ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

তিন বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধী এমপিদের ওয়াকআউট


শেখ মো: বেলায়েত হোসেন
শেখ মো: বেলায়েত হোসেন রিপোর্টার

তিন বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধী এমপিদের ওয়াকআউট
অধিবেশন থেকে বের হওয়ার সময় তাঁদের কয়েকজন মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ ভবন ত্যাগ করেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা।

তিনটি বিল পাসের প্রতিবাদে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। রোববার রাতে অধিবেশন থেকে বের হওয়ার সময় তাঁদের কয়েকজন মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ ভবন ত্যাগ করেন।

রোববার রাত ৮টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন চলছিল। সময়গুম প্রতিরোধ প্রতিকার বিল’, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলএবংসম্পত্তি হস্তান্তর বিলপাসের বিরোধিতা করেন বিরোধীদলীয় এমপিরা।

একপর্যায়ে প্রতিবাদ হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির সংসদ সদস্যরা অধিবেশন বর্জন করে বেরিয়ে যান। পরে সংসদ ভবনের টানেলে সংবাদ সম্মেলন করেন তাঁরা।

সেপ্টেম্বরকেকালো দিনবললেন বিরোধীরা

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতারা সেপ্টেম্বরকে সংসদের জন্যকালো দিনহিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের অভিযোগ, বিতর্কিত তিনটি বিল পাসের মাধ্যমে জনগণের মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তোলেন তাঁরা।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও তাঁকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বরং স্পিকার বিষয়টি নিয়ে মশকরা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্পিকারের এমন আচরণকে অত্যন্ত হতাশাজনক পক্ষপাতমূলক বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।

তড়িঘড়ি করে বিল পাস

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের অভিযোগ, বিরোধীদলের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়েই সরকার গুম প্রতিরোধ প্রতিকার বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল তড়িঘড়ি করে সংসদে উত্থাপন পাস করেছে।

তাঁর দাবি, এসব আইনে স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনার ন্যূনতম সুযোগও রাখা হয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে আপত্তি

জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র নজিবুর রহমানসম্পত্তি হস্তান্তর বিল’-এর বিরোধিতা করেন। তিনি বিলটিকে সরাসরি কোরআন সুন্নাহবিরোধী বলে দাবি করেন।

সময় আইনমন্ত্রীর সমালোচনা করে নজিবুর রহমান বলেন, ইসলামি বিধান সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না থাকায় আইনমন্ত্রী সংসদে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন।

স্পিকারের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, স্পিকারের মূল দায়িত্ব ছিল সংসদে ন্যায়বিচার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।

কালো আইনবললেন নজিবুর রহমান

নজিবুর রহমানের অভিযোগ, সরকার মানবাধিকার গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত আইনকে আরও কার্যকর করার পরিবর্তে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুর্বল করে সংসদে পাস করেছে।

তিনি আইনটিকেকালো আইনহিসেবে অভিহিত করে বলেন, এর ফলে জনগণের মানবাধিকার আরও সংকুচিত হবে। ভবিষ্যতে গুম হত্যার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

নজিবুর রহমান বলেন, ১৭ বছরের সীমাহীন নির্যাতনের অভিজ্ঞতা ভুলে গিয়ে সরকার আবারও পুরোনো পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনার পথে হাঁটছে।

তিনটি বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধী এমপিদের এই ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে সংসদে সরকার বিরোধীদলের মধ্যে বিলগুলোর বিষয়ে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এলো।

বিষয় : জাতীয় সংসদ বিরোধীদলের ওয়াকআউট গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল মানবাধিকার কমিশন সম্পত্তি হস্তান্তর বিল

দৈনিক নবকাল

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তিন বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধী এমপিদের ওয়াকআউট

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

তিনটি বিল পাসের প্রতিবাদে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। রোববার রাতে অধিবেশন থেকে বের হওয়ার সময় তাঁদের কয়েকজন মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ ভবন ত্যাগ করেন।

রোববার রাত ৮টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন চলছিল। সময়গুম প্রতিরোধ প্রতিকার বিল’, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলএবংসম্পত্তি হস্তান্তর বিলপাসের বিরোধিতা করেন বিরোধীদলীয় এমপিরা।

একপর্যায়ে প্রতিবাদ হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির সংসদ সদস্যরা অধিবেশন বর্জন করে বেরিয়ে যান। পরে সংসদ ভবনের টানেলে সংবাদ সম্মেলন করেন তাঁরা।

সেপ্টেম্বরকেকালো দিনবললেন বিরোধীরা

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতারা সেপ্টেম্বরকে সংসদের জন্যকালো দিনহিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের অভিযোগ, বিতর্কিত তিনটি বিল পাসের মাধ্যমে জনগণের মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তোলেন তাঁরা।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও তাঁকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বরং স্পিকার বিষয়টি নিয়ে মশকরা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্পিকারের এমন আচরণকে অত্যন্ত হতাশাজনক পক্ষপাতমূলক বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।

তড়িঘড়ি করে বিল পাস

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের অভিযোগ, বিরোধীদলের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়েই সরকার গুম প্রতিরোধ প্রতিকার বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল তড়িঘড়ি করে সংসদে উত্থাপন পাস করেছে।

তাঁর দাবি, এসব আইনে স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনার ন্যূনতম সুযোগও রাখা হয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে আপত্তি

জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র নজিবুর রহমানসম্পত্তি হস্তান্তর বিল’-এর বিরোধিতা করেন। তিনি বিলটিকে সরাসরি কোরআন সুন্নাহবিরোধী বলে দাবি করেন।

সময় আইনমন্ত্রীর সমালোচনা করে নজিবুর রহমান বলেন, ইসলামি বিধান সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না থাকায় আইনমন্ত্রী সংসদে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন।

স্পিকারের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, স্পিকারের মূল দায়িত্ব ছিল সংসদে ন্যায়বিচার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।

কালো আইনবললেন নজিবুর রহমান

নজিবুর রহমানের অভিযোগ, সরকার মানবাধিকার গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত আইনকে আরও কার্যকর করার পরিবর্তে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুর্বল করে সংসদে পাস করেছে।

তিনি আইনটিকেকালো আইনহিসেবে অভিহিত করে বলেন, এর ফলে জনগণের মানবাধিকার আরও সংকুচিত হবে। ভবিষ্যতে গুম হত্যার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

নজিবুর রহমান বলেন, ১৭ বছরের সীমাহীন নির্যাতনের অভিজ্ঞতা ভুলে গিয়ে সরকার আবারও পুরোনো পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনার পথে হাঁটছে।

তিনটি বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধী এমপিদের এই ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে সংসদে সরকার বিরোধীদলের মধ্যে বিলগুলোর বিষয়ে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এলো।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
তিন বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধী এমপিদের ওয়াকআউট
0:00 0:00
1.0x