ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

খদরে খাসি না পেয়ে বিয়ে না করেই ফিরলেন প্রবাসী বর


ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

খদরে খাসি না পেয়ে বিয়ে না করেই ফিরলেন প্রবাসী বর
জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে বড় থালা ‘খদরে’ খাসির মাংস না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিয়ে না করেই ফিরে গেছেন জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ। সোমবার বিকেলে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।

কনের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে আত্মীয়স্বজন নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছান জুনায়েদ। সেখানে তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। গেট ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে নির্ধারিত আসনে বসানো হয়।

পরে বরপক্ষের জন্য খদরে খাবার পরিবেশন করা হয়। এ সময় খদরে খাসির মাংস না থাকায় আপত্তি জানান জুনায়েদ। খাসি ছাড়া তিনি খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান।

কনের পক্ষের লোকজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে নববধূকে নিয়ে তাঁর করা কিছু আপত্তিকর মন্তব্য কনের বাবা শফিক মিয়ার কানে যায়।

কনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা এবং বরের আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে শেষ পর্যন্ত মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান কনের বাবা। পরে বিয়ে না করেই কনের বাড়ি থেকে ফিরে যান জুনায়েদ।

অতিরিক্ত কাবিনের দাবি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য

ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জুনায়েদ দাবি করেন, অতিরিক্ত কাবিনের টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করেই মূলত পরিস্থিতির অবনতি হয়।

তিনি দাবি করেন, পূর্বনির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করেছিল কনেপক্ষ। তিনি ও তাঁর পরিবার এতে রাজি না হওয়ায় কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং তাঁদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উপহারসামগ্রী ও লাগেজও ফেরত পাঠানো হয় এবং কনের সঙ্গে তাঁকে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কনের বাবা শফিক মিয়া।

তিনি বলেন, ‘খাবারে খাসির বিষয়টি আগে জানানো হলে অবশ্যই ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়স্বজনসহ সবাই তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি রাজি হননি। উল্টো খারাপ আচরণ করেছেন।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, খাসির বিষয়টি সামনে আসার পর জুনায়েদকে অনেক বোঝানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করবেন না বলে অনড় ছিলেন। পরে তাঁর আচরণ ও মন্তব্যের কারণে কনের বাবা বিয়ে সম্পন্ন না করার সিদ্ধান্ত নেন।

বিষয় : বিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্থানীয় ঘটনা আখাউড়া প্রবাসীবর স্থানীয়সংবাদ

দৈনিক নবকাল

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


খদরে খাসি না পেয়ে বিয়ে না করেই ফিরলেন প্রবাসী বর

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে বড় থালা ‘খদরে’ খাসির মাংস না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিয়ে না করেই ফিরে গেছেন জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ। সোমবার বিকেলে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।

কনের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে আত্মীয়স্বজন নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছান জুনায়েদ। সেখানে তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। গেট ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে নির্ধারিত আসনে বসানো হয়।

পরে বরপক্ষের জন্য খদরে খাবার পরিবেশন করা হয়। এ সময় খদরে খাসির মাংস না থাকায় আপত্তি জানান জুনায়েদ। খাসি ছাড়া তিনি খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান।

কনের পক্ষের লোকজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে নববধূকে নিয়ে তাঁর করা কিছু আপত্তিকর মন্তব্য কনের বাবা শফিক মিয়ার কানে যায়।

কনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা এবং বরের আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে শেষ পর্যন্ত মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান কনের বাবা। পরে বিয়ে না করেই কনের বাড়ি থেকে ফিরে যান জুনায়েদ।

অতিরিক্ত কাবিনের দাবি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য

ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জুনায়েদ দাবি করেন, অতিরিক্ত কাবিনের টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করেই মূলত পরিস্থিতির অবনতি হয়।

তিনি দাবি করেন, পূর্বনির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করেছিল কনেপক্ষ। তিনি ও তাঁর পরিবার এতে রাজি না হওয়ায় কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং তাঁদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উপহারসামগ্রী ও লাগেজও ফেরত পাঠানো হয় এবং কনের সঙ্গে তাঁকে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কনের বাবা শফিক মিয়া।

তিনি বলেন, ‘খাবারে খাসির বিষয়টি আগে জানানো হলে অবশ্যই ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়স্বজনসহ সবাই তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি রাজি হননি। উল্টো খারাপ আচরণ করেছেন।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, খাসির বিষয়টি সামনে আসার পর জুনায়েদকে অনেক বোঝানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করবেন না বলে অনড় ছিলেন। পরে তাঁর আচরণ ও মন্তব্যের কারণে কনের বাবা বিয়ে সম্পন্ন না করার সিদ্ধান্ত নেন।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
খদরে খাসি না পেয়ে বিয়ে না করেই ফিরলেন প্রবাসী বর
0:00 0:00
1.0x