ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

সরক দূর্ঘটনা

বরযাত্রীর গাড়ি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ৫

বরযাত্রীর গাড়ি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ৫

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী কলেজবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাসস্ট্যান্ডের নূর জাহান প্লাজার মালিক ও পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলীর বাসিন্দা ফেরদৌস আলম ফিরোজ, মাইক্রোবাসের চালক মুন্না এবং মাইজপাড়ার বজল মেম্বারের চাচাতো বোন মিফতা। ফেরদৌস আলম ফিরোজ ঈদগাঁও বাসস্ট্যান্ডের তারেক মেডিকোর স্বত্বাধিকারী তারেকের বাবা। নিহত অপর ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উখিয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীদের নিয়ে মাইক্রোবাসটি ফেরার পথে কর্ণফুলী কলেজবাজার এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় একটি কাভার্ডভ্যান হঠাৎ ইউটার্ন নেয়। দ্রুতগতির মাইক্রোবাসটি তখন কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। কর্ণফুলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শাজাহানপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই

বগুড়ার শাজাহানপুরে সড়কের ওপর থেকে দুই তরুণের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁরা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।নিহত দুজন হলেন সোনাতলা উপজেলার জোরগাছা ইউনিয়নের হলিদাবগা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে আশিকুর রহমান (২২) এবং গাবতলী উপজেলার স্বরধনকুটি এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম সামিউল (৩০)। আশিকুর ছাত্র ছিলেন। সামিউল ব্যবসা করতেন।সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার নিশ্চিন্তপুর চারমাথা এলাকায় লিচুতলা-মাটিডালী দ্বিতীয় বাইপাস সড়কে এ ঘটনা ঘটে।শাজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক আব্দুস সালাম জানান, নিশ্চিন্তপুর চারমাথা এলাকায় সড়কের মাঝখানে দুজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে।পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, কোনো যানবাহনের ধাক্কায় তাঁরা নিহত হয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শাজাহানপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই

গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত অন্তত ২০

গোপালগঞ্জের বৌলতলী এলাকায় লোকাল বাস ও ডাম্পট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসটির অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে হাসপাতাল সূত্রে আশঙ্কা করা হচ্ছে।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের বৌলতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি।স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করপাড়া স্টেশনে পৌঁছানোর জন্য সোনালী পরিবহনের লোকাল বাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল। অতিরিক্ত গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে তাঁরা দাবি করেন।বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শফিউল আলম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, টেকেরহাট থেকে গোপালগঞ্জ সদরগামী সোনালী পরিবহনের বাসটি বৌলতলী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ডাম্পট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।সংঘর্ষের পর বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। অন্যদিকে ডাম্পট্রাকটি সড়কের ওপর উল্টে যায়।খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে হতাহতদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত অন্তত ২০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।দুর্ঘটনার পর ওই সড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়রা দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।

গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত অন্তত ২০

সাড়ে ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫,৭১২

২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে দেশে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৭১২ জন এবং আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ১৪৩ জন। এর মধ্যে ২০২৫ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।শনিবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১ হাজার ৩৮১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৬৩ জন নিহত হন। ২০২১ সালে ২ হাজার ৭৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২ হাজার ২১৪ জন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯৭টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৯১ জন, ২০২৩ সালে ২ হাজার ৫৩২টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৮৭ জন এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬০৯ জন নিহত হন।২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জন নিহত হন। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৩১১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ১৭৭ জনের।ভারী যানবাহনের ধাক্কায় বেশি দুর্ঘটনারোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশ বা ৬ হাজার ৩১৪টি ঘটেছে মোটরসাইকেলে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়। মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫ হাজার ৪৯৭টি, মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ হাজার ৫৪৮টি এবং অন্যান্য কারণে ৭০৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে পণ্যবাহী যানবাহন। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি ও লরিসহ এসব যানবাহন ৬ হাজার ৪৮১টি বা ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।এ ছাড়া মোটরসাইকেল চালক এককভাবে ৫ হাজার ৮৩১টি, বাসের চালক ২ হাজার ১৬৪টি, থ্রি-হুইলার ৭৩২টি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ ৪৩৮টি এবং পথচারী ২৯৬টি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।আঞ্চলিক সড়কে বেশি দুর্ঘটনাসড়কের ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এসব সড়কে ৬ হাজার ৬৮৯টি বা ৪১ দশমিক ৬৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।জাতীয় মহাসড়কে ৪ হাজার ৭৭৩টি, শহরের সড়কে ২ হাজার ৬৪৬টি এবং গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৫৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।আক্রান্তদের বড় অংশ তরুণপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। এর বড় একটি অংশ ব্যবহার করেন কিশোর ও যুবকেরা। চালকদের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতাও বাড়ছে।মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। প্রতিবেদনে মোটরসাইকেলকে চার চাকার যানবাহনের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার না করাকেও প্রাণহানি বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানসম্পন্ন হেলমেট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ কমাতে পারে।বেপরোয়া চালানো ও দুর্বল আইন প্রয়োগরোড সেফটি ফাউন্ডেশন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার জন্য কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, রাজনীতিতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর সংস্কৃতি এবং ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগকে দায়ী করেছে।এর পাশাপাশি সচেতনতামূলক কর্মসূচির ঘাটতি, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও নজরদারির অভাব, সহজ-সাশ্রয়ী গণপরিবহনের ঘাটতি এবং অসহনীয় যানজটকেও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনেও তরুণদের গতির প্রতি আকৃষ্ট করার প্রবণতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।আট দফা সুপারিশমোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে আট দফা সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্পন্ন হেলমেট বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন।এ ছাড়া বিটিআরসির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তামূলক প্রচারণা, মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনে পরিবর্তন, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজ-সাশ্রয়ী ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সাড়ে ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫,৭১২