স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে প্রথম বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে উন্নয়নের রাজনীতির সূচনা করেন।
মঙ্গলবার (১
সেপ্টেম্বর) বিকেলে
বিএনপির ৪৮তম
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট
জেলা
বিএনপি
আয়োজিত
আলোচনা
সভায়
প্রধান
অতিথির
বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ
এসব
কথা
বলেন।
সিলেট
জেলা
শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ
সভা
অনুষ্ঠিত হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ
বলেন,
বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ
জিয়াউর
রহমান
ছিলেন
একজন
ক্ষণজন্মা পুরুষ।
১৯৭১
সালে
বিএনপি
প্রতিষ্ঠিত না
হলেও
মুক্তিযুদ্ধের মধ্য
দিয়ে
জিয়াউর
রহমানের রাজনৈতিক ও
ঐতিহাসিক ভূমিকার সূচনা
হয়।
তিনি
স্বাধীনতার ঘোষণা
দিয়েছিলেন এবং
তাঁর
আহ্বানে ছাত্র-জনতা মুক্তিযুদ্ধে অংশ
নিয়ে
দেশ
স্বাধীন করেন।
তিনি আরও
বলেন,
১৯৭৫
সালে
দেশ
যখন
আবারও
পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ
হওয়ার
আশঙ্কায় পড়েছিল,
তখন
৭
নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে মেজর
জিয়াউর
রহমান
দেশকে
সেই
সংকট
থেকে
রক্ষা
করেন।
পরে
তিনি
বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যম ও
বিচার
বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার
পাশাপাশি উন্নয়নের রাজনীতির সূচনা
করেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের
প্রসঙ্গ তুলে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শহীদ
জিয়াউর
রহমানের হাত
ধরেই
তাঁর
রাজনীতিতে হাতেখড়ি। জীবনের
এই
পর্যায়ে এসে
বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে
যুক্ত
হওয়াকে
তিনি
নিজের
জীবনের
অন্যতম
সঠিক
সিদ্ধান্ত বলে
মনে
করেন।
‘ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে
ঘুরে
দাঁড়
করানোর
উদ্যোগ
নিয়েছিলেন জিয়া’
সভায় প্রধান
বক্তার
বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং
বাণিজ্য, শিল্প,
বস্ত্র
ও
পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল
মুক্তাদির বলেন,
এমন
এক
সময়ে
জিয়াউর
রহমান
বিএনপি
প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যখন
বাংলাদেশ টিকে
থাকবে
কি
না,
তা
নিয়েই
বিশ্ববাসীর মধ্যে
নানা
আশঙ্কা
ছিল।
তিনি বলেন,
দায়িত্ব গ্রহণের পর
অল্প
সময়ের
মধ্যেই
জিয়াউর
রহমান
প্রায়
ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে
ঘুরে
দাঁড়
করানোর
উদ্যোগ
নেন।
তাঁর
পররাষ্ট্রনীতিও ছিল
দূরদর্শী। অল্প
সময়ের
মধ্যেই
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে
বাংলাদেশের মর্যাদা সুদৃঢ়
করতে
তিনি
সক্ষম
হন।
খন্দকার আব্দুল
মুক্তাদিরের ভাষ্য,
কৃষি
ও
শিল্পসহ দেশের
প্রায়
প্রতিটি খাতে
জিয়াউর
রহমানের উন্নয়ন
কর্মকাণ্ডের প্রভাব
ছিল।
তাঁর
সময়ে
বাংলাদেশ খাদ্যে
স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে
এগিয়ে
যায়
এবং
চাল
রপ্তানি শুরু
করে।
দেশের
মানুষের কল্যাণ
ও
উন্নয়নে নেওয়া
তাঁর
উদ্যোগগুলো এখনো
গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন,
শহীদ
জিয়াউর
রহমানের অনুসারী হিসেবে
তাঁর
আদর্শ
ও
মর্যাদা সমুন্নত রেখে
মানুষের জন্য
কাজ
করতে
হবে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমান
তাঁর
বাবা
ও
মায়ের
মতো
বড়
চ্যালেঞ্জ গ্রহণ
করে
দেশের
উন্নয়নের ধারা
এগিয়ে
নিচ্ছেন।
আগামী পাঁচ
বছরে
বাংলাদেশকে ভিন্ন
উচ্চতায় নিয়ে
যাওয়ার
লক্ষ্য
নিয়ে
সরকার
কাজ
করছে
বলেও
উল্লেখ
করেন
তিনি।
তাঁর
মতে,
দেশের
মানুষ
বিপুল
প্রত্যাশা নিয়ে
বিএনপিকে যে
ম্যান্ডেট দিয়েছে,
তা
পূরণে
সবাইকে
ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ
করতে
হবে।
সিলেটের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয়
স্বাগত বক্তব্যে সিলেট
জেলা
বিএনপির সভাপতি
ও
সিলেট
সিটি
করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল
কাইয়ুম
চৌধুরী
বলেন,
দীর্ঘ
১৭
বছরের
গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমানের সিপাহসালার হিসেবে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির নেতা-কর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি বলেন,
দীর্ঘ
আন্দোলন-সংগ্রামের পর
একটি
গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি
জনগণের
বিপুল
ম্যান্ডেট নিয়ে
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমান
দেশ
গঠনে
নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন।
আব্দুল কাইয়ুম
চৌধুরী
বলেন,
তাঁর
সৈনিক
হিসেবে
আগামী
দিনে
সিলেট
সিটি
করপোরেশনসহ পুরো
সিলেটের উন্নয়ন
ও
অগ্রগতিকে আরও
গতিশীল
করতে
কাজ
করা
হবে।
সিলেটবাসীর প্রত্যাশা পূরণে
উন্নয়ন
কর্মকাণ্ড আরও
এগিয়ে
নেওয়ার
কথাও
বলেন
তিনি।
অনুষ্ঠানে যারা ছিলেন
সিলেট জেলা
বিএনপির সভাপতি
আব্দুল
কাইয়ুম
চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং
সাধারণ
সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান
আহমদ
চৌধুরী
এমপির
সঞ্চালনায় সভায়
উপস্থিত ছিলেন
সিলেট-৩ আসনের সংসদ
সদস্য
মোহাম্মদ আবদুল
মালিক,
বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার
চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সহ-সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট
জেলা
পরিষদের প্রশাসক ও
বিএনপির জাতীয়
নির্বাহী কমিটির
সদস্য
আবুল
কাহের
চৌধুরী
শামীম,
কেন্দ্রীয় সদস্য
হাদিয়া
চৌধুরী
মুন্নী,
সিলেট
মহানগর
বিএনপির সভাপতি
নাসিম
হোসাইন,
সিলেট
উন্নয়ন
কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল
হাসান
কয়েস
লোদী,
জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম
এবং
মহানগর
বিএনপির সাধারণ
সম্পাদক ইমদাদ
হোসেন
চৌধুরী।
জেলা ওলামা দলের সদস্যসচিব মাওলানা কামাল উদ্দিনের কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে কেক কেটে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন প্রধান অতিথি, প্রধান বক্তাসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।