ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
শেখ হাসিনার প্রশংসা চসিক কর্মকর্তার

শেখ হাসিনার প্রশংসা চসিক কর্মকর্তার

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমিনের নামে একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৪৮ সেকেন্ডের ওই অডিওতে শেখ হাসিনার প্রশংসা এবং তাঁর কোনো বিকল্প নেই এমন বক্তব্য শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।তবে অডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছিল এবং কথোপকথনের অপর প্রান্তে কে ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অডিওটি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময়ের। বিষয়টি নিয়ে চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য অমূল্য সম্পদ। তার কোনো বিকল্প নেই...।’ ওই ব্যক্তিকে আশরাফুল আমিন বলে দাবি করা হলেও অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।এদিকে আশরাফুল আমিনের কাছে অডিওটির বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে অডিওটি পাঠিয়ে লিখিত বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সংক্ষিপ্ত এসএমএসে বলেন, ‘এটি শুনলেই বোঝা যায়, বক্তব্য আমার না।’এর আগে আশরাফুল আমিনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। গত প্রায় ১০ মাস ধরে চসিকে স্থায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকায় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করছেন তিনি।চসিকের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে একসঙ্গে দায়িত্ব পালনের কারণে প্রশাসনে তাঁর প্রভাব বেড়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আশরাফুল আমিনের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ ছাড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে (বিএসসি) দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।চসিকে যোগ দেওয়ার আগে আশরাফুল আমিন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের ‘এটুআই’ প্রকল্পে স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।ভাইরাল অডিওটির উৎস, ধারণের সময় এবং এতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অগ্রণী ব্যাংকের ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও

চট্টগ্রামের লালদীঘি জেলা পরিষদ ভবনে অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন এবং বহিরাগত মো. জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।কোতোয়ালী থানায় করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট নগদ অর্থ ও ভল্টের হিসাব মেলানোর সময় ওই ঘাটতি ধরা পড়ে। অভিযোগ করা হয়েছে, বড় নোটের বান্ডিলে ছোট নোট ঢুকিয়ে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম রাখা হতো। পরে ঘাটতির অর্থ হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকার ‘ইশরাত এগ্রো’ গরুর খামারে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।গ্রেপ্তার জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ দাবি করেছেন, তাঁর ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর দাবি, জাফরুল্লাহ ব্যাংকের কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন এবং তাঁর কাছে এত টাকা দেওয়ার কোনো ব্যাংক রেকর্ডও নেই।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, দুই আসামির মোবাইল ফোন ও একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।এ ঘটনায় এক বছরের বেশি সময় ধরে এত বড় অঙ্কের ঘাটতি ধরা পড়েনি কেন, প্রতিদিনের হিসাব ও ভল্ট কে যাচাই করতেন এবং একজন বহিরাগত কীভাবে ভল্টের অর্থের সঙ্গে যুক্ত হলেন-এসব বিষয়ও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।গ্রাহকদের আমানতের অর্থ জড়িত থাকায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদারকি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব এবং শাখার নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অগ্রণী ব্যাংকের ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও