ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ইবির আট অনুষদের ৩৬ শিক্ষার্থী পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড

ইবির আট অনুষদের ৩৬ শিক্ষার্থী পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড

একাডেমিক কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আটটি অনুষদের ৩৬ শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে মেডেল, সনদ ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান। এ ছাড়া আটটি অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।প্রতিটি অনুষদে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী এবং যৌথভাবে সর্বোচ্চ ফল করা শিক্ষার্থীদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।কোন অনুষদে কতজনডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের নয়জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মোহাম্মদ আল-ফিড, আলী আহসান মোহাম্মদ জুবায়ের, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. শরিফুল ইসলাম ও নাঈমুর রহমান; আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আহসান ভূঁইয়া এবং দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নাজমুল ইসলাম ও নুমান আল হাদী।কলা অনুষদ থেকে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের মোছা. তানজিলা খাতুন, মো. হাফিজুল ইসলাম ও জেবা রহমান পুরস্কার পেয়েছেন।সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের চার শিক্ষার্থী হলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের মো. মুনতাকিম রহমান, অর্থনীতি বিভাগের মো. টোগর আলী ও জেসিয়া খাতুন এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মোছা. শিরাজাম মনিরা।আইন অনুষদ থেকে ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সাদিয়া, রফিয়া খাতুন ও মোছা. হাফসা খানসান সন্ধানী ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ থেকে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সুমি খাতুন ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম; ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রত্যশী সানা, মো. সিরাজুল ইসলাম ও অনিন্দ্য সাহা এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের মেহেদী হাসান সিকদার পুরস্কার পেয়েছেন।বিজ্ঞান অনুষদ থেকে পরিসংখ্যান ও তথ্য বিজ্ঞান বিভাগের মো. মেহেদী হাসান লিমন ও মো. মাহমুদুল ইসলাম এবং গণিত বিভাগের আরিফুল ইসলাম ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ থেকে ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের মোছা. মোহনা রহমান নাইস, জান্নাতুন নাঈম ও নাফিজ রহমান সায়েম; ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আহসান হাবীব এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মো. মাহফুজুর রহমান পুরস্কার পেয়েছেন।জীববিজ্ঞান অনুষদ থেকে ফার্মেসি বিভাগের আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মো. আব্দুল রাশাড় এবং বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. মেহেদী হাসান ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।স্বীকৃতির পাশাপাশি এটি নতুন দায়িত্বঅ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, এ স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মূল্যায়ন। একই সঙ্গে এটি তাঁদের জন্য নতুন দায়িত্বও।তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে দেশ, দেশের মানুষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে হবে।উপাচার্য আরও বলেন, ২০২২ সালে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন থাকাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিনস অ্যাওয়ার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তৎকালীন প্রশাসনের সহযোগিতায় পরে তা বাস্তবায়িত হয়।

সততা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলার মধ্যেই প্রকৃত সাফল্য: সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পশ্চিম ক্যাম্পাসে তিনটি নতুন ভবন উদ্বোধন করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। রোববার মিরপুর সেনানিবাসে এসব ভবনের উদ্বোধন করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য শুধু একাডেমিক উৎকর্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সততা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলার মধ্যেই এর প্রকৃত সাফল্য নিহিত।তিনি আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে বিইউপির ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।অনুষ্ঠানে বিইউপি সিনেটের সদস্যরা, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, বিইউপির সাবেক উপাচার্যরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিশিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বিইউপি কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টরা জানান, পশ্চিম ক্যাম্পাসের নতুন তিনটি ভবন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এসব ভবনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা ও সৃজনশীল চর্চার সুযোগ বাড়বে।

সততা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলার মধ্যেই প্রকৃত সাফল্য: সেনাপ্রধান

নৈতিকতাবিহীন জ্ঞান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে: সালেহ হাসান নকিব

নৈতিকতা ছাড়া জ্ঞান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকিব। তিনি বলেন, সততা ও নিষ্ঠাবিহীন বুদ্ধিমত্তা সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন জরুরি।গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ২০২৬ সালের শরৎকালীন সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া নবীন ছাত্রীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শিক্ষার্থীদের সামনে অনেক সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে এ সময়ে বিভ্রান্তি ও মনোযোগ বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই নবীন শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক বিকাশ, উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিনয়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শৃঙ্খলা এবং প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে নৈতিক দায়িত্ববোধের সমন্বয় করা জরুরি। আধুনিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করা নয়; শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগের পাশাপাশি নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ তৈরি করাও জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব বলেন, একজন মানুষ জীবনে কতটা সফল হবেন, তা শুধু তাঁর মেধার ওপর নির্ভর করে না। বরং তিনি কতটা শৃঙ্খলা মেনে চলতে পারেন, তার ওপরও সাফল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল।বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা মানসিকতা ও মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা এখন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে নানা মত ও ধারণার কারণে সমাজে বিভাজন তৈরি হচ্ছে। এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বৈশ্বিক বাস্তবতা। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বায়োটেকনোলজি ও ডেটা সায়েন্স সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে দ্রুত পরিবর্তন করছে।অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব বলেন, প্রযুক্তির পরিবর্তন দ্রুত হলেও মানবতাকে পথ দেখানোর মৌলিক মূল্যবোধগুলো চিরন্তন। এসব মৌলিক মূল্যবোধে বড় ধরনের পরিবর্তন সমাজে নানা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আগামী দুই দশকে অনেক পেশা বিলুপ্ত বা পরিবর্তিত হতে পারে, আবার এমন অনেক নতুন পেশার সৃষ্টি হবে, যেগুলোর বিষয়ে এখনো ধারণা করা যাচ্ছে না।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইআইইউসির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, শুধু সনদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় দিতে চায় না কর্তৃপক্ষ। তাঁদের গবেষক, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও নিজ নিজ ক্ষেত্রে নেতা হিসেবে দেখতে চায় বিশ্ববিদ্যালয়।তিনি শিক্ষার্থীদের আধুনিকতা ও ইসলামের যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে মূল্যবোধসম্পন্ন, ভদ্র, পরোপকারী ও দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আইআইইউসির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেন, বিজ্ঞান মানুষকে আল্লাহর সৃষ্টি কীভাবে কাজ করে তা শেখায়, আর ঈমান শেখায় কেন তা সৃষ্টি হয়েছে। জ্ঞান ছাড়া সভ্যতার সূচনা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্ব সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও প্রযুক্তি ও কৌশলের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বে যারা প্রযুক্তি ও কৌশলে এগিয়ে, তারাই নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও কৌশল অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।অনুষ্ঠানে আইআইইউসির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, রেজিস্ট্রার কর্নেল মো. কাসেম, পিএসসি (অব.), কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কাওসার আহমেদ, ফিমেল একাডেমিক জোনের প্রধান মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর সুলতানা আক্তার বক্তব্য দেন।অনুষ্ঠানে নবীন ছাত্রীদের শপথ পাঠ করান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। পরে বিভাগীয় ব্রিফিং সেশনে বিভিন্ন বিভাগ ও অফিসের কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে আইআইইউসির ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভর্তি পরীক্ষায় নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া নবীন ছাত্রীদের ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। দিন শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন নবীন ছাত্রীরা।

নৈতিকতাবিহীন জ্ঞান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে: সালেহ হাসান নকিব