ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরও কাঁপছে পানামা, নজরদারিতে উপকূল

শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরও কাঁপছে পানামা, নজরদারিতে উপকূল

মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় গত সপ্তাহে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এসব ভূকম্পন আরও এক থেকে দুই মাস অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির ভূবিজ্ঞানীরা। এদিকে ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় ভূমির পরিবর্তন, সমুদ্রের পানি সরে যাওয়া এবং পানির রং বদলে যাওয়ার খবরও খতিয়ে দেখছেন গবেষকেরা।পানামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব জিওসায়েন্সেসের পরিচালক নেস্টর লুক বলেন, তাত্ত্বিক ধারণা ও অতীতের তথ্য অনুযায়ী, এ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত আফটারশক চলতে পারে।তিনি জানান, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটারেরও কম গভীরে। ভূমিকম্পে নির্গত শক্তির প্রভাবে ভূত্বকের টেকটোনিক ব্লকগুলো এখনো নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করছে। তবে ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্তে দেখা যাচ্ছে, আফটারশকগুলোর মাত্রা ধীরে ধীরে কমছে।পৃথক ভূচ্যুতির সঙ্গে সম্পর্কিত কম্পননেস্টর লুক আরও বলেন, চিরিকি ও বোকাস দেল তোরো এলাকায় রেকর্ড করা ভূমিকম্পগুলো পৃথক ফল্ট বা ভূচ্যুতি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এসব ভূমিকম্পের সঙ্গে গত ৯ অক্টোবরের শক্তিশালী ভূমিকম্পের সরাসরি সম্পর্ক থাকা আবশ্যক নয়।এদিকে পানামার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ভূমির পরিবর্তন নিয়ে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছেন গবেষকেরা। স্থানীয় বাসিন্দারা উপকূলের কিছু এলাকায় পাথর জেগে ওঠা এবং সমুদ্রের পানি সরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।লুকের ব্যাখ্যা, ভূচ্যুতির কারণে উপকূলীয় ভূমি উঁচু হয়ে উঠতে পারে অথবা নিচে দেবে যেতে পারে। এতে ভূপৃষ্ঠের আকৃতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। এসব পরিবর্তনের পেছনে ভূচ্যুতির ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে ভূতত্ত্ববিদেরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরীক্ষা করবেন।পানির রং পরিবর্তনের কারণ অনুসন্ধানভূমিকম্পের পর কয়েকটি এলাকায় পানির রং ধূসর হয়ে যাওয়ার খবরও পেয়েছেন গবেষকেরা। এ বিষয়ে নেস্টর লুক বলেন, ভূমিকম্পের কারণে ভূগর্ভস্থ পানি বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারে। তবে পানির রং পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ জানতে রাসায়নিক পরীক্ষা করা প্রয়োজন।দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় লস সান্তোস প্রদেশের ইসলা কানাসের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর তাঁদের কাছে দ্বীপটিকে যেন দুই ভাগ হয়ে গেছে বলে মনে হয়েছে।এ বিষয়ে লুক বলেন, দ্বীপজুড়ে কোনো ফাটল তৈরি হয়েছে কি না এবং তা সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে কি না, ভূতত্ত্ববিদেরা তা পরীক্ষা করে দেখবেন। এ ধরনের ফাটলের অস্তিত্ব পাওয়া গেলে তা ভূচ্যুতির প্রমাণ হতে পারে।ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণে বাড়বে যন্ত্রপাতিভূমিকম্প পর্যবেক্ষণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ১৫০টি যন্ত্র স্থাপন করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট অব জিওসায়েন্সেস। এ ছাড়া দেশব্যাপী আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় ৭০০টি সেন্সর প্রয়োজন হতে পারে।ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, উপকূলীয় পরিবর্তনের কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মূল্যায়নে এসব যন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।সূত্র: আনাদোলু

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২৬৫, নিখোঁজ ৪৯৬

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বুধবার জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪৯৬ জন।স্থানীয় সময় গত সোমবার সকালে কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পশ্চিমাঞ্চলের চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। ভূমিকম্পের কম্পন দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। কালি, পেরেইরা, মানিজালেস ও কিবদো শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।ভূমিকম্পের পর ৭০টির বেশি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটির মাত্রা ছিল ৪-এর বেশি। পরাঘাত ভূমিকম্পের পর স্বাভাবিক ঘটনা হলেও এগুলো উদ্ধার তৎপরতাকে আরও কঠিন করে তুলছে।ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে। কোথাও ভবনের একাংশ, আবার কোথাও পুরো ভবনই ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন উদ্ধারকারীরা।নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার জন্য দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই দুর্যোগ বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ে জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।সাংবাদিকদের দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য এখন নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা।’দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পাঠাচ্ছে সরকার। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো সচল করার কাজও চলছে।দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তাও আসছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মেক্সিকো ও এল সালভাদরও সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২৬৫, নিখোঁজ ৪৯৬