ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
সড়ক নিরাপত্তায় চালকদের দক্ষতা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে গুরুত্ব: সড়ক প্রতিমন্ত্রী

সড়ক নিরাপত্তায় চালকদের দক্ষতা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে গুরুত্ব: সড়ক প্রতিমন্ত্রী

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, চালকদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ভবনে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ও নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে চালকদের চক্ষু পরীক্ষা ও বিনা মূল্যে চশমা প্রদান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।হাবিবুর রশিদ বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক, শ্রমিক, চালক, যাত্রী ও পথচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আজকের কর্মসূচি সেই সমন্বিত উদ্যোগেরই একটি অংশ।তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গাড়িচালকদের পর্যায়ক্রমে চক্ষু পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।সড়ক পরিবহনব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও জনবান্ধব করা হবেসড়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের সড়ক পরিবহনব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। জনগণের কাছে সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে এবং সেই দায়বদ্ধতা থেকেই সরকার কাজ করছে।প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে এবং যার যতটুকু সক্ষমতা রয়েছে, তা পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অগ্রযাত্রা আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।বিদ্যমান সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবেহাবিবুর রশিদ বলেন, সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিদ্যমান সক্ষমতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে সব বাধা অতিক্রম করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।একই সঙ্গে যাত্রী, চালক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।সড়ক প্রতিমন্ত্রী কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে সড়ক নিরাপত্তায় কাজ করার আহ্বান জানান। এ ধরনের উদ্যোগে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও আশ্বাস দেন তিনি।

সাড়ে ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫,৭১২

২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে দেশে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৭১২ জন এবং আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ১৪৩ জন। এর মধ্যে ২০২৫ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।শনিবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১ হাজার ৩৮১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৬৩ জন নিহত হন। ২০২১ সালে ২ হাজার ৭৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২ হাজার ২১৪ জন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯৭টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৯১ জন, ২০২৩ সালে ২ হাজার ৫৩২টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৮৭ জন এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬০৯ জন নিহত হন।২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জন নিহত হন। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৩১১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ১৭৭ জনের।ভারী যানবাহনের ধাক্কায় বেশি দুর্ঘটনারোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশ বা ৬ হাজার ৩১৪টি ঘটেছে মোটরসাইকেলে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়। মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫ হাজার ৪৯৭টি, মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ হাজার ৫৪৮টি এবং অন্যান্য কারণে ৭০৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে পণ্যবাহী যানবাহন। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি ও লরিসহ এসব যানবাহন ৬ হাজার ৪৮১টি বা ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।এ ছাড়া মোটরসাইকেল চালক এককভাবে ৫ হাজার ৮৩১টি, বাসের চালক ২ হাজার ১৬৪টি, থ্রি-হুইলার ৭৩২টি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ ৪৩৮টি এবং পথচারী ২৯৬টি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।আঞ্চলিক সড়কে বেশি দুর্ঘটনাসড়কের ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এসব সড়কে ৬ হাজার ৬৮৯টি বা ৪১ দশমিক ৬৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।জাতীয় মহাসড়কে ৪ হাজার ৭৭৩টি, শহরের সড়কে ২ হাজার ৬৪৬টি এবং গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৫৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।আক্রান্তদের বড় অংশ তরুণপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। এর বড় একটি অংশ ব্যবহার করেন কিশোর ও যুবকেরা। চালকদের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতাও বাড়ছে।মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। প্রতিবেদনে মোটরসাইকেলকে চার চাকার যানবাহনের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার না করাকেও প্রাণহানি বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানসম্পন্ন হেলমেট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ কমাতে পারে।বেপরোয়া চালানো ও দুর্বল আইন প্রয়োগরোড সেফটি ফাউন্ডেশন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার জন্য কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, রাজনীতিতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর সংস্কৃতি এবং ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগকে দায়ী করেছে।এর পাশাপাশি সচেতনতামূলক কর্মসূচির ঘাটতি, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও নজরদারির অভাব, সহজ-সাশ্রয়ী গণপরিবহনের ঘাটতি এবং অসহনীয় যানজটকেও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনেও তরুণদের গতির প্রতি আকৃষ্ট করার প্রবণতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।আট দফা সুপারিশমোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে আট দফা সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্পন্ন হেলমেট বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন।এ ছাড়া বিটিআরসির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তামূলক প্রচারণা, মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনে পরিবর্তন, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজ-সাশ্রয়ী ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সাড়ে ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫,৭১২