ঢাকা    রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
দিল্লিতে ছয়তলা ভবন ধসে নিহত ৬, ধ্বংসস্তূপে আরও আটকের শঙ্কা

দিল্লিতে ছয়তলা ভবন ধসে নিহত ৬, ধ্বংসস্তূপে আরও আটকের শঙ্কা

ভারতের রাজধানী দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে মোতিবাগ এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন ধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরানো সম্ভব না হওয়ায় সেখানে আরও কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।ধসে পড়া ভবনটি ‘পেইং গেস্ট’ হোস্টেল হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। সেখানে থাকা ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভবনটির বয়স অন্তত ৫০ বছর।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগেও ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। ভবনটির মালিক হরিরাম বনসাল প্রায় ২০ বছর আগে গুরুগ্রামে চলে যান। সম্প্রতি তিনি পুরোনো ভবনটি সংস্কার করে শিক্ষার্থী ও অন্যদের ভাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেন।ভবনটির কাছেই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। চলতি বছরের আগস্ট থেকে সেখানে ভাড়াটিয়া উঠতে শুরু করেন। তাঁদের বেশির ভাগই ছিলেন শিক্ষার্থী। তবে ভবনটির সংস্কার ও নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।ভবন ধসে পড়ার সময়ও শ্রমিকেরা বেসমেন্টে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে। এ কারণে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারীরা।ঘটনার পর ভবনটির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি যথাযথভাবে সংস্কার না করেই ভাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। রোববারের দুর্ঘটনার জন্য তাঁরা ভবন মালিকের আর্থিক লাভের বিষয়টিকেই দায়ী করছেন। সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্যে ভারতের প্রতি ঢাকার তীব্র ক্ষোভ

ভারতে অবস্থানরত দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণ সম্পর্কে বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা নিন্দনীয়।বিবৃতিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে বাংলাদেশ আগেই ভারত সরকারকে উদ্বেগ জানিয়েছিল। তা সত্ত্বেও এ ধরনের আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে যখন দেশজুড়ে শহীদদের স্মরণ করা হচ্ছিল, তখন ভারতীয় মাটিতে শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে উপস্থিতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অসম্মান।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শিশু-সহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ড অস্বীকার করে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছেন। তবে বাংলাদেশের জনগণ অতীতের মতো এবারও এমন প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা করবে বলে উল্লেখ করা হয়।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে দেশের জনগণ ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে অঙ্গীকারবদ্ধ। একই সঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর কোনো স্থান নেই।বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয় জানায়, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। তবে ২০১৩ সালের বাংলাদেশ–ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের একাধিক অনুরোধের এখনো কোনো সাড়া দেয়নি ভারত সরকার। বরং তাঁকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের জন্যও তা সহায়ক নয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্যে ভারতের প্রতি ঢাকার তীব্র ক্ষোভ