ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
জিয়াউর রহমানই দেশে প্রথম বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন

জিয়াউর রহমানই দেশে প্রথম বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে প্রথম বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে উন্নয়নের রাজনীতির সূচনা করেন।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন। সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। ১৯৭১ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত না হলেও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকার সূচনা হয়। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং তাঁর আহ্বানে ছাত্র-জনতা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেন।তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে দেশ যখন আবারও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছিল, তখন ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে মেজর জিয়াউর রহমান দেশকে সেই সংকট থেকে রক্ষা করেন। পরে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়নের রাজনীতির সূচনা করেন।নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। জীবনের এই পর্যায়ে এসে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়াকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন।‘ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন জিয়া’সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এমন এক সময়ে জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যখন বাংলাদেশ টিকে থাকবে কি না, তা নিয়েই বিশ্ববাসীর মধ্যে নানা আশঙ্কা ছিল।তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই জিয়াউর রহমান প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর উদ্যোগ নেন। তাঁর পররাষ্ট্রনীতিও ছিল দূরদর্শী। অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা সুদৃঢ় করতে তিনি সক্ষম হন।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ভাষ্য, কৃষি ও শিল্পসহ দেশের প্রায় প্রতিটি খাতে জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রভাব ছিল। তাঁর সময়ে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যায় এবং চাল রপ্তানি শুরু করে। দেশের মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে নেওয়া তাঁর উদ্যোগগুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের অনুসারী হিসেবে তাঁর আদর্শ ও মর্যাদা সমুন্নত রেখে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাবা ও মায়ের মতো বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে দেশের উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নিচ্ছেন।আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, দেশের মানুষ বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।সিলেটের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয়স্বাগত বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিপাহসালার হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির নেতা-কর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গঠনে নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন।আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তাঁর সৈনিক হিসেবে আগামী দিনে সিলেট সিটি করপোরেশনসহ পুরো সিলেটের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আরও গতিশীল করতে কাজ করা হবে। সিলেটবাসীর প্রত্যাশা পূরণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।অনুষ্ঠানে যারা ছিলেনসিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এমপির সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল মালিক, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সহ-সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, কেন্দ্রীয় সদস্য হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।জেলা ওলামা দলের সদস্যসচিব মাওলানা কামাল উদ্দিনের কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে কেক কেটে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন প্রধান অতিথি, প্রধান বক্তাসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুততার সঙ্গে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে। জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, রামিসা মামলা থেকে শুরু করে রংপুরের সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় স্বল্পতম সময়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের বিচার করা বিচার বিভাগের দায়িত্ব। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো অপরাধ তদন্ত করা, সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা এবং তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপকভাবে ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিযোগ নির্দিষ্ট ঘটনা ও যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে করা উচিত।সংসদ সদস্যের উদ্ধৃত অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদে কোনো পরিসংখ্যান উপস্থাপনের সময় এর উৎস ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি উল্লেখ করা প্রয়োজন।পুলিশ সদস্যদের নৈতিক প্রশিক্ষণ নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ জন্য বর্তমানে পৃথক কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই। তবে পুলিশ একাডেমিগুলোতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে নৈতিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।একজন সংসদ সদস্য বলেন, কয়েকজন বিপথগামী পুলিশ সদস্যের অসদাচরণের দায় পুরো বাহিনীর ওপর দেওয়া উচিত নয়। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই নৈতিকতা বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সালাহউদ্দিনকে গুম ও নির্যাতনের মামলা: ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান

র‌্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে বিএনপির নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গত ১০ আগস্ট প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-১ জিয়াউল আহসানকে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ এ মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করবে প্রসিকিউশন।এর আগে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গিয়ে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগটি দাখিল করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।মামলার নথিতে জিয়াউল আহসানের পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের সাবেক দুই মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিঞা এবং সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।উত্তরার বাসা থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগমামলার ঘটনার বিবরণে সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি তাঁর স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়।সে সময় সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়।পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।আরও যাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছেএদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার থাকা দীপু মনি ও আমির হোসেন আমুসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক ১০ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকেও বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।আজ এসব আসামির বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত দিন রয়েছে।এ ছাড়া ২০১৩ সালে হাফেজ জাকির হোসেনকে গুমের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলায় র‌্যাব-১-এর সাবেক অধিনায়ক আবদুল্লাহ আল মোমেনকেও ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিনকে গুম ও নির্যাতনের মামলা: ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান