ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
গরু চুরির অভিযোগে রামগঞ্জে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

গরু চুরির অভিযোগে রামগঞ্জে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে গরু চুরির ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিএনপির এক নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।বহিষ্কৃত নেতা মো. তাজুল ইসলাম রামগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর ভাটরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।১০ নম্বর ভাটরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হান্নান লাভলু ও সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সুস্পষ্ট ও গুরুতর অভিযোগে মো. তাজুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হান্নান লাভলু জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কারাদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।ঘটনার বিষয়ে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে নলচারা গ্রামের হতদরিদ্র ফাতেমা আক্তারের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তাজুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন। পরে চক্রের সদস্যরা একটি গরু বিক্রি করে দেন এবং অন্য গরুটি পাশের ভোলাকোট ইউনিয়নের টিওরী (৩ নম্বর) ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের গোয়ালঘরে লুকিয়ে রাখেন।এ ঘটনায় রামগঞ্জ থানায় একটি চুরির মামলা করা হয়। মামলার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চুরি হওয়া দুটি গরুই উদ্ধার করেছে।রামগঞ্জ থানার পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া ও অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সজাগ থাকতে হবে: রিজভী

দেশে আর যেন অন্ধকার ও দুর্দিন ফিরে না আসে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।রোববার দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ভোরবাজার মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।রিজভী বলেন, একসময় বিএনপির লাখো নেতাকর্মীকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে জীবন কাটাতে হয়েছে। ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী মতের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং রক্তের হোলি খেলেছে।তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে গুম ও খুনের শিকার বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীর পরিবারের অপেক্ষার এখনো শেষ হয়নি। বিএনপি গণতন্ত্র ও অসহায় মানুষের জন্য রাজনীতি করে। দলটি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে।স্মরণসভায় ফেনীতে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের পরিবারের হাতে বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া উপহারের ঘরের চাবি তুলে দেন রুহুল কবির রিজভী।২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ফেনীতে সরকারবিরোধী মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা হারুনুর রশিদ।ঘরের চাবি পেয়ে হারুনুর রশিদের স্ত্রী জোহরা বেগম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে তাঁর পরিবারের দুঃখ ঘুচেছে।স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ও নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব এবং কেন্দ্রীয় সহ-গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ।সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার। সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, সদস্যসচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার।স্মরণসভা শেষে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের কবর জিয়ারত করেন রুহুল কবির রিজভী।  

দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সজাগ থাকতে হবে: রিজভী

জামায়াতের স্থানীয় কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ, শার্শায় বিএনপিতে ২০ পরিবারের ৬০ সদস্য

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ জানিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন ২০টি পরিবারের ৬০ সদস্য। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বাগআঁচড়ায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।যোগদানকারীদের ভাষ্য, জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিজেদের চিন্তা-চেতনা বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।অনুষ্ঠানে শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আলী বিশ্বাস নতুন সদস্যদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন মনিরুল হক, জাহানারা বেগম, রোজিনা খাতুন, সানজিদা খাতুন, কোহিনূর বেগম, শুকজান, হোসনে আরা, রুপালি, মনিরুজ্জামান মনি, মিনু, ইসমাইল, রুমা, সালমা, আন্না, আবু তাহের, রেবেকা, জোসনা ও ঝরনা।অনুষ্ঠানে মনিরুল হক বলেন, ‘জামায়াতের স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম না। এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজ করতেই আমরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।’আগামী দিনে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোনায়েম হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি শাহাজান কবির, বাগআঁচড়া শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুর রহমান বাবু, বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

জামায়াতের স্থানীয় কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ, শার্শায় বিএনপিতে ২০ পরিবারের ৬০ সদস্য

চট্টগ্রামে বিএনপির নাম ঘিরে সংঘর্ষ-খুন, বাড়ছে উদ্বেগ

চট্টগ্রামে গত দেড় বছরে বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নাম জড়িয়ে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, হত্যা, অস্ত্র উদ্ধার, চাঁদাবাজি ও পুলিশের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনার পর স্থানীয় নেতারা পরস্পরকে দায়ী করলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলছে, অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি অস্ত্রের মহড়া চলে এবং তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ অস্ত্রধারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।এর দুদিন পর খুলশী ও পাহাড়তলী এলাকায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের পর গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। ঘটনায় ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন।গত দেড় বছরে দলীয় কোন্দল ঘিরে চট্টগ্রামে অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাকলিয়ায় যুবদলের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে ছাত্রদল কর্মী সাজ্জাদ, মীরসরাইয়ে হামলায় ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়, রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার ও মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ, চান্দগাঁওয়ে যুবদল নেতা ফজলুল আমিন এবং সর্বশেষ রাউজানে যুবদল কর্মী মুহাম্মদ করিম নিহত হয়েছেন।এ ছাড়া রাউজানে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। চলতি বছরের মার্চে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি নেতা মো. ওসমান ও তাঁর মাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে।বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সংঘাত, চাঁদাবাজি বা অস্ত্রবাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ভাষ্য, দেশজুড়ে পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও পদ স্থগিতসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ও নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীও জানিয়েছেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি বা অস্ত্রবাজিতে জড়িতদের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

চট্টগ্রামে বিএনপির নাম ঘিরে সংঘর্ষ-খুন, বাড়ছে উদ্বেগ

পাঁচ মাস পর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাঁচ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে আজ বুধবার দেশে ফিরছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় তাঁকে বহনকারী বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মির্জা আব্বাস এখন অনেকটা সুস্থ। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি দেশে ফিরছেন।গত ১১ মার্চ ইফতারে পানি পান করার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ওই দিন গভীর রাতে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।১৫ মার্চ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়।দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে আজ দেশে ফিরছেন বিএনপির এই নেতা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস।

পাঁচ মাস পর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

বিএনপির নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে

বিএনপির নেতৃত্বেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তাঁর দাবি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাকশাল থেকে দেশের মানুষকে বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছিলেন এবং বিএনপির নেতৃত্বেই এ দেশের মানুষ গণতন্ত্রকে লালন করেছেন।মঙ্গলবার টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ নয় বছর আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন। তাঁর নেতৃত্বের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের আন্দোলন পর্যন্ত প্রতিটি গণতন্ত্রকামী আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে। গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যতবার ষড়যন্ত্র হয়েছে, ততবারই বিএনপি গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তা প্রতিষ্ঠিত করেছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিপক্ষে যায়নি।ছয় মাসে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিসরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা, খাল খনন কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ এবং স্কুলের শিক্ষার্থীদের ব্যাগ ও পোশাক দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছেদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করার পাশাপাশি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রও চলছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

বিএনপির নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে

বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্রও ফিরিয়ে এনেছে

বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এই দলের হাত ধরে দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও সুগম করা সম্ভব হয়েছে। তবে গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।সাক্ষাতে আইপিইউ সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।‘গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছি’সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। গণতন্ত্রের জন্য বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছে।তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।’তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্রও প্রতিষ্ঠা করেছে। সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও গণতন্ত্রের প্রতি তাঁদের প্রতিশ্রুতি অটুট রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, মানুষের গণতন্ত্র নিয়ে প্রত্যাশা অনেক। একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।তিনি বলেন, তাঁর সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।বিএনপির ইশতেহারের প্রশংসা আইপিইউ সেক্রেটারিরআইপিইউ সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ বলেন, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। সেখানে শিক্ষা খাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রগতিরও প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ। তিনি বলেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়বে।আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।আন্দা ফিলিপ আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউ ও বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বগণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন আইপিইউ সেক্রেটারি। সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ বলেন, তাঁরা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানো বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্রও ফিরিয়ে এনেছে

জিয়াউর রহমানই দেশে প্রথম বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে প্রথম বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে উন্নয়নের রাজনীতির সূচনা করেন।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন। সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। ১৯৭১ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত না হলেও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকার সূচনা হয়। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং তাঁর আহ্বানে ছাত্র-জনতা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেন।তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে দেশ যখন আবারও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছিল, তখন ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে মেজর জিয়াউর রহমান দেশকে সেই সংকট থেকে রক্ষা করেন। পরে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়নের রাজনীতির সূচনা করেন।নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। জীবনের এই পর্যায়ে এসে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়াকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন।‘ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন জিয়া’সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এমন এক সময়ে জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যখন বাংলাদেশ টিকে থাকবে কি না, তা নিয়েই বিশ্ববাসীর মধ্যে নানা আশঙ্কা ছিল।তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই জিয়াউর রহমান প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর উদ্যোগ নেন। তাঁর পররাষ্ট্রনীতিও ছিল দূরদর্শী। অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা সুদৃঢ় করতে তিনি সক্ষম হন।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ভাষ্য, কৃষি ও শিল্পসহ দেশের প্রায় প্রতিটি খাতে জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রভাব ছিল। তাঁর সময়ে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যায় এবং চাল রপ্তানি শুরু করে। দেশের মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে নেওয়া তাঁর উদ্যোগগুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের অনুসারী হিসেবে তাঁর আদর্শ ও মর্যাদা সমুন্নত রেখে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাবা ও মায়ের মতো বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে দেশের উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নিচ্ছেন।আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, দেশের মানুষ বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।সিলেটের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয়স্বাগত বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিপাহসালার হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির নেতা-কর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গঠনে নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন।আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তাঁর সৈনিক হিসেবে আগামী দিনে সিলেট সিটি করপোরেশনসহ পুরো সিলেটের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আরও গতিশীল করতে কাজ করা হবে। সিলেটবাসীর প্রত্যাশা পূরণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।অনুষ্ঠানে যারা ছিলেনসিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এমপির সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল মালিক, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সহ-সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, কেন্দ্রীয় সদস্য হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।জেলা ওলামা দলের সদস্যসচিব মাওলানা কামাল উদ্দিনের কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে কেক কেটে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন প্রধান অতিথি, প্রধান বক্তাসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

জিয়াউর রহমানই দেশে প্রথম বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া উদ্যানে বৃক্ষরোপণ ও লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার সকালে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। পরে তিনি জিয়া উদ্যানে বৃক্ষরোপণ ও লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।বিএনপি নেতারা বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন সামনে রেখে দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত বিএনপি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এর অংশ হিসেবে দল ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী

খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ নয় বছর আপসহীনভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে তিনি কারও সঙ্গে আপস করেননি এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে শেষ পর্যন্ত দৃঢ় ছিলেন।রিজভী বলেন, বিএনপি ওয়াদা রক্ষাকারী ও জনগণের কাছে অঙ্গীকার রক্ষার দল।মঙ্গলবার বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, নানা ধরনের নিপীড়ন, নির্যাতন, অত্যাচার ও নৈরাজ্যের মধ্যেও খালেদা জিয়া দেশ ও বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শক্তি এবং নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হলেও তিনি তাঁর অবস্থান থেকে সরে যাননি।তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার সামনে রেখে খালেদা জিয়া তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত দলের নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করেছেন এবং আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের আন্দোলন একপর্যায়ে বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয়।রিজভীর ভাষ্য, রাজপথের সেই আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়তে থাকে এবং তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ ও প্রতিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। মানুষের হৃদয়ে তিনি ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটানোর যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য।খালেদা জিয়ার অবর্তমানে তাঁর আদর্শ, সাহস, বীরত্ব এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চেতনা সামনে রেখে বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের হাতে গড়ে ওঠা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পতাকা এবং খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ তারেক রহমানের হাতে অর্পিত হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে সারা দেশে বিএনপি সংগঠিত হচ্ছে এবং জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন: রিজভী

ড. এম এ কায়ুমের রাজনৈতিক সচিব হলেন তরুণ সংগঠক ফয়সাল হোসাইন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মাইক্রো ক্রেডিট বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কায়ুমের রাজনৈতিক সচিব (পারসোনাল সেক্রেটারি–পলিটিক্যাল) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. ফয়সাল হোসাইন। ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে দেওয়া নিয়োগপত্র অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তাঁর দায়িত্ব কার্যকর হয়েছে।নিয়োগপত্র অনুযায়ী, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে ড. এম এ কায়ুমকে সহযোগিতা করবেন ফয়সাল। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মী, নির্বাচিত প্রতিনিধি ও নির্বাচনী এলাকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয়, সভা আয়োজন, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।দায়িত্ব পালনে সততা, পেশাদারিত্ব, গোপনীয়তা ও নিষ্ঠা বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে ড. এম এ কায়ুমের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য, সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ক্ষমতার সীমা অনুসরণের কথাও বলা হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজনৈতিক অঙ্গনে ফয়সাল হোসাইনের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-১১ আসনকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রমে তিনি সক্রিয় ছিলেন।নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে ফয়সাল হোসাইন বলেন, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সমন্বিত করতে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে চাই। ড. এম এ কায়ুমের রাজনৈতিক কার্যক্রমে সহযোগিতার পাশাপাশি নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখব।ড. এম এ কায়ুম বলেন, রাজনৈতিক কার্যক্রমে সমন্বয়, যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ। ফয়সাল হোসাইনকে দায়িত্ব দেওয়ার লক্ষ্য হলো সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করা। আশা করি, তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। ফয়সালের নতুন দায়িত্বকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাঁর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়াতে সহায়ক হবে।

ড. এম এ কায়ুমের রাজনৈতিক সচিব হলেন তরুণ সংগঠক ফয়সাল হোসাইন

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হবে: খন্দকার মারুফ

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে আগামী দিনে আত্মনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।সোমবার (৩১ আগস্ট) কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার কাজ করছে। দেশ দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এর সুফল জনগণের কাছে দৃশ্যমান হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি জরুরি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।অপরাধীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, কোনো অপরাধী বিএনপির পরিচয় দিলেও তাকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধ দমনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।জনস্বার্থবিরোধী অপরাধীরা যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের তীক্ষ্ণ নজরদারি এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।সভায় দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিএনপির হাতেই নিরাপদ বলে মন্তব্য করেন ড. খন্দকার মারুফ। তাঁর দাবি, বিএনপি সরকারে থাকলে জনগণের কল্যাণে কাজ করে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবারও বিএনপি ক্ষমতায় এসে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে।কৃষি উৎপাদন বাড়াতে শহীদ জিয়ার ‘নদী-খাল খনন কর্মসূচি’ আবার চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অসহায়, দুস্থ ও কৃষক পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।ড. খন্দকার মারুফ বলেন, গত ছয় মাসে তারেক রহমান রাষ্ট্রের জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার নতুন স্বপ্ন নিয়ে তিনি কাজ করছেন।বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্র ধ্বংস করে পালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সততা ও নতুন সুস্থ ধারার রাজনীতির কারণে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে তাঁর নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হবে বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল।’সভায় দাউদকান্দি উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদকসেবন ও মাদক কারবার দমন, হাটবাজার নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ, চুরি প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা জোরদারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আলোচনায় আসে। দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরীন আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম শামসুল হক, বিএনপি নেতা নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, দাউদকান্দির সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ আহমেদ, দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হবে: খন্দকার মারুফ

নজরুল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন: রিজভী

জীবনভর অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি ছিলেন যুগান্তরের কবি এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, যেকোনো অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন নজরুল। যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি প্রধান অনুপ্রেরণা।তিনি আরও বলেন, আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-  নজরুলই ছিলেন মূল অনুপ্রেরণা। আজও দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করলে নজরুলের বাণী আমাদের রুখে দাঁড়াতে শেখায়।৫০ বছরেও প্রাসঙ্গিক নজরুলদ্রোহ, মানবতা ও সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে, যা তৎকালীন পিজি হাসপাতাল নামে পরিচিত ছিল, মৃত্যুবরণ করেন তিনি।মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে নজরুলের কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর সৃষ্টিকর্ম এখনো অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষকে প্রতিবাদে উদ্বুদ্ধ করে।১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠেন তিনি। দারিদ্র্যের কাছে হার না মেনে নিজের সৃষ্টিশীলতা দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অনন্য অবস্থান তৈরি করেন।কবিতা ও গানের পাশাপাশি হামদ, নাত, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীতসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তিনি অবদান রাখেন।মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনকাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীল সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। এই স্বল্প সময়ে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি।তাঁর কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মধ্যে নবজাগরণের চেতনা তৈরি করেছিল। শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা জাগিয়েছিল তাঁর লেখা।সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি মানবমুক্তির প্রত্যাশায় সংগ্রামেও যুক্ত ছিলেন নজরুল। তাঁর সৃষ্টিতে দ্রোহ, মানবতা, সাম্য ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা বারবার উঠে এসেছে।নজরুলের সেই চেতনারই প্রতীক হয়ে আছে তাঁর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য।

নজরুল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন: রিজভী

মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার আহ্বান আবদুল মঈন খানের

নিজ সংসদীয় আসন নরসিংদীর পলাশে সফর করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বুধবার সফরের শুরুতে তিনি তাঁর প্রয়াত বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল মোমেন খান এবং মা খোরশেদা বেগমের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।পরে পলাশ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় অংশ নেন মন্ত্রী।আলোচনা সভায় আবদুল মঈন খান বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। তাঁর শিক্ষা ছিল শান্তি, ন্যায়, মানবিকতা ও সম্প্রীতির শিক্ষা।তিনি বলেন, বিভেদ ও বিদ্বেষ পরিহার করে মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। এর মাধ্যমে একটি মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।এ জন্য সবাইকে মহানবীর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।পরে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার আহ্বান আবদুল মঈন খানের

ঈশ্বরদীতে বিএনপির বিরোধে বারবার সংঘর্ষ, গুলিবিনিময় ও অস্ত্রের মহড়া

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠছে। গত দুই বছরে সংঘর্ষ, গুলিবিনিময়, হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্রের মহড়ার একাধিক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীদের মধ্যে বিরোধের জেরে এসব ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক আধিপত্যের পাশাপাশি বালুমহাল, ঝুট ব্যবসা, টেন্ডার, পরিবহন স্ট্যান্ড ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বিরোধ রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত শরিফ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান হাবিবকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তবে হাবিব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।এর আগে ১৭ আগস্ট আগ্নেয়াস্ত্র হাতে শহরে মহড়ার অভিযোগ ওঠে সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের দাবিতে থানার সামনে অবস্থান ও পরে থানা ঘেরাওয়ের ঘটনাও ঘটে।গত দুই বছরে শচীন বিশ্বাস হত্যা, ইমরান হোসেন সোহাগ হত্যাসহ বিভিন্ন সময়ে গোলাগুলি ও সংঘর্ষে অনেকে আহত হয়েছেন। বালুমহাল, ইপিজেডের ঝুট ব্যবসা ও টেন্ডার নিয়েও একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে।জাকারিয়া পিন্টুর ভাই মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার কারণে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। হাবিবুর রহমান হাবিব এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে।ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও পুরো উপজেলার পরিস্থিতি ভেঙে পড়েনি বলে দাবি করেন তিনি।

ঈশ্বরদীতে বিএনপির বিরোধে বারবার সংঘর্ষ, গুলিবিনিময় ও অস্ত্রের মহড়া