ঢাকা    শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

৫৮ শতাংশই ১৩–৩৫ বছর বয়সী

সাড়ে ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫,৭১২



সাড়ে ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫,৭১২
প্রতীকী ছবি।

২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে দেশে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৭১২ জন এবং আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ১৪৩ জন। এর মধ্যে ২০২৫ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা প্রাণহানির সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।

শনিবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে হাজার ৩৮১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হাজার ৪৬৩ জন নিহত হন। ২০২১ সালে হাজার ৭৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হন হাজার ২১৪ জন। ২০২২ সালে হাজার ৯৭টি দুর্ঘটনায় হাজার ৯১ জন, ২০২৩ সালে হাজার ৫৩২টি দুর্ঘটনায় হাজার ৪৮৭ জন এবং ২০২৪ সালে হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় হাজার ৬০৯ জন নিহত হন।

২০২৫ সালে হাজার ২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হাজার ৬৭১ জন নিহত হন। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত হাজার ৩১১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে হাজার ১৭৭ জনের।

ভারী যানবাহনের ধাক্কায় বেশি দুর্ঘটনা

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশ বা হাজার ৩১৪টি ঘটেছে মোটরসাইকেলে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়। মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাজার ৪৯৭টি, মুখোমুখি সংঘর্ষে হাজার ৫৪৮টি এবং অন্যান্য কারণে ৭০৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে পণ্যবাহী যানবাহন। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি লরিসহ এসব যানবাহন হাজার ৪৮১টি বা ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

ছাড়া মোটরসাইকেল চালক এককভাবে হাজার ৮৩১টি, বাসের চালক হাজার ১৬৪টি, থ্রি-হুইলার ৭৩২টি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স জিপ ৪৩৮টি এবং পথচারী ২৯৬টি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আঞ্চলিক সড়কে বেশি দুর্ঘটনা

সড়কের ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এসব সড়কে হাজার ৬৮৯টি বা ৪১ দশমিক ৬৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

জাতীয় মহাসড়কে হাজার ৭৭৩টি, শহরের সড়কে হাজার ৬৪৬টি এবং গ্রামীণ সড়কে হাজার ৯৫৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

আক্রান্তদের বড় অংশ তরুণ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। এর বড় একটি অংশ ব্যবহার করেন কিশোর যুবকেরা। চালকদের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতাও বাড়ছে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। প্রতিবেদনে মোটরসাইকেলকে চার চাকার যানবাহনের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার না করাকেও প্রাণহানি বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানসম্পন্ন হেলমেট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ কমাতে পারে।

বেপরোয়া চালানো দুর্বল আইন প্রয়োগ

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার জন্য কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, রাজনীতিতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর সংস্কৃতি এবং ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগকে দায়ী করেছে।

এর পাশাপাশি সচেতনতামূলক কর্মসূচির ঘাটতি, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, প্রযুক্তি নজরদারির অভাব, সহজ-সাশ্রয়ী গণপরিবহনের ঘাটতি এবং অসহনীয় যানজটকেও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোটরসাইকেল উৎপাদন বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা উপস্থাপনেও তরুণদের গতির প্রতি আকৃষ্ট করার প্রবণতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আট দফা সুপারিশ

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা প্রাণহানি কমাতে আট দফা সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্পন্ন হেলমেট বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন।

ছাড়া বিটিআরসির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তামূলক প্রচারণা, মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা উপস্থাপনে পরিবর্তন, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজ-সাশ্রয়ী যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিষয় : সড়ক দুর্ঘটনা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা ট্রাফিক আইন তরুণ

দৈনিক নবকাল

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬


সাড়ে ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫,৭১২

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে দেশে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৭১২ জন এবং আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ১৪৩ জন। এর মধ্যে ২০২৫ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা প্রাণহানির সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।

শনিবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে হাজার ৩৮১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হাজার ৪৬৩ জন নিহত হন। ২০২১ সালে হাজার ৭৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হন হাজার ২১৪ জন। ২০২২ সালে হাজার ৯৭টি দুর্ঘটনায় হাজার ৯১ জন, ২০২৩ সালে হাজার ৫৩২টি দুর্ঘটনায় হাজার ৪৮৭ জন এবং ২০২৪ সালে হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় হাজার ৬০৯ জন নিহত হন।

২০২৫ সালে হাজার ২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হাজার ৬৭১ জন নিহত হন। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত হাজার ৩১১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে হাজার ১৭৭ জনের।

ভারী যানবাহনের ধাক্কায় বেশি দুর্ঘটনা

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশ বা হাজার ৩১৪টি ঘটেছে মোটরসাইকেলে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়। মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাজার ৪৯৭টি, মুখোমুখি সংঘর্ষে হাজার ৫৪৮টি এবং অন্যান্য কারণে ৭০৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে পণ্যবাহী যানবাহন। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি লরিসহ এসব যানবাহন হাজার ৪৮১টি বা ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

ছাড়া মোটরসাইকেল চালক এককভাবে হাজার ৮৩১টি, বাসের চালক হাজার ১৬৪টি, থ্রি-হুইলার ৭৩২টি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স জিপ ৪৩৮টি এবং পথচারী ২৯৬টি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আঞ্চলিক সড়কে বেশি দুর্ঘটনা

সড়কের ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এসব সড়কে হাজার ৬৮৯টি বা ৪১ দশমিক ৬৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

জাতীয় মহাসড়কে হাজার ৭৭৩টি, শহরের সড়কে হাজার ৬৪৬টি এবং গ্রামীণ সড়কে হাজার ৯৫৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

আক্রান্তদের বড় অংশ তরুণ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। এর বড় একটি অংশ ব্যবহার করেন কিশোর যুবকেরা। চালকদের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতাও বাড়ছে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। প্রতিবেদনে মোটরসাইকেলকে চার চাকার যানবাহনের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার না করাকেও প্রাণহানি বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানসম্পন্ন হেলমেট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ কমাতে পারে।

বেপরোয়া চালানো দুর্বল আইন প্রয়োগ

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার জন্য কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, রাজনীতিতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর সংস্কৃতি এবং ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগকে দায়ী করেছে।

এর পাশাপাশি সচেতনতামূলক কর্মসূচির ঘাটতি, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, প্রযুক্তি নজরদারির অভাব, সহজ-সাশ্রয়ী গণপরিবহনের ঘাটতি এবং অসহনীয় যানজটকেও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোটরসাইকেল উৎপাদন বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা উপস্থাপনেও তরুণদের গতির প্রতি আকৃষ্ট করার প্রবণতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আট দফা সুপারিশ

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা প্রাণহানি কমাতে আট দফা সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্পন্ন হেলমেট বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন।

ছাড়া বিটিআরসির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তামূলক প্রচারণা, মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা উপস্থাপনে পরিবর্তন, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজ-সাশ্রয়ী যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
সাড়ে ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫,৭১২
0:00 0:00
1.0x