ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার: আজহারুল ইসলাম

ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার: আজহারুল ইসলাম

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু বলে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের সব নাগরিকের অধিকার সমান। নাগরিক পরিচয়ে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।বুধবার দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলতে কোনো শব্দ শুনতে চাই না। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। এখানে নাগরিক পরিচয়ে ভেদাভেদ করার কোনো সুযোগ নেই।’ধর্মকে মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলমানেরা তাঁদের ধর্ম পালন করবেন, হিন্দুরা হিন্দু ধর্ম পালন করবেন। বাংলাদেশে প্রধান চারটি ধর্মের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা কম হওয়ায় অনেক সময় তাঁদের খোঁজখবর কম রাখা হয়। অথচ অতীতে সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করেছেন।তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তাহলে আজ কেন পূজামণ্ডপ পাহারা দিতে হয়? কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এত কষ্ট করতে হয়? আমি তো এই অঞ্চলেরই সন্তান। আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগেও তো এমন পরিস্থিতি শোনা যায়নি।’ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও মানুষ নিশ্চিন্তে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারছে না, উপাসনালয় পাহারা দিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে প্রত্যেকে নির্বিঘ্নে নিজের ধর্ম পালন করতে পারেন।ইসলাম অন্য ধর্মের ওপর আঘাত করতে শেখায় নাইসলামের মূল শিক্ষার কথা তুলে ধরে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইসলাম কখনো অন্য ধর্মের মানুষের ওপর আঘাত করতে শেখায় না। তাঁর দাবি, যারা ইসলামকে পছন্দ করে না, তারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করে এবং এর দায় ইসলামের ওপর চাপায়।তিনি বলেন, সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ধর্ম পালনের সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ- এই চেতনা ধরে রাখতে হবে।গুজব ছড়ালে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বানসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ফেসবুকে প্রকাশিত সব খবর বিশ্বাস করা উচিত নয়। কোনো বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে।তিনি বলেন, এ সতর্কতা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নয়, মুসলমানদের জন্যও প্রযোজ্য। দেশের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, মুসলিম বা হিন্দু—কোনো সম্প্রদায়ের মানুষই হানাহানি বা গোলযোগ চান না। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্ন উপায়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনরায় দেশে ফিরে আসার জন্য গোলযোগ তৈরির চেষ্টা করতে পারে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে এ ধরনের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।দেশপ্রেমের প্রসঙ্গ তুলে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতে পারে। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।সভায় উপস্থিত ছিলেন যারাবদরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাব্বর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সামিউল ইসলাম এবং বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জাহিদ সরকার।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শাহ মুহাম্মাদ রোস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা।

রংপুরে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

রংপুর নগরীতে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।শনিবার রাতে নগরের মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তাঁদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।একটি পুরো পরিবারকে এভাবে হত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লোমহর্ষক বলে উল্লেখ করেন জামায়াতের আমির। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সামাজিক অপরাধ, খুন-খারাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।ঢাকায় এক চিকিৎসকের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি ও তাঁকে হামলার ঘটনা এবং ময়মনসিংহে এক পশুচিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবি করে হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। এসব ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বাহিনীর নির্লিপ্ততা সাধারণ মানুষকে শঙ্কিত করে তুলেছে। রংপুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। একের পর এক অপরাধের ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগীরা যথাযথ বিচার পাচ্ছেন না- এতে মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।সরকারের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সবাইকে সম্মিলিতভাবে সামাজিক সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশবাসীর নিরাপত্তার জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।

রংপুরে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

পা দিয়ে লিখে স্বপ্ন পূরণ করতে চান কলি রানী

পরীক্ষার কক্ষে সবাই বেঞ্চে বসে লিখে যাচ্ছেন খাতায়। তাঁদের পাশে বসে লিখছেন আরেক শিক্ষার্থী কলি রানী। তাঁকে দেওয়া হয়েছে ছোট বেঞ্চ। আর সেখানে বসেই মনোযোগসহকারে পা দিয়ে উত্তর লিখে যাচ্ছেন তিনি। দূর থেকে একনজরে দেখলে কলি রানীকে স্বাভাবিক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। দুই পায়ে হাঁটাচলা করতে পারলেও বাহু থেকে দুই হাতের কবজি নেই। কিন্তু প্রতিবন্ধিতা তাঁকে দমাতে পারেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় কলি রানী রংপুরের কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রে মানবিক বিভাগের পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনি ওই উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নে গদাই গ্রামের রুপালী রানীর মেয়ে। কলি রানীর জন্ম থেকে দুই হাতের কবজি নাই। কিন্তু পড়ালেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ আর মনের জোরে কারও সহযোগিতা ছাড়াই পা দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। মৃত মনোরঞ্জন রায়ের ৬ ছেলেমেয়ের মধ্যে কলি রানী সবার ছোট। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে ডিঙিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বপ্ন পূরণের আশায়। কলি রানী লেখাপড়ার পাশাপাশি ইতিমধ্যে গান গেয়ে একাধিক সম্মাননা স্মারক অর্জন করেছেন। এ ছাড়া পা দিয়ে চালাতে পারেন কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন। কলি রানী জানান, তাঁর ইচ্ছা পড়ালেখা শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হয়ে মানুষের সেবা করা। কাউনিয়া মহিলা কলেজের কেন্দ্রসচিব রফিকুল ইসলাম জানান, কলি রানী শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিয়ম মেনে তাঁকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট দেওয়া হয়েছে। ইউএনও পাপিয়া সুলতানা জানান, কলি রানীকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আটকাতে পারেনি। তার অদম্য অগ্রযাত্রা যেন থেমে না যায়।

পা দিয়ে লিখে স্বপ্ন পূরণ করতে চান কলি রানী