ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিতে অপেক্ষায় আছি: ইরানের আইআরজিসি কমান্ডার

মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিতে অপেক্ষায় আছি: ইরানের আইআরজিসি কমান্ডার

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে ইরান এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ওজমায়ি। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ বিষয়ে সন্দেহ থাকলে মার্কিন বাহিনীকে যুদ্ধজাহাজ নিয়ে ওই জলপথের কাছাকাছি আসার চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন তিনি।টেলিভিশনে দেওয়া নিজের প্রথম সাক্ষাৎকারে ওজমায়ি বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি মনে করে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত, তাহলে তারা আরও কাছে আসুক। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’আইআরজিসির এই কমান্ডার দাবি করেন, ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির কাছে যাওয়ার সাহস না পেয়ে জাহাজটি ওই জলপথ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে।ওজমায়ি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর আসার অপেক্ষায় রয়েছি আমরা, যাতে সেগুলো ডুবিয়ে দিতে পারি। এই ঘটনা ঘটার মুহূর্ত গুনছি আমরা।’তথ্যপ্রবাহ বন্ধের অভিযোগসাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন ওজমায়ি। তাঁর দাবি, নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার খবর যাতে বিশ্ববাসী জানতে না পারে, সে জন্য এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও জানান, নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে শাস্তির মুখে পড়া দুটি জাহাজের ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করেছে আইআরজিসির নৌবাহিনী।তবে ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অকার্যকর হয়ে পড়া এবং হরমুজ প্রণালি থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে সরে যাওয়ার বিষয়ে আলী ওজমায়ির দাবির স্বাধীন কোনো সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।সূত্র: তাসনিম নিউজ

মার্কিন নির্বাচনের আগে জাহাজে হামলার কৌশল বদলাচ্ছে ইরান

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া রাখতে এবং ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কৌশল পরিবর্তন করছে ইরান। দেশটির জ্যেষ্ঠ দুই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি আশপাশের বিস্তৃত জলসীমায়ও হামলার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে তেহরান।বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ দিন আগে ইরান এমন কিছু জাহাজের বিরুদ্ধে হামলার ধরন ও গতি পরিবর্তন করেছে, যেগুলোকে তারা নিজেদের আরোপিত বিধিনিষেধ লঙ্ঘনকারী বলে মনে করে। এর ফলে ওই ধরনের জাহাজে হামলার সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা।তাঁদের ভাষ্য, নতুন কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলা। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে।তেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টায় বাধাইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বৈশ্বিক তেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করাই লক্ষ্য।’অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, নভেম্বরের নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তেলের দাম কমাতে দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, ‘যখনই তারা ভাববে, দাম কমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, তখনই আমরা তাদের সেই অবস্থান থেকে দূরে ঠেলে দেব। এটি দাবার খেলা।’ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন কৌশল গ্রহণের সিদ্ধান্ত দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে এবং সরকারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে এ বিষয়ে সমন্বয় রয়েছে।ছোট নৌকায় নজরদারি, লক্ষ্য চিহ্নিত করছে ইরানএক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের রাডার সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হওয়ার পর দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত করতে ছোট নৌকায় নিরস্ত্র পর্যবেক্ষক ব্যবহার শুরু করেছে। এসব পর্যবেক্ষক মার্কিন নৌযানসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান শনাক্ত করে আইআরজিসিকে তথ্য দিচ্ছেন বলে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন।গত সপ্তাহে এমনই একটি ঘটনায় ইরানি পর্যবেক্ষকেরা একটি ধৌ নৌযান থেকে লক্ষ্যবস্তুর তথ্য পাঠাচ্ছিলেন বলে মার্কিন সামরিক বাহিনী নির্ধারণ করে। পরে মার্কিন বাহিনী নৌযানটির মুখোমুখি হয়, আরোহীদের নৌযান ছেড়ে যেতে বলে এবং সেটি ধ্বংস করে। মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, নিজেদের অবশিষ্ট দ্রুতগতির নৌযানগুলো ঝুঁকির মুখে ফেলতে না চাওয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি বৃদ্ধি পুরোপুরি ঠেকাতে পারছে না। বিশেষ করে মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনী ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।হরমুজের বাইরেও হামলার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির বাইরেও অভিযান বিস্তৃত করতে চায় তেহরান। ওমান উপসাগর এবং আরও দূরের জলসীমাও এর আওতায় আসতে পারে।সামুদ্রিক নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালির বাইরেও জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলসংলগ্ন জলসীমায় হামলার তথ্যও রয়েছে।এক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, সাম্প্রতিক হামলার গতি বেড়েছে এবং তা পরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে।গত ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে ট্যাংকারসহ বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে অন্তত পাঁচটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) কাছে জানানো তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার মধ্যে ড্রোন হামলাও রয়েছে।জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের তথ্যেও হামলার এই বৃদ্ধি প্রতিফলিত হয়েছে। গত ৩ থেকে ৫ অক্টোবরের হামলার হারের সঙ্গে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির তুলনা করে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।‘শিগগিরই পুরোপুরি বন্ধ’ হতে পারে হরমুজহরমুজ প্রণালিতে নিজেদের বিধিনিষেধ লঙ্ঘনকারী কোনো জাহাজকে চলাচল করতে না দেওয়ার পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে ইরান—এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির দুই কর্মকর্তা। তাঁদের একজন বলেছেন, ‘শিগগিরই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।’যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে তেহরান। চলাচলে বিধিনিষেধ ও জাহাজে হামলার কারণে প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।এদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করছে ওয়াশিংটন। সংঘাতের অবসানে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানকে চাপ দেওয়াই এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা বিবেচনা করছেন। তবে নির্বাচনের আগে ইরানে আর হামলা চালাবেন না বলে তিনি জানিয়েছেন।জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তাইরান যুদ্ধ ও এর অর্থনৈতিক ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারণায়ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মাসিক ব্যয় প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হামলার হুমকি, জাহাজ চলাচলের বাড়তি খরচ এবং বিমার উচ্চ ব্যয় স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচল পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে।মার্কিন নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি) রোববারের সর্বশেষ প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকিকে ‘গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেছে। এটি তাদের ঝুঁকি মূল্যায়নের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তর।সংস্থাটি জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নজরদারি, ড্রোনের উড্ডয়ন এবং ভিএইচএফ রেডিওতে যোগাযোগের মাধ্যমে হয়রানিসহ আইআরজিসির হামলা ও হামলার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে পেন্টাগন ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: রয়টার্স

মার্কিন নির্বাচনের আগে জাহাজে হামলার কৌশল বদলাচ্ছে ইরান

পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড় দেবে না ইরান

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা নেই তেহরানের। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি গ্রহণ করলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড় দেবে না দেশটি। শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বৃহস্পতিবার এসব শর্তের কথা জানান। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত অবসানে হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তেহরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে অর্থনৈতিক মুক্তি চায়, আর ওয়াশিংটন চায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছেন তিনি।তবে ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবি।ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণ প্রয়োজন বলে ধরা হয়। তবে ইরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে আসছে।আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানোর সময় দেশটির কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। এর কতটা এখনো অবশিষ্ট রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।ইরানি কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান সম্মত হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স

পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড় দেবে না ইরান

শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার

ইরানের দেওয়া শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ থাকবে।পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে তাদের অবস্থান ও শর্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, ‘শত্রুপক্ষ ভালোভাবেই জানে যে প্রতারণা ও একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পথ এখন রুদ্ধ।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের শর্ত পূরণ, দেশটির ‘বৈধ অধিকার’ স্বীকৃতি এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আগের আলোচনার অবস্থায় ফিরে যাওয়া বা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে কয়েকটি শর্ত পাঠায় ইরান।শনিবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই বলেন, আমাদের শর্ত হলো- সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, আমাদের জব্দ করা অর্থ ছাড়তে হবে এবং নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে। সূত্র: আল-জাজিরা

শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার

হরমুজে সামরিক অভিযানে অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের সতর্কতা

পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে সেনা মোতায়েন কিংবা সামরিক অভিযানে অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্ক করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, সিউল এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিলে সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ইরান।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে কোরিয়ান ভাষায় এ সতর্কবার্তা দেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।বার্তায় বাঘাই বলেন, ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক ৬৪ বছরেরও বেশি পুরোনো। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এ সম্পর্ককে তেহরান গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং সিউলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের কঠোর জবাব দেওয়ার কথাও বলেন ইরানের এই মুখপাত্র।বাঘাই সতর্ক করে বলেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে কোনো পক্ষের সামরিক উপস্থিতি বা সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকে আগ্রাসী পক্ষকে সরাসরি সহায়তা হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান। এমন পদক্ষেপের ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, কোনো সার্বভৌম ও দায়িত্বশীল সরকারই ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বা ‘ব্ল্যাকমেইলের’ কাছে নতি স্বীকার করে না।ইসমাইল বাঘাইয়ের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শুরু করা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির দায় ও বোঝা অন্য দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

হরমুজে সামরিক অভিযানে অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের সতর্কতা

হরমুজে হামলা-পাল্টা হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৮২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ০৭ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ০.৮৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।তেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি। ইরান দাবি করেছে, অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে তারা হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি তিনটি মার্কিন জাহাজেও হামলার দাবি করেছে তেহরান।ইরানের ভাষ্য, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের বক্তব্য ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই তারা ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।জাহাজ চলাচল কমেছেহরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। রয়টার্সের তথ্য বলছে, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে। মে মাসের পর এটি সর্বনিম্ন জাহাজ চলাচলের হার।বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক। এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। ফলে প্রণালিটিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এক সপ্তাহেই বড় উল্লম্ফনযুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে।এরই মধ্যে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

হরমুজে হামলা-পাল্টা হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ফি নিবে ইরান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে বিভিন্ন সেবার বিপরীতে ফি আদায়ের বিধান রেখে একটি খসড়া আইনের ধারা অনুমোদন করেছে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশন।রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও অগ্রগতি নিশ্চিতকরণে কৌশলগত পদক্ষেপ আইনের তৃতীয় ধারা অনুমোদন করেছে কমিশন।কমিশনের মুখপাত্র হাসান কাশকাভি জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাওয়া দেশগুলোর মালিকানাধীন জাহাজ থেকে এসব ফি নেওয়া হবে। ইরানি মুদ্রা রিয়ালে অথবা তেহরান নির্ধারিত অন্য কোনো মুদ্রায় অর্থ পরিশোধ করতে হবে।তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনের আওতায় সামুদ্রিক, পরিবেশগত, বিশেষ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ, বীমা, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেবার জন্য ফি নেওয়া হবে।কাশকাভির ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী দেশগুলোর অধিকারও প্রস্তাবিত আইনে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন গ্রহণের পর ওমানের অবস্থানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই প্রণালিটি নিয়ে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়েছে।সূত্র: জিও নিউজ ও আইআরএনএ

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ফি নিবে ইরান

হরমুজসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিতের আহ্বান মিসরের

হরমুজ প্রণালি, বাব আল-মানদেব ও লোহিত সাগরসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি। কোনো দেশকেই এসব নৌপথে অবাধ চলাচলের ক্ষেত্রে বাধা হতে দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার আল-আলামেইনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।বদর আবদেলাত্তি বলেন, নৌ চলাচলের ওপর যেকোনো ধরনের হুমকি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করে।তিনি আরও বলেন, নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক চুক্তির আলোকে গুরুত্বপূর্ণ সব প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখা জরুরি।বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হরমুজসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিতের আহ্বান মিসরের

ওমানকে ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর প্রচেষ্টায় ওমান বাধা দিলে দেশটিতে ‘ভয়াবহ বোমা হামলা’ চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওমান যদি পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাব।হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইরান ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও জানান, তাঁর প্রশাসন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য একটি গোপন ‘ব্যাকচ্যানেল’ চালু করেছে। তবে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে তিনি কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না বলে জানান।আইআরজিসি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ভালো পোকার খেলোয়াড়, কিন্তু তারা মারা যাচ্ছে।’ সংঘাত শেষ করার বিষয়ে তাঁর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই বলেও জানান তিনি।এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরান ও ওমান একটি সমঝোতা চূড়ান্ত করার কাছাকাছি রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।এমন পরিস্থিতিতে ওমানকে ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ওমানকে ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি

হরমুজ প্রণালি খোলা-বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু তেহরানই নেবে: ইরান

হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র ইরানের বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ ঘোষণা করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গারিবাবাদি বলেন, ‘ইরান মার্কিন হুমকি বা সামরিক শক্তি প্রদর্শনে ভীত নয়। প্রণালিটি খোলা বা বন্ধ করার যেকোনো সিদ্ধান্ত একমাত্র তেহরানই নেবে।’হরমুজ প্রণালিকে শিগগিরই ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ ঘোষণা করা হবে বলে ট্রাম্প যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তা প্রত্যাখ্যান করে গারিবাবাদি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে।’এই জলপথে যুক্তরাষ্ট্র নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গারিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালি ‘শুধু ইরানের নির্দেশেই খোলা ও বন্ধ করা হবে’।তিনি আরও বলেন, ‘যতক্ষণ আপনারা আপনাদের পরাজয়ের বাস্তবতা স্বীকার করতে অস্বীকার করবেন এবং বিভ্রমে ডুবে থাকবেন, ততক্ষণ ইরান এই অবরোধ বজায় রাখবে।’এর আগে শুক্রবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি পুলিশ একাডেমিতে দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই তিনি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন।সূত্র: ডন

হরমুজ প্রণালি খোলা-বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু তেহরানই নেবে: ইরান