ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
চট্টগ্রামে বিএনপির নাম ঘিরে সংঘর্ষ-খুন, বাড়ছে উদ্বেগ

চট্টগ্রামে বিএনপির নাম ঘিরে সংঘর্ষ-খুন, বাড়ছে উদ্বেগ

চট্টগ্রামে গত দেড় বছরে বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নাম জড়িয়ে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, হত্যা, অস্ত্র উদ্ধার, চাঁদাবাজি ও পুলিশের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনার পর স্থানীয় নেতারা পরস্পরকে দায়ী করলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলছে, অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি অস্ত্রের মহড়া চলে এবং তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ অস্ত্রধারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।এর দুদিন পর খুলশী ও পাহাড়তলী এলাকায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের পর গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। ঘটনায় ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন।গত দেড় বছরে দলীয় কোন্দল ঘিরে চট্টগ্রামে অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাকলিয়ায় যুবদলের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে ছাত্রদল কর্মী সাজ্জাদ, মীরসরাইয়ে হামলায় ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়, রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার ও মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ, চান্দগাঁওয়ে যুবদল নেতা ফজলুল আমিন এবং সর্বশেষ রাউজানে যুবদল কর্মী মুহাম্মদ করিম নিহত হয়েছেন।এ ছাড়া রাউজানে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। চলতি বছরের মার্চে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি নেতা মো. ওসমান ও তাঁর মাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে।বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সংঘাত, চাঁদাবাজি বা অস্ত্রবাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ভাষ্য, দেশজুড়ে পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও পদ স্থগিতসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ও নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীও জানিয়েছেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি বা অস্ত্রবাজিতে জড়িতদের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

ঈশ্বরদীতে বিএনপির বিরোধে বারবার সংঘর্ষ, গুলিবিনিময় ও অস্ত্রের মহড়া

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠছে। গত দুই বছরে সংঘর্ষ, গুলিবিনিময়, হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্রের মহড়ার একাধিক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীদের মধ্যে বিরোধের জেরে এসব ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক আধিপত্যের পাশাপাশি বালুমহাল, ঝুট ব্যবসা, টেন্ডার, পরিবহন স্ট্যান্ড ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বিরোধ রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত শরিফ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান হাবিবকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তবে হাবিব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।এর আগে ১৭ আগস্ট আগ্নেয়াস্ত্র হাতে শহরে মহড়ার অভিযোগ ওঠে সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের দাবিতে থানার সামনে অবস্থান ও পরে থানা ঘেরাওয়ের ঘটনাও ঘটে।গত দুই বছরে শচীন বিশ্বাস হত্যা, ইমরান হোসেন সোহাগ হত্যাসহ বিভিন্ন সময়ে গোলাগুলি ও সংঘর্ষে অনেকে আহত হয়েছেন। বালুমহাল, ইপিজেডের ঝুট ব্যবসা ও টেন্ডার নিয়েও একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে।জাকারিয়া পিন্টুর ভাই মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার কারণে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। হাবিবুর রহমান হাবিব এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে।ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও পুরো উপজেলার পরিস্থিতি ভেঙে পড়েনি বলে দাবি করেন তিনি।

ঈশ্বরদীতে বিএনপির বিরোধে বারবার সংঘর্ষ, গুলিবিনিময় ও অস্ত্রের মহড়া