ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরবনের পর্যটন সম্ভাবনা, মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে বিনিয়োগের সুযোগ পরিদর্শনে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে বিএনপির মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে।নির্বাচনের পর সরকারপ্রধানের এ সফর ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট পর্যবেক্ষণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন তিনি। সেখান থেকে নৌপথে মোংলা নৌঘাঁটিতে যাবেন। মধ্যাহ্নবিরতির পর বিকেলে মোংলা বন্দরের জেটি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর।বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাপ্রধানমন্ত্রীর সফরে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। অন্যদিকে মোংলা বন্দর দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার। এই দুই সম্ভাবনার সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চল যুক্ত হলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।সফর উপলক্ষে সুন্দরবন, দাকোপ ও মোংলা বন্দর এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুর প্রত্যাশাপ্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যান্য উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।স্থানীয়দের আশা, সুন্দরবনের পর্যটন উন্নয়ন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের মধ্য দিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিও গতিশীল হবে।

জেলের জালে ২০ কেজির কোরাল, মাছটি বিক্রি হলো ৩৬ হাজার টাকায়

বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনসংলগ্ন ভোলা নদীতে জহুরুল হাওলাদার নামে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে ২০ কেজি ওজনের একটি বড় কোরাল মাছ। পরে মাছটি শরণখোলা বাজারে ৩৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা।সোমবার সকালে বন বিভাগের বৈধ অনুমতিপত্র নিয়ে ভোলা নদীতে মাছ ধরতে যান শরণখোলা গ্রামের জেলে জহুরুল হাওলাদার। নদীতে জাল ফেলার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ জালে অস্বাভাবিক টান অনুভব করেন তিনি। পরে কৌশলে জালটি নৌকায় তুললে দেখা যায়, তাতে আটকা পড়েছে বিশাল আকৃতির একটি কোরাল।নৌকায় মাছটি তোলার পর ওজন করে দেখা যায়, কোরালটির ওজন ২০ কেজি। বড় মাছটি নিয়ে দ্রুত শরণখোলা বাজারে ফিরে আসেন জহুরুল। সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় মৎস্য আড়তদার শাহাদাত মুন্সী মাছটি ৩৬ হাজার টাকায় কিনে নেন।স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, সুন্দরবনে টানা তিন মাস মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর গত এক মাসে জেলেদের জালে ধরা পড়া মাছের মধ্যে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কোরাল। বড় আকারের কোরালের বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় মাছটির জন্য ভালো দাম পেয়েছেন জেলে।মাছটির ক্রেতা শাহাদাত মুন্সী বলেন, গত এক মাসে সুন্দরবন এলাকা থেকে আসা মাছের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় কোরাল। বড় কোরালের চাহিদা বেশি হওয়ায় ভালো দাম দিয়ে মাছটি কিনেছেন তিনি। স্থানীয় বাজারে লাভজনক দামে মাছটি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. খলিলুর রহমান বলেন, ভোলা নদীতে জেলের জালে ২০ কেজি ওজনের কোরাল ধরা পড়ার বিষয়টি তাঁরা জেনেছেন। তাঁর মতে, তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় সুন্দরবনের জলাশয়ে মাছ নির্বিঘ্নে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের জাল ও বড়শিতে বড় আকারের মাছ ধরা পড়ছে এবং তাঁরা বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন।

জেলের জালে ২০ কেজির কোরাল, মাছটি বিক্রি হলো ৩৬ হাজার টাকায়

মোংলায় কোস্ট গার্ডের উদ্যোগে ৯ হাজার ৪০০ চারা রোপণ

উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাগেরহাটের মোংলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’-এর আওতায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৯ হাজার ৪০০টি চারা রোপণ করা হবে।বুধবার ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।এনরুট ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে। মোংলা ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে এ কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, রোপণ করা চারাগুলো উপকূলীয় এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে মাটি ক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এসব গাছ সহায়ক হবে।তিনি আরও বলেন, মোংলা ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কোস্ট গার্ডের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মোংলায় কোস্ট গার্ডের উদ্যোগে ৯ হাজার ৪০০ চারা রোপণ