ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১,৩২০

হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১,৩২০

দেশে হামের প্রকোপ বেড়েই চলছে। প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩২০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪৪। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ১০০ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৪৪ শিশুর।একসময় হাম নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। অথচ এখন দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮১ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ২৩৯ শিশু।একই সময়ে ১ হাজার ১৪১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ৭৯ শিশু।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮। এর মধ্যে ২০ হাজার ২৮২ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২০ রোগী। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন। হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে আবারও হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এরই মধ্যে অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।

চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে পেট সিটি স্ক্যান, কমবে ক্যানসার রোগীদের ঢাকামুখী ভোগান্তি

ক্যানসার রোগীদের জন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পাশে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসে (ইনমাস) চালু হচ্ছে আধুনিক পেট সিটি স্ক্যানের সুবিধা।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ল্যাব স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে পরীক্ষা চালু হতে পারে।এতদিন চট্টগ্রামে পেট সিটি স্ক্যানের সুবিধা না থাকায় ক্যানসার রোগীদের পরীক্ষা করাতে ঢাকায় যেতে হতো। এতে পরীক্ষার খরচের পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও অসুস্থ রোগীকে নিয়ে চলাচলের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হতো স্বজনদের।চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা প্রায় চার লাখ। প্রতিদিন গড়ে ১২০ জনের মতো ক্যানসার রোগী চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে আসেন।চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, বর্তমানে বেসরকারিভাবে পেট সিটি স্ক্যান করতে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা চালু হলে খরচ অর্ধেকেরও কম হতে পারে।ইনমাসে পেট সিটি স্ক্যানের পাশাপাশি স্থাপন করা হচ্ছে সাইক্লোট্রন মেশিন। এতে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় রেডিও আইসোটোপ উৎপাদন করা হবে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে এসেছে এবং স্থাপন ও সংযোজনের কাজ চলছে। জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।পেট সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে শরীরে ক্যানসারের অবস্থান, অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা এবং চিকিৎসায় রোগী কতটা সাড়া দিচ্ছেন, তা মূল্যায়ন করা যায়। ক্যানসারের সক্রিয়তা শনাক্ত করতেও এ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।ইনমাস চট্টগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক ডা. পবিত্র কুমার ভট্টাচার্য বলেন, সাইক্লোট্রনসহ পেট সিটি ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। যন্ত্রপাতি স্থাপন ও অন্যান্য কাজ শেষ হলেই পরীক্ষা শুরু করা হবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সুবিধা স্থাপনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রায় ১০৬ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা ভবন, মলিকুলার ল্যাব, সাইক্লোট্রন ও পেট সিটি মেশিন স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে পেট সিটি স্ক্যান, কমবে ক্যানসার রোগীদের ঢাকামুখী ভোগান্তি

ক্যানসার চিকিৎসায় আশার আলো

ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে ব্যক্তিগতকৃত এমআরএনএ ভ্যাকসিন। মের্ক ও মডার্নার যৌথভাবে তৈরি এই ভ্যাকসিন মেলানোমা রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।এক হাজারের বেশি মেলানোমা রোগীকে নিয়ে বড় পরিসরের গবেষণায় অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের ছয় সপ্তাহ পরপর সর্বোচ্চ নয়টি ডোজ ব্যক্তিগতকৃত ভ্যাকসিনের পাশাপাশি মের্কের ইমিউনোথেরাপি ওষুধ কিট্রুডা দেওয়া হয়।গবেষণার পাঁচ বছরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু কিট্রুডার তুলনায় ভ্যাকসিন যুক্ত করলে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ এবং শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি প্রায় ৫৯ শতাংশ কমেছে।এই ভ্যাকসিন রোগীর টিউমারে থাকা নির্দিষ্ট জেনেটিক পরিবর্তন শনাক্ত করে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষিত করে। ফলে ক্যানসার কোষকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করার সুযোগ তৈরি হয়।গবেষকদের দাবি, কিট্রুডার সঙ্গে ভ্যাকসিন ব্যবহারে নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে ফ্লু বা কোভিড টিকার পর দেখা দেওয়া হালকা উপসর্গের মতো প্রতিক্রিয়াই প্রধানত দেখা গেছে।মেলানোমার পাশাপাশি ফুসফুস, মূত্রথলি, কিডনি, অগ্ন্যাশয় ও পাকস্থলীর ক্যানসার নিয়েও এই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে। রোশ ও বায়োএনটেকও কোলন ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় এমআরএনএ ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, মেলানোমার এই ফলাফল ব্যক্তিগতকৃত ক্যানসার ভ্যাকসিনের গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ক্যানসার চিকিৎসায় আশার আলো

হামের উপসর্গে ৫ মাসে প্রাণ গেল ৯০৮ জনের, আজ ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১০১ শিশু। রোববার (১৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ১ হাজার ২১ শিশু হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮০৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯৯ জন। সব মিলিয়ে এই সময়ে হাম ও সংশ্লিষ্ট উপসর্গে ৯০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৯৬৩ শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৫০ জন। ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৭। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এদের মধ্যে ১৭ হাজার ৮৮০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।এ সময়ে হাম আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৭ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩৯ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার এখনো বেশি। বিশেষ করে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর ধারাবাহিকতা স্বাস্থ্য খাতের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

হামের উপসর্গে ৫ মাসে প্রাণ গেল ৯০৮ জনের, আজ ৬ শিশুর মৃত্যু

নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের সম্প্রসারিত ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভবনটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।১৫ তলা ভবনটির নিচের তিন তলা বেজমেন্ট হিসেবে রাখা হয়েছে। সেখানে পার্কিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সার্ভিস সেকশনের ব্যবস্থা রয়েছে। ওপরের ১২ তলায় রোগীদের জন্য ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক ইউনিট রাখা হয়েছে।নতুন ভবনে রয়েছে ৪০টি আইসিইউ শয্যা, ২৪টি পোস্ট-অপারেটিভ শয্যা এবং ১১২টি কেবিন। এর মাধ্যমে নিউরোলজিক্যাল রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী। এরপর রয়েছে দুর্ঘটনায় মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া রোগীরা।এ ছাড়া পার্কিনসন্স, ডিমেনশিয়া, গিলেন-বারে সিনড্রোম (জিবিএস), মৃগী ও হাইড্রোকেফালাসসহ বিভিন্ন ধরনের নিউরোলজিক্যাল রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়।শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সব বয়সী রোগীর নিউরোলজিক্যাল চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে।

নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

পেটের ডান পাশে ব্যথা, হতে পারে পিত্তথলির পাথরের লক্ষণ

পেটের ডান দিকে হঠাৎ তীব্র ব্যথা, ওষুধ খেয়েও না কমা-অনেকেই এটিকে গ্যাসের সমস্যা মনে করেন। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যায়, এর কারণ হতে পারে পিত্তথলির পাথর। বিশ্বজুড়ে পরিপাকতন্ত্রের সাধারণ রোগগুলোর একটি হলো পিত্তথলিতে পাথর হওয়া।চিকিৎসকদের মতে, অনেকের ক্ষেত্রে পিত্তথলির পাথর থাকলেও দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এটি তীব্র ব্যথা, সংক্রমণ, জন্ডিস ও প্রদাহের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে।পিত্তথলি ও পাথর কীভাবে তৈরি হয়যকৃতের নিচে থাকা ছোট থলির মতো অঙ্গ হলো পিত্তথলি। এর প্রধান কাজ হলো যকৃত থেকে তৈরি হওয়া পিত্তরস সংরক্ষণ করা।পিত্তরসে থাকা কোলেস্টেরল, পিত্ত লবণ ও বিলিরুবিনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ছোট স্ফটিক তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে এগুলো বড় হয়ে পাথরে পরিণত হতে পারে।পিত্তথলির পাথর সাধারণত তিন ধরনের হয়- কোলেস্টেরল পাথর: সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে। পিগমেন্ট পাথর: বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে তৈরি হয়। মিশ্র পাথর: কোলেস্টেরল, ক্যালসিয়াম ও বিলিরুবিনের সমন্বয়ে তৈরি। কারা বেশি ঝুঁকিতেচিকিৎসকেরা পিত্তপাথরের ঝুঁকি বোঝাতে ‘৫এফ’ সূত্রের কথা বলেন— নারী ৪০ বছরের বেশি বয়স অতিরিক্ত ওজন গর্ভধারণের সক্ষমতা রয়েছে এমন নারী কিছু নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী এ ছাড়া স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, দ্রুত ওজন কমানো, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ, পারিবারিক ইতিহাস ও যকৃতের কিছু রোগেও ঝুঁকি বাড়ে।কী কী লক্ষণ দেখা যায়অনেক সময় আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষার সময় হঠাৎ পিত্তথলির পাথর ধরা পড়ে। তবে উপসর্গ দেখা দিলে সাধারণত- পেটের ডান দিকে তীব্র ব্যথা ব্যথা কাঁধ বা পিঠে ছড়িয়ে পড়া চর্বিযুক্ত খাবারের পর ব্যথা বাড়া বমি, বদহজম ও পেট ফাঁপা গুরুতর অবস্থায় জ্বর, কাঁপুনি, চোখ ও শরীর হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, ফ্যাকাশে মল এবং দীর্ঘস্থায়ী তীব্র ব্যথা দেখা দিতে পারে।রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাপিত্তথলির পাথর শনাক্ত করতে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পরীক্ষা হলো আলট্রাসাউন্ড। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা, এমআরসিপি, সিটি স্ক্যান বা ইআরসিপিও করা হতে পারে।যাদের কোনো উপসর্গ নেই, অনেক ক্ষেত্রে তাদের শুধু চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তবে বারবার ব্যথা বা জটিলতা দেখা দিলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।বর্তমানে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি পিত্তথলির পাথরের অন্যতম কার্যকর চিকিৎসা। এতে ছোট ছেদ, কম ব্যথা, কম রক্তপাত এবং দ্রুত সুস্থ হওয়ার সুবিধা রয়েছে।চিকিৎসায় দেরি হলে কী হতে পারেসময়মতো চিকিৎসা না করলে পিত্তথলিতে প্রদাহ, সংক্রমণ, ফোঁড়া, পিত্তনালীতে বাধা, জন্ডিস, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।প্রতিরোধে করণীয়পিত্তপাথরের ঝুঁকি কমাতে- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা নিয়মিত ৩০–৪৫ মিনিট ব্যায়াম করা ফল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া অতিরিক্ত ভাজা খাবার, ট্রান্স ফ্যাট ও চিনি কমানো পর্যাপ্ত পানি পান করা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেটের ওপরের ডান দিকে বারবার ব্যথা হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে আলট্রাসাউন্ড করানো উচিত।সূত্র: চিকিৎসক রচিত স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক নিবন্ধ।

পেটের ডান পাশে ব্যথা, হতে পারে পিত্তথলির পাথরের লক্ষণ