ঢাকা    রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার

শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার

ইরানের দেওয়া শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ থাকবে।পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে তাদের অবস্থান ও শর্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, ‘শত্রুপক্ষ ভালোভাবেই জানে যে প্রতারণা ও একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পথ এখন রুদ্ধ।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের শর্ত পূরণ, দেশটির ‘বৈধ অধিকার’ স্বীকৃতি এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আগের আলোচনার অবস্থায় ফিরে যাওয়া বা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে কয়েকটি শর্ত পাঠায় ইরান।শনিবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই বলেন, আমাদের শর্ত হলো- সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, আমাদের জব্দ করা অর্থ ছাড়তে হবে এবং নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে। সূত্র: আল-জাজিরা

রাশিয়ার তেল কেনা দেশে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ক্ষমতা পাচ্ছেন ট্রাম্প

রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার একটি বিল মার্কিন কংগ্রেসে পাস হয়েছে। সিনেটে অনুমোদনের পর গতকাল ২৬২-১৫৯ ভোটে প্রতিনিধি পরিষদেও বিলটি পাস হয়। এখন বিলটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের বিলটিতে রাশিয়ার কর্মকর্তা, দেশটির জ্বালানি খাত এবং তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।বিলের একটি সংশোধনীতে ভারত, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ ১০টি দেশের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এসব দেশের পণ্যে এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর হাতে থাকা ক্ষমতা প্রয়োগ করলেই এমন শুল্ক আরোপ করা সম্ভব হবে।সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি বেড়েছে। ফলে নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা ভারতের অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর শুল্ক এবং এ–সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয় এবং ভারতীয় পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়।নতুন আইনে দেওয়া ক্ষমতা ট্রাম্প প্রয়োগ করলে ভারতের ওপর মার্কিন শুল্কের চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে এর চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে বিলটি আইনে পরিণত হয় কি না এবং আইনটি কার্যকর হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর হাতে থাকা ক্ষমতা ব্যবহার করেন কি না, তার ওপর। সূত্র: এনডিটিভি

রাশিয়ার তেল কেনা দেশে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ক্ষমতা পাচ্ছেন ট্রাম্প

রাশিয়ার তেল-গ্যাস কিনলে ভারতসহ দেশগুলোর ওপর ১০০% শুল্কের বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে

রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানি করা ভারতসহ অন্যান্য দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়েছে। মঙ্গলবার ২১৪-২১১ ভোটে ‘লিন্ডসে গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামের বিলটি পরবর্তী ধাপে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়।বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনার দায়ে ভারতসহ অন্যান্য দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও সম্প্রসারণের সুযোগও থাকবে।এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়। বিলটিতে রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার প্রধান তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হবে। এসব দেশের মধ্যে ভারত ও চীন রয়েছে।তবে বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকস। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেবে এই বিল।প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত ভোটের পর বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার তেল বাণিজ্য অর্থায়নে ভূমিকা রাখছে এমন অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

রাশিয়ার তেল-গ্যাস কিনলে ভারতসহ দেশগুলোর ওপর ১০০% শুল্কের বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে

নাইন ইলেভেন: ২৫ বছর পরও যে হামলার প্রভাব বদলে দেয় বিশ্বরাজনীতি

নাইন ইলেভেন দুটি শব্দই যেন ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ হামলার সমার্থক। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শব্দ দুটি উচ্চারিত হলেই মানুষের মনে ভেসে ওঠে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিমান হামলার সেই দৃশ্য। ২৫ বছর পরও বিশ্বরাজনীতি, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং মুসলিমদের প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গিতে ওই হামলার প্রভাব স্পষ্ট।২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি ভবনে মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুটি যাত্রীবাহী বিমান আঘাত হানে। একই দিন আরও দুটি বিমান ছিনতাই করা হয়। এর একটি আঘাত হানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে। অন্যটি লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিধ্বস্ত হয়।হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার জন্য ইসলামি চরমপন্থি সংগঠন আল-কায়েদা ও এর প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করে।ওয়ার অন টেরর দিয়ে শুরু নতুন অধ্যায়হামলার মাত্র নয় দিন পর, ২০ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আনুষ্ঠানিকভাবে আল-কায়েদা ও ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করেন। একই ভাষণে তিনি ‘ওয়ার অন টেরর’ বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেন।বুশ সেদিন বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদ্দেশে বলেন, ‘আইদার ইউ আর উইথ আস, অর উইথ দেম’—অর্থাৎ এই যুদ্ধে হয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকতে হবে, নয়তো সন্ত্রাসীদের সঙ্গে।এরপর ২০০১ সালের অক্টোবরেই আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তৎকালীন তালেবান সরকার ওসামা বিন লাদেনসহ আল-কায়েদার নেতাদের হস্তান্তরের মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর ওই অভিযান শুরু হয়।আফগানিস্তানের পর ২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ২০১১ সালে লিবিয়াতেও মার্কিন বাহিনী সামরিক অভিযানে অংশ নেয়।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার বলে আসেন, এসব অভিযান কোনো ধর্ম বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; বরং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। তবে মুসলিম বিশ্বের অনেক মানুষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ নিয়ে প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়।কেন নাইন ইলেভেন এত গুরুত্বপূর্ণদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১ সালে জাপান যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের পার্ল হারবারে মার্কিন নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। এরপর নাইন ইলেভেনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে এত বড় হামলার ঘটনা আর ঘটেনি।তবে পার্ল হারবার ও নাইন ইলেভেনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। পার্ল হারবার ছিল একটি সামরিক স্থাপনা এবং তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছিল। অন্যদিকে নাইন ইলেভেনে হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল এমন স্থাপনা, যেখানে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ কর্মরত ছিলেন।হতাহতের সংখ্যার দিক থেকেও নাইন ইলেভেন পার্ল হারবারকে ছাড়িয়ে যায়। পার্ল হারবারে নিহত হন প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। নাইন ইলেভেনে চারটি বিমান ছিনতাই ও বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।১৭ মিনিটেই বদলে যায় পরিস্থিতিসকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং ৭৬৭ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ১১০ তলা উত্তর টাওয়ারে আঘাত করে। শুরুতে অনেকে এটিকে দুর্ঘটনা মনে করেছিলেন।কিন্তু মাত্র ১৭ মিনিট পর আরেকটি বোয়িং ৭৬৭ পাশের ভবনে আঘাত করলে পরিষ্কার হয়ে যায়, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়—পরিকল্পিত হামলা।দ্বিতীয় বিমানটির আঘাতের দৃশ্য সরাসরি টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এর পরই পুরো বিশ্ব জানতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নজিরবিহীন হামলার কথা।দুটি বিমানই বোস্টন থেকে লস অ্যাঞ্জেলস যাচ্ছিল। প্রতিটি বিমানে পাঁচজন করে ছিনতাইকারী ছিল। উড্ডয়নের পর তারা বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিউইয়র্কের দিকে ঘুরিয়ে দেন।একই সময়ে আরও দুটি বিমান ছিনতাই করা হয়। সেগুলোর একটি পেন্টাগনে আঘাত করে। অন্যটি ক্যাপিটল হিলে হামলার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে সেটি লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিধ্বস্ত হয়।মোট ১৯ জন ছিনতাইকারী ওই হামলায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জন ছিলেন সৌদি নাগরিক, দুজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের, একজন মিসরের এবং একজন লেবাননের নাগরিক।আফগানিস্তান থেকে ইরাক, বদলে যায় মুসলিম বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গিনাইন ইলেভেনের পর আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক অভিযান মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ক্ষোভের জন্ম দেয়। এর দুই বছর পর ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন সেই ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়।মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আগে থেকেই অসন্তোষ ছিল। আফগানিস্তান ও ইরাকে সামরিক অভিযান সেই বিরোধিতাকে আরও তীব্র করে।আফগানিস্তানে অভিযানের আগে পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভ হয়। তুরস্ক, মিসর, ইয়েমেন ও পাকিস্তানের পাশাপাশি ইতালি, যুক্তরাজ্য ও বেলজিয়ামেও মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।২০১১ সালে লিবিয়ায় মার্কিন সামরিক অভিযানের সময়ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমেরিকাবিরোধী মনোভাব আরও তীব্র হয়।নাইন ইলেভেনের পর বাড়ে ইসলামবিদ্বেষনাইন ইলেভেন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতেই পরিবর্তন আনেনি; দেশটির অভ্যন্তরেও মুসলিম ও ইসলামবিদ্বেষী হামলা বেড়ে যায়।এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষী ‘হেইট ক্রাইম’ বা ঘৃণাসূচক অপরাধের ঘটনা ছিল ২৮টি। ১৯৯৯ সালে ছিল ৩২টি।কিন্তু ২০০১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮১-তে। এর ৮০ শতাংশের বেশি ঘটনা ঘটে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর।পরবর্তী বছরগুলোতেও ইসলামবিদ্বেষী হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় কোনো বছরই এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা ১০০-এর নিচে নামেনি।নাইন ইলেভেনের ২৫ বছর পরও তাই ওই হামলা শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলার স্মৃতি নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তানীতি, বৈদেশিক সামরিক অভিযান, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইসলামবিদ্বেষের আলোচনায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

নাইন ইলেভেন: ২৫ বছর পরও যে হামলার প্রভাব বদলে দেয় বিশ্বরাজনীতি

হরমুজে সামরিক অভিযানে অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের সতর্কতা

পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে সেনা মোতায়েন কিংবা সামরিক অভিযানে অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্ক করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, সিউল এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিলে সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ইরান।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে কোরিয়ান ভাষায় এ সতর্কবার্তা দেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।বার্তায় বাঘাই বলেন, ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক ৬৪ বছরেরও বেশি পুরোনো। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এ সম্পর্ককে তেহরান গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং সিউলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের কঠোর জবাব দেওয়ার কথাও বলেন ইরানের এই মুখপাত্র।বাঘাই সতর্ক করে বলেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে কোনো পক্ষের সামরিক উপস্থিতি বা সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকে আগ্রাসী পক্ষকে সরাসরি সহায়তা হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান। এমন পদক্ষেপের ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, কোনো সার্বভৌম ও দায়িত্বশীল সরকারই ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বা ‘ব্ল্যাকমেইলের’ কাছে নতি স্বীকার করে না।ইসমাইল বাঘাইয়ের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শুরু করা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির দায় ও বোঝা অন্য দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

হরমুজে সামরিক অভিযানে অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের সতর্কতা

হরমুজে হামলা-পাল্টা হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৮২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ০৭ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ০.৮৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।তেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি। ইরান দাবি করেছে, অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে তারা হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি তিনটি মার্কিন জাহাজেও হামলার দাবি করেছে তেহরান।ইরানের ভাষ্য, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের বক্তব্য ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই তারা ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।জাহাজ চলাচল কমেছেহরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। রয়টার্সের তথ্য বলছে, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে। মে মাসের পর এটি সর্বনিম্ন জাহাজ চলাচলের হার।বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক। এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। ফলে প্রণালিটিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এক সপ্তাহেই বড় উল্লম্ফনযুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে।এরই মধ্যে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

হরমুজে হামলা-পাল্টা হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

মার্কিন ঘাঁটি সরানোর হুঁশিয়ারি ইরানের, না হলে হামলা

মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ভূখণ্ড থেকে সরিয়ে দিতে আরব দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান। তা না হলে এসব দেশের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো তৎপরতা চালানো হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ‘চরম প্রতিশোধের’ মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির রাজনৈতিক উপপ্রধান জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি এ হুঁশিয়ারি দেন।বিবৃতিতে তিনি বলেন, আরব দেশগুলোর নিজেদের ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে দিয়ে তাদের ঘাঁটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো হবে। বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের নাম উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিলে সেখান থেকেই পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।এর পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরানের এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ ইসলামি আল জাজিরাকে বলেন, ওয়াশিংটন কূটনীতিতে বিশ্বাসী নয়—এমন ধারণা ইরানের মধ্যে তৈরি হয়েছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান।তিনি বলেন, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতি রাখা। আগের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা দেখা গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা আবার যুদ্ধ চাইলে ইরান আরও শক্তিশালী জবাব দেবে। এদিকে ইরানের কুহেস্তায় একটি বিয়েবাড়িতে মার্কিন হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মোহাম্মদ ইসলামি। ঘটনাটিকে ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এখনই তাদের থামানো ও শাস্তি দেওয়ার উপযুক্ত সময়।

মার্কিন ঘাঁটি সরানোর হুঁশিয়ারি ইরানের, না হলে হামলা

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হলো ‘জ্যাভেলিন’ ক্ষেপণাস্ত্র

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ‘জ্যাভেলিন’ কিনতে চুক্তি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ফরেন মিলিটারি সেলস (এফএমএস) প্রক্রিয়ার আওতায় এ চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর চুক্তিটিকে ‘বড় খবর’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত জ্যাভেলিন কেনার উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে যৌথ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও তিনি জানান।ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৬০টি জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চুক্তিটির মূল্য প্রায় ২৯২ কোটি রুপি। জরুরি ক্রয়ক্ষমতার আওতায় এ কেনাকাটা করা হয়েছে। তবে চুক্তির সঠিক সংখ্যা ও মূল্য মার্কিন দূতাবাস বা যুক্তরাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।যেভাবে কাজ করে জ্যাভেলিনজ্যাভেলিন কাঁধে বহনযোগ্য ট্যাংকবিধ্বংসী নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা। একজন সেনাসদস্য এটি বহন ও উৎক্ষেপণ করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্সের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে।জ্যাভেলিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ প্রযুক্তি। লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর নিক্ষেপকারীকে আর সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে হয় না। ক্ষেপণাস্ত্র নিজেই লক্ষ্য অনুসরণ করে।এ কারণে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর সেনাসদস্য দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন। শত্রুপক্ষ পাল্টা আঘাত করার আগেই নিরাপদ অবস্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।জ্যাভেলিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা হলো ট্যাংকের ওপরের তুলনামূলক কম সুরক্ষিত অংশে আঘাত করা। পাশাপাশি সাঁজোয়া যান ও বাংকারের মতো সুরক্ষিত অবস্থানও এর লক্ষ্য হতে পারে। এ কারণে প্রচলিত যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।কেন জ্যাভেলিন কিনছে ভারতআধুনিক ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা ভারত দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে। একই সঙ্গে দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তিতে ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দেশীয় ব্যবস্থাটি এখনো উন্নয়ন ও পরীক্ষার পর্যায়ে থাকায় দ্রুত সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশি অস্ত্র কেনার পথে এগিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্র বলছে, গত বছরের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে জরুরি ক্রয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি সরঞ্জামের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ কোটি রুপি পর্যন্ত কেনাকাটার সুযোগ রয়েছে। জ্যাভেলিন কেনার চুক্তিও এই সীমার মধ্যে করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ভারতীয় সূত্রের বরাতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শেষ নাগাদ জ্যাভেলিন সরবরাহ শুরু হতে পারে। তবে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের কারণে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।এর আগেও অনুমোদন দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রভারতকে জ্যাভেলিন বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্র আগেই দিয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভারতকে জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দেয়।মার্কিন প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংস্থা (ডিএসসিএ) জানিয়েছিল, সম্ভাব্য ওই বিক্রির আনুমানিক মূল্য ছিল ৪৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। প্রস্তাবে ১০০টি এফজিএম-১৪৮ জ্যাভেলিন রাউন্ড, একটি পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি লাইটওয়েট কমান্ড লঞ্চ ইউনিটের কথা ছিল। এর সঙ্গে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য সহায়ক সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।তবে সেটি ছিল সম্ভাব্য ফরেন মিলিটারি সেলসের অনুমোদন। তাই ২০২৬ সালের নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে ৪৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার বা ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্রকে চূড়ান্ত চুক্তির মূল্য বা সংখ্যা হিসেবে উল্লেখ করা ঠিক হবে না।প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনাজ্যাভেলিন কেনার চুক্তিকে শুধু অস্ত্র ক্রয় হিসেবে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরের বক্তব্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। ভবিষ্যতে যৌথ উৎপাদনের পথও খুলতে পারে এই চুক্তি।গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করতে ১০ বছরের একটি কাঠামোতে সম্মত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় জ্যাভেলিন চুক্তিকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।সামরিক ব্যয়ের দিক থেকেও ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় দেশ। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) তথ্য অনুযায়ী, সামরিক খাতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যয় করা দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান পঞ্চম। অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রেও দেশটি বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি।ফলে জ্যাভেলিনের মতো আধুনিক ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র সংগ্রহ ভারতের সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়নের অংশ। পাশাপাশি নতুন এই চুক্তি নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকেও আরও দৃশ্যমান করল।সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স, দ্য ইকোনমিক টাইমস ও দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হলো ‘জ্যাভেলিন’ ক্ষেপণাস্ত্র

শিশুদের ক্ষতির অভিযোগ, কয়েক বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে মেটা

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের করা অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।অভিযোগে বলা হয়েছিল, মেটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের ক্ষতির কারণ হয়েছে। এসব অভিযোগের নিষ্পত্তিতে আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে মেটাকে কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন কিছু নিয়ম চালু করতে হবে।চুক্তির আওতায় কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় সীমিত করার পাশাপাশি রাতে তাদের অ্যাকাউন্ট ব্লক করার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য শিশু ও কিশোরদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে মেটার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছিল। এসব অভিযোগের মধ্যে প্ল্যাটফর্মের নকশা ও ব্যবহারের ধরন শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।তবে চুক্তিটি কার্যকর করতে আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।সূত্র: বিবিসি বাংলা

শিশুদের ক্ষতির অভিযোগ, কয়েক বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে মেটা

ইরানের তেল কিনলে কঠোর ব্যবস্থা, চীনের দিকে ওয়াশিংটনের নজর

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইরান থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনা অব্যাহত রাখা দেশগুলোকে লক্ষ্য করে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার চাপ তৈরি করা। তবে কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি মার্কিন কর্মকর্তারা। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য চীন।ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের রপ্তানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই চীন কিনে থাকে। এই তেল বিক্রি থেকে ইরান প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। দেশটির সরকারি ব্যয় ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আকস্মিক বড় ধরনের চাপ তৈরি না করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তাদের নীতি পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, এই সুযোগের সময় সীমাহীন নয়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ডলারভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।ওয়াশিংটনের হুঁশিয়ারির প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না; বরং এ ধরনের পদক্ষেপ উত্তেজনা আরও বাড়াবে।তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীনে ইরানি তেলের আমদানি কমেছে। চলমান সংঘাত এবং কিছু তেল শোধনাগারের কার্যক্রম কমে যাওয়ার কারণে দেশটিতে ইরানি তেলের আমদানি আগে দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল থাকলেও তা কমে প্রায় ৭ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, চীনের পর্যাপ্ত তেল মজুদ থাকায় ইরান থেকে আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম।ইরানি তেলের অন্যতম পুরোনো ক্রেতা ছিল ভারতও। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদার চাপের মধ্যে সীমিত পরিসরে ইরানি তেল কেনার প্রবণতা দেখা গেছে।এদিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানি তেল পরিবহনে বিভিন্ন ছায়াবহর বা গোপন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব জাহাজের মালিকানা, অবস্থান ও গন্তব্য গোপন রাখার নানা কৌশলের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের প্রকৃত তেল রপ্তানির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পড়ছে এবং পেট্রল পাম্পে জ্বালানির দাম বাড়ার চাপ তৈরি হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তেল বাণিজ্য বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপ সফল হলে তেহরানের রাজস্ব আয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে একই সঙ্গে চীনের মতো বড় ক্রেতাকে ঘিরে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

ইরানের তেল কিনলে কঠোর ব্যবস্থা, চীনের দিকে ওয়াশিংটনের নজর

কিমের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প, উত্তর কোরিয়ার কঠিন শর্ত

চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পিয়ংইয়ংয়ের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়ায় ইঙ্গিত মিলছে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো থাকলেও নতুন বৈঠকের জন্য উত্তর কোরিয়া কঠিন শর্ত দিতে পারে। খবর রয়টার্সের।বুধবার ট্রাম্প বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই কিমের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর কমানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এসব মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘বৈরী’ বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তাদের আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে আগ্রহী ট্রাম্প।চলতি বছরের শেষ দিকে চীনের শেনজেনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে ট্রাম্পের যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পিয়ংইয়ং আলোচনায় আগ্রহী হলে ওই অঞ্চলে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর ভাষায়, ‘উপযুক্ত সময়ে প্রেসিডেন্ট ও কিম জং উন আবার বৈঠক করবেন।’তবে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বিশ্লেষকদের মতে, পিয়ংইয়ং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ট্রাম্প ও কিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এক বিষয় নয়।কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বলেন, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কখনোই উত্তর কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা বা সামরিক সক্ষমতা জোরদারের স্বার্থকে ছাড়িয়ে যাবে না।সদিচ্ছার ইঙ্গিত প্রত্যাখ্যান পিয়ংইয়ংয়েরকিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার উলচি ফ্রিডম শিল্ড সামরিক মহড়ার পরিসর কমানোর সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, মহড়া চলমান থাকায় তা এখনো আগ্রাসী পদক্ষেপ এবং উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বৈরীই রয়ে গেছে।কিম ইয়ো জং ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে সাম্প্রতিক কোনো যোগাযোগের কথাও অস্বীকার করেছেন। তবে দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূলের দিকে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদ হিসেবেই এই উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।কিম ইয়ো জং এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে কোনো ধরনের ‘সদিচ্ছার ইঙ্গিত’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়, তাহলে তারা কাঙ্ক্ষিত জবাব পাবে না।

কিমের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প, উত্তর কোরিয়ার কঠিন শর্ত

আজ শেষ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আজ সোমবার শেষ হচ্ছে। তবে এর মেয়াদ বাড়ানো বা নতুন করে সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ফলে দুই দেশের সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এতে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। প্রয়োজনে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছিল।সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে সম্মত হয়। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং দেশটির পুনর্গঠনে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে থাকা মাইন অপসারণ এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সম্মতি জানায়।তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। এতে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।এদিকে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ তৈরির বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলাদা একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে তেহরান। তবে ইরানের অবস্থান হলো, এ ধরনের উদ্যোগের আগে একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে হবে।এ পরিস্থিতিতে সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো চুক্তি বা সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত না আসায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আবারও কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।সূত্র: আল জাজিরা, জিও নিউজ

আজ শেষ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ

হরমুজ প্রণালি খোলা-বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু তেহরানই নেবে: ইরান

হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র ইরানের বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ ঘোষণা করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গারিবাবাদি বলেন, ‘ইরান মার্কিন হুমকি বা সামরিক শক্তি প্রদর্শনে ভীত নয়। প্রণালিটি খোলা বা বন্ধ করার যেকোনো সিদ্ধান্ত একমাত্র তেহরানই নেবে।’হরমুজ প্রণালিকে শিগগিরই ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ ঘোষণা করা হবে বলে ট্রাম্প যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তা প্রত্যাখ্যান করে গারিবাবাদি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে।’এই জলপথে যুক্তরাষ্ট্র নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গারিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালি ‘শুধু ইরানের নির্দেশেই খোলা ও বন্ধ করা হবে’।তিনি আরও বলেন, ‘যতক্ষণ আপনারা আপনাদের পরাজয়ের বাস্তবতা স্বীকার করতে অস্বীকার করবেন এবং বিভ্রমে ডুবে থাকবেন, ততক্ষণ ইরান এই অবরোধ বজায় রাখবে।’এর আগে শুক্রবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি পুলিশ একাডেমিতে দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই তিনি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন।সূত্র: ডন

হরমুজ প্রণালি খোলা-বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু তেহরানই নেবে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় নিহত ৫, সন্দেহভাজনও মৃত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে বন্দুক হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পরে পুলিশের তল্লাশি অভিযানে সন্দেহভাজন ব্যক্তির লাশও পাওয়া গেছে। শুক্রবার অঙ্গরাজ্যটির উত্তরাঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে।মিশিগান স্টেট পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স পুলিশের বরাত দিয়ে জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে মিসককি কাউন্টির একটি বাড়িতে বন্দুক হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ কর্মকর্তারা।সেখানে তিনজনকে মৃত এবং একজনকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানানো হয়।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ৩৯ বছর বয়সী চ্যাড হিকম্যানকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে তাঁকে ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু করা হয়।তল্লাশি অভিযানের একপর্যায়ে তদন্তকারীরা দ্বিতীয় একটি বাড়ি থেকে আরও একজনের লাশ উদ্ধার করেন।পরে হুইটলক লেকের কাছে একটি বনাঞ্চলের পাশে হিকম্যানের গাড়ির সন্ধান পায় পুলিশ। সেখান থেকে হিকম্যানসহ আরও একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।পুলিশ এখনো নিহত ব্যক্তিদের নাম, বয়স বা লিঙ্গ প্রকাশ করেনি। তাঁদের স্বজনদের বিষয়টি জানানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় নিহত ৫, সন্দেহভাজনও মৃত

ইরানের আকাশে মার্কিন রিপার ড্রোন ভূপাতিত

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শুক্রবার এ দাবি করা হয়। খবর আলজাজিরার।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির ‘নতুন উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ ব্যবহার করে ড্রোনটি শনাক্ত করা হয়। পরে সেটি ধ্বংস করা হয়েছে।তবে ইরানের এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে নজরদারি ও সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক ডজন এমকিউ-৯ ড্রোন হারিয়েছে।

ইরানের আকাশে মার্কিন রিপার ড্রোন ভূপাতিত

মার্কিন রণতরী নাবিকদের খাবার সংকট

ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে ২৫০ দিনের বেশি সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকা এই রণতরীতে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট, নষ্ট টয়লেট, গরম পানি ও লন্ড্রি-সুবিধার ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে।নাবিকদের কয়েকজন দীর্ঘদিনের মোতায়েনের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন। এমনকি কয়েকজন নাবিক জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার কথা বিবেচনা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে জবাব চেয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। তিনি খাবার ও পানির সংকট, দূষিত পানি, টয়লেটের সমস্যা, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং ডাক পৌঁছাতে দীর্ঘসূত্রতার বিষয় তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে নৌবাহিনীর ওপর অতিরিক্ত অপারেশনাল চাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।সিনেটর রুবেন গ্যালেগো কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলকে রণতরীতে গিয়ে পরিস্থিতি তদন্তের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘এই ভয়াবহ পরিস্থিতির বিষয়ে তদন্ত ও নজরদারি চালাতে কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকে সেখানে যেতে দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে আমাদের প্রবেশাধিকার না দেওয়ার কোনো কারণ নেই।’নাবিকের ওজন কমেছে ২৯ কেজিবিভিন্ন মার্কিন সামরিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় জাহাজে অবস্থানের কারণে কিছু নাবিক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এক নাবিকের স্বজনের দাবি, মোতায়েন শুরুর পর তাঁর আত্মীয়ের ২৯ কেজি ওজন কমেছে। প্রচণ্ড ক্লান্তিতেও ভুগছেন তিনি।দীর্ঘ সময় বন্দরে না যাওয়ায় তাজা খাবার, বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ কমানোর সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য মাইক লেভিন এক্সে পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘ছত্রাক ধরা গোসলখানা, নষ্ট টয়লেট, কয়েক সপ্তাহ ধরে বন্ধ লন্ড্রি, দীর্ঘ সময় গরম পানি না থাকা, এক বেলায় আধা কাপ ভাত ও দুটি টর্টিলা পর্যন্ত খাবার। সাবান, ডিওডোরেন্ট বা টুথপেস্টও নেই।’অভিযোগ অস্বীকার নৌবাহিনীরতবে মার্কিন নৌবাহিনী বলেছে, জাহাজে আত্মহত্যার চিন্তা বা চেষ্টার ঘটনা বেড়েছে—এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। তাদের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রচলিত সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হলেও বর্তমানে রণতরীতে বিশুদ্ধ পানি, কার্যকর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে।নৌবাহিনী জানিয়েছে, সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রথমে খাবার, এরপর স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রী ও ডাক পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও নাবিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।বারবার বাড়ানো হয়েছে মোতায়েনের মেয়াদইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন গত নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যাত্রা করে দক্ষিণ চীন সাগরে যায়। পরে ইরানে মার্কিন হামলার আগে রণতরীটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়।মে মাসে এর মোতায়েন শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে পরে তা একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে রণতরীর নাবিকদের জীবনযাপন ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে এখন মার্কিন রাজনীতিতেও প্রশ্ন উঠেছে।

মার্কিন রণতরী নাবিকদের খাবার সংকট