ঢাকা    শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে পেট সিটি স্ক্যান, কমবে ক্যানসার রোগীদের ঢাকামুখী ভোগান্তি

চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে পেট সিটি স্ক্যান, কমবে ক্যানসার রোগীদের ঢাকামুখী ভোগান্তি

ক্যানসার রোগীদের জন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পাশে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসে (ইনমাস) চালু হচ্ছে আধুনিক পেট সিটি স্ক্যানের সুবিধা।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ল্যাব স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে পরীক্ষা চালু হতে পারে।এতদিন চট্টগ্রামে পেট সিটি স্ক্যানের সুবিধা না থাকায় ক্যানসার রোগীদের পরীক্ষা করাতে ঢাকায় যেতে হতো। এতে পরীক্ষার খরচের পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও অসুস্থ রোগীকে নিয়ে চলাচলের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হতো স্বজনদের।চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা প্রায় চার লাখ। প্রতিদিন গড়ে ১২০ জনের মতো ক্যানসার রোগী চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে আসেন।চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, বর্তমানে বেসরকারিভাবে পেট সিটি স্ক্যান করতে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা চালু হলে খরচ অর্ধেকেরও কম হতে পারে।ইনমাসে পেট সিটি স্ক্যানের পাশাপাশি স্থাপন করা হচ্ছে সাইক্লোট্রন মেশিন। এতে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় রেডিও আইসোটোপ উৎপাদন করা হবে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে এসেছে এবং স্থাপন ও সংযোজনের কাজ চলছে। জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।পেট সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে শরীরে ক্যানসারের অবস্থান, অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা এবং চিকিৎসায় রোগী কতটা সাড়া দিচ্ছেন, তা মূল্যায়ন করা যায়। ক্যানসারের সক্রিয়তা শনাক্ত করতেও এ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।ইনমাস চট্টগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক ডা. পবিত্র কুমার ভট্টাচার্য বলেন, সাইক্লোট্রনসহ পেট সিটি ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। যন্ত্রপাতি স্থাপন ও অন্যান্য কাজ শেষ হলেই পরীক্ষা শুরু করা হবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সুবিধা স্থাপনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রায় ১০৬ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা ভবন, মলিকুলার ল্যাব, সাইক্লোট্রন ও পেট সিটি মেশিন স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ক্যানসার চিকিৎসায় আশার আলো

ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে ব্যক্তিগতকৃত এমআরএনএ ভ্যাকসিন। মের্ক ও মডার্নার যৌথভাবে তৈরি এই ভ্যাকসিন মেলানোমা রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।এক হাজারের বেশি মেলানোমা রোগীকে নিয়ে বড় পরিসরের গবেষণায় অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের ছয় সপ্তাহ পরপর সর্বোচ্চ নয়টি ডোজ ব্যক্তিগতকৃত ভ্যাকসিনের পাশাপাশি মের্কের ইমিউনোথেরাপি ওষুধ কিট্রুডা দেওয়া হয়।গবেষণার পাঁচ বছরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু কিট্রুডার তুলনায় ভ্যাকসিন যুক্ত করলে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ এবং শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি প্রায় ৫৯ শতাংশ কমেছে।এই ভ্যাকসিন রোগীর টিউমারে থাকা নির্দিষ্ট জেনেটিক পরিবর্তন শনাক্ত করে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষিত করে। ফলে ক্যানসার কোষকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করার সুযোগ তৈরি হয়।গবেষকদের দাবি, কিট্রুডার সঙ্গে ভ্যাকসিন ব্যবহারে নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে ফ্লু বা কোভিড টিকার পর দেখা দেওয়া হালকা উপসর্গের মতো প্রতিক্রিয়াই প্রধানত দেখা গেছে।মেলানোমার পাশাপাশি ফুসফুস, মূত্রথলি, কিডনি, অগ্ন্যাশয় ও পাকস্থলীর ক্যানসার নিয়েও এই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে। রোশ ও বায়োএনটেকও কোলন ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় এমআরএনএ ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, মেলানোমার এই ফলাফল ব্যক্তিগতকৃত ক্যানসার ভ্যাকসিনের গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ক্যানসার চিকিৎসায় আশার আলো

পেটের ডান পাশে ব্যথা, হতে পারে পিত্তথলির পাথরের লক্ষণ

পেটের ডান দিকে হঠাৎ তীব্র ব্যথা, ওষুধ খেয়েও না কমা-অনেকেই এটিকে গ্যাসের সমস্যা মনে করেন। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যায়, এর কারণ হতে পারে পিত্তথলির পাথর। বিশ্বজুড়ে পরিপাকতন্ত্রের সাধারণ রোগগুলোর একটি হলো পিত্তথলিতে পাথর হওয়া।চিকিৎসকদের মতে, অনেকের ক্ষেত্রে পিত্তথলির পাথর থাকলেও দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এটি তীব্র ব্যথা, সংক্রমণ, জন্ডিস ও প্রদাহের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে।পিত্তথলি ও পাথর কীভাবে তৈরি হয়যকৃতের নিচে থাকা ছোট থলির মতো অঙ্গ হলো পিত্তথলি। এর প্রধান কাজ হলো যকৃত থেকে তৈরি হওয়া পিত্তরস সংরক্ষণ করা।পিত্তরসে থাকা কোলেস্টেরল, পিত্ত লবণ ও বিলিরুবিনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ছোট স্ফটিক তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে এগুলো বড় হয়ে পাথরে পরিণত হতে পারে।পিত্তথলির পাথর সাধারণত তিন ধরনের হয়- কোলেস্টেরল পাথর: সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে। পিগমেন্ট পাথর: বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে তৈরি হয়। মিশ্র পাথর: কোলেস্টেরল, ক্যালসিয়াম ও বিলিরুবিনের সমন্বয়ে তৈরি। কারা বেশি ঝুঁকিতেচিকিৎসকেরা পিত্তপাথরের ঝুঁকি বোঝাতে ‘৫এফ’ সূত্রের কথা বলেন— নারী ৪০ বছরের বেশি বয়স অতিরিক্ত ওজন গর্ভধারণের সক্ষমতা রয়েছে এমন নারী কিছু নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী এ ছাড়া স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, দ্রুত ওজন কমানো, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ, পারিবারিক ইতিহাস ও যকৃতের কিছু রোগেও ঝুঁকি বাড়ে।কী কী লক্ষণ দেখা যায়অনেক সময় আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষার সময় হঠাৎ পিত্তথলির পাথর ধরা পড়ে। তবে উপসর্গ দেখা দিলে সাধারণত- পেটের ডান দিকে তীব্র ব্যথা ব্যথা কাঁধ বা পিঠে ছড়িয়ে পড়া চর্বিযুক্ত খাবারের পর ব্যথা বাড়া বমি, বদহজম ও পেট ফাঁপা গুরুতর অবস্থায় জ্বর, কাঁপুনি, চোখ ও শরীর হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, ফ্যাকাশে মল এবং দীর্ঘস্থায়ী তীব্র ব্যথা দেখা দিতে পারে।রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাপিত্তথলির পাথর শনাক্ত করতে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পরীক্ষা হলো আলট্রাসাউন্ড। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা, এমআরসিপি, সিটি স্ক্যান বা ইআরসিপিও করা হতে পারে।যাদের কোনো উপসর্গ নেই, অনেক ক্ষেত্রে তাদের শুধু চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তবে বারবার ব্যথা বা জটিলতা দেখা দিলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।বর্তমানে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি পিত্তথলির পাথরের অন্যতম কার্যকর চিকিৎসা। এতে ছোট ছেদ, কম ব্যথা, কম রক্তপাত এবং দ্রুত সুস্থ হওয়ার সুবিধা রয়েছে।চিকিৎসায় দেরি হলে কী হতে পারেসময়মতো চিকিৎসা না করলে পিত্তথলিতে প্রদাহ, সংক্রমণ, ফোঁড়া, পিত্তনালীতে বাধা, জন্ডিস, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।প্রতিরোধে করণীয়পিত্তপাথরের ঝুঁকি কমাতে- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা নিয়মিত ৩০–৪৫ মিনিট ব্যায়াম করা ফল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া অতিরিক্ত ভাজা খাবার, ট্রান্স ফ্যাট ও চিনি কমানো পর্যাপ্ত পানি পান করা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেটের ওপরের ডান দিকে বারবার ব্যথা হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে আলট্রাসাউন্ড করানো উচিত।সূত্র: চিকিৎসক রচিত স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক নিবন্ধ।

পেটের ডান পাশে ব্যথা, হতে পারে পিত্তথলির পাথরের লক্ষণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা: বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো- রোগ জটিল আকার ধারণ করার আগেই স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা। দেশের অধিকাংশ মানুষ অসুস্থতা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। এর ফলে একদিকে চিকিৎসার ব্যয় বেড়ে যায়, অন্যদিকে হাসপাতাল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ওপর চাপও ক্রমাগত বাড়তে থাকে।একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি হওয়া উচিত প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা। কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবার ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো থাকলেও উন্নত চিকিৎসার আশায় এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ বড় শহরের হাসপাতালমুখী হন।এ বাস্তবতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ইন্টেলিজেন্ট জেনারেল প্র্যাকটিশনার (আইজিপি) মডেলের মতো উদ্যোগ দেখিয়েছে, কীভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় আরও কার্যকরভাবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।এই মডেলের মূল দর্শন হলো-রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা নয়, বরং রোগ প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। একজন মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব। এতে রোগী সময়মতো প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা পাবেন, একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপও কমবে।বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা এখন দ্রুত তথ্যনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হচ্ছে। আগে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করত রোগীর বর্ণনা ও চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার ওপর। এখন রোগীর আগের স্বাস্থ্যতথ্য, পরীক্ষার ফলাফল ও জীবনযাপনের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এই পুরো প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে এআইভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। এখনো দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে সহজে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারেন, তাহলে স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান বৈষম্য অনেকটাই কমানো সম্ভব।আইজিপি মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্পৃক্ততা। বাংলাদেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাঁদের অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো গেলে তাঁরা আরও দক্ষতার সঙ্গে মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পারবেন।তবে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। প্রথমত, শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো অপরিহার্য। প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের উদ্যোগের সুফল সীমিত থাকবে।দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যতথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল। তাই ডিজিটাল স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণ, ব্যবহার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।তৃতীয়ত, এআইভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি করা জরুরি। এখনো অনেকের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাসেবা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাই জনসচেতনতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া অপরিহার্য।একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন-কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই চিকিৎসকের বিকল্প নয়। চিকিৎসা একটি মানবিক পেশা, যেখানে রোগীর শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি তাঁর মানসিক চাহিদা ও সামাজিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হয়। এআই মূলত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে, যাতে তাঁরা আরও দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের বিস্তার স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় শুধু হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ালেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা, যেখানে মানুষ গুরুতর অসুস্থ হওয়ার আগেই নিজের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জানতে পারবেন।এই পরিবর্তন বাস্তবায়নে সরকার, বেসরকারি খাত, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা–সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরীক্ষিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা মডেলগুলো ধীরে ধীরে সারা দেশে সম্প্রসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের জন্য আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে মানুষের কল্যাণে আমরা প্রযুক্তিকে কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারি তার ওপর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো অলৌকিক সমাধান নয়, তবে এটি একটি শক্তিশালী সহায়ক প্রযুক্তি। যথাযথ পরিকল্পনা, জবাবদিহি এবং মানুষকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করা গেলে এআইভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পথে প্রযুক্তি হবে একটি কার্যকর সহায়ক। আর সেই সম্ভাবনাকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানোই এখন আমাদের অন্যতম বড় দায়িত্ব।  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা: বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা