসহ ভারতে নামল যুক্তরাষ্ট্রের ছয় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান

শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার

ইরানের দেওয়া শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ থাকবে।পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে তাদের অবস্থান ও শর্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, ‘শত্রুপক্ষ ভালোভাবেই জানে যে প্রতারণা ও একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পথ এখন রুদ্ধ।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের শর্ত পূরণ, দেশটির ‘বৈধ অধিকার’ স্বীকৃতি এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আগের আলোচনার অবস্থায় ফিরে যাওয়া বা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে কয়েকটি শর্ত পাঠায় ইরান।শনিবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই বলেন, আমাদের শর্ত হলো- সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, আমাদের জব্দ করা অর্থ ছাড়তে হবে এবং নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে। সূত্র: আল-জাজিরা

শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার

রাশিয়ার তেল কেনা দেশে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ক্ষমতা পাচ্ছেন ট্রাম্প

রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার একটি বিল মার্কিন কংগ্রেসে পাস হয়েছে। সিনেটে অনুমোদনের পর গতকাল ২৬২-১৫৯ ভোটে প্রতিনিধি পরিষদেও বিলটি পাস হয়। এখন বিলটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের বিলটিতে রাশিয়ার কর্মকর্তা, দেশটির জ্বালানি খাত এবং তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।বিলের একটি সংশোধনীতে ভারত, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ ১০টি দেশের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এসব দেশের পণ্যে এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর হাতে থাকা ক্ষমতা প্রয়োগ করলেই এমন শুল্ক আরোপ করা সম্ভব হবে।সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি বেড়েছে। ফলে নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা ভারতের অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর শুল্ক এবং এ–সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয় এবং ভারতীয় পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়।নতুন আইনে দেওয়া ক্ষমতা ট্রাম্প প্রয়োগ করলে ভারতের ওপর মার্কিন শুল্কের চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে এর চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে বিলটি আইনে পরিণত হয় কি না এবং আইনটি কার্যকর হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর হাতে থাকা ক্ষমতা ব্যবহার করেন কি না, তার ওপর। সূত্র: এনডিটিভি

রাশিয়ার তেল কেনা দেশে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ক্ষমতা পাচ্ছেন ট্রাম্প

রাশিয়ার তেল-গ্যাস কিনলে ভারতসহ দেশগুলোর ওপর ১০০% শুল্কের বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে

রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানি করা ভারতসহ অন্যান্য দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়েছে। মঙ্গলবার ২১৪-২১১ ভোটে ‘লিন্ডসে গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামের বিলটি পরবর্তী ধাপে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়।বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনার দায়ে ভারতসহ অন্যান্য দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও সম্প্রসারণের সুযোগও থাকবে।এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়। বিলটিতে রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার প্রধান তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হবে। এসব দেশের মধ্যে ভারত ও চীন রয়েছে।তবে বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকস। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেবে এই বিল।প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত ভোটের পর বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার তেল বাণিজ্য অর্থায়নে ভূমিকা রাখছে এমন অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

রাশিয়ার তেল-গ্যাস কিনলে ভারতসহ দেশগুলোর ওপর ১০০% শুল্কের বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে

নাইন ইলেভেন: ২৫ বছর পরও যে হামলার প্রভাব বদলে দেয় বিশ্বরাজনীতি

নাইন ইলেভেন দুটি শব্দই যেন ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ হামলার সমার্থক। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শব্দ দুটি উচ্চারিত হলেই মানুষের মনে ভেসে ওঠে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিমান হামলার সেই দৃশ্য। ২৫ বছর পরও বিশ্বরাজনীতি, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং মুসলিমদের প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গিতে ওই হামলার প্রভাব স্পষ্ট।২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি ভবনে মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুটি যাত্রীবাহী বিমান আঘাত হানে। একই দিন আরও দুটি বিমান ছিনতাই করা হয়। এর একটি আঘাত হানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে। অন্যটি লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিধ্বস্ত হয়।হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার জন্য ইসলামি চরমপন্থি সংগঠন আল-কায়েদা ও এর প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করে।ওয়ার অন টেরর দিয়ে শুরু নতুন অধ্যায়হামলার মাত্র নয় দিন পর, ২০ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আনুষ্ঠানিকভাবে আল-কায়েদা ও ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করেন। একই ভাষণে তিনি ‘ওয়ার অন টেরর’ বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেন।বুশ সেদিন বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদ্দেশে বলেন, ‘আইদার ইউ আর উইথ আস, অর উইথ দেম’—অর্থাৎ এই যুদ্ধে হয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকতে হবে, নয়তো সন্ত্রাসীদের সঙ্গে।এরপর ২০০১ সালের অক্টোবরেই আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তৎকালীন তালেবান সরকার ওসামা বিন লাদেনসহ আল-কায়েদার নেতাদের হস্তান্তরের মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর ওই অভিযান শুরু হয়।আফগানিস্তানের পর ২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ২০১১ সালে লিবিয়াতেও মার্কিন বাহিনী সামরিক অভিযানে অংশ নেয়।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার বলে আসেন, এসব অভিযান কোনো ধর্ম বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; বরং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। তবে মুসলিম বিশ্বের অনেক মানুষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ নিয়ে প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়।কেন নাইন ইলেভেন এত গুরুত্বপূর্ণদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১ সালে জাপান যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের পার্ল হারবারে মার্কিন নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। এরপর নাইন ইলেভেনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে এত বড় হামলার ঘটনা আর ঘটেনি।তবে পার্ল হারবার ও নাইন ইলেভেনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। পার্ল হারবার ছিল একটি সামরিক স্থাপনা এবং তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছিল। অন্যদিকে নাইন ইলেভেনে হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল এমন স্থাপনা, যেখানে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ কর্মরত ছিলেন।হতাহতের সংখ্যার দিক থেকেও নাইন ইলেভেন পার্ল হারবারকে ছাড়িয়ে যায়। পার্ল হারবারে নিহত হন প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। নাইন ইলেভেনে চারটি বিমান ছিনতাই ও বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।১৭ মিনিটেই বদলে যায় পরিস্থিতিসকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং ৭৬৭ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ১১০ তলা উত্তর টাওয়ারে আঘাত করে। শুরুতে অনেকে এটিকে দুর্ঘটনা মনে করেছিলেন।কিন্তু মাত্র ১৭ মিনিট পর আরেকটি বোয়িং ৭৬৭ পাশের ভবনে আঘাত করলে পরিষ্কার হয়ে যায়, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়—পরিকল্পিত হামলা।দ্বিতীয় বিমানটির আঘাতের দৃশ্য সরাসরি টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এর পরই পুরো বিশ্ব জানতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নজিরবিহীন হামলার কথা।দুটি বিমানই বোস্টন থেকে লস অ্যাঞ্জেলস যাচ্ছিল। প্রতিটি বিমানে পাঁচজন করে ছিনতাইকারী ছিল। উড্ডয়নের পর তারা বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিউইয়র্কের দিকে ঘুরিয়ে দেন।একই সময়ে আরও দুটি বিমান ছিনতাই করা হয়। সেগুলোর একটি পেন্টাগনে আঘাত করে। অন্যটি ক্যাপিটল হিলে হামলার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে সেটি লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিধ্বস্ত হয়।মোট ১৯ জন ছিনতাইকারী ওই হামলায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জন ছিলেন সৌদি নাগরিক, দুজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের, একজন মিসরের এবং একজন লেবাননের নাগরিক।আফগানিস্তান থেকে ইরাক, বদলে যায় মুসলিম বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গিনাইন ইলেভেনের পর আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক অভিযান মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ক্ষোভের জন্ম দেয়। এর দুই বছর পর ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন সেই ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়।মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আগে থেকেই অসন্তোষ ছিল। আফগানিস্তান ও ইরাকে সামরিক অভিযান সেই বিরোধিতাকে আরও তীব্র করে।আফগানিস্তানে অভিযানের আগে পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভ হয়। তুরস্ক, মিসর, ইয়েমেন ও পাকিস্তানের পাশাপাশি ইতালি, যুক্তরাজ্য ও বেলজিয়ামেও মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।২০১১ সালে লিবিয়ায় মার্কিন সামরিক অভিযানের সময়ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমেরিকাবিরোধী মনোভাব আরও তীব্র হয়।নাইন ইলেভেনের পর বাড়ে ইসলামবিদ্বেষনাইন ইলেভেন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতেই পরিবর্তন আনেনি; দেশটির অভ্যন্তরেও মুসলিম ও ইসলামবিদ্বেষী হামলা বেড়ে যায়।এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষী ‘হেইট ক্রাইম’ বা ঘৃণাসূচক অপরাধের ঘটনা ছিল ২৮টি। ১৯৯৯ সালে ছিল ৩২টি।কিন্তু ২০০১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮১-তে। এর ৮০ শতাংশের বেশি ঘটনা ঘটে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর।পরবর্তী বছরগুলোতেও ইসলামবিদ্বেষী হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় কোনো বছরই এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা ১০০-এর নিচে নামেনি।নাইন ইলেভেনের ২৫ বছর পরও তাই ওই হামলা শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলার স্মৃতি নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তানীতি, বৈদেশিক সামরিক অভিযান, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইসলামবিদ্বেষের আলোচনায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

নাইন ইলেভেন: ২৫ বছর পরও যে হামলার প্রভাব বদলে দেয় বিশ্বরাজনীতি