ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক গবেষণাগার, এফটিআইআর প্রযুক্তিতে হবে দূষণ শনাক্ত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক গবেষণাগার, এফটিআইআর প্রযুক্তিতে হবে দূষণ শনাক্ত

উপকূলীয় অঞ্চলে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ শনাক্তকরণ ও এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে নতুন একটি গবেষণাগার। আধুনিক ফোরিয়ের-ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (এফটিআইআর) ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিবেশগত নমুনায় থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করা হবে এখানে।মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে গবেষণাগারটির উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে গবেষকদের জন্য প্রযুক্তিটির ব্যবহার নিয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে গবেষণাগারটির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. হালিমা বেগম। প্রশিক্ষক ছিলেন স্পেকট্রালিটি সায়েন্টিফিক ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের ফিল্ড সার্ভিস বিশেষজ্ঞ অমিত বি. রানে। বিশেষ অতিথি ছিলেন টেকনোওয়ার্থ অ্যানালিটিক্যাল লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক আসিফ চৌধুরী।এ ছাড়া রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাসুদ পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট গবেষক, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।উপকূলের দূষণ নিয়ে গবেষণায় জোরউদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক গবেষণাগার স্থাপন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাস্টিক দূষণ শনাক্তকরণে বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুধু নিজেদের গবেষণাই নয়, পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে এ ধরনের গবেষণা ও সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের জীবন ও পরিবেশে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, গবেষণার মাধ্যমে তা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলেও উল্লেখ করেন উপাচার্য। ভবিষ্যতে এই গবেষণাগারের মাধ্যমে দেশ ও মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরও গবেষণা করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।যে প্রকল্পের আওতায় গবেষণাগারবাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে একটি গবেষণা শীর্ষক উপ-প্রকল্পের আওতায় গবেষণাগারটি স্থাপন করা হয়েছে।এখানে এফটিআইআর ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন পরিবেশগত নমুনা পরীক্ষা করা হবে। প্রযুক্তিটির সাহায্যে নমুনায় উপস্থিত মাইক্রোপ্লাস্টিকের ধরন শনাক্ত ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।গবেষণাগার উদ্বোধনের দিনই গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য প্রযুক্তিটির ব্যবহার নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে এফটিআইআর প্রযুক্তির কার্যপদ্ধতি এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক গবেষণায় এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন এই গবেষণাগার বরিশালসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে গবেষণার সুযোগ বাড়াবে। পাশাপাশি পরিবেশ, সামুদ্রিক সম্পদ ও মানুষের ওপর এ দূষণের প্রভাব নিরূপণেও এটি কাজে আসতে পারে।

রিকশার বিকল্পে বৈদ্যুতিক যান, সমাধান খুঁজছে এআইইউবি

দেশের প্রচলিত তিন চাকার রিকশার বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক যানবাহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করেছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষার্থীরা। বৈদ্যুতিক যান ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড বৈদ্যুতিক যান নিয়ে করা এ গবেষণায় টেকসই ও নিরাপদ নগর পরিবহনের বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।এআইইউবিতে আয়োজিত ‘গবেষণা থেকে বাস্তবে’ কীভাবে আমরা বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড বৈদ্যুতিক যানবাহনের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প তৈরি করেছি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও আলোচনা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ৩লিফ টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল। এআইইউবির উপাচার্য, শিক্ষক, গবেষক, বিশেষ অতিথি ও শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। এ সময় গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল বলেন, কোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে যথাযথ গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই জরুরি। সঠিক গবেষণার মাধ্যমে একটি ধারণাকে বাস্তব, কার্যকর ও টেকসই প্রকল্পে রূপ দেওয়া সম্ভব।তিনি বলেন, তিন চাকার রিকশার বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড যান নিয়ে এআইইউবির শিক্ষার্থীদের গবেষণা সময়োপযোগী। এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, নিরাপদ ও স্মার্ট পরিবহন এবং টেকসই নগর উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সহযোগিতা বাড়লে তরুণদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তব সমাধানে রূপ দেওয়া সহজ হবে। গবেষণা যেন শুধু গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ না থাকে, বাস্তব প্রয়োগেও এর সুফল নিশ্চিত করতে হবে।৩লিফ টেকনোলজিসের পক্ষ থেকে এআইইউবির শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন ও টেকসই পরিবহন নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সমন্বিত উদ্যোগই গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগানোর কার্যকর পথ তৈরি করতে পারে।

রিকশার বিকল্পে বৈদ্যুতিক যান, সমাধান খুঁজছে এআইইউবি

গবেষণা থেকে বাস্তব সমাধানের পথে এআইইউবির উদ্যোগ

গবেষণাকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) আয়োজন করেছে গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘গবেষণা থেকে বাস্তবতা’ কীভাবে আমরা বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড যানবাহনের সম্ভাব্যতা প্রকল্প তৈরি করেছি। অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩লিফ টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইর্তিজা আহম্মদ রাইফা। অনুষ্ঠানে এআইইউবির উপাচার্য, অধ্যাপক, শিক্ষক, গবেষক, বিশেষ অতিথি ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় এআইইউবির গবেষণা দলের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রচলিত তিন চাকার রিকশার বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক যানবাহন ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড বৈদ্যুতিক যানবাহন নিয়ে শিক্ষার্থীদের গবেষণার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের গবেষণা পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, স্মার্ট ও নিরাপদ চলাচল এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।অনুষ্ঠানে ৩লিফ টেকনোলজিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল বলেন- বড় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক গবেষণার মাধ্যমে একটি সম্ভাবনাময় ধারণাকে বাস্তব, কার্যকর ও টেকসই প্রকল্পে রূপ দেওয়া সম্ভব।প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এআইইউবির শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভবিষ্যতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক গবেষণা, উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি ও টেকসই পরিবহন নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানানো হয়।সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ তরুণ গবেষকদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তব সমাধানে রূপ দিতে পারে। গবেষণা যেন শুধু গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে উদ্ভাবন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনে কার্যকর প্রভাব ফেলে, এ ধরনের উদ্যোগ সেই পথ তৈরি করতে পারে।অনুষ্ঠানে তরুণদের গবেষণা, মেধা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, গবেষণা থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে বাস্তবায়ন এবং সেখান থেকে মানুষের জন্য কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি হবে।

গবেষণা থেকে বাস্তব সমাধানের পথে এআইইউবির উদ্যোগ