ঢাকা    রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুততার সঙ্গে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে। জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, রামিসা মামলা থেকে শুরু করে রংপুরের সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় স্বল্পতম সময়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের বিচার করা বিচার বিভাগের দায়িত্ব। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো অপরাধ তদন্ত করা, সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা এবং তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপকভাবে ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিযোগ নির্দিষ্ট ঘটনা ও যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে করা উচিত।সংসদ সদস্যের উদ্ধৃত অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদে কোনো পরিসংখ্যান উপস্থাপনের সময় এর উৎস ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি উল্লেখ করা প্রয়োজন।পুলিশ সদস্যদের নৈতিক প্রশিক্ষণ নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ জন্য বর্তমানে পৃথক কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই। তবে পুলিশ একাডেমিগুলোতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে নৈতিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।একজন সংসদ সদস্য বলেন, কয়েকজন বিপথগামী পুলিশ সদস্যের অসদাচরণের দায় পুরো বাহিনীর ওপর দেওয়া উচিত নয়। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই নৈতিকতা বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

মীর কাশেম আলী আমার বন্ধু ছিলেন, কাশেমপুর কারাগারে একসঙ্গে ছিলাম: সালাহউদ্দিন আহমদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রয়াত জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলী তার বন্ধু ছিলেন এবং কাশেমপুর কারাগারে তারা একসঙ্গে বন্দি ছিলেন। দেশে ফেরার কারণ জানতে চাইলে মীর কাশেম আলী তাকে বলেছিলেন, তিনি ফিরে না এলে তার ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হতো।বুধবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অনুষ্ঠানে প্রতিবাদ জানানো ব্যক্তিদের বক্তব্যও তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। জুলাই আন্দোলনে সামনে ও পেছনে থেকে যাঁরা সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের অবদানও স্মরণ করেন তিনি। তার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী যদি দীর্ঘদিন নির্বাসনে না থাকতেন, তাহলে আন্দোলন আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতে পারত। সে সময় মাঠপর্যায়ের অধিকাংশ নেতৃত্ব কারাগারে, গুম কিংবা আত্মগোপনে ছিলেন। এরপরও জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ স্বৈরাচারের পতন ঘটে।নিজের বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি আয়নাঘরে ৬১ দিন ছিলেন এবং সেখানে ২৪ ঘণ্টাও টিকে থাকা একজন মানুষের জন্য অত্যন্ত কঠিন। মীর কাশেম আলীর পরিবারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বৈরাচার শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, তার পরিবারকেও ধ্বংস করেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যদি আমরা বলতে শুরু করি—জুলাই কার, তাহলে জুলাই কারও থাকবে না।’তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক জাতি শত বছর সংগ্রাম করেও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। এটি আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘ প্রস্তুতি, ত্যাগ ও সংগ্রামের ফল। তাই এ অর্জনকে কোনোভাবেই দলীয়করণ করা উচিত হবে না।

মীর কাশেম আলী আমার বন্ধু ছিলেন, কাশেমপুর কারাগারে একসঙ্গে ছিলাম: সালাহউদ্দিন আহমদ