ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিএনপি আঁতাত করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ চাঁদাবাজি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির দায় বিরোধী দলের ওপর চাপাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবিদাওয়া মেনে নেওয়া উচিত সরকারের।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম-খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার। সাত মাসে সরকার লেজে-গোবরে জড়িয়ে গেছে।’বিএনপি নিজেদের ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করছে না বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, ৩১ দফার ৯ নম্বর দফার বিপরীতে গিয়ে সরকার সব ক্ষেত্রেই দলীয়করণ করছে।

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান

দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা এবং জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর দাবি, গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, পতিত স্বৈরাচার ও তাদের সহযোগীদের একটি অংশ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে। আর দেশের ভেতরে থাকা আরেকটি চক্র কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষসহ বিভিন্ন অপতৎপরতার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।মঙ্গলবার রাজশাহীতে আখচাষিদের মধ্যে সরকারি প্রণোদনার অর্থ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে—যে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে এবং তাদের দোসররা সেই টাকায় দেশের ভেতরে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন কলকারখানায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে।’নির্বাচনের আগে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল এবং টিকিট বিক্রির রাজনীতি করেছিল, জনগণ তাদের কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সেই পক্ষগুলো আবার এক হয়ে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।‘নিজেদেরই ভাগ্য বদলাতে হবে’দেশের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে বাংলাদেশের উন্নয়ন করে দিয়ে যাবে না। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করে নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই বদলাতে হবে।তিস্তা-পদ্মায় ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিউত্তরাঞ্চলের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে তিস্তা ও পদ্মা নদীতে শিগগিরই ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু ও শেষ করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।এ ছাড়া প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া, কৃষকদের সুরক্ষায় ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণ এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে উন্নয়ন ও দেশ গড়ার কাজে বিএনপি সরকারের পাশে থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান

নেতাকর্মীদের সংশোধনের নির্দেশ স্পিকারের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, অপরাধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ দলের নেতাকর্মীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলেও বর্তমান সরকার এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় মঙ্গলবার ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।স্পিকার বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বলছি, আপনারা নিজেদের সংশোধন করুন। অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজ দলের নেতাকর্মীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে আপসহীন থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নিয়ে নজির স্থাপন করেছেন।’সম্প্রতি ঢাকায় একটি হাসপাতাল দখলের অভিযোগের পর এক নারী সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া এবং ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ইশরাক হোসেন ভালো কাজ করতে চেয়েছিলেন। মাদকসেবী ও দুর্বৃত্তদের দমন করতেই তিনি অভিযানে গিয়েছিলেন। তবে একজন প্রতিমন্ত্রীর হাতে বৈধ কিংবা অবৈধ—কোনো ধরনের অস্ত্রই মানায় না। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন।ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিভিন্ন এলাকায় মব সৃষ্টি করে চালের বস্তা ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। প্রশাসন ও পুলিশকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রকৃত জেলেরা ছাড়া অন্য কেউ জেলেদের জন্য বরাদ্দ চাল পাবেন না বলেও জানান স্পিকার।আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, নির্বাচন এলে অনেকেই সাধু-সন্ত সাজার চেষ্টা করেন। তবে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো, ভোটাধিকার থাকার কারণে মানুষ নির্যাতন-অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ পায়।এলাকায় চাঁদাবাজি কমে এসেছে উল্লেখ করে স্পিকার সাধারণ মানুষকে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। কোথাও অনিয়ম দেখা দিলে তা সরাসরি তাঁকে জানানোর অনুরোধও করেন তিনি।

নেতাকর্মীদের সংশোধনের নির্দেশ স্পিকারের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজা, অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা অংশ নেন।এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সালাহউদ্দিন আহমেদ।রাজধানীর শ্যামপুর-কদমতলী এলাকার পরিচিত রাজনৈতিক নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৪ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন।তাঁর মৃত্যুতে বিএনপির রাজনীতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজা, অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

চলে গেলেন বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ

বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ মারা গেছেন। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।)সালাউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বড় ছেলে তানভীর আহমেদ। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তাঁর মৃত্যুর খবরে বিএনপির নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ এবং জানাজা ও দাফনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

চলে গেলেন বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ

বিএনপি ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ফিরিয়েছে: নাহিদ ইসলাম

ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দুই শক্তির কারণে দেশের মানুষ অধিকার ফিরে পাচ্ছে না। তাঁদের কারণে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও নষ্ট হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগে দুর্নীতি ও বাণিজ্যের প্রতিবাদে শরীয়তপুর পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। শরীয়তপুর জেলা এনসিপি এ সভার আয়োজন করে।নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের এখন নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে চাঁদাবাজ ও স্বৈরাচার একাকার হয়ে গেছে। যে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, সেই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা থেকে দলটি অনেক দূরে সরে গেছে।তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি বিদেশে আওয়ামী লীগ, দেশে বিএনপি। এই দুই শক্তির কারণে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাচ্ছে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা নষ্ট হয়েছে।’দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগদ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ১ হাজার ২০০ টাকার এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে। অথচ ওই দামেও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। একেকটি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে তিনি দাবি করেন।নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে এবং এই সিন্ডিকেট বিএনপি নিয়ন্ত্রণ করছে।স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বানস্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই শরীয়তপুর বার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কাউকে মনোনয়নপত্র তুলতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমন পরিস্থিতি হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক।জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বৈরাচার, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষায় এগিয়ে আসার কথা বলেন।নাহিদ ইসলাম প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যারা রাতের ভোট করেছে, তাদের পরিণতির কথা মনে রাখতে হবে।’সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব। এ ছাড়া আবদুল্লাহ মো. হোসাইন, শরীয়তপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন এবং সদস্যসচিব সবুজ তালুকদারসহ দলের অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।

বিএনপি ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ফিরিয়েছে: নাহিদ ইসলাম

চীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন নজরুল ইসলাম খান, আরোগ্য কামনায় নেতারা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান চিকিৎসার জন্য বর্তমানে চীনের গুয়াংঝুতে অবস্থান করছেন। সোমবার তিনি সেখানকার সান ইয়াত-সেন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি হন।তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে চীন বিএনপির নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় তাঁরা তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।প্রতিনিধিদলে ছিলেন চীন বিএনপির নেতা সাখাওয়াত হোসেন কানন, আশরাফুল ইসলাম ওয়ালী ও শেখ মাহবুবুর রশীদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।সাক্ষাৎকালে নেতারা প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।এদিকে চীন বিএনপির নেতাদের সম্মানে গুয়াংঝুর রাঁধুনি রেস্টুরেন্টে একটি নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত নেতাদের আপ্যায়ন করা হয়। এ সময় তাঁদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় হয়।নজরুল ইসলাম খানের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবার সবার মাঝে ফিরে আসার তৌফিক দেন- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও সংশ্লিষ্ট নেতারা।

চীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন নজরুল ইসলাম খান, আরোগ্য কামনায় নেতারা

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতৃত্বে আলোচনায় আমিনুল-জাহাঙ্গীর

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দলটির ভেতরে চলছে নানা সমীকরণ। গুরুত্বপূর্ণ এই সাংগঠনিক ইউনিটের নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও বিতর্কমুক্ত নতুন নেতৃত্বকে জায়গা দেওয়ার চিন্তা করছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম।সম্প্রতি রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও দলীয় শৃঙ্খলাজনিত কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপর থেকেই মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।দলীয় সূত্র জানায়, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাদের ভূমিকা, ত্যাগ, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনপ্রিয়তা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সরকার গঠনের পর দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের কারণে যাতে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে চায় দলটি।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আমার দেশকে বলেন, ‘ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। যেহেতু পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে, শিগগির নতুন কমিটি গঠন করা হবে। কীভাবে কমিটি দেওয়া হবে, সেটা পার্টি সিদ্ধান্ত দেবে।’দলটির কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, শিগগিরই নতুন কমিটি গঠন করা হতে পারে। কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি হবে, নাকি কেন্দ্র থেকে সরাসরি ঘোষণা দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম। নতুন কমিটিতে অভিজ্ঞ ও অপেক্ষাকৃত নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।ভোটাধিকার আন্দোলন থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত ঢাকার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই ইউনিটের আগের কমিটি বিলুপ্তির পেছনে নিচের সারির কিছু নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাই নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের পাশাপাশি নেতাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতাও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি রয়েছে দলের ভেতরে।সভাপতি পদে আমিনুল, সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীরের নামনতুন কমিটির সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমিনুল হক। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন।এ ছাড়া শীর্ষ নেতৃত্বের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান, আব্দুর রাজ্জাক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, ড. এমএ কাইয়ুম, মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব এবং আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারের নাম।সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা আমিনুল হক বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর যুব প্রশিক্ষণ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্টেডিয়াম ও মিনি মাঠ নির্মাণ, খেলোয়াড়দের জন্য ক্রীড়া কার্ড এবং মাদকমুক্ত যুবসমাজ গঠনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ও দেশজুড়ে সাড়া ফেলেছে।ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিতে আমিনুলের দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাও আলোচনায় রয়েছে। ২০২১ সালের ২ আগস্ট গঠিত ৪৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে তিনি সদস্যসচিবের দায়িত্ব পান। ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সাইফুল আলম নীরব আহ্বায়কের দায়িত্ব পেলে আমিনুল আবারও সদস্যসচিব হন। পরে ৪ নভেম্বর ঘোষিত আংশিক আহ্বায়ক কমিটিতে তাঁকে আহ্বায়ক করা হয়।মহানগর উত্তরের নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, আমিনুল দায়িত্বে থাকার সময় জ্যেষ্ঠ ও নবীন নেতাদের ঐক্যবদ্ধ রেখে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় রাখতে পেরেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সংগঠনকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল। সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন থাকায় সংগঠন শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন বলেও মনে করেন তাঁরা।তৃণমূলের নেতাদের কেউ কেউ আমিনুলের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ভূমিকার কথাও তুলে ধরছেন। তাঁদের দাবি, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি ৪২টি মামলার মুখোমুখি হন এবং চারবার কারাবরণ করেন। একাধিকবার রিমান্ডে নির্যাতনের শিকারও হন তিনি। তাঁদের মতে, নতুন কমিটি গঠনের সময় এসব ত্যাগ ও রাজনৈতিক ভূমিকা মূল্যায়ন করা উচিত।সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক আমার দেশকে বলেন, ঢাকা মহানগর কমিটি গঠনের পর থেকে আমিনুল জ্যেষ্ঠ ও নবীন নেতাদের একসঙ্গে রেখে আন্দোলন-সংগ্রামে যেভাবে সক্রিয় রেখেছেন, অতীতের কোনো নেতৃত্ব তা পারেনি। এ বিবেচনায় নতুন কমিটিতে আমিনুলকে পুনর্বিবেচনা করা উচিত।বাড্ডা থানা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বাবু বলেন, বিগত সময়ে যাঁরা রাজপথে ছিলেন, তাঁদের দিয়েই কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। জুলাই বিপ্লবসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা মহানগরকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পেছনে আমিনুলের বড় ভূমিকা ছিল। সভাপতি হিসেবে তাঁকে পেলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা খুশি হবেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।সাধারণ সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীরের অভিজ্ঞতাসাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা জাহাঙ্গীর হোসেনেরও রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা। ১৯৯০ সালে তিনি তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব হন। পরে কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপির দায়িত্ব পালন করেন।এরপর ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থাকার কারণে একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন জাহাঙ্গীর। ২০২৩ সালে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও কারাবাস করতে হয় তাঁকে।আলোচনায় নীরবও, তবে রয়েছে জটিলতাশীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় তাঁকে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হয়। এখনো তিনি দলে ফিরতে পারেননি।এরপরও দলীয় আনুগত্য, জনপ্রিয়তা, সক্রিয় রাজনীতি এবং দলের দুর্দিনে ভূমিকার কারণে শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে তাঁকে দেখা যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।তৃণমূলের প্রত্যাশা ত্যাগী নেতৃত্বনতুন কমিটি নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, দলের দুঃসময়ে যাঁরা মাঠে ছিলেন, মামলা-হামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন, তাঁদের মূল্যায়ন করা হোক। একই সঙ্গে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনার পক্ষে মত দিয়েছেন তাঁরা।দলীয় পর্যায়ে নতুন প্রজন্মের দক্ষ নেতাদেরও কমিটিতে জায়গা দেওয়ার চিন্তা রয়েছে। দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিলে তৃণমূলে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার শুধু পুরোনো নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করলে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সংগঠনের সমন্বয় কঠিন হতে পারে। এ কারণে অভিজ্ঞ ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতৃত্বে আলোচনায় আমিনুল-জাহাঙ্গীর

পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই: বিএনপি নেতা শফিউল আলম কারাগারে

কক্সবাজারের মহেশখালীতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা মামলার এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় বিএনপি নেতা ও কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিউল আলমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।মঙ্গলবার কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিউল আজমের আদালতে মামলার ছয় আসামি হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত শফিউল আলম ও মাঈন উদ্দিন গাদ্দাফিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর চার আসামিকে জামিন দেওয়া হয়।মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই কুতুবজোমের বটতলী এলাকায় মানবপাচার ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি কাশেমকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় মহেশখালী থানা-পুলিশ।পুলিশ কাশেমকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় কাশেমের আপন চাচা, কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শফিউল আলমের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করে।একপর্যায়ে ওই দল পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে হেফাজতে থাকা হাতকড়াপরা আসামি কাশেমকে ছিনিয়ে নেয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শফিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়।মামলার পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন শফিউল আলম। মঙ্গলবার তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই: বিএনপি নেতা শফিউল আলম কারাগারে

আওয়ামী লীগের ডেভিলদের সঙ্গে আঁতাত করলে ওসি এক ঘণ্টাও থাকতে পারবেন না

আওয়ামী লীগের ডেভিলদের সঙ্গে আঁতাত ও মাদকের সঙ্গে আপস করলে মতলব উত্তর থানার ওসি এক ঘণ্টাও থাকতে পারবেন না’ মন্তব্য করেছেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীন।মঙ্গলবার চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা অডিটোরিয়ামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নবাগত ওসি মানস বড়ুয়াকে উদ্দেশ করে তিনি এ কথা বলেন।জালাল উদ্দীন বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নেই। আমার নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল মতলব থেকে মাদক নির্মূল করা। আর এই মাদক নির্মূল করতে আপনার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। আইনের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’নবাগত ওসি মানস বড়ুয়াকে উদ্দেশ করে সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘নতুন ওসি ডেভিলদের সঙ্গে চা খাবে এবং আওয়ামী লীগের ডেভিলদের সঙ্গে আঁতাত করলে আপনি মতলবে এক ঘণ্টাও থাকতে পারবেন না।’অনুষ্ঠানে চারটি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মধ্যে ১৫৯টি আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মতলব উত্তর থানার ওসি মানস বড়ুয়া, মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সরকার, ছেংগারচর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান এবং উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর আলম।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী। এ ছাড়া কৃষক প্রতিনিধি মনির হোসেন প্রধান, জাহাঙ্গীর হোসেন ও যুবদল নেতা বশির মোল্লাও বক্তব্য দেন।

আওয়ামী লীগের ডেভিলদের সঙ্গে আঁতাত করলে ওসি এক ঘণ্টাও থাকতে পারবেন না

মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল: গোলাম পরওয়ার

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের ইঙ্গিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।রোববার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমানবন্দরের ঘটনাটি আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের মূল কারণ নয়, বরং এটিকে উপলক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বিমানবন্দরের ঘটনার পরদিন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আলোচনা করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের, বিশেষ করে জামায়াতে যোগ দেওয়ায় আখতারুজ্জামানের প্রতি বিএনপির যে আক্রোশ ও প্রতিশোধের আগুন ছিল, তা বাস্তবায়নের সুযোগ খোঁজা হচ্ছিল। সেই সুযোগ পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।‘জামিনযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তার, তবু জামিন হয়নি’জামায়াতের এই নেতা বলেন, যে ধারায় আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটি জামিনযোগ্য। কিন্তু প্রথম দিন তাঁকে জামিন দেওয়া হয়নি। রোববার রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করা হয়েছে।তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান ডিভিশন পাওয়ার যোগ্য। আদালতে ডিভিশনের আবেদন করা হলেও এ বিষয়ে আদেশ না দিয়ে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর পেছনে রাজনৈতিক অশুভ হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।‘আদালত চত্বরে মব সৃষ্টি ও হামলা’গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, রোববার আদালতে আখতারুজ্জামানকে নিয়ে বিএনপির আইনজীবীরা মব সৃষ্টি ও হাতাহাতি করেছেন। এ সময় আদালত চত্বরে জামায়াতের নেতাকর্মী ও তাঁর স্বজনদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের যুগের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি।’আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার নিয়ে দেশে ও প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর ভাষ্য, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হয়ে হুমকি দিয়েছেন—তাঁকে মুক্তি না দিলে প্রয়োজনে আবারও রেমিট্যান্স শাটডাউন করা হবে।বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে প্রশ্নগোলাম পরওয়ার বলেন, এজাহারে আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত তুলেছেন, মারপিট করেছেন বা নাজেহাল করেছেন বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। বিমানবন্দরে উপস্থিত ব্যক্তিরা বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং ভিডিওতেও এর দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।বিমানমন্ত্রী মধ্যরাতে বিমানবন্দরে গিয়ে আখতারুজ্জামান কাউকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিকে ‘শতভাগ না, হাজার ভাগ মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য বিমানমন্ত্রীর জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার।তিনি বলেন, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে যখন সংসদ সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন, অশ্রুসিক্ত হন এবং ক্ষমা চান। এরপরও তাঁকেই বাদী করে মামলা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক ইঙ্গিতেই এ মামলা করা হয়েছে।অব্যবস্থাপনার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে চারজন সদস্য লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আখতারুজ্জামান কি খুনি-ডাকাত?মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া, হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানোরও সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার।তিনি বলেন, কারাবিধিতে দুর্ধর্ষ আসামি, খুনি-ডাকাত কিংবা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন আসামিদের ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থার কথা বলা আছে। ‘মেজর আখতারুজ্জামান কি খুনি, ডাকাত বা পালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো আসামি? তিনি প্রথম শ্রেণির নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি। তাঁকে প্রিজন ভ্যানে হেলমেট পরানো হয়েছে—আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’‘অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে’জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সরকারের প্রতি বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা তদন্তে কমিটি গঠন, বিমানমন্ত্রীসহ দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ৭৫ বছর বয়সী অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।একই সঙ্গে তাঁকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। আদালতের বিধি অনুযায়ী সময়মতো জামিনের আবেদন করা হবে এবং আইনি লড়াইয়ে কোনো কমতি রাখা হবে না বলেও জানান গোলাম পরওয়ার।গ্যাসের দাম বাড়ানোরও প্রতিবাদসংবাদ সম্মেলনে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গেও কথা বলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ছয় মাসে তিনবার তেল, বিদ্যুৎ ও সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে।গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সিন্ডিকেট ও মেগা প্রকল্পের নামে আয়ের হাব তৈরি করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, মহানগর উত্তরের আমির সেলিমউদ্দিন এবং উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।

মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল: গোলাম পরওয়ার

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বেলাব বিএনপির আহসান হাবিব বিপ্লব

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বকুলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বেলাব উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব আহসান হাবিব বিপ্লব।দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দলীয় আদর্শের প্রতি অঙ্গীকার এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।আহসান হাবিব বিপ্লব বেলাব উপজেলা বিএনপির একজন পরীক্ষিত ও লড়াকু নেতা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি।বেলাব উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আহসান হাবিব বিপ্লব স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে পুরো উপজেলা জুড়েই তার জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেন।দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা, নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার কারণে আহসান হাবিব বিপ্লব তৃণমূল বিএনপিতে একজন আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বকুলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াকে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বে আহসান হাবিব বিপ্লব মন্ত্রীর সঙ্গে সমন্বয় করে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি বেলাবসহ বৃহত্তর এলাকার মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বেলাব বিএনপির আহসান হাবিব বিপ্লব

গরু চুরির অভিযোগে রামগঞ্জে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে গরু চুরির ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিএনপির এক নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।বহিষ্কৃত নেতা মো. তাজুল ইসলাম রামগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর ভাটরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।১০ নম্বর ভাটরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হান্নান লাভলু ও সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সুস্পষ্ট ও গুরুতর অভিযোগে মো. তাজুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হান্নান লাভলু জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কারাদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।ঘটনার বিষয়ে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে নলচারা গ্রামের হতদরিদ্র ফাতেমা আক্তারের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তাজুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন। পরে চক্রের সদস্যরা একটি গরু বিক্রি করে দেন এবং অন্য গরুটি পাশের ভোলাকোট ইউনিয়নের টিওরী (৩ নম্বর) ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের গোয়ালঘরে লুকিয়ে রাখেন।এ ঘটনায় রামগঞ্জ থানায় একটি চুরির মামলা করা হয়। মামলার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চুরি হওয়া দুটি গরুই উদ্ধার করেছে।রামগঞ্জ থানার পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া ও অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গরু চুরির অভিযোগে রামগঞ্জে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সজাগ থাকতে হবে: রিজভী

দেশে আর যেন অন্ধকার ও দুর্দিন ফিরে না আসে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।রোববার দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ভোরবাজার মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।রিজভী বলেন, একসময় বিএনপির লাখো নেতাকর্মীকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে জীবন কাটাতে হয়েছে। ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী মতের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং রক্তের হোলি খেলেছে।তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে গুম ও খুনের শিকার বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীর পরিবারের অপেক্ষার এখনো শেষ হয়নি। বিএনপি গণতন্ত্র ও অসহায় মানুষের জন্য রাজনীতি করে। দলটি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে।স্মরণসভায় ফেনীতে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের পরিবারের হাতে বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া উপহারের ঘরের চাবি তুলে দেন রুহুল কবির রিজভী।২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ফেনীতে সরকারবিরোধী মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা হারুনুর রশিদ।ঘরের চাবি পেয়ে হারুনুর রশিদের স্ত্রী জোহরা বেগম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে তাঁর পরিবারের দুঃখ ঘুচেছে।স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ও নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব এবং কেন্দ্রীয় সহ-গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ।সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার। সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, সদস্যসচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার।স্মরণসভা শেষে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের কবর জিয়ারত করেন রুহুল কবির রিজভী।  

দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সজাগ থাকতে হবে: রিজভী

জামায়াতের স্থানীয় কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ, শার্শায় বিএনপিতে ২০ পরিবারের ৬০ সদস্য

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ জানিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন ২০টি পরিবারের ৬০ সদস্য। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বাগআঁচড়ায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।যোগদানকারীদের ভাষ্য, জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিজেদের চিন্তা-চেতনা বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।অনুষ্ঠানে শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আলী বিশ্বাস নতুন সদস্যদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন মনিরুল হক, জাহানারা বেগম, রোজিনা খাতুন, সানজিদা খাতুন, কোহিনূর বেগম, শুকজান, হোসনে আরা, রুপালি, মনিরুজ্জামান মনি, মিনু, ইসমাইল, রুমা, সালমা, আন্না, আবু তাহের, রেবেকা, জোসনা ও ঝরনা।অনুষ্ঠানে মনিরুল হক বলেন, ‘জামায়াতের স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম না। এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজ করতেই আমরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।’আগামী দিনে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোনায়েম হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি শাহাজান কবির, বাগআঁচড়া শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুর রহমান বাবু, বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

জামায়াতের স্থানীয় কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ, শার্শায় বিএনপিতে ২০ পরিবারের ৬০ সদস্য

চট্টগ্রামে বিএনপির নাম ঘিরে সংঘর্ষ-খুন, বাড়ছে উদ্বেগ

চট্টগ্রামে গত দেড় বছরে বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নাম জড়িয়ে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, হত্যা, অস্ত্র উদ্ধার, চাঁদাবাজি ও পুলিশের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনার পর স্থানীয় নেতারা পরস্পরকে দায়ী করলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলছে, অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি অস্ত্রের মহড়া চলে এবং তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ অস্ত্রধারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।এর দুদিন পর খুলশী ও পাহাড়তলী এলাকায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের পর গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। ঘটনায় ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন।গত দেড় বছরে দলীয় কোন্দল ঘিরে চট্টগ্রামে অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাকলিয়ায় যুবদলের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে ছাত্রদল কর্মী সাজ্জাদ, মীরসরাইয়ে হামলায় ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়, রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার ও মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ, চান্দগাঁওয়ে যুবদল নেতা ফজলুল আমিন এবং সর্বশেষ রাউজানে যুবদল কর্মী মুহাম্মদ করিম নিহত হয়েছেন।এ ছাড়া রাউজানে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। চলতি বছরের মার্চে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি নেতা মো. ওসমান ও তাঁর মাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে।বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সংঘাত, চাঁদাবাজি বা অস্ত্রবাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ভাষ্য, দেশজুড়ে পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও পদ স্থগিতসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ও নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীও জানিয়েছেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি বা অস্ত্রবাজিতে জড়িতদের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

চট্টগ্রামে বিএনপির নাম ঘিরে সংঘর্ষ-খুন, বাড়ছে উদ্বেগ