ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ, জি-২০ বৈঠকে গুরুত্ব পাবে জ্বালানি ও ঋণ

বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ, জি-২০ বৈঠকে গুরুত্ব পাবে জ্বালানি ও ঋণ

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, সুদের হার ও বিভিন্ন দেশের ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা নিয়ে আলোচনায় বসছেন বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা।আজ বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হচ্ছে জি-২০-এর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পাশাপাশি ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অঞ্চলজুড়ে হামলার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। গত আট মাসের বেশির ভাগ সময় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ছিল। এতে বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকারি ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের পারিবারিক বাজেটে চাপ বেড়েছে।বৈঠকে থাকছেন না যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রীজি-২০-এর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠকে অধিকাংশ সদস্যদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এতে উপস্থিত থাকবেন আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা।তবে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী এবং জি-২০-এর বর্তমান সভাপতি দেশের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা স্কট বেসেন্ট বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যস্ততার কারণে তিনি যোগ দিতে পারছেন না। তাঁর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন উপঅর্থমন্ত্রী ফ্রান্সিস ব্রুক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি এরিন ব্রাউন।জি-২০-এর নিয়মিত বৈঠকগুলোর একটি এটি। এখানকার আলোচনা আগামী ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামিতে অনুষ্ঠেয় জি-২০ নেতাদের মূল সম্মেলনের আলোচ্যসূচি নির্ধারণেও ভূমিকা রাখবে।মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধের আহ্বান অস্ট্রেলিয়ারবৈঠকের আগে অস্ট্রেলিয়ার কোষাধ্যক্ষ জিম চালমার্স মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এখন এটিই সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন।এক বিবৃতিতে চালমার্স বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। এটি বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে।’হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে উৎপাদন, পরিবহন ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর।ঋণের বোঝা নিয়েও উদ্বেগবৈঠকে বিভিন্ন দেশের ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণের বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, ইতালি ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর সরকারি ঋণ তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১০০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।বুধবার এক বক্তব্যে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেন, ক্রমবর্ধমান ঋণ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। সরকারের কর বাড়ানো বা ব্যয় কমানোর প্রয়োজন এড়ানোর কোনো ‘জাদুকরি’ সমাধান নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগজি-২০-এর সদস্যদেশগুলো নিজেদের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আরও কিছু বিষয় বৈঠকে তুলবে। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। এর মধ্য দিয়ে মূলত চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত শিল্পব্যবস্থার সমালোচনা করা হয়।যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত শিল্পব্যবস্থার কারণে দেশটির রপ্তানিকারকেরা কম দামে বিদেশের বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, চীনের বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের ক্রমপুঞ্জীভূত বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৯৩৮ বিলিয়ন ডলার।বুধবার আইএমএফের উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্কট বেসেন্ট বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে অ-বাজারভিত্তিক নীতি ও চর্চা এবং বিনিময় হার কীভাবে বৈদেশিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে, তা নিয়ে আইএমএফের বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা জোরদার করা প্রয়োজন।’বেসেন্ট আরও বলেন, কিছু অর্থনীতির বাজার বিকৃতকারী নীতি প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং কর্মসংস্থানের ক্ষতি করছে। বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়, তা নিয়ে বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের কঠিন আলোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সরকারি ঋণের চাপ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভারসাম্যহীনতা—এই বিষয়গুলোই জি-২০-এর এবারের বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের দ্রুত সমাধানের দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে না নিলে ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার নিউইয়র্কের সিরাকিউসে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ হুমকি দেন।ট্রাম্প বলেন, ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের দ্রুত মীমাংসা করবেন তিনি এবং এসব সংঘাতে জয়ী হবেন। ইরান যুদ্ধের অবসানও খুব শিগগির ঘটবে বলে আবারও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।ইরানকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘হয় তারা আমাদের সব দাবি মেনে নেবে, নতুবা তাদের আর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।’তিনি আরও বলেন, ইরান ও ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলেছে।সূত্র: আল জাজিরা

ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের দ্রুত সমাধানের দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের

মার্কিন রণতরী নাবিকদের খাবার সংকট

ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে ২৫০ দিনের বেশি সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকা এই রণতরীতে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট, নষ্ট টয়লেট, গরম পানি ও লন্ড্রি-সুবিধার ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে।নাবিকদের কয়েকজন দীর্ঘদিনের মোতায়েনের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন। এমনকি কয়েকজন নাবিক জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার কথা বিবেচনা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে জবাব চেয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। তিনি খাবার ও পানির সংকট, দূষিত পানি, টয়লেটের সমস্যা, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং ডাক পৌঁছাতে দীর্ঘসূত্রতার বিষয় তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে নৌবাহিনীর ওপর অতিরিক্ত অপারেশনাল চাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।সিনেটর রুবেন গ্যালেগো কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলকে রণতরীতে গিয়ে পরিস্থিতি তদন্তের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘এই ভয়াবহ পরিস্থিতির বিষয়ে তদন্ত ও নজরদারি চালাতে কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকে সেখানে যেতে দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে আমাদের প্রবেশাধিকার না দেওয়ার কোনো কারণ নেই।’নাবিকের ওজন কমেছে ২৯ কেজিবিভিন্ন মার্কিন সামরিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় জাহাজে অবস্থানের কারণে কিছু নাবিক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এক নাবিকের স্বজনের দাবি, মোতায়েন শুরুর পর তাঁর আত্মীয়ের ২৯ কেজি ওজন কমেছে। প্রচণ্ড ক্লান্তিতেও ভুগছেন তিনি।দীর্ঘ সময় বন্দরে না যাওয়ায় তাজা খাবার, বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ কমানোর সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য মাইক লেভিন এক্সে পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘ছত্রাক ধরা গোসলখানা, নষ্ট টয়লেট, কয়েক সপ্তাহ ধরে বন্ধ লন্ড্রি, দীর্ঘ সময় গরম পানি না থাকা, এক বেলায় আধা কাপ ভাত ও দুটি টর্টিলা পর্যন্ত খাবার। সাবান, ডিওডোরেন্ট বা টুথপেস্টও নেই।’অভিযোগ অস্বীকার নৌবাহিনীরতবে মার্কিন নৌবাহিনী বলেছে, জাহাজে আত্মহত্যার চিন্তা বা চেষ্টার ঘটনা বেড়েছে—এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। তাদের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রচলিত সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হলেও বর্তমানে রণতরীতে বিশুদ্ধ পানি, কার্যকর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে।নৌবাহিনী জানিয়েছে, সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রথমে খাবার, এরপর স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রী ও ডাক পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও নাবিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।বারবার বাড়ানো হয়েছে মোতায়েনের মেয়াদইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন গত নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যাত্রা করে দক্ষিণ চীন সাগরে যায়। পরে ইরানে মার্কিন হামলার আগে রণতরীটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়।মে মাসে এর মোতায়েন শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে পরে তা একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে রণতরীর নাবিকদের জীবনযাপন ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে এখন মার্কিন রাজনীতিতেও প্রশ্ন উঠেছে।

মার্কিন রণতরী নাবিকদের খাবার সংকট