ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

ছয় মাসে বিএনপি সরকার: সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব



ছয় মাসে বিএনপি সরকার: সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কোনো সরকারের প্রথম কয়েক মাসেই তার অগ্রাধিকার, সক্ষমতা ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশের অনেকটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আধুনিক গণতন্ত্রে তাই সরকারের প্রথম ১০০ দিন বা ছয় মাসকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রেও ছয় মাস পূর্তিতে সেই মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আজ ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হলো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেয়।

সরকারের ছয় মাস পূর্তিকে ঘিরে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনী অঙ্গীকারের অধিকাংশই ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে এই দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কতটা মিল রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নও রয়েছে।

১৮০ দিনের হিসাব

সরকারের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে ১৮০ দিনের একটি সময়সীমা প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্ধারণ করেছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের ভাষণে তিনি সরকার ও দলের কাজের অগ্রগতি পরিমাপের জন্য এই সময়ের কথা তুলে ধরেন।

নির্বাচনের আগে তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘ধানের শীষের বিজয় হলে ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের দিন।’ ফলে ছয় মাস পূর্তির এই মূল্যায়ন কেবল বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের চাপিয়ে দেওয়া কোনো পরীক্ষা নয়; বরং সরকারের নিজের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা

গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবায় দ্রুত পরিবর্তন দেখতে চাইছেন মানুষ।

সরকার ইতোমধ্যে নিজেদের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করেছে। তবে ছয় মাসের সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে সরকারকে এখনই পুরোপুরি সফল কিংবা ব্যর্থ—কোনো একটি অভিধায় চিহ্নিত করা কঠিন।

সরকারের কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি যেমন রয়েছে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত গতিতে পরিবর্তন আসেনি। ফলে ছয় মাসের হিসাবের পাল্লা এখনো পুরোপুরি কোনো একদিকে হেলে পড়েনি।

সামনে আরও বড় পরীক্ষা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একটি সরকারের জন্য প্রথম ছয় মাস গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়নের ওপর। বিশেষ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের সামনে এখন আরও বড় পরীক্ষা।

সব মিলিয়ে ছয় মাসের মূল্যায়নে বর্তমান সরকারের অবস্থানকে একেবারে সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার খাতায় ফেলা যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত সামগ্রিক পাল্লা সামান্য হলেও আশার দিকেই ঝুঁকে আছে—এমন মূল্যায়নই সামনে আসছে।

বিষয় : তারেক রহমান রাজনীতি সরকারের মূল্যায়ন জাতীয় রাজনীতি ছয় মাসের মূল্যায়ন

দৈনিক নবকাল

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


ছয় মাসে বিএনপি সরকার: সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কোনো সরকারের প্রথম কয়েক মাসেই তার অগ্রাধিকার, সক্ষমতা ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশের অনেকটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আধুনিক গণতন্ত্রে তাই সরকারের প্রথম ১০০ দিন বা ছয় মাসকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রেও ছয় মাস পূর্তিতে সেই মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আজ ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হলো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেয়।

সরকারের ছয় মাস পূর্তিকে ঘিরে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনী অঙ্গীকারের অধিকাংশই ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে এই দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কতটা মিল রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নও রয়েছে।

১৮০ দিনের হিসাব

সরকারের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে ১৮০ দিনের একটি সময়সীমা প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্ধারণ করেছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের ভাষণে তিনি সরকার ও দলের কাজের অগ্রগতি পরিমাপের জন্য এই সময়ের কথা তুলে ধরেন।

নির্বাচনের আগে তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘ধানের শীষের বিজয় হলে ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের দিন।’ ফলে ছয় মাস পূর্তির এই মূল্যায়ন কেবল বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের চাপিয়ে দেওয়া কোনো পরীক্ষা নয়; বরং সরকারের নিজের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা

গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবায় দ্রুত পরিবর্তন দেখতে চাইছেন মানুষ।

সরকার ইতোমধ্যে নিজেদের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করেছে। তবে ছয় মাসের সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে সরকারকে এখনই পুরোপুরি সফল কিংবা ব্যর্থ—কোনো একটি অভিধায় চিহ্নিত করা কঠিন।

সরকারের কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি যেমন রয়েছে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত গতিতে পরিবর্তন আসেনি। ফলে ছয় মাসের হিসাবের পাল্লা এখনো পুরোপুরি কোনো একদিকে হেলে পড়েনি।

সামনে আরও বড় পরীক্ষা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একটি সরকারের জন্য প্রথম ছয় মাস গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়নের ওপর। বিশেষ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের সামনে এখন আরও বড় পরীক্ষা।

সব মিলিয়ে ছয় মাসের মূল্যায়নে বর্তমান সরকারের অবস্থানকে একেবারে সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার খাতায় ফেলা যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত সামগ্রিক পাল্লা সামান্য হলেও আশার দিকেই ঝুঁকে আছে—এমন মূল্যায়নই সামনে আসছে।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
ছয় মাসে বিএনপি সরকার: সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব
0:00 0:00
1.0x