ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করলাম: হাসনাত



প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করলাম: হাসনাত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ

বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধী দলকে ছয় মাসের সময় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন, তা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে এনসিপির পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।

হাসনাত তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা প্রদানের জন্য ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। আমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম এবং সমাধান পরিকল্পনা প্রস্তাব করছি।’

তিনি দাবি করেন, বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক, সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্বল্পমেয়াদে ৩০ দিন, মধ্যমেয়াদে ৬ থেকে ১৮ মাস এবং দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য মোট ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন।

হাসনাত বলেন, ভর্তুকি নীতি, ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়ে বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে সমাধানধর্মী বক্তব্য দিয়েছেন। নাগরিক সমাজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকেও এ বিষয়ে মতামত এসেছে, যা জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এবং বিভিন্ন সেমিনারে আলোচিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদের আকার উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত বড় পরিসরের টিম থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের এসব প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে না পৌঁছানোকে তিনি ‘লজ্জার’ বিষয় হিসেবে দেখছেন।

হাসনাতের অভিযোগ, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মিলিয়ে সরকারের ৬২ জন সভাসদ থাকলেও তাঁদের কেউ নাগরিক মতামত বা বিরোধী দলের প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করেননি। তিনি এনসিপির স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ১৫ দফা প্রস্তাব বিবেচনার আহ্বান জানান।

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচনা করতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন আহ্বানের অনুরোধেও সরকারের সাড়া দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

প্রশাসনে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক দলীয় পদায়নের সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, এর ফলে ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমরি’ বা প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে ফুয়েল, কন্টিনজেন্সি ও ডিজাস্টার রিকভারি—কোনো পরিকল্পনাই কার্যকর নেই।

মহেশখালীর এফএসআরইউতে আগুনের পর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করারও সমালোচনা করেন তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধানে ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে হাসনাত বলেন, এই কাঠামোয় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকরা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

হাসনাত বলেন, এই নীতির বাস্তবায়নে মূলত এসএলএ (সার্ভিস লেভেল অ্যাগ্রিমেন্ট) ও হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করাই বাকি। তাঁর ভাষ্য, এটি কয়েক সপ্তাহের প্রশাসনিক কাজ, জটিল কোনো বিষয় নয়।

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ছয় মাসের সময়সীমা মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে হাসনাত বলেন, এই সময়ের মধ্যে মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়ন না হলে সেটি সরকারের সক্ষমতার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে আলটিমেটাম দেওয়ার পরিবর্তে সরকারের কাজের জন্য জবাবদিহি করবেন। ছয় মাস ক্ষমতায় থাকার পরও দেশে কেন ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের জবাবদিহি করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে হাসনাত বলেন, বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের প্রস্তাব বিরোধী দলের হাতে রয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষমতা সরকারের হাতে। ছয় মাস পর জনগণ জানতে চাইবে—দেশ অন্ধকারে থাকার কারণ ছিল সমাধানের অভাব, নাকি তা বাস্তবায়নের সক্ষমতার অভাব।

বিষয় : তারেক রহমান রাজনীতি বিদ্যুৎ সংকট চ্যালেঞ্জ বিদ্যুৎ সমস্যা হাসনাত

দৈনিক নবকাল

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করলাম: হাসনাত

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধী দলকে ছয় মাসের সময় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন, তা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে এনসিপির পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।

হাসনাত তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা প্রদানের জন্য ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। আমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম এবং সমাধান পরিকল্পনা প্রস্তাব করছি।’

তিনি দাবি করেন, বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক, সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্বল্পমেয়াদে ৩০ দিন, মধ্যমেয়াদে ৬ থেকে ১৮ মাস এবং দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য মোট ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন।

হাসনাত বলেন, ভর্তুকি নীতি, ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়ে বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে সমাধানধর্মী বক্তব্য দিয়েছেন। নাগরিক সমাজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকেও এ বিষয়ে মতামত এসেছে, যা জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এবং বিভিন্ন সেমিনারে আলোচিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদের আকার উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত বড় পরিসরের টিম থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের এসব প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে না পৌঁছানোকে তিনি ‘লজ্জার’ বিষয় হিসেবে দেখছেন।

হাসনাতের অভিযোগ, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মিলিয়ে সরকারের ৬২ জন সভাসদ থাকলেও তাঁদের কেউ নাগরিক মতামত বা বিরোধী দলের প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করেননি। তিনি এনসিপির স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ১৫ দফা প্রস্তাব বিবেচনার আহ্বান জানান।

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচনা করতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন আহ্বানের অনুরোধেও সরকারের সাড়া দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

প্রশাসনে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক দলীয় পদায়নের সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, এর ফলে ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমরি’ বা প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে ফুয়েল, কন্টিনজেন্সি ও ডিজাস্টার রিকভারি—কোনো পরিকল্পনাই কার্যকর নেই।

মহেশখালীর এফএসআরইউতে আগুনের পর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করারও সমালোচনা করেন তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধানে ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে হাসনাত বলেন, এই কাঠামোয় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকরা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

হাসনাত বলেন, এই নীতির বাস্তবায়নে মূলত এসএলএ (সার্ভিস লেভেল অ্যাগ্রিমেন্ট) ও হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করাই বাকি। তাঁর ভাষ্য, এটি কয়েক সপ্তাহের প্রশাসনিক কাজ, জটিল কোনো বিষয় নয়।

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ছয় মাসের সময়সীমা মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে হাসনাত বলেন, এই সময়ের মধ্যে মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়ন না হলে সেটি সরকারের সক্ষমতার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে আলটিমেটাম দেওয়ার পরিবর্তে সরকারের কাজের জন্য জবাবদিহি করবেন। ছয় মাস ক্ষমতায় থাকার পরও দেশে কেন ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের জবাবদিহি করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে হাসনাত বলেন, বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের প্রস্তাব বিরোধী দলের হাতে রয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষমতা সরকারের হাতে। ছয় মাস পর জনগণ জানতে চাইবে—দেশ অন্ধকারে থাকার কারণ ছিল সমাধানের অভাব, নাকি তা বাস্তবায়নের সক্ষমতার অভাব।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করলাম: হাসনাত
0:00 0:00
1.0x