ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ঢাকা ডিসি ফরিদা খানমের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা ডিসি ফরিদা খানমের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনার স্তূপ সরিয়ে দৃষ্টিনন্দন বাগান গড়ে তোলার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উদ্যোগের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।রোববার আমিনবাজারে নিমগাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে ‘রূপান্তর’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে একটি এলাকাকে মানুষের কল্যাণে কীভাবে সুন্দরভাবে পরিবর্তন করা যায়, আমিনবাজারের উদ্যোগ তার বড় প্রমাণ।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যারা এলাকাবাসী, তারা জানেন দুই মাস আগে এই জায়গাটার কী অবস্থা ছিল। আর আজকে প্রায় দুই মাস পরে এই জায়গাটির কী পরিবর্তন হয়েছে! এই চার কিলোমিটার এলাকার মানুষের কাছে জায়গাটি দেখতে ভালো লাগার পাশাপাশি ভালো পরিবেশে শ্বাস নেওয়াও এখন সহজ হয়েছে।সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্ব এলাকাবাসীরওপ্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার উদ্যোগ নিয়ে এলাকাটিকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলেছে। এখন এই সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্ব এলাকাবাসীকেও নিতে হবে। জনগণ সরকারকে সহযোগিতা করলে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব হবে।আমিনবাজারের এই উদ্যোগ চার কিলোমিটার এলাকার বাইরেও সম্প্রসারণের পরামর্শ দেন তারেক রহমান। মহাসড়কের দুই পাশে থাকা মিল-কারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পাশের ফাঁকা জায়গাগুলো ভাগ করে সেগুলোর পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।স্থানীয় সংসদ সদস্যদের এ কাজে জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করার নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী। বর্জ্য সমস্যার স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে এলাকাটিকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অন্য ৬৩ জেলার জেলা প্রশাসকদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।অন্য জেলার প্রশাসকেরাও এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।দুই দশকের ভাগাড় থেকে সবুজ বাগানপ্রায় দুই দশক ধরে আমিনবাজার এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে বড় বড় স্তূপ তৈরি করা হয়েছিল। কোনো কোনো জায়গায় এসব বর্জ্যের স্তূপ ৩০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে উঠেছিল।গত ৭ জুলাই মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার পথে আমিনবাজারের এই ভাগাড় ও দুর্গন্ধ প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের তত্ত্বাবধানে এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বর্জ্য অপসারণ ও এলাকাটির সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়।বর্জ্য সরানোর পর জমি প্রস্তুত করা হয়। মাটি সুরক্ষায় প্যালিসেডিং করা হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হয় ২০টি সারফেস ড্রেন ও একটি সার্ভিস শেড। মাটির ক্ষয়রোধে লাগানো হয় নেপিয়ার, দুর্বা ও বিন্নাসহ বিভিন্ন ধরনের ঘাস।চার কিলোমিটারজুড়ে ৬ হাজার ৫৮৫টি গাছপ্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১০ থেকে ২৫ মিটার চওড়া এই বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ৬ হাজার ৫৮৫টি গাছ ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ রোপণ করা হয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৫০টি নিমগাছ, ৩ হাজার ৮১৫টি সুপারি, ৬০টি তালগাছ, ৬৫০টি মাধবীলতা, ৪৫টি সিজিয়াম ও ৭০০টি রঙ্গনগাছ।পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর অংশ হিসেবে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেল ও ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার বায়ু টারবাইন। রাতের আলোকসজ্জার জন্য বসানো হয়েছে ১২০টি বৈদ্যুতিক বাতি।দীর্ঘদিনের বর্জ্যের ভাগাড় সরিয়ে গড়ে তোলা এই বাগানের ফলে রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ আমিনবাজার এলাকায় নতুন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন ধরে রাখতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত পরিচর্যা ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে কোনো দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীক থাকবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখিয়েছেন বলেও জানান তিনি।বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।ব্রিটেনকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের সিটি করপোরেশনগুলোতে, বিশেষ করে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করতে আগ্রহী।ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীরা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ বা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করতে চান বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে দাপ্তরিক যোগাযোগ এগিয়ে নিতে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি দল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।স্থানীয় সরকার নির্বাচনস্থানীয় সরকার নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের মতো অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সরকার আইন সংশোধন করেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ স্তরের নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। এটি সাধারণ নির্বাচন হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে এবং বৈধ যেকোনো ব্যক্তি প্রার্থী হতে পারবেন।রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, যেহেতু নির্বাচনটি দলীয় নয়, তাই কোনো বিশেষ দলের প্রশ্ন আসে না। তবে বিএনপি স্থানীয়ভাবে একক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার কৌশল নিতে পারে।একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।বদলাচ্ছে অর্থবছরপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জনগণের সরকার অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তন করেছে বলেও জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। ২০২৮ সাল থেকে অর্থবছর ১ এপ্রিল শুরু হয়ে ৩১ মার্চ শেষ হবে।ব্রিটিশ প্রতিনিধিরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের মতে, এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।মীর শাহে আলম বলেন, অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তনের জন্য সংবিধানে কিছু সংশোধনের প্রয়োজন হবে। মহান সংসদ গঠিত সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে এ বিষয়ে কাজ চলছে। এ ছাড়া জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং বিএনপির প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোও সংবিধান সংশোধনের সময় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চান মন্ত্রী

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।সোমবার সকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে পানি ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষি কোল্ড স্টোরেজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।ড. আবদুল মঈন খান বলেন, এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের সরকার। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি।’ বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।সাক্ষাতের শুরুতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন মন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।বৈঠকে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থানীয় সরকার খাতেও নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে। আগামী দিনে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর ও ফলপ্রসূ হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চান মন্ত্রী