ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে ব্যক্তিগতকৃত এমআরএনএ ভ্যাকসিন। মের্ক ও মডার্নার যৌথভাবে তৈরি এই ভ্যাকসিন মেলানোমা রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।
এক হাজারের
বেশি মেলানোমা রোগীকে নিয়ে বড় পরিসরের
গবেষণায় অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের ছয়
সপ্তাহ পরপর সর্বোচ্চ নয়টি
ডোজ ব্যক্তিগতকৃত ভ্যাকসিনের পাশাপাশি মের্কের ইমিউনোথেরাপি ওষুধ কিট্রুডা দেওয়া
হয়।
গবেষণার পাঁচ
বছরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু
কিট্রুডার তুলনায় ভ্যাকসিন যুক্ত করলে ক্যানসার ফিরে
আসার ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ এবং
শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে
পড়ার ঝুঁকি প্রায় ৫৯ শতাংশ কমেছে।
এই ভ্যাকসিন
রোগীর টিউমারে থাকা নির্দিষ্ট জেনেটিক
পরিবর্তন শনাক্ত করে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে
প্রশিক্ষিত করে। ফলে ক্যানসার
কোষকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করার
সুযোগ তৈরি হয়।
গবেষকদের দাবি,
কিট্রুডার সঙ্গে ভ্যাকসিন ব্যবহারে নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ভ্যাকসিনের
ক্ষেত্রে ফ্লু বা কোভিড
টিকার পর দেখা দেওয়া
হালকা উপসর্গের মতো প্রতিক্রিয়াই প্রধানত
দেখা গেছে।
মেলানোমার পাশাপাশি
ফুসফুস, মূত্রথলি, কিডনি, অগ্ন্যাশয় ও পাকস্থলীর ক্যানসার
নিয়েও এই প্রযুক্তি নিয়ে
গবেষণা চলছে। রোশ ও বায়োএনটেকও
কোলন ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের
চিকিৎসায় এমআরএনএ ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেলানোমার এই ফলাফল ব্যক্তিগতকৃত ক্যানসার ভ্যাকসিনের গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।