ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে পেট সিটি স্ক্যান, কমবে ক্যানসার রোগীদের ঢাকামুখী ভোগান্তি

চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে পেট সিটি স্ক্যান, কমবে ক্যানসার রোগীদের ঢাকামুখী ভোগান্তি

ক্যানসার রোগীদের জন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পাশে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসে (ইনমাস) চালু হচ্ছে আধুনিক পেট সিটি স্ক্যানের সুবিধা।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ল্যাব স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে পরীক্ষা চালু হতে পারে।এতদিন চট্টগ্রামে পেট সিটি স্ক্যানের সুবিধা না থাকায় ক্যানসার রোগীদের পরীক্ষা করাতে ঢাকায় যেতে হতো। এতে পরীক্ষার খরচের পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও অসুস্থ রোগীকে নিয়ে চলাচলের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হতো স্বজনদের।চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা প্রায় চার লাখ। প্রতিদিন গড়ে ১২০ জনের মতো ক্যানসার রোগী চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে আসেন।চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, বর্তমানে বেসরকারিভাবে পেট সিটি স্ক্যান করতে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা চালু হলে খরচ অর্ধেকেরও কম হতে পারে।ইনমাসে পেট সিটি স্ক্যানের পাশাপাশি স্থাপন করা হচ্ছে সাইক্লোট্রন মেশিন। এতে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় রেডিও আইসোটোপ উৎপাদন করা হবে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে এসেছে এবং স্থাপন ও সংযোজনের কাজ চলছে। জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।পেট সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে শরীরে ক্যানসারের অবস্থান, অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা এবং চিকিৎসায় রোগী কতটা সাড়া দিচ্ছেন, তা মূল্যায়ন করা যায়। ক্যানসারের সক্রিয়তা শনাক্ত করতেও এ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।ইনমাস চট্টগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক ডা. পবিত্র কুমার ভট্টাচার্য বলেন, সাইক্লোট্রনসহ পেট সিটি ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। যন্ত্রপাতি স্থাপন ও অন্যান্য কাজ শেষ হলেই পরীক্ষা শুরু করা হবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সুবিধা স্থাপনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রায় ১০৬ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা ভবন, মলিকুলার ল্যাব, সাইক্লোট্রন ও পেট সিটি মেশিন স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ক্যানসার চিকিৎসায় আশার আলো

ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে ব্যক্তিগতকৃত এমআরএনএ ভ্যাকসিন। মের্ক ও মডার্নার যৌথভাবে তৈরি এই ভ্যাকসিন মেলানোমা রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।এক হাজারের বেশি মেলানোমা রোগীকে নিয়ে বড় পরিসরের গবেষণায় অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের ছয় সপ্তাহ পরপর সর্বোচ্চ নয়টি ডোজ ব্যক্তিগতকৃত ভ্যাকসিনের পাশাপাশি মের্কের ইমিউনোথেরাপি ওষুধ কিট্রুডা দেওয়া হয়।গবেষণার পাঁচ বছরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু কিট্রুডার তুলনায় ভ্যাকসিন যুক্ত করলে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ এবং শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি প্রায় ৫৯ শতাংশ কমেছে।এই ভ্যাকসিন রোগীর টিউমারে থাকা নির্দিষ্ট জেনেটিক পরিবর্তন শনাক্ত করে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষিত করে। ফলে ক্যানসার কোষকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করার সুযোগ তৈরি হয়।গবেষকদের দাবি, কিট্রুডার সঙ্গে ভ্যাকসিন ব্যবহারে নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে ফ্লু বা কোভিড টিকার পর দেখা দেওয়া হালকা উপসর্গের মতো প্রতিক্রিয়াই প্রধানত দেখা গেছে।মেলানোমার পাশাপাশি ফুসফুস, মূত্রথলি, কিডনি, অগ্ন্যাশয় ও পাকস্থলীর ক্যানসার নিয়েও এই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে। রোশ ও বায়োএনটেকও কোলন ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় এমআরএনএ ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, মেলানোমার এই ফলাফল ব্যক্তিগতকৃত ক্যানসার ভ্যাকসিনের গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ক্যানসার চিকিৎসায় আশার আলো