ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পাওয়ায় বিপাকে জেলে পরিবার



ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পাওয়ায় বিপাকে জেলে পরিবার
বরগুনার তালতলীতে পায়রা নদীতে ইলিশ না পেয়ে ঘাটে নৌকা বেঁধে অলস সময় কাটাচ্ছে জেলেরা। ছবি: সংগ্রহ

ভরা মৌসুমেও বরগুনার তালতলীর পায়রা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। জেলেদের অভিযোগ, সাগর মোহনায় বিস্তৃত ডুবোচর এবং আইসোটেক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের গরম পানি ও বর্জ্য নদীতে পড়ায় ইলিশের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৮ হাজার জেলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পায়রা-বিষখালী নদীর মোহনায় বড়াইয়্যার ডুবোচর প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এ ছাড়া নলবুনিয়া, পদ্মা ও কুমিরমারা চরও নদীর প্রবেশমুখে রয়েছে। ভাটার সময় এসব এলাকা অনেকটাই জেগে ওঠে। জোয়ারের সময় সেখানে তীব্র স্রোত ও ঢেউ তৈরি হয়।

জেলেদের ভাষ্য, এসব ডুবোচরের কারণে স্বাভাবিক জোয়ারের পানি নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে ইলিশের নদীতে ঢোকার পথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তালতলীর জয়ালভাঙ্গায় ২০১৯ সালে আইসোটেক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সাল থেকে কেন্দ্রটি উৎপাদনে রয়েছে। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, কেন্দ্র থেকে নির্গত গরম পানি ও রাসায়নিক বর্জ্য নদীর পানির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। এর প্রভাব ইলিশের প্রজননেও পড়তে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

তালতলীতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৭ হাজার ৯০০। আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন—এই চার মাসকে ইলিশের প্রধান মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এ সময়ের আয় দিয়েই অনেক জেলে পরিবার সারা বছরের খরচ মেটায়। তবে মৌসুমের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও নদীতে ইলিশের পরিমাণ কম বলে জানিয়েছেন জেলেরা।

নলবুনিয়ার জেলে হিরন হাওলাদার বলেন, ‘মোহনায় চরের কারণে স্বাভাবিক জোয়ারের পানি পায়রায় আসে না। ফলে ইলিশও ঢুকতে পারে না। চর না কাটলে নদীতে ইলিশ আসার সম্ভাবনা নেই।’

তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের জেলে মহসিন বলেন, জোয়ারের শুরুতে নদীতে স্রোত কম থাকে। মাঝজোয়ারে স্রোত বাড়লে কিছু ইলিশ ধরা পড়ে। তবে মাছের পরিমাণ খুবই কম।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, সাগর মোহনায় ডুবোচর ও নাব্যতা সংকট ইলিশের চলাচলে বড় বাধা তৈরি করছে। ইলিশের নদীতে প্রবেশের জন্য গভীর পানি প্রয়োজন। এর সঙ্গে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উষ্ণ পানি ও বর্জ্য যুক্ত হওয়ায় প্রজনন ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

তালতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, সাগর মোহনায় ডুবোচরের কারণে পায়রা নদীর নাব্যতা কমেছে। এতে জোয়ারের স্রোত দুর্বল হচ্ছে এবং ইলিশ নদীতে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ছে।

ইলিশের চলাচল স্বাভাবিক করতে দ্রুত সাগর মোহনার ডুবোচর অপসারণ এবং তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

বিষয় : ইলিশ বরগুনা মৎস্য পায়রা নদী কাকচিরা নদী

দৈনিক নবকাল

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পাওয়ায় বিপাকে জেলে পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভরা মৌসুমেও বরগুনার তালতলীর পায়রা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। জেলেদের অভিযোগ, সাগর মোহনায় বিস্তৃত ডুবোচর এবং আইসোটেক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের গরম পানি ও বর্জ্য নদীতে পড়ায় ইলিশের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৮ হাজার জেলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পায়রা-বিষখালী নদীর মোহনায় বড়াইয়্যার ডুবোচর প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এ ছাড়া নলবুনিয়া, পদ্মা ও কুমিরমারা চরও নদীর প্রবেশমুখে রয়েছে। ভাটার সময় এসব এলাকা অনেকটাই জেগে ওঠে। জোয়ারের সময় সেখানে তীব্র স্রোত ও ঢেউ তৈরি হয়।

জেলেদের ভাষ্য, এসব ডুবোচরের কারণে স্বাভাবিক জোয়ারের পানি নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে ইলিশের নদীতে ঢোকার পথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তালতলীর জয়ালভাঙ্গায় ২০১৯ সালে আইসোটেক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সাল থেকে কেন্দ্রটি উৎপাদনে রয়েছে। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, কেন্দ্র থেকে নির্গত গরম পানি ও রাসায়নিক বর্জ্য নদীর পানির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। এর প্রভাব ইলিশের প্রজননেও পড়তে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

তালতলীতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৭ হাজার ৯০০। আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন—এই চার মাসকে ইলিশের প্রধান মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এ সময়ের আয় দিয়েই অনেক জেলে পরিবার সারা বছরের খরচ মেটায়। তবে মৌসুমের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও নদীতে ইলিশের পরিমাণ কম বলে জানিয়েছেন জেলেরা।

নলবুনিয়ার জেলে হিরন হাওলাদার বলেন, ‘মোহনায় চরের কারণে স্বাভাবিক জোয়ারের পানি পায়রায় আসে না। ফলে ইলিশও ঢুকতে পারে না। চর না কাটলে নদীতে ইলিশ আসার সম্ভাবনা নেই।’

তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের জেলে মহসিন বলেন, জোয়ারের শুরুতে নদীতে স্রোত কম থাকে। মাঝজোয়ারে স্রোত বাড়লে কিছু ইলিশ ধরা পড়ে। তবে মাছের পরিমাণ খুবই কম।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, সাগর মোহনায় ডুবোচর ও নাব্যতা সংকট ইলিশের চলাচলে বড় বাধা তৈরি করছে। ইলিশের নদীতে প্রবেশের জন্য গভীর পানি প্রয়োজন। এর সঙ্গে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উষ্ণ পানি ও বর্জ্য যুক্ত হওয়ায় প্রজনন ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

তালতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, সাগর মোহনায় ডুবোচরের কারণে পায়রা নদীর নাব্যতা কমেছে। এতে জোয়ারের স্রোত দুর্বল হচ্ছে এবং ইলিশ নদীতে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ছে।

ইলিশের চলাচল স্বাভাবিক করতে দ্রুত সাগর মোহনার ডুবোচর অপসারণ এবং তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পাওয়ায় বিপাকে জেলে পরিবার
0:00 0:00
1.0x