ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
দুর্গাপূজায় বাংলাদেশি ইলিশ চেয়েছে ভারত

দুর্গাপূজায় বাংলাদেশি ইলিশ চেয়েছে ভারত

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক চিঠি দিয়েছে।ভারতীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গসহ আসাম ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পূজার আগে সীমিত পরিমাণে হলেও ইলিশ রপ্তানির সুযোগ চান তাঁরা। এ বিষয়ে সংগঠনটির নেতারা বাংলাদেশ সফর করে বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠি পাওয়া গেছে। কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা যায়, তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। তবে রপ্তানির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ হয়নি।ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন সময়ে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে অনুমোদিত পরিমাণের তুলনায় বাস্তবে রপ্তানি হয়েছে অনেক কম। সর্বশেষ ১ হাজার ২০০ টন অনুমোদনের বিপরীতে ভারতে গেছে মাত্র ১৫০ টন ইলিশ। পশ্চিমবঙ্গ ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ বলেন, এবার বেশি পরিমাণ ইলিশ আমদানির বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী। একই সঙ্গে রপ্তানির সময়সীমা তুলে দেওয়া এবং ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পাওয়ায় বিপাকে জেলে পরিবার

ভরা মৌসুমেও বরগুনার তালতলীর পায়রা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। জেলেদের অভিযোগ, সাগর মোহনায় বিস্তৃত ডুবোচর এবং আইসোটেক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের গরম পানি ও বর্জ্য নদীতে পড়ায় ইলিশের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৮ হাজার জেলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পায়রা-বিষখালী নদীর মোহনায় বড়াইয়্যার ডুবোচর প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এ ছাড়া নলবুনিয়া, পদ্মা ও কুমিরমারা চরও নদীর প্রবেশমুখে রয়েছে। ভাটার সময় এসব এলাকা অনেকটাই জেগে ওঠে। জোয়ারের সময় সেখানে তীব্র স্রোত ও ঢেউ তৈরি হয়।জেলেদের ভাষ্য, এসব ডুবোচরের কারণে স্বাভাবিক জোয়ারের পানি নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে ইলিশের নদীতে ঢোকার পথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।তালতলীর জয়ালভাঙ্গায় ২০১৯ সালে আইসোটেক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সাল থেকে কেন্দ্রটি উৎপাদনে রয়েছে। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, কেন্দ্র থেকে নির্গত গরম পানি ও রাসায়নিক বর্জ্য নদীর পানির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। এর প্রভাব ইলিশের প্রজননেও পড়তে পারে বলে তাঁদের ধারণা।তালতলীতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৭ হাজার ৯০০। আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন—এই চার মাসকে ইলিশের প্রধান মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এ সময়ের আয় দিয়েই অনেক জেলে পরিবার সারা বছরের খরচ মেটায়। তবে মৌসুমের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও নদীতে ইলিশের পরিমাণ কম বলে জানিয়েছেন জেলেরা।নলবুনিয়ার জেলে হিরন হাওলাদার বলেন, ‘মোহনায় চরের কারণে স্বাভাবিক জোয়ারের পানি পায়রায় আসে না। ফলে ইলিশও ঢুকতে পারে না। চর না কাটলে নদীতে ইলিশ আসার সম্ভাবনা নেই।’তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের জেলে মহসিন বলেন, জোয়ারের শুরুতে নদীতে স্রোত কম থাকে। মাঝজোয়ারে স্রোত বাড়লে কিছু ইলিশ ধরা পড়ে। তবে মাছের পরিমাণ খুবই কম।শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, সাগর মোহনায় ডুবোচর ও নাব্যতা সংকট ইলিশের চলাচলে বড় বাধা তৈরি করছে। ইলিশের নদীতে প্রবেশের জন্য গভীর পানি প্রয়োজন। এর সঙ্গে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উষ্ণ পানি ও বর্জ্য যুক্ত হওয়ায় প্রজনন ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।তালতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, সাগর মোহনায় ডুবোচরের কারণে পায়রা নদীর নাব্যতা কমেছে। এতে জোয়ারের স্রোত দুর্বল হচ্ছে এবং ইলিশ নদীতে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ছে।ইলিশের চলাচল স্বাভাবিক করতে দ্রুত সাগর মোহনার ডুবোচর অপসারণ এবং তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পাওয়ায় বিপাকে জেলে পরিবার