ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন, সড়কে প্রাণ গেল মাইশার

বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন, সড়কে প্রাণ গেল মাইশার

ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বাবা মারা গেছেন তিন বছর আগে। এরপর ছোট ভাইকে নিয়ে দুই সন্তানের সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন মা সালমা আক্তার। বড় মেয়ে মাইশা মুশফিরাতকে ঘিরেই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার নতুন স্বপ্ন। উচ্চশিক্ষা শেষ করে মেয়ে পরিবারের হাল ধরবেন, ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে পাশে দাঁড়াবেন এমন প্রত্যাশা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২১ বছর বয়সী মাইশা।চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটতকিয়া এলাকায় মাইশাদের বাড়িতে এখন শোকের মাতম। যে মেয়েকে ঘিরে স্বামী হারানোর শোক ভুলে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিলেন সালমা আক্তার, সেই মেয়েকেও হারাতে হলো তাঁকে।মাইশা চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে তাঁর নানা পরিকল্পনা ছিল। পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং পরিবারের দায়িত্ব নেওয়াই ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাইশা। প্রতিদিনের মতো বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন সড়কের পাশে। হয়তো ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরে মায়ের সঙ্গে কথা বলবেন, সময় কাটাবেন ছোট ভাইয়ের সঙ্গে। কিন্তু একটি বাসের চাপায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় তাঁর সব স্বপ্ন।যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনাগতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে ডালাস পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় যাত্রী ওঠানোর জন্য ধীরগতিতে চলা চট্টগ্রামমুখী ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি ভারী লরি। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি উল্টে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে।বাসটির নিচে চাপা পড়ে মাইশাসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন ও সহপাঠীরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। পরে আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী রাজিয়া আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া বহিরাগত আরও একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোস্তাক খন্দকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীসহ তিনজন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি লরি বাসটিকে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে তাঁদের ওপর পড়ে। এতে গুরুতর আহত মাইশা হাসপাতালে মারা যান।চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক জানান, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মাইশাকে বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়ামাইশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবারের ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করে। উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আজাদী ও উপউপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ হাসমত আলী হাসপাতালে ছুটে যান।মাইশার মৃত্যুতে সবচেয়ে বড় আঘাত নেমে এসেছে তাঁর পরিবারের ওপর। তিন বছর আগে স্বামীকে হারিয়ে যে মেয়েকে অবলম্বন করে নতুন করে জীবন সাজানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন সালমা আক্তার, সেই মেয়েকেও হারালেন তিনি।পড়াশোনা শেষ করে মায়ের পাশে দাঁড়ানো, ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা—সব স্বপ্নই এখন অতীত। যে মেয়ের একদিন পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল, সেই মেয়ের নিথর দেহ নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে স্বজনদের।

রূপগঞ্জে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মালবাহী ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তারাবো পৌরসভার মৈকুলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত দুজন হলেন শাহনাজ বেগম (৫৫) ও রিফাত হোসেন (২০)। তাঁরা দুর্ঘটনাস্থলেই মারা যান।ভুলতা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর জসিম উদ্দিন জানান, সিলেটগামী একটি মালবাহী ট্রাকের (সাতক্ষীরা-ট-১১-০৬৯১) সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা রূপসীগামী একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন আরও তিনজন।দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

রূপগঞ্জে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩

গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত অপু মাঝি (২৬) উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মাদ রোমান জানান, ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে ঢুকে গেলে ঘটনাস্থলেই চালক অপু মাঝির মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাসটি আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

ঢাবিতে গাড়ির ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করার আশ্বাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) সামনের সড়কে একটি গাড়ির ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়ার পা গুরুতরভাবে জখম হয়েছে। মাথায়ও আঘাত পেয়েছেন তিনি। আহত শিক্ষার্থীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গাড়িটি প্রথমে তাহিয়াকে ধাক্কা দেয়। এরপর আরও ছয় শিক্ষার্থী আহত হন।গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের ছেলে। দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা তাঁকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান।সাদমানের দাবি, গাড়ি চালানোর সময় আতঙ্কিত হয়ে ব্রেকের বদলে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দেওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।‘ব্রেক নিতে গিয়ে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিই’দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করে সাদমান সাকিব ‘আমার দেশ’কে বলেন, ‘আমি আগে তেমন গাড়ি চালাইনি। আজকে শখের বসে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলাম। সঙ্গে ড্রাইভারও ছিল। চালাতে চালাতে আমি কলা ভবনে একটা রাউন্ড দিয়ে আসি। ওই মুহূর্তে বেশি মানুষ দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। এফবিএসের সামনে এসে ব্রেক নিতে গিয়ে আমি অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে দিই।’তিনি আরও বলেন, সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকে এবং সামনে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেয়। পরে চালকের সহায়তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে আসে।তবে দুর্ঘটনার আগেও গাড়িটির চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিনহা মল্লিক। তাঁর ভাষ্য, গাড়িটি একাধিকবার সড়কে ঘোরাঘুরি করছিল এবং সামনে থাকা রিকশা ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জোরে হর্ন দিচ্ছিল।সিনহা মল্লিক বলেন, ‘আমি আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে স্যাডো থেকে সাইকেল নিয়ে এফবিএস রোডে উঠতেই গাড়িটি আমাকে অস্বাভাবিকভাবে ওভারটেক করে এফবিএসের দিকে যায়। সামনে যত রিকশা বা শিক্ষার্থী আসছিল, তাদের উদ্দেশে অনেক জোরে হর্ন দিচ্ছিল। সম্ভবত সেবার দুর্ঘটনাটি ঘটেনি। পরবর্তী চক্করে ঘটেছে।’আহতদের মধ্যে ছয়জন মার্কেটিং বিভাগেরআহত সাত শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জন মার্কেটিং বিভাগের ৩২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাঁদের হাত, পা, হাঁটু ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে। অন্য আহত শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়া ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গাড়ির ধাক্কায় কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিটকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে তাহিয়ার আঘাত ছিল সবচেয়ে গুরুতর। মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুসফিকুল ইসলাম জানান, তাহিয়ার মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।হাসপাতালে নেওয়ার পর আহত শিক্ষার্থীদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে একজন আতঙ্কিত হয়ে পড়লে তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। অন্যদের ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করা হয়। তাহিয়ার পায়ের আঘাতের মাত্রা এবং হাড় ভেঙেছে কি না, তা চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।মামলা করার আশ্বাস প্রক্টর কার্যালয়েরদুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করার দাবি জানান। এ দাবির পক্ষে তাঁরা লিখিত আবেদন তৈরি করে শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল রতন বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শান্টু বড়ুয়া বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় মামলা করার জন্য লিখিতভাবে দাবি জানানো হয়েছে। প্রক্টর কার্যালয়ও এ বিষয়ে ইতিবাচক।তিনি আরও বলেন, প্রক্টর কার্যালয়ের উদ্যোগে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।এ বিষয়ে গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি তা মেনে নেবেন।দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাবিতে গাড়ির ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করার আশ্বাস

ইস্তাম্বুলে ভবনধসে নিহত ৫, তিনজনই শিশু

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে একটি ভবন ধসে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন শিশু। শুক্রবার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।নগর কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়, ধ্বংসস্তূপের নিচে উদ্ধার অভিযান শেষে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সর্বশেষ নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্য দিয়ে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ শেষ হয়। এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৯ জনকে।ভবনটির নিচের তিনটি তলা ধসে পড়ে। ইস্তাম্বুলের উপমেয়র নুরি আসলান জানান, ১৯৮৭ সালে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সে সময়ের নির্মাণবিধি মেনে বেসমেন্ট, নিচতলা এবং প্রথম ও দ্বিতীয় তলা তৈরি করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে ভবনটির ওপরের তলাগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল।দুর্ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের এলাকার ৫৫ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।তুরস্কের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবনটির নিচতলায় থাকা একটি দোকানের ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, গত এপ্রিল থেকেই ভবনটির কাঠামোয় ফাটল দেখতে পেয়েছিলেন তিনি। সূত্র: বাসস

ইস্তাম্বুলে ভবনধসে নিহত ৫, তিনজনই শিশু

শাজাহানপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই

বগুড়ার শাজাহানপুরে সড়কের ওপর থেকে দুই তরুণের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁরা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।নিহত দুজন হলেন সোনাতলা উপজেলার জোরগাছা ইউনিয়নের হলিদাবগা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে আশিকুর রহমান (২২) এবং গাবতলী উপজেলার স্বরধনকুটি এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম সামিউল (৩০)। আশিকুর ছাত্র ছিলেন। সামিউল ব্যবসা করতেন।সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার নিশ্চিন্তপুর চারমাথা এলাকায় লিচুতলা-মাটিডালী দ্বিতীয় বাইপাস সড়কে এ ঘটনা ঘটে।শাজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক আব্দুস সালাম জানান, নিশ্চিন্তপুর চারমাথা এলাকায় সড়কের মাঝখানে দুজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে।পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, কোনো যানবাহনের ধাক্কায় তাঁরা নিহত হয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শাজাহানপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই

গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত অন্তত ২০

গোপালগঞ্জের বৌলতলী এলাকায় লোকাল বাস ও ডাম্পট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসটির অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে হাসপাতাল সূত্রে আশঙ্কা করা হচ্ছে।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের বৌলতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি।স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করপাড়া স্টেশনে পৌঁছানোর জন্য সোনালী পরিবহনের লোকাল বাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল। অতিরিক্ত গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে তাঁরা দাবি করেন।বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শফিউল আলম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, টেকেরহাট থেকে গোপালগঞ্জ সদরগামী সোনালী পরিবহনের বাসটি বৌলতলী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ডাম্পট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।সংঘর্ষের পর বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। অন্যদিকে ডাম্পট্রাকটি সড়কের ওপর উল্টে যায়।খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে হতাহতদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত অন্তত ২০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।দুর্ঘটনার পর ওই সড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়রা দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।

গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত অন্তত ২০

সাড়ে ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫,৭১২

২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে দেশে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৭১২ জন এবং আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ১৪৩ জন। এর মধ্যে ২০২৫ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।শনিবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১ হাজার ৩৮১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৬৩ জন নিহত হন। ২০২১ সালে ২ হাজার ৭৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২ হাজার ২১৪ জন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯৭টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৯১ জন, ২০২৩ সালে ২ হাজার ৫৩২টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৮৭ জন এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬০৯ জন নিহত হন।২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জন নিহত হন। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৩১১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ১৭৭ জনের।ভারী যানবাহনের ধাক্কায় বেশি দুর্ঘটনারোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশ বা ৬ হাজার ৩১৪টি ঘটেছে মোটরসাইকেলে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়। মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫ হাজার ৪৯৭টি, মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ হাজার ৫৪৮টি এবং অন্যান্য কারণে ৭০৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে পণ্যবাহী যানবাহন। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি ও লরিসহ এসব যানবাহন ৬ হাজার ৪৮১টি বা ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।এ ছাড়া মোটরসাইকেল চালক এককভাবে ৫ হাজার ৮৩১টি, বাসের চালক ২ হাজার ১৬৪টি, থ্রি-হুইলার ৭৩২টি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ ৪৩৮টি এবং পথচারী ২৯৬টি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।আঞ্চলিক সড়কে বেশি দুর্ঘটনাসড়কের ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এসব সড়কে ৬ হাজার ৬৮৯টি বা ৪১ দশমিক ৬৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।জাতীয় মহাসড়কে ৪ হাজার ৭৭৩টি, শহরের সড়কে ২ হাজার ৬৪৬টি এবং গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৫৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।আক্রান্তদের বড় অংশ তরুণপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। এর বড় একটি অংশ ব্যবহার করেন কিশোর ও যুবকেরা। চালকদের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতাও বাড়ছে।মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। প্রতিবেদনে মোটরসাইকেলকে চার চাকার যানবাহনের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার না করাকেও প্রাণহানি বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানসম্পন্ন হেলমেট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ কমাতে পারে।বেপরোয়া চালানো ও দুর্বল আইন প্রয়োগরোড সেফটি ফাউন্ডেশন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার জন্য কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, রাজনীতিতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর সংস্কৃতি এবং ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগকে দায়ী করেছে।এর পাশাপাশি সচেতনতামূলক কর্মসূচির ঘাটতি, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও নজরদারির অভাব, সহজ-সাশ্রয়ী গণপরিবহনের ঘাটতি এবং অসহনীয় যানজটকেও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনেও তরুণদের গতির প্রতি আকৃষ্ট করার প্রবণতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।আট দফা সুপারিশমোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে আট দফা সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্পন্ন হেলমেট বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন।এ ছাড়া বিটিআরসির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তামূলক প্রচারণা, মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনে পরিবর্তন, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজ-সাশ্রয়ী ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সাড়ে ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫,৭১২