ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
মির্জাখীল দরবার শরীফে ওরস শুরু আজ, থাকছে নানা ধর্মীয় আয়োজন

মির্জাখীল দরবার শরীফে ওরস শুরু আজ, থাকছে নানা ধর্মীয় আয়োজন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরীফে হজরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মুহাম্মদ আরেফুল হাই (ক.)-এর প্রথম ওরস শরীফ ও ওফাত দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী ধর্মীয় কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর, বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এ আয়োজন চলবে।ওরস উপলক্ষে দরবার শরীফে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, ফাতেহা পাঠ, দোয়া মাহফিল এবং তাঁর জীবন, আধ্যাত্মিক সাধনা ও ধর্মীয় অবদান নিয়ে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। এতে দেশ-বিদেশ থেকে মুরিদান, ভক্ত ও আশেকানদের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা। সিলসিলাহ-ই-আলীয়াহ জাহাঁগীরিয়াহর অন্যতম আধ্যাত্মিক কেন্দ্র ও প্রধান মারকায হিসেবে পরিচিত মির্জাখীল দরবার শরীফ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। দরবারটিতে নিয়মিত মাসিক ও দৈনিক ফাতেহা, খতমে কোরআন, খতমে গাউসিয়া, মিলাদ ও সামা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক শিক্ষায় আত্মশুদ্ধি, নৈতিক চরিত্র গঠন, পীর-মুর্শিদের নির্দেশনা অনুসরণ এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজকদের আশা, তিন দিনব্যাপী ওরস শরীফের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মানবসেবার চেতনা আরও সুদৃঢ় হবে।

ঢাকায় পীর-মাশায়েখদের সম্মেলন, সুফি অনুসারীদের ঐক্যের আহ্বান

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে পীর-মাশায়েখ ও সুফি তরিকার অনুসারীদের একটি বড় সম্মেলন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পাকিস্তান, ভারত, ইরানসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন দরবার ও খানকা শরীফের প্রায় ৩ হাজার পীর-মাশায়েখ ও প্রতিনিধি অংশ নেন।পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন দেওয়ানবাগ শরীফের পরিচালক ও সমন্বয়ক ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা।সম্মেলন থেকে সুফি তরিকার অনুসারীদের মধ্যে ঐক্য জোরদার, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ও ভালোবাসা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সুফিবাদ ও ঈদে মিলাদুন্নবীকে ঘিরে বিদ্বেষ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।ইমাম কুদরত এ খোদা বলেন, কোনো একটি দরবার সমস্যায় পড়লে অন্য দরবারের অনুসারীদেরও তার পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, “পীর-মাশায়েখরা আছেন বলেই আজও বাংলার জমিনে রাসুল (সা.)-এর মহব্বত জাগ্রত আছে।”ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে বিরোধিতা ও অপপ্রচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-কে ভালোবাসার জন্য আশেকে রাসুলদের কোনো দলিলের প্রয়োজন নেই। দেওয়ানবাগ শরীফ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দিয়ে তিনি বলেন, “দেওয়ানবাগ শরীফে শরিয়তের বাইরে কোনো কার্যক্রম চলে না।”তিনি আরও বলেন, এ সম্মেলনের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তরিকাপন্থীরা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা থেকেই একত্রিত হয়েছেন।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ইমাম কুদরত এ খোদা উপমহাদেশের সুফিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্যের একটি ক্ষেত্র তৈরি করছেন।ইরানের আল-মুস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম শাহাবুদ্দিন মাশায়েখী ইরানের সুফিদের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।ভারত থেকে আজমীর শরীফের সৈয়দ সালাউদ্দিন চিশতি, হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া দরগাহের সৈয়দ আনিস নিজামী ও সৈয়দ ফাইজ নিজামী এবং পাকিস্তান থেকে দরগাহে হযরত বাবা গানসকল মাসুদের দিওয়ান আহমেদ মাসুদ, দরগাহে হযরত শাহ জাফর আলির পীর সৈয়দ আমীর হোসেনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বাংলাদেশের মাইজভান্ডার, সুরেশ্বর, শেরে বাংলা, সাইফিয়া, মোহাম্মদীয়া, হাক্কানি, চিশতিয়া পাক পাঞ্জাতন, পরদেশি, সুফি আস্তানা, দয়াময়, নুরে মদীনা, চিশতিয়া নিজামিয়া, করন নগর, মাওলা ভরসা, ছতুরা, ভুলুয়া হায়দারি ও কুতুবদিয়া পাক দরবার শরীফসহ বিভিন্ন দরবারের পীর-মাশায়েখরাও সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

ঢাকায় পীর-মাশায়েখদের সম্মেলন, সুফি অনুসারীদের ঐক্যের আহ্বান