ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক হোসেন

দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক হোসেন। আজ সোমবার দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।আজ সকাল সাড়ে ৮টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ইশরাক হোসেন এ কথা জানান। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামার পর গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।ফেসবুক পোস্টে ইশরাক লেখেন, কিছু মানুষকে তাঁর পদত্যাগের খবরে উল্লাস করতে দেখেছেন। ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তাঁরা যেন জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে তাতে অংশ নেন, সেই আশা করেন তিনি।ইশরাক আরও লেখেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’তিনি জানান, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার করা হবে। পাশাপাশি দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফর করার সুযোগও থাকবে তাঁর। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’যেভাবে পদত্যাগের নির্দেশসরকারসংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র গতকাল রোববার জানায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ডেকে পাঠান। সেখানেই পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সূত্রগুলো জানায়।এর আগে শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও নিয়ে সমালোচনাশনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় ওই অভিযান চালানো হয়। ইশরাকের নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমেই তিনি আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করে বলছেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ এ সময় তাঁর পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা কয়েকজনকে ধরতে দৌড়াচ্ছেন। তাঁদের একজন এক তরুণকে লাথি মারেন। এ সময় কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ স্যার।’আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে ইশরাকের নিজের নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও ছিলেন। ইশরাকের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের কাছেও অস্ত্র ছিল। ভিডিওর কিছু অংশে ইশরাকের হাতে থাকা পিস্তল অস্পষ্ট করা হলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। তবে গুলি করার হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করা গেলেও অন্যের মনে ভয় বা বিরক্তির সৃষ্টি হতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।তদন্ত করছে ডিএমপিইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতিও দেন ইশরাক হোসেন। এতে তিনি দাবি করেন, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে ওই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।এর আগে পদত্যাগ করেন সংসদ সদস্য মিষ্টিইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার আগে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম আসার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজনের নাম সামনে আসে। ঘটনাটি নিয়ে সরকার ও দলের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়। মিষ্টির রাজনৈতিক দায় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে হামলা ও ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। পরে সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে।মিষ্টির পদত্যাগের আড়াই সপ্তাহের মধ্যে এবার অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা ছাড়ার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী। দুটি ঘটনাতেই দল ও সরকারকে বিব্রত করা কর্মকাণ্ডের পর পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো।

নানা অভিযোগ ও বিরোধের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজন পদত্যাগ করেছেন। গত ১০ আগস্ট ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। আমিনুল ইসলাম সুজন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নি ইসলাম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইশতিয়াক রনি বলেন, গত ১০ আগস্ট বেড়াখলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম একটি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।গত ৩১ মার্চ ‘প্রধান শিক্ষিকাকে লাথি মারা সেই আওয়ামী লীগ নেতা সুজনের বিরুদ্ধে মামলা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল আমার দেশ।পদত্যাগপত্রে যা বলেছেন সুজনপদত্যাগপত্রে আমিনুল ইসলাম সুজন উল্লেখ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে তিনি ওই নোটিশের জবাব দেন।সুজনের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হওয়ায় ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট তিনি পুনরায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের জন্য বিদ্যালয়ের সভাপতি বরাবর আবেদন করেন।পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভায় তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এরপর তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে চিঠি দেওয়া হলেও তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি বলে দাবি করেন সুজন।আরও যেসব অভিযোগ রয়েছেআমিনুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জাল সনদে চাকরি নেওয়া, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষমতার প্রভাবে পাঁচ বছরের ছুটি নেওয়া এবং এমপিওভুক্ত হওয়ার পর দুই কর্মস্থল থেকে বেতন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া ভুয়া রেজল্যুশন তৈরি ও ডিজির স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে চাকরি হারানোর পর আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পুনরায় যোগদান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এবং জোর করে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখলের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর বিদ্যালয়ে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে আমিনুল ইসলাম সুজন ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ হাসিনা ইসলামের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।এরই মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগে আমিনুল ইসলাম সুজনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় মামলা করেন হাসিনা ইসলাম।হাইকোর্টের নির্দেশের কথাও উল্লেখপদত্যাগপত্রে সুজন দাবি করেন, তাঁর চাকরি ও দায়িত্ব গ্রহণসংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশনও করা হয়েছিল।রিট পিটিশন নম্বর ২০৭৭০/২০২৫-এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাঁর আবেদন আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।সুজন আরও বলেন, বিষয়টি পুনরায় হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন থাকায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় তিনি স্বেচ্ছায় প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।তবে স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম সুজন তড়িঘড়ি বিদ্যালয়ে যোগদান করেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মামলা থেকে বাঁচতে তিনি দ্রুত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে তাঁদের দাবি।বক্তব্য পাওয়া যায়নিএসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আমিনুল ইসলাম সুজনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নি ইসলাম বলেন, আমিনুল ইসলাম সুজন পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে গেছেন। কেন জমা দিয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। পদত্যাগপত্র কার্যকর করার জন্য পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নানা অভিযোগ ও বিরোধের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ