ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
৪৮ ঘণ্টায় বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, হতে পারে ঘূর্ণিঝড়

৪৮ ঘণ্টায় বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, হতে পারে ঘূর্ণিঝড়

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।তবে নতুন এই লঘুচাপ শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তিশালী হবে কিংবা এটি নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপে রূপ নেবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, লঘুচাপটি সৃষ্টির পর এর অবস্থান, গতিপথ ও শক্তি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা বলেন, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই লঘুচাপটি সৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী সময়ে এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ, নিম্নচাপ কিংবা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। তবে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না, তা সিস্টেমটি সৃষ্টির পর এর গতিপথ ও শক্তি বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করবে।তিনি বলেন, অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা ঐতিহাসিকভাবে থাকলেও বর্তমান পর্যায়ে নতুন সিস্টেমটিকে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের আবহাওয়া অনেকটা শুষ্ক থাকার পর শুক্রবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।এদিকে আগামী কয়েক দিন পুরোপুরি বৃষ্টিশূন্য থাকবে না দেশ। রোববার সন্ধ্যা থেকে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।সোমবার চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং অন্য বিভাগগুলোর দু-এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টির পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার ও বৃহস্পতিবারও কয়েকটি বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।অর্থাৎ, আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টি পুরোপুরি বন্ধ না হলেও অঞ্চলভেদে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টি এবং বৃষ্টির বিরতিতে গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া থাকতে পারে।রোববার দেশের কোথাও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। শুধু মানিকগঞ্জের আরিচায় ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এ কারণে অনেক এলাকায় তাপমাত্রা বেড়ে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়েছে। এদিন দেশের সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ঢাকা, চাঁদপুর, ফেনী ও খুলনায়।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। মঙ্গলবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।আবহাওয়াবিদদের মতে, নতুন লঘুচাপটি সৃষ্টি হওয়ার পর এর গতিপথ ও শক্তি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। তাই আপাতত এটিকে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা হিসেবে দেখার চেয়ে সম্ভাব্য লঘুচাপ এবং এর প্রভাবে বৃষ্টির পরিবর্তন হিসেবেই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর আগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি নিম্নচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছিল এবং এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

সেপ্টেম্বরে কম বৃষ্টি, ২–৩ দফা তাপপ্রবাহের আভাস

সেপ্টেম্বর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বঙ্গোপসাগরে এ মাসে এক থেকে তিনটি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে একটি লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে।চলতি মাসে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস প্রদানের জন্য গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির নিয়মিত সভায় সেপ্টেম্বর মাসের এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়।পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এর ফলে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। মৃদু তাপপ্রবাহে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি তাপপ্রবাহে ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।এ ছাড়া চলতি মাসে তিন থেকে পাঁচ দিন বজ্রঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে তিনটি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার একটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে।নদ-নদীর বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকতে পারে। তবে ভারি বৃষ্টিপাত হলে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে, এ মাসে দেশে দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ২ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং গড় উজ্জ্বল সূর্যকিরণকাল ৪ দশমিক ৫ থেকে ৬ দশমিক ৫ ঘণ্টা থাকতে পারে।

সেপ্টেম্বরে কম বৃষ্টি, ২–৩ দফা তাপপ্রবাহের আভাস