ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছে ইকোভা ফাউন্ডেশন

উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছে ইকোভা ফাউন্ডেশন

উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইকোভা ফাউন্ডেশন। দীর্ঘদিন ধরে বরগুনা, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে।ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, দুর্যোগের সময় করণীয় এবং পরবর্তী সময়ে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠনটি।ইকোভা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই কৃষি নিয়েও সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।ইকোভা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মতিন সাগর বলেন, সংগঠনের সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়নে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন ছাড়াই সদস্যদের সহযোগিতায় মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।মতিন সাগর বলেন, আমরা পৃথিবীকে ভালোবেসে কাজ করি। আমাদের লক্ষ্য হলো উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ যেন অন্য সবার মতো নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার পায়।তিনি বলেন, উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগঝুঁকি কমাতে শুধু দুর্যোগের সময় সহায়তা দেওয়াই যথেষ্ট নয়। দুর্যোগের আগেই মানুষকে প্রস্তুত করা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন। এ কারণে ইকোভা ফাউন্ডেশন সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিচ্ছে।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সংগঠনের প্রয়োজনইকোভা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ইকোভার মতো আরও সংগঠন গড়ে উঠা প্রয়োজন।তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর মানুষ যে প্রভাব ভোগ করছে, তার বড় একটি অংশই মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সচেতন মানুষের মাধ্যমে পরিচালিত সংগঠন খুবই প্রয়োজন।মো. বেলাল হোসেন আরও বলেন, ইকোভা ফাউন্ডেশন নিজেদের অর্থায়নে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সংগঠনটি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।তিনি বলেন, ইকোভা ফাউন্ডেশন নিজেদের অর্থায়নে কাজ করছে। তাই আমি আশা করছি, খুব দ্রুত তারা সরকার অথবা কোনো বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে অর্থায়ন নিয়ে আরও শক্তিশালী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।কৃষি ও জলবায়ু বিষয়ে পরামর্শইকোভা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন মো. নজরুল ইসলাম। তিনি একজন বিজ্ঞানী। কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সংগঠনটিকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।সংগঠনটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে কৃষি, পানি ও পরিবেশের বিষয়গুলো সরাসরি সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন তৈরি হচ্ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিকল্পনা করা হচ্ছে।ইকোভা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে দুর্যোগ মোকাবিলা ও সচেতনতার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই কৃষির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে।মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাবর্তমানে বরগুনা, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে পরিচালিত কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইকোভা ফাউন্ডেশন। বিশেষ করে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুর্যোগের প্রস্তুতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করতে চায় সংগঠনটি।ইকোভা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, উপকূলীয় মানুষের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি এবং জনগণকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত করার কাজ অব্যাহত রাখতে চায় সংগঠনটি।নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হওয়া কার্যক্রমকে ভবিষ্যতে প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য রয়েছে ইকোভা ফাউন্ডেশনের।  

পাথরঘাটার ১৩ জেলেকে নিয়ে ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ ৫

বৈরী আবহাওয়া ও সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটা উপকূলসংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে ‘এফবি বরকত’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। ট্রলারটিতে থাকা ১৩ জেলের মধ্যে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচজন।সোমবার বিকেলে কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে গভীর সাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির মালিক পাথরঘাটার আশরাফ কোম্পানি। ট্রলারে থাকা সব জেলের বাড়ি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়।নিখোঁজ জেলেরা হলেন নুর আলম (৩৭), কাওসার (৩০), সাইকুল (৩৩), ইব্রাহিম (২৮) ও বেল্লাল (২২)। তাঁরা সবাই পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা।উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের বাবুর্চি ইউনুস মোল্লা বলেন, দুর্ঘটনার সময় সাগর ছিল প্রচণ্ড উত্তাল। ঝড়ো হাওয়া ও বড় বড় ঢেউ ছিল। জাল ফেলার প্রস্তুতির সময় কয়েকজন জেলে ক্লান্ত হয়ে ট্রলারের ব্রিজের ভেতরে ঘুমিয়ে পড়েন। এর মধ্যে হঠাৎ বড় একটি ঢেউ ট্রলারে আঘাত করলে সেটি উল্টে যায়।ইউনুস মোল্লা জানান, ট্রলারের ব্রিজের ভেতরে আটকে পড়া একজন জেলে প্রায় ২০ মিনিট পর বের হতে সক্ষম হন। ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার পর আটজন জেলে প্রায় দুই ঘণ্টা সাগরে ভেসে ছিলেন। পরে কাছ দিয়ে যাওয়া অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার তাঁদের উদ্ধার করে। তবে তাঁদের সঙ্গে থাকা পাঁচ জেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘এফবি বরকত’ দুই দিন আগে পাথরঘাটা থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সাগরে যায়। সোমবার বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের মধ্যে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে একটি মাছ ধরার ট্রলার আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে।তিনি আরও বলেন, নিখোঁজ পাঁচ জেলের সন্ধানে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে একটি ট্রলার সাগরে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পাথরঘাটার ১৩ জেলেকে নিয়ে ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ ৫

ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পাওয়ায় বিপাকে জেলে পরিবার

ভরা মৌসুমেও বরগুনার তালতলীর পায়রা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। জেলেদের অভিযোগ, সাগর মোহনায় বিস্তৃত ডুবোচর এবং আইসোটেক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের গরম পানি ও বর্জ্য নদীতে পড়ায় ইলিশের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৮ হাজার জেলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পায়রা-বিষখালী নদীর মোহনায় বড়াইয়্যার ডুবোচর প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এ ছাড়া নলবুনিয়া, পদ্মা ও কুমিরমারা চরও নদীর প্রবেশমুখে রয়েছে। ভাটার সময় এসব এলাকা অনেকটাই জেগে ওঠে। জোয়ারের সময় সেখানে তীব্র স্রোত ও ঢেউ তৈরি হয়।জেলেদের ভাষ্য, এসব ডুবোচরের কারণে স্বাভাবিক জোয়ারের পানি নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে ইলিশের নদীতে ঢোকার পথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।তালতলীর জয়ালভাঙ্গায় ২০১৯ সালে আইসোটেক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সাল থেকে কেন্দ্রটি উৎপাদনে রয়েছে। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, কেন্দ্র থেকে নির্গত গরম পানি ও রাসায়নিক বর্জ্য নদীর পানির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। এর প্রভাব ইলিশের প্রজননেও পড়তে পারে বলে তাঁদের ধারণা।তালতলীতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৭ হাজার ৯০০। আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন—এই চার মাসকে ইলিশের প্রধান মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এ সময়ের আয় দিয়েই অনেক জেলে পরিবার সারা বছরের খরচ মেটায়। তবে মৌসুমের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও নদীতে ইলিশের পরিমাণ কম বলে জানিয়েছেন জেলেরা।নলবুনিয়ার জেলে হিরন হাওলাদার বলেন, ‘মোহনায় চরের কারণে স্বাভাবিক জোয়ারের পানি পায়রায় আসে না। ফলে ইলিশও ঢুকতে পারে না। চর না কাটলে নদীতে ইলিশ আসার সম্ভাবনা নেই।’তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের জেলে মহসিন বলেন, জোয়ারের শুরুতে নদীতে স্রোত কম থাকে। মাঝজোয়ারে স্রোত বাড়লে কিছু ইলিশ ধরা পড়ে। তবে মাছের পরিমাণ খুবই কম।শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, সাগর মোহনায় ডুবোচর ও নাব্যতা সংকট ইলিশের চলাচলে বড় বাধা তৈরি করছে। ইলিশের নদীতে প্রবেশের জন্য গভীর পানি প্রয়োজন। এর সঙ্গে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উষ্ণ পানি ও বর্জ্য যুক্ত হওয়ায় প্রজনন ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।তালতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, সাগর মোহনায় ডুবোচরের কারণে পায়রা নদীর নাব্যতা কমেছে। এতে জোয়ারের স্রোত দুর্বল হচ্ছে এবং ইলিশ নদীতে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ছে।ইলিশের চলাচল স্বাভাবিক করতে দ্রুত সাগর মোহনার ডুবোচর অপসারণ এবং তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পাওয়ায় বিপাকে জেলে পরিবার