ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে ২৫০ দিনের বেশি সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকা এই রণতরীতে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট, নষ্ট টয়লেট, গরম পানি ও লন্ড্রি-সুবিধার ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে।
নাবিকদের কয়েকজন
দীর্ঘদিনের মোতায়েনের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত
হয়ে পড়েছেন বলে তাঁদের পরিবারের
সদস্যরা দাবি করেছেন। এমনকি
কয়েকজন নাবিক জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার
কথা বিবেচনা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে
জবাব চেয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। তিনি খাবার ও
পানির সংকট, দূষিত পানি, টয়লেটের সমস্যা, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং ডাক পৌঁছাতে
দীর্ঘসূত্রতার বিষয় তুলে ধরেছেন।
একই সঙ্গে নৌবাহিনীর ওপর অতিরিক্ত অপারেশনাল
চাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সিনেটর রুবেন
গ্যালেগো কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলকে রণতরীতে
গিয়ে পরিস্থিতি তদন্তের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এক্সে
তিনি লিখেছেন, ‘এই ভয়াবহ পরিস্থিতির
বিষয়ে তদন্ত ও নজরদারি চালাতে
কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকে সেখানে যেতে
দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে আমাদের
প্রবেশাধিকার না দেওয়ার কোনো
কারণ নেই।’
নাবিকের
ওজন কমেছে ২৯ কেজি
বিভিন্ন মার্কিন
সামরিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ
সময় জাহাজে অবস্থানের কারণে কিছু নাবিক মানসিকভাবে
বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এক
নাবিকের স্বজনের দাবি, মোতায়েন শুরুর পর তাঁর আত্মীয়ের
২৯ কেজি ওজন কমেছে।
প্রচণ্ড ক্লান্তিতেও ভুগছেন তিনি।
দীর্ঘ সময়
বন্দরে না যাওয়ায় তাজা
খাবার, বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ
কমানোর সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে বলেও
অভিযোগ রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট
কংগ্রেস সদস্য মাইক লেভিন এক্সে
পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘ছত্রাক
ধরা গোসলখানা, নষ্ট টয়লেট, কয়েক
সপ্তাহ ধরে বন্ধ লন্ড্রি,
দীর্ঘ সময় গরম পানি
না থাকা, এক বেলায় আধা
কাপ ভাত ও দুটি
টর্টিলা পর্যন্ত খাবার। সাবান, ডিওডোরেন্ট বা টুথপেস্টও নেই।’
অভিযোগ
অস্বীকার নৌবাহিনীর
তবে মার্কিন
নৌবাহিনী বলেছে, জাহাজে আত্মহত্যার চিন্তা বা চেষ্টার ঘটনা
বেড়েছে—এমন কোনো প্রমাণ
তারা পায়নি। তাদের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রচলিত সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হলেও বর্তমানে রণতরীতে
বিশুদ্ধ পানি, কার্যকর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত খাবার
রয়েছে।
নৌবাহিনী জানিয়েছে,
সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রথমে খাবার, এরপর স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রী
ও ডাক পৌঁছানোর ওপর
গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও
নাবিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
করেছেন।
বারবার
বাড়ানো হয়েছে মোতায়েনের মেয়াদ
ইউএসএস আব্রাহাম
লিঙ্কন গত নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়া
থেকে যাত্রা করে দক্ষিণ চীন
সাগরে যায়। পরে ইরানে
মার্কিন হামলার আগে রণতরীটিকে মধ্যপ্রাচ্যে
পাঠানো হয়।
মে মাসে এর মোতায়েন শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে পরে তা একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে রণতরীর নাবিকদের জীবনযাপন ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে এখন মার্কিন রাজনীতিতেও প্রশ্ন উঠেছে।