বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু বলে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের সব নাগরিকের অধিকার সমান। নাগরিক পরিচয়ে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
বুধবার
দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির
বক্তব্যে তিনি এসব কথা
বলেন।
এটিএম
আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এই দেশ আমাদের
সবার। আমরা সংখ্যালঘু বা
সংখ্যাগুরু বলতে কোনো শব্দ
শুনতে চাই না। আমরা
সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং নাগরিক হিসেবে
সবাই সমান অধিকার ভোগ
করবে। এখানে নাগরিক পরিচয়ে ভেদাভেদ করার কোনো সুযোগ
নেই।’
ধর্মকে
মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে
তিনি বলেন, মুসলমানেরা তাঁদের ধর্ম পালন করবেন,
হিন্দুরা হিন্দু ধর্ম পালন করবেন।
বাংলাদেশে প্রধান চারটি ধর্মের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধর্মীয়
সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর
মানুষ রয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা কম হওয়ায় অনেক
সময় তাঁদের খোঁজখবর কম রাখা হয়।
অথচ অতীতে সবাই মিলেমিশে শান্তিতে
বসবাস করেছেন।
তিনি
প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তাহলে
আজ কেন পূজামণ্ডপ পাহারা
দিতে হয়? কেন আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীকে এত কষ্ট করতে
হয়? আমি তো এই
অঞ্চলেরই সন্তান। আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগেও
তো এমন পরিস্থিতি শোনা
যায়নি।’
ধর্মীয়
স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মানুষের মানসিকতার
পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন
জামায়াতের এই নেতা। তিনি
বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার
পরও মানুষ নিশ্চিন্তে নিজ নিজ ধর্ম
পালন করতে পারছে না,
উপাসনালয় পাহারা দিতে হচ্ছে। এ
পরিস্থিতির পরিবর্তনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে,
যাতে প্রত্যেকে নির্বিঘ্নে নিজের ধর্ম পালন করতে
পারেন।
ইসলাম অন্য ধর্মের ওপর আঘাত করতে শেখায় না
ইসলামের
মূল শিক্ষার কথা তুলে ধরে
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইসলাম কখনো অন্য ধর্মের
মানুষের ওপর আঘাত করতে
শেখায় না। তাঁর দাবি,
যারা ইসলামকে পছন্দ করে না, তারা
ইসলামের নাম ব্যবহার করে
অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করে এবং এর
দায় ইসলামের ওপর চাপায়।
তিনি
বলেন, সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান
থেকে ধর্ম পালনের সুযোগ
দিতে হবে। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক
সম্প্রীতির দেশ- এই চেতনা
ধরে রাখতে হবে।
গুজব
ছড়ালে
প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব সম্পর্কে সতর্ক
থাকার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য। তিনি
বলেন, ফেসবুকে প্রকাশিত সব খবর বিশ্বাস
করা উচিত নয়। কোনো
বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত
পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসনকে
জানাতে হবে।
তিনি
বলেন, এ সতর্কতা শুধু
হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নয়, মুসলমানদের
জন্যও প্রযোজ্য। দেশের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত
হলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
ষড়যন্ত্রকারীদের
বিষয়ে সতর্ক করে তিনি আরও
বলেন, মুসলিম বা হিন্দু—কোনো
সম্প্রদায়ের মানুষই হানাহানি বা গোলযোগ চান
না। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্ন
উপায়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। ফ্যাসিস্ট
শক্তি পুনরায় দেশে ফিরে আসার
জন্য গোলযোগ তৈরির চেষ্টা করতে পারে উল্লেখ
করে তিনি সবাইকে এ
ধরনের ফাঁদে পা না দেওয়ার
আহ্বান জানান।
দেশপ্রেমের
প্রসঙ্গ তুলে এটিএম আজহারুল
ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
থাকতে পারে। তবে দেশের স্বাধীনতা
ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সভায়
উপস্থিত ছিলেন
যারা
বদরগঞ্জ
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাব্বর হোসেনের
সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন
রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক
কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ
সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার, উপজেলা
বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হক, সহকারী কমিশনার
(ভূমি) মো. সামিউল ইসলাম
এবং বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান
জাহিদ সরকার।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শাহ মুহাম্মাদ রোস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা।