ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: দুর্গাপূজার শুভেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: দুর্গাপূজার শুভেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’শুক্রবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ শুভেচ্ছা জানান। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের আহ্বান জানান।বাণীতে তারেক রহমান বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল শিক্ষা। মানবতার কল্যাণও সব ধর্মের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি মানুষের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসেন। তিনি ভক্তদের কল্যাণ সাধন, শত্রুর বিনাশ এবং সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। এসব উৎসব দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির সৌন্দর্য তুলে ধরে। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। শুরু হয়েছে দেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য কল্যাণমূলক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা তাঁদের অঙ্গীকার।বাণীতে তিনি প্রত্যাশা করেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তায় দেশের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনেরা যেন সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে দুর্গাপূজার উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

দুর্গাপূজা ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান কিশোরগঞ্জ জামায়াতের

আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।বুধবার রাতে জেলা শহরের নগুয়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী।সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম এবং জেলা হিন্দু বিভাগের সেক্রেটারি কৃষ্ণ চন্দ্র বসাক।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সভায় অংশ নেন সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি মন্দিরের সভাপতি রতন কুমার দাস, হিন্দু যুব মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক কাজল দাস, গৌর নিতাই আখড়ার সাধারণ সম্পাদক সুনীল মুদক, মৃদুল কান্তি চৌধুরী, নারায়ণ চন্দ্র সরকার, বিশু কুমার গুপ্ত, রিপন চন্দ্র সূত্রধর ও পলাশ চন্দ্র দাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সভায় উপস্থিত নেতারা।

দুর্গাপূজা ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান কিশোরগঞ্জ জামায়াতের

ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার: আজহারুল ইসলাম

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু বলে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের সব নাগরিকের অধিকার সমান। নাগরিক পরিচয়ে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।বুধবার দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলতে কোনো শব্দ শুনতে চাই না। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। এখানে নাগরিক পরিচয়ে ভেদাভেদ করার কোনো সুযোগ নেই।’ধর্মকে মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলমানেরা তাঁদের ধর্ম পালন করবেন, হিন্দুরা হিন্দু ধর্ম পালন করবেন। বাংলাদেশে প্রধান চারটি ধর্মের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা কম হওয়ায় অনেক সময় তাঁদের খোঁজখবর কম রাখা হয়। অথচ অতীতে সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করেছেন।তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তাহলে আজ কেন পূজামণ্ডপ পাহারা দিতে হয়? কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এত কষ্ট করতে হয়? আমি তো এই অঞ্চলেরই সন্তান। আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগেও তো এমন পরিস্থিতি শোনা যায়নি।’ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও মানুষ নিশ্চিন্তে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারছে না, উপাসনালয় পাহারা দিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে প্রত্যেকে নির্বিঘ্নে নিজের ধর্ম পালন করতে পারেন।ইসলাম অন্য ধর্মের ওপর আঘাত করতে শেখায় নাইসলামের মূল শিক্ষার কথা তুলে ধরে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইসলাম কখনো অন্য ধর্মের মানুষের ওপর আঘাত করতে শেখায় না। তাঁর দাবি, যারা ইসলামকে পছন্দ করে না, তারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করে এবং এর দায় ইসলামের ওপর চাপায়।তিনি বলেন, সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ধর্ম পালনের সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ- এই চেতনা ধরে রাখতে হবে।গুজব ছড়ালে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বানসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ফেসবুকে প্রকাশিত সব খবর বিশ্বাস করা উচিত নয়। কোনো বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে।তিনি বলেন, এ সতর্কতা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নয়, মুসলমানদের জন্যও প্রযোজ্য। দেশের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, মুসলিম বা হিন্দু—কোনো সম্প্রদায়ের মানুষই হানাহানি বা গোলযোগ চান না। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্ন উপায়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনরায় দেশে ফিরে আসার জন্য গোলযোগ তৈরির চেষ্টা করতে পারে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে এ ধরনের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।দেশপ্রেমের প্রসঙ্গ তুলে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতে পারে। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।সভায় উপস্থিত ছিলেন যারাবদরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাব্বর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সামিউল ইসলাম এবং বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জাহিদ সরকার।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শাহ মুহাম্মাদ রোস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা।

ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার: আজহারুল ইসলাম

একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মন্দির ও মসজিদ। মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ছয় ফুট। এক পাশে মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার্চনা, অন্য পাশে মসজিদে মুসলমানদের নামাজ আদায়। ধর্মীয় আচার পালনে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী শ্রীশ্রী দুর্গা ও কালীমন্দির এবং পুরান বাজার জামে মসজিদ।দুটি উপাসনালয়ের অবস্থান পাশাপাশি হলেও কখনো ধর্মীয় বিরোধ বা অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মসজিদে নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার স্বাভাবিক হয় মন্দিরের কার্যক্রম। একদিকে শোনা যায় উলুধ্বনি, অন্যদিকে উচ্চারিত হয় আল্লাহ তাআলার জিকির।মন্দিরে ধূপকাঠির সুবাস আর মসজিদে আতরের ঘ্রাণে একই আঙিনায় পাশাপাশি চলে দুই ধর্মের মানুষের উপাসনা। সম্প্রীতির এই দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও মন্দির ও মসজিদ দুটি পরিদর্শন করেছেন।মন্দির আগে, পরে মসজিদস্থানীয় বাসিন্দা এবং মন্দির ও মসজিদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার এলাকায় ১৮৩৬ সালে কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকাটি কালীবাড়ী নামে পরিচিতি পায়। পরে ১৯১৫ সালের দিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের নামাজ আদায়ের জন্য মন্দিরের পাশের একই আঙিনায় একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেটি জুমার মসজিদে রূপ নেয়। বর্তমানে এটি পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কালীমন্দিরের পাশে দুর্গামন্দিরও প্রতিষ্ঠিত হয়।কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আমিরুল হায়াত মুকুল বলেন, ১৮৩৬ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর এলাকার নাম হয় কালীবাড়ী। সেই থেকে একই উঠানে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। এখানে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।পুরান ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আরিফ সাবেরী (৫৫), মনোয়ার হোসেন (৪৫) ও কমল চন্দ্র রায় (৪৮) জানান, একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ থাকার কথা শুনে তাঁরা দেখতে এসেছেন। এমন দৃশ্য দেখে তাঁরা মুগ্ধ। কয়েক যুগ ধরে পাশাপাশি দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির ঘাটতি তৈরি হয়নি। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা।নামাজের সময় বন্ধ থাকে ঢাকঢোলএলাকাবাসী জানান, আজানের সময় থেকে নামাজের জামাত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরে ঢাকঢোলসহ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে মন্দিরের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিকভাবে চলে। একইভাবে মন্দিরে পূজার্চনা করতে আসা মানুষ মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য দেখতে পান। শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।মন্দিরের পূজারি দিলীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘লালমনিরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছি আমরা। সত্যি এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।’কালীবাড়ী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম দুলাল বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে মন্দিরে ধর্মচর্চা করতে পারেন, সে জন্য তাঁরা সব সময় সহযোগিতা করেন। তাঁর মতে, একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ শুধু লালমনিরহাটের নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের জন্য ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে আসেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ রাখা হয়। এভাবেই কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে।মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই আঙিনায় অবস্থিত হলেও প্রতিষ্ঠান দুটির জমির মালিকানা আলাদা। মন্দিরটি রয়েছে আট শতাংশ জমিতে, আর মসজিদটি পাঁচ শতাংশ জমিতে। আঙিনাটির মোট জমির পরিমাণ ১২ শতাংশ বলে তাঁরা জানিয়েছেন।লালমনিরহাটে ৪৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজাএদিকে এবার লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায় জানান, পূজামণ্ডপের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪৭৬টি মণ্ডপের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ কেজি।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদরে ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৭টি, কালীগঞ্জে ৯৩টি, হাতীবান্ধায় ৭৩টি এবং পাটগ্রামে ৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে।জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ উৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলা সদরের শ্রী গৌরিশংকর গোশালা সোসাইটি দুর্গামন্দির, কালীবাড়ী সর্বজনীন দুর্গামন্দির ও কাচারীবাড়ি সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। একইভাবে আদিতমারীর মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কামারপাড়া দুর্গামন্দির, কালীগঞ্জের তুষভাণ্ডার রাজবাড়ী সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, হাতীবান্ধা কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির ও সর্বজনীন দুর্গামণ্ডপ এবং পাটগ্রামের শ্রীশ্রী পাটেশ্বরী কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপেও প্রস্তুতি চলছে।জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজার শিবকালী ও দুর্গামন্দিরের সভাপতি নিমাই চন্দ্র পাল বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি চলছে।হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু গুরুচরণ রায় বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

ঢাকায় পীর-মাশায়েখদের সম্মেলন, সুফি অনুসারীদের ঐক্যের আহ্বান

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে পীর-মাশায়েখ ও সুফি তরিকার অনুসারীদের একটি বড় সম্মেলন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পাকিস্তান, ভারত, ইরানসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন দরবার ও খানকা শরীফের প্রায় ৩ হাজার পীর-মাশায়েখ ও প্রতিনিধি অংশ নেন।পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন দেওয়ানবাগ শরীফের পরিচালক ও সমন্বয়ক ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা।সম্মেলন থেকে সুফি তরিকার অনুসারীদের মধ্যে ঐক্য জোরদার, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ও ভালোবাসা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সুফিবাদ ও ঈদে মিলাদুন্নবীকে ঘিরে বিদ্বেষ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।ইমাম কুদরত এ খোদা বলেন, কোনো একটি দরবার সমস্যায় পড়লে অন্য দরবারের অনুসারীদেরও তার পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, “পীর-মাশায়েখরা আছেন বলেই আজও বাংলার জমিনে রাসুল (সা.)-এর মহব্বত জাগ্রত আছে।”ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে বিরোধিতা ও অপপ্রচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-কে ভালোবাসার জন্য আশেকে রাসুলদের কোনো দলিলের প্রয়োজন নেই। দেওয়ানবাগ শরীফ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দিয়ে তিনি বলেন, “দেওয়ানবাগ শরীফে শরিয়তের বাইরে কোনো কার্যক্রম চলে না।”তিনি আরও বলেন, এ সম্মেলনের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তরিকাপন্থীরা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা থেকেই একত্রিত হয়েছেন।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ইমাম কুদরত এ খোদা উপমহাদেশের সুফিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্যের একটি ক্ষেত্র তৈরি করছেন।ইরানের আল-মুস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম শাহাবুদ্দিন মাশায়েখী ইরানের সুফিদের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।ভারত থেকে আজমীর শরীফের সৈয়দ সালাউদ্দিন চিশতি, হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া দরগাহের সৈয়দ আনিস নিজামী ও সৈয়দ ফাইজ নিজামী এবং পাকিস্তান থেকে দরগাহে হযরত বাবা গানসকল মাসুদের দিওয়ান আহমেদ মাসুদ, দরগাহে হযরত শাহ জাফর আলির পীর সৈয়দ আমীর হোসেনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বাংলাদেশের মাইজভান্ডার, সুরেশ্বর, শেরে বাংলা, সাইফিয়া, মোহাম্মদীয়া, হাক্কানি, চিশতিয়া পাক পাঞ্জাতন, পরদেশি, সুফি আস্তানা, দয়াময়, নুরে মদীনা, চিশতিয়া নিজামিয়া, করন নগর, মাওলা ভরসা, ছতুরা, ভুলুয়া হায়দারি ও কুতুবদিয়া পাক দরবার শরীফসহ বিভিন্ন দরবারের পীর-মাশায়েখরাও সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

ঢাকায় পীর-মাশায়েখদের সম্মেলন, সুফি অনুসারীদের ঐক্যের আহ্বান

মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার আহ্বান আবদুল মঈন খানের

নিজ সংসদীয় আসন নরসিংদীর পলাশে সফর করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বুধবার সফরের শুরুতে তিনি তাঁর প্রয়াত বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল মোমেন খান এবং মা খোরশেদা বেগমের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।পরে পলাশ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় অংশ নেন মন্ত্রী।আলোচনা সভায় আবদুল মঈন খান বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। তাঁর শিক্ষা ছিল শান্তি, ন্যায়, মানবিকতা ও সম্প্রীতির শিক্ষা।তিনি বলেন, বিভেদ ও বিদ্বেষ পরিহার করে মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। এর মাধ্যমে একটি মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।এ জন্য সবাইকে মহানবীর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।পরে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার আহ্বান আবদুল মঈন খানের