ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

বিডা-বেজা-পিপিপিএ একীভূত, কার্যকর হলো ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে গঠিত ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।বৃহস্পতিবার সরকার ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়েছে, আইনের ধারা ১-এর উপধারা (২)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে ২০ আগস্ট থেকে আইনটি কার্যকর করা হয়েছে।রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।বিলুপ্ত বিডার নির্বাহী সদস্য ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, গেজেট কার্যকর হওয়ার পর থেকে সব কার্যক্রম ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে পরিচালিত হবে। নতুন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার জন্য একটি একক ফ্রন্ট ডেস্কের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই প্রয়োজন থেকেই নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিনিয়োগে একক সেবা দেওয়ার লক্ষ্যনতুন আইন অনুযায়ী, ইনভেস্ট বাংলাদেশ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় হবে। সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপন করতে পারবে কর্তৃপক্ষ।কর্তৃপক্ষে একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য থাকবেন। চেয়ারম্যানই হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী।নতুন সংস্থার দায়িত্বের মধ্যে থাকবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা।সম্পদ ও জনবল হস্তান্তরএকীভূতকরণের ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথি, চুক্তি, দায়-দেনা ও অন্যান্য বিষয় ইনভেস্ট বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে কাজ করবেন।নতুন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সেবা আরও সমন্বিত করা এবং বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে তিন প্রতিষ্ঠান একীভূত করার প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।

বিডা-বেজা-পিপিপিএ একীভূত, কার্যকর হলো ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’