ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
লন্ডনে ধ্রুব রাঠীর বিক্ষোভ, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি

লন্ডনে ধ্রুব রাঠীর বিক্ষোভ, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি

ভারতের নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বিক্ষোভ করেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীসহ প্রবাসী ভারতীয়দের একটি অংশ। স্থানীয় সময় লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কয়ারে মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্যের কাছে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।বিক্ষোভকারীরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার কারণে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ কংগ্রেসের যুব শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে। যুক্তরাজ্যে থাকা কয়েকটি ভারতীয় ছাত্র ও প্রবাসী সংগঠনও এতে সমর্থন জানায়। সমর্থনকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল ‘সেভ ডেমোক্রেসি’, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার ব্রিটেন শাখা এবং সাউথ এশিয়া সলিডারিটি গ্রুপ।বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন পোস্টার ও পতাকা দেখা যায়। এ সময় তাঁরা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দেন। পাশাপাশি ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনাও পাঠ করা হয়।লন্ডনে দাঁড়িয়ে অবাধে কথা বলতে পারছিবিক্ষোভে বক্তব্য দিতে গিয়ে ধ্রুব রাঠী বলেন, তাঁরা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ চান না। বরং লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কয়ারে দাঁড়িয়ে ভারতীয় ও প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন তাঁরা।ভারতে প্রতিবাদ করার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধ্রুব রাঠী বলেন, সেখানে প্রতিবাদ করতে না পারলেও লন্ডনে দাঁড়িয়ে অবাধে কথা বলা যাচ্ছে।দিল্লিতে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং বিক্ষোভকারীদের আটকের অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর দাবি, দিল্লিতে ৩৫ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং সাত হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।বাড়ি থেকে আটকের অভিযোগ ধ্রুব রাঠীরদিল্লিতে সিজেপির কর্মসূচির আগে গুরুগ্রামে নিজের বাড়ি থেকে আটক হওয়ার ঘটনাও বক্তব্যে তুলে ধরেন ধ্রুব রাঠী। তাঁর দাবি, তাঁকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনাকে তিনি অপহরণ বলে অভিহিত করেছিলেন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটকের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর মুক্তি পান তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর বক্তব্য ও অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে।মোদির সমর্থকদের পাল্টা স্লোগানলন্ডনের বিক্ষোভে শুধু ধ্রুব রাঠীর সমর্থকেরাই উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতা করে আরেকটি দলও সেখানে জড়ো হয়। ওই দলের সদস্যরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমর্থনে স্লোগান দেন।ফলে একই স্থানে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মোদির পক্ষে পাল্টা স্লোগানের ঘটনা ঘটে। ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক বিতর্ক যে প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যেও প্রতিফলিত হচ্ছে, এ কর্মসূচি তারই একটি উদাহরণ।