নৈতিক অবক্ষয় রোধে ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব’ তুলে ধরা হলো ঢাবির সেমিনারে
ইসলামী শিক্ষা
দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নৈতিক অবক্ষয় রোধে ইসলামী শিক্ষা: বর্তমান সমাজের সংকট ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক
সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (১৫
আগস্ট) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল
ইসলাম লেকচার হলে বাংলাদেশ ইসলামী
ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার
উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত
হয়।সেমিনারে বক্তারা
নৈতিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের সংকট ও বিভক্তিমূলক
শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিকতা
প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শিক্ষার গুরুত্বের পাশাপাশি জ্ঞান অর্জন, নিয়মিত বই পড়া এবং
অর্জিত জ্ঞান দেশ ও জাতির
কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপর
গুরুত্ব দেন তাঁরা।অনুষ্ঠানের শুরুতে
শিশুশিল্পীদের কণ্ঠে পবিত্র কোরআনের সূরা আলাকের অংশবিশেষ
অর্থসহ তিলাওয়াত করা হয়। পরে
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার
সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্নার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেমিনারের
উদ্বোধন হয়। এরপর সেমিনার
উপলক্ষে প্রকাশিত ক্রোড়পত্র পাঠ ও নাতে
রাসূল (সা.) পরিবেশন করা
হয়।সেমিনারে অতিথি
হিসেবে বক্তব্য দেন ইতিহাসবিদ, গবেষক
ও লেখক জিয়াউল হক।
তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান এবং নিয়মিত বই
পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন।
অর্জিত জ্ঞান লেখালেখির মাধ্যমে প্রকাশ এবং সমাজের বিভিন্ন
অসংগতি নিয়ে গঠনমূলক ভূমিকা
রাখার আহ্বান জানান তিনি।পরে কবি
আল মাহমুদের ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’ কবিতা
আবৃত্তি করা হয়। এরপর
একটি কোরাস গান পরিবেশন করা
হয়।‘ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব ও ইতিহাস’ বিষয়ে
বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম
কোর্টের আইনজীবী ও সংরক্ষিত নারী
আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট
সাবিকুন্নাহার মুন্নী। তিনি শহীদ আব্দুল
মালেকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের বিভক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তার
কথা বলেন।তিনি বলেন,
শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান
অর্জন নয়; অর্জিত জ্ঞান
মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো এবং
নৈতিক ও আদর্শিক মানুষ
হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাও শিক্ষার
গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও জাতির
কল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।সেমিনারের সমাপনী
বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী
ছাত্রীসংস্থার শিক্ষা বিভাগীয় সম্পাদিকা সানিয়া তারান্নুম অর্নি। তিনি নৈতিক চরিত্র
গঠনে সীরাতে রাসূল (সা.) অনুসরণের গুরুত্ব
তুলে ধরেন।সানিয়া তারান্নুম
অর্নি বলেন, নৈতিক চরিত্র গঠন ছাড়া জ্ঞান
মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ কল্যাণ
বয়ে আনতে পারে না।
তাই শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা ও আদর্শের সমন্বয়
প্রয়োজন। ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমে সততা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ
প্রতিষ্ঠার ওপরও তিনি গুরুত্ব
দেন।অনুষ্ঠানের শেষপর্বে
শহীদ আব্দুল মালেকের মায়ের কাছে লেখা একটি
চিঠি পাঠ করা হয়।
চিঠি পাঠের সময় উপস্থিতদের মধ্যে
আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এর মধ্য
দিয়ে ইসলামী শিক্ষা, আদর্শ ও নৈতিকতার জন্য
শহীদ আব্দুল মালেকের আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণ করা হয়।