ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ঘিরে দুই কোরিয়ার সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ঘিরে দুই কোরিয়ার সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে

উত্তর কোরিয়া তার পূর্ব উপকূলের সাগর লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, পিয়ংইয়ং এলাকা থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ৯০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে। তবে মোট কতটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।জাপানের কোস্টগার্ডও সোমবার উত্তর কোরিয়ার দুটি অজ্ঞাত বস্তু নিক্ষেপের খবর জানিয়েছে। এগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। বস্তু দুটি এরই মধ্যে সাগরে পড়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বলেছে, উত্তর কোরিয়ার বারবার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সিউল।কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে সর্বশেষ এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটল। সম্প্রতি দুই কোরিয়াই বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।দক্ষিণ কোরিয়ার পরীক্ষার পর শক্তি প্রদর্শন?দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের মুখপাত্র জ্যাং দো-ইয়ংয়ের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে থাকতে পারে।গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দেশটির প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো প্রেসিডেন্টের এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রকাশ্য প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার ঘটনা বিরল।লি জে মিয়ংয়ের কার্যালয় জানিয়েছে, হাইপারসনিক অস্ত্রটির পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন শেষ হলে কোরীয় উপদ্বীপের সামরিক অভিযানক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আকস্মিক হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়বে দক্ষিণ কোরিয়ার।এর আগে গত ৩ অক্টোবর উত্তর কোরিয়াও একটি মধ্যপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে।সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ ঘিরেও বিরোধদুই কোরিয়ার উত্তেজনার মধ্যে গত সপ্তাহে সীমান্তবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিমিলিটারাইজড জোন) মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। এ ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায় সিউল।দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘের যৌথ তদন্তে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর আগে উত্তর কোরিয়ার সেনারা ওই এলাকায় দুটি মাইন পুঁতেছিল। তবে পিয়ংইয়ং এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্টো দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ তুলেছে দেশটি।মাইন বিস্ফোরণের ঘটনার আগে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপের পথ তৈরি করতে ‘প্রাথমিক সমন্বয় প্রচেষ্টা’ চালানোর কথা জানিয়েছিল সিউল।২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ভাষণেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ পুনরায় শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং।পারমাণবিক কর্মসূচিতে অনড় কিমউত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সক্ষমতা তুলে ধরার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। একই সঙ্গে স্থগিত কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে চলেছেন তিনি।২০১৯ সালে কিম জং উন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে আলোচনা আকস্মিকভাবে শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটেনি।পিয়ংইয়ং এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুতামূলক’ নীতি পরিত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি আলোচনার শর্ত হিসেবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হবে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি

দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজু শহরের আন্তর্জাতিক জাদুঘর কমপ্লেক্সে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন এশিয়ান কালচারাল সেন্টারের (এসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কিম সাং-উক।৮ থেকে ১১ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজু শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে চার দিনব্যাপী ‘এশিয়ান কালচার উইক ফেস্টিভ্যাল’। উৎসব চলাকালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিম সাং-উক বাংলাদেশের সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে তা তুলে ধরার পরিকল্পনার কথা জানান।পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসিসির সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে ‘দক্ষিণ এশিয়া জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। সেখানে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সংগীত, লোকশিল্প ও সমসাময়িক জীবনযাত্রার বিভিন্ন উপাদান প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে তুলে ধরতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।গবেষণায় গুরুত্ব, বাড়বে বই সংগ্রহএসিসির এশিয়ান লাইব্রেরিতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিবিষয়ক বই রয়েছে। তবে উচ্চতর গবেষণা এবং তথ্য বিনিময়ের সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ থেকে আরও বই ও গবেষণাসামগ্রী সংগ্রহ করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানটি।এ উদ্যোগের বিষয়ে হানসুং বিশ্ববিদ্যালয়ের রিয়েল এস্টেট বিভাগের অধ্যাপক ইয়োন গিল ইউ বলেন, আন্তর্জাতিক এই সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করতে পারে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে।এশীয় সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক কেন্দ্র২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এশিয়ান কালচারাল সেন্টার দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। স্থপতি উ ক্যু-সংয়ের ‘ফরেস্ট অব লাইট’ বা ‘আলোর বন’ দর্শনের ভিত্তিতে নির্মিত এই কেন্দ্রে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিল্প ও সংস্কৃতির বিনিময় হয়।ভূগর্ভে চার তলাবিশিষ্ট এই কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী, গবেষণা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশটির ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও গবেষণার সুযোগও বাড়তে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হবে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি

হরমুজে সামরিক অভিযানে অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের সতর্কতা

পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে সেনা মোতায়েন কিংবা সামরিক অভিযানে অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্ক করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, সিউল এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিলে সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ইরান।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে কোরিয়ান ভাষায় এ সতর্কবার্তা দেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।বার্তায় বাঘাই বলেন, ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক ৬৪ বছরেরও বেশি পুরোনো। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এ সম্পর্ককে তেহরান গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং সিউলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের কঠোর জবাব দেওয়ার কথাও বলেন ইরানের এই মুখপাত্র।বাঘাই সতর্ক করে বলেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে কোনো পক্ষের সামরিক উপস্থিতি বা সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকে আগ্রাসী পক্ষকে সরাসরি সহায়তা হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান। এমন পদক্ষেপের ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, কোনো সার্বভৌম ও দায়িত্বশীল সরকারই ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বা ‘ব্ল্যাকমেইলের’ কাছে নতি স্বীকার করে না।ইসমাইল বাঘাইয়ের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শুরু করা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির দায় ও বোঝা অন্য দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

হরমুজে সামরিক অভিযানে অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের সতর্কতা