যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স প্ল্যাটফর্ম’ (আরবিওপি)।
সংগঠনটির
সভাপতি ও সাবেক সচিব
মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম এবং মহাসচিব ও
সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার মো.
কবিরুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে
এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে
বলা হয়, গত ১২
অক্টোবর জন এফ কেনেডি
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফররত অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কতিপয় ব্যক্তি অসৌজন্যমূলক ও অপমানজনক আচরণ
করেছেন। হুইলচেয়ারে চলাচলরত একজন অশীতিপর জ্যেষ্ঠ
নাগরিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণকে
চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলে
উল্লেখ করেন তাঁরা।
বিবৃতিতে
আরও বলা হয়, মতপ্রকাশের
স্বাধীনতা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। তবে একজন জ্যেষ্ঠ
নাগরিকের পথ আটকে তাঁর
সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ
কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অধ্যাপক ইউনূসের
বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক বলেও
দাবি করেন তাঁরা।
আরবিওপির
নেতারা বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে দেশের চরম
সংকটকালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁদের মতে, তিনি দেশকে
রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে
ভূমিকা রেখেছেন এবং একটি সুষ্ঠু
ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিরল দৃষ্টান্ত
স্থাপন করেছেন।
বিবৃতিতে
আরও উল্লেখ করা হয়, ফ্যাসিবাদের
পতনের পর দেশের পুনর্গঠন,
অর্থনৈতিক দুরবস্থা কাটিয়ে ওঠা, রাজনৈতিক ও
প্রশাসনিক সংস্কার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের
মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগে অধ্যাপক ইউনূসের ভূমিকার জন্য জাতি তাঁর
প্রতি কৃতজ্ঞ।
এ
ঘটনায় ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের মদদপুষ্ট বলে আখ্যায়িত বিভিন্ন
গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। একই সঙ্গে জুলাই
বিপ্লবের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা
ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।
বিবৃতিতে অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।