ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
গণভোটের রায় কার্যকরের আহ্বান, সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির সমালোচনায় গোলাম পরওয়ার

গণভোটের রায় কার্যকরের আহ্বান, সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির সমালোচনায় গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিএনপি ‘জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলতে বসেছে’ এবং দলটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করছে না। তিনি অভিযোগ করেন, ৩৬ জুলাই উপলক্ষে বিএনপির দলীয় কোনো কর্মসূচি ছিল না এবং ক্ষমতায় আসার পর দলটি জুলাইয়ের চেতনাকে অস্বীকার করেছে।সোমবার বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। তাঁর দাবি, সংস্কার ইস্যুতে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা বিএনপিকেই সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, সংসদে বিষয়টির নিষ্পত্তি না হলে গণভোটের পক্ষে থাকা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ১১-দলীয় ঐক্য রাজপথে কর্মসূচি দেবে।বিএনপির একজন মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, সংস্কারের প্রতি সমর্থন ছিল কেবল নির্বাচন আয়োজনের উদ্দেশ্যে। তাঁর ভাষ্য, জনগণ রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছে, শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়। তাই বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রয়োজন।জনসভায় সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখল, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিএনপির মহাসচিবের একটি বক্তব্য উল্লেখ করে সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করেন।সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। তিনি সরকারের প্রতি গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। একই ধরনের বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। তিনি বলেন, জুলাই শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, ড. মোবারক হোসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাসহ জুলাইয়ে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা।জনসভার সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির।

প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ: শরিকদের প্রত্যাশা মেটানোচ্যালেঞ্জ হবে বিএনপির

আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে পাশে থাকা মিত্র দলগুলোর ক্ষোভ ও দূরত্ব ঘোচাতে নেতাদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলগুলোর নেতারা তাঁদের ক্ষোভের পাশাপাশি প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রধানের কাছে। জানিয়েছেন সরকারের অংশীদার হওয়ার দাবি। প্রধানমন্ত্রী সেগুলো ধৈর্যসহকারে শুনেছেন, আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু মিত্রদের এই বাড়তি প্রত্যাশা সামলানো এবং জোটের মূল শক্তিগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা প্রধানমন্ত্রীর জন্য বেশ কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গত সোমবার রাতে হয়েছে ওই নৈশভোজ এবং আলোচনা। এই আয়োজনে ৪১টি শরিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। নৈশভোজে অংশ নেওয়া একাধিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টানা আন্দোলন-সংগ্রামের পর ক্ষমতার সমীকরণে গিয়ে শরিকদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। যমুনার ওই আয়োজনে নেতারা খোলামেলাভাবেই নিজেদের অবহেলার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। শরিকদের অভিযোগ, দুর্দিনের সঙ্গীদের সরিয়ে রেখে বিএনপির মধ্যে একাকী পথচলার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল, যা রাজনীতিতে ভুল বার্তা দিচ্ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শরিকদের বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে প্রাপ্য মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে চায়। এ লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি দুই মাস পর শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করার বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। নৈশভোজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলাম—আপনাদের এই ডাক কি ফেয়ারওয়েল ডিনার, নাকি নতুন কোনো যাত্রার সূচনা? জবাবে উনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এটি কোনো বিদায়ী আয়োজন নয়, বরং আমাদের ওয়েলকামিং ডিনার। এখান থেকেই নতুন করে পথচলা শুরু।’ সাইফুল হক আরও বলেন, ‘দুর্দিনে যারা পাশে ছিল, তাদের সঙ্গে নিয়ে চলার শৈলীটি বিএনপি নেতৃত্বের রপ্ত করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক ছিলেন এবং তাঁর বক্তব্যে অধিকাংশ দলই আশ্বস্ত হতে পেরেছে বলে মনে করি।’ একই সুর পাওয়া গেছে আরও কয়েকটি দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে। ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে সুদৃঢ় করতে এই আয়োজন বড় ভূমিকা রাখবে। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ মন্তব্য করেন, দীর্ঘদিনের রাজপথের বন্ধুদের মধ্যে যে মান-অভিমান তৈরি হয়েছিল, তার অনেকটাই অবসান ঘটেছে এই পুনর্মিলনীর মাধ্যমে। তবে এই ইতিবাচক আবহের মধ্যেও রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্র উঠে এসেছে শরিক নেতাদের অনেকের কথায়। কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা শরিকদের জমে থাকা ক্ষোভ-হতাশা কিছুটা প্রশমিত হলেও দুর্দিনের সঙ্গীদের সঠিক মূল্যায়ন, চাটুকারিতা এড়িয়ে চলা এবং শরিকদের প্রত্যাশা সামলে ঐক্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বিএনপির নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে সামনের দিনে। কেননা, নৈশভোজে অংশ নেওয়া কোনো কোনো শরিক দলের চাওয়া-পাওয়া বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি। রাজপথে যাদের উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান বা সাংগঠনিক সামর্থ্য নেই, তারাও অবাস্তব পদ-পদবির আবদার করছেন। বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। তৎকালীন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে ওই দলের হয়ে তিনিও আমন্ত্রণ পান প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে। তাঁর মতো আরও অনেকে আমন্ত্রণ পান। সৈয়দ এহসানুল হুদা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শরিকদের সঙ্গে দূরত্বের যে আভাস ছিল, আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সেই দূরত্ব কমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায় সবাই আশ্বস্ত হয়েছেন। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে পথচলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শরিকদের মূল্যায়নের বিষয়েও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ: শরিকদের প্রত্যাশা মেটানোচ্যালেঞ্জ হবে বিএনপির