ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ভারত-ইসরাইল সম্পর্ক: অস্ত্র ক্রেতা থেকে উৎপাদন সহযোগী

ভারত-ইসরাইল সম্পর্ক: অস্ত্র ক্রেতা থেকে উৎপাদন সহযোগী

ভারত ও ইসরাইলের সম্পর্ক গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে দুই দেশের সহযোগিতা কূটনীতি ও প্রতিরক্ষার গণ্ডি ছাড়িয়ে অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হয়েছে। দীর্ঘদিন ইসরাইলি অস্ত্রের অন্যতম প্রধান ক্রেতা ভারত এখন দেশটির অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠছে।অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক তদন্তে বলা হয়েছে, যৌথ উদ্যোগ ও উৎপাদন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ইসরাইলের সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় কারখানা থেকে ইসরাইলি সামরিক সরবরাহকারীদের কাছে লাখ লাখ অস্ত্রের যন্ত্রাংশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, এসব সরবরাহের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং ৫ লাখ ৬৫ হাজার বিস্ফোরক অস্ত্রের অংশ রয়েছে। এসব সরবরাহে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানও যুক্ত ছিল বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।ইসরাইলের গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা ও বিচ্ছিন্নতা বাড়লেও ভারতে এ সম্পর্ক নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ স্ট্যানলি জনির মতে, এর পেছনে হিন্দুত্ববাদ ও জায়নবাদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আদর্শিক সাদৃশ্য ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে ভারতের ডানপন্থি রাজনীতিতে ইসরাইলকে শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র হিসেবে দেখার প্রবণতাও এ সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে বলে মনে করেন তিনি।অন্যদিকে, ইসরাইল থেকে ভারতের অস্ত্র কেনাও অব্যাহত রয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরাইলের মোট অস্ত্র রপ্তানির ২৯ শতাংশের গন্তব্য ছিল ভারত। এর ফলে দেশটি ইসরাইলের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা ক্রেতায় পরিণত হয়।গাজা যুদ্ধের পর ইসরাইলে ২০ হাজারের বেশি ভারতীয় শ্রমিকও পাঠানো হয়েছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক এখন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।তবে ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভারতের জন্য কিছু কৌশলগত চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক ভারতীয় প্রবাসীর স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।স্ট্যানলি জনির মতে, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও ভারতের উচিত পশ্চিম এশিয়া নীতিতে আরও ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং একই সঙ্গে নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হতে পারে আরও কয়েকটি দেশ

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা জোটে আরও কয়েকটি দেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের দৃষ্টিভঙ্গি হলো- জোটটি তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োজনে আরও দেশকে এর আওতায় আনা।গত শুক্রবার তিন দেশ ‘মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির আওতায় কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।মিসর হতে পারে পরবর্তী সদস্যসম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে মিসর। হাকান ফিদান মিসরকে জোটের ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, কিছু কারিগরি বিষয় সমাধান হলে কায়রো এই জোটে যোগ দিতে পারে।তবে চুক্তির সামরিক বাধ্যবাধকতা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে মিসর। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি এবং লিবিয়াসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বজায় রাখতে চায় দেশটি।কাতার-কুয়েত নিয়েও আলোচনাজোট সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কাতার ও কুয়েতের নামও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তিন প্রতিষ্ঠাতা দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এই দুই দেশের জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি আশা প্রকাশ করেছেন, সৌদি আরব ছাড়া অন্য সব উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য—কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—জোটে যোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেবে।এ ছাড়া আজারবাইজান, সিরিয়া ও জর্ডানও ভবিষ্যতে তুলনামূলক দ্রুত এই জোটে যুক্ত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জোটটি এখনই পূর্ণাঙ্গ ন্যাটো-ধাঁচের আঞ্চলিক সামরিক জোটে পরিণত হবে-এমনটা নিশ্চিত নয়। বরং প্রতিটি দেশ নিজেদের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করে ধাপে ধাপে এতে যোগ দিতে পারে।আঞ্চলিক নিরাপত্তায় প্রভাবমিসর ও কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ জোটে যোগ দিলে এর রাজনৈতিক প্রভাব, আঞ্চলিক গ্রহণযোগ্যতা ও সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।তবে সম্ভাব্য সদস্য দেশগুলোর ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক বিরোধ জোটটিকে একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক ব্লকে পরিণত করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হতে পারে আরও কয়েকটি দেশ