ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
হরমুজে হামলা-পাল্টা হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

হরমুজে হামলা-পাল্টা হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৮২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ০৭ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ০.৮৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।তেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি। ইরান দাবি করেছে, অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে তারা হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি তিনটি মার্কিন জাহাজেও হামলার দাবি করেছে তেহরান।ইরানের ভাষ্য, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের বক্তব্য ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই তারা ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।জাহাজ চলাচল কমেছেহরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। রয়টার্সের তথ্য বলছে, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে। মে মাসের পর এটি সর্বনিম্ন জাহাজ চলাচলের হার।বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক। এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। ফলে প্রণালিটিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এক সপ্তাহেই বড় উল্লম্ফনযুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে।এরই মধ্যে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ওমানকে ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর প্রচেষ্টায় ওমান বাধা দিলে দেশটিতে ‘ভয়াবহ বোমা হামলা’ চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওমান যদি পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাব।হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইরান ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও জানান, তাঁর প্রশাসন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য একটি গোপন ‘ব্যাকচ্যানেল’ চালু করেছে। তবে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে তিনি কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না বলে জানান।আইআরজিসি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ভালো পোকার খেলোয়াড়, কিন্তু তারা মারা যাচ্ছে।’ সংঘাত শেষ করার বিষয়ে তাঁর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই বলেও জানান তিনি।এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরান ও ওমান একটি সমঝোতা চূড়ান্ত করার কাছাকাছি রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।এমন পরিস্থিতিতে ওমানকে ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ওমানকে ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি

ইয়েমেনে ৪৮ ঘণ্টায় ২০০ হুথি যোদ্ধা নিহত

ইয়েমেনে গত ৪৮ ঘণ্টায় দুই শতাধিক হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ প্রদেশে সংঘর্ষ ও ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আল আরাবিয়া।প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের অধিকাংশ হুথিদের আল-সামাদ ব্রিগেডের সদস্য।এদিকে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে হুথিরা বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ইয়েমেন ফিউচার। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইজ শহরের পশ্চিমে আল-বারহ ফ্রন্টে নতুন করে সেনা ও যোদ্ধা পাঠিয়েছে হুথিরা।নতুন করে পাঠানো সদস্যদের মধ্যে হুথিদের বিশেষ বাহিনী, কমান্ডো এবং সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যোদ্ধারাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।হুথিরা আরও যোদ্ধা সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলেও বিভিন্ন সূত্রের বরাতে খবর পাওয়া গেছে। সানার সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার কয়েকটি কারাগার থেকে শত শত বন্দিকে মুক্তি দিতে শুরু করেছে গোষ্ঠীটি। বিনিময়ে তাঁদের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার শর্ত দেওয়া হচ্ছে।সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাদা, হাজ্জাহ ও সানা প্রদেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রায় ৮৫০ বন্দি ও আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অপরাধ ও মাদকসংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। পাশাপাশি দামার প্রদেশে আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০ বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর বিনিময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহার অথবা আইনি অবস্থান নিষ্পত্তির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।কিছু বন্দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে হুথি বাহিনীতে নিয়োগ ও আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এমনকি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে কারাগারে থাকা কয়েকজনের দেনা পরিশোধের বিনিময়ে তাঁদের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।সূত্র: আল আরাবিয়া

ইয়েমেনে ৪৮ ঘণ্টায় ২০০ হুথি যোদ্ধা নিহত

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২৬৫, নিখোঁজ ৪৯৬

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বুধবার জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪৯৬ জন।স্থানীয় সময় গত সোমবার সকালে কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পশ্চিমাঞ্চলের চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। ভূমিকম্পের কম্পন দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। কালি, পেরেইরা, মানিজালেস ও কিবদো শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।ভূমিকম্পের পর ৭০টির বেশি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটির মাত্রা ছিল ৪-এর বেশি। পরাঘাত ভূমিকম্পের পর স্বাভাবিক ঘটনা হলেও এগুলো উদ্ধার তৎপরতাকে আরও কঠিন করে তুলছে।ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে। কোথাও ভবনের একাংশ, আবার কোথাও পুরো ভবনই ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন উদ্ধারকারীরা।নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার জন্য দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই দুর্যোগ বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ে জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।সাংবাদিকদের দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য এখন নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা।’দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পাঠাচ্ছে সরকার। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো সচল করার কাজও চলছে।দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তাও আসছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মেক্সিকো ও এল সালভাদরও সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২৬৫, নিখোঁজ ৪৯৬