ঢাকা    শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে এআই, সতর্ক করল অ্যানথ্রপিক

নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে এআই, সতর্ক করল অ্যানথ্রপিক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিজেই নিজের প্রতিলিপি তৈরি করে ইন্টারনেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে-এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, ছোট ও মাঝারি আকারের এআই মডেলগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ ধরনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি এখনো নির্ভরযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে মডেলগুলোকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।সোমবার রাতে প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে অ্যানথ্রপিক জানায়, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া কোনো এআই ইন্টারনেট-সংযুক্ত বিভিন্ন ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজস্ব বটনেট তৈরি করতে পারে। এর মাধ্যমে এটি দ্রুত এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়তে পারে, বন্ধ করার প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে পারে এবং নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে ডেটা সেন্টারেও প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ এমন ঝুঁকির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও অন্যরা মনে করছেন, অ্যানথ্রপিক বিপদের মাত্রা বাড়িয়ে দেখাচ্ছে।অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডারিও আমোডেই গত মাসে প্রথম এ ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা, আগামী এক বছরের মধ্যে, এমনকি তার আগেও, এআই পুরো ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে এবং ইন্টারনেটজুড়ে স্থায়ী একটি বটনেট গড়ে তুলতে পারে।নিজেদের প্রতিলিপি তৈরির সক্ষমতা কতটাঅ্যানথ্রপিকের নতুন ব্লগ পোস্টে বলা হয়েছে, তাদের পরীক্ষায় ৩০ বিলিয়ন বা তার কম প্যারামিটারবিশিষ্ট মাঝারি আকারের এআই মডেলগুলোকে নিজেদের প্রতিলিপি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে দেখা গেছে। তবে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নির্ভরযোগ্যভাবে শেষ করতে এখনো তাদের সমস্যা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত কম খরচের বিভিন্ন ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এআই মডেলগুলো নিজেদের প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং ক্ষমতা সংগ্রহ করতে পারে। একটি সরলীকৃত পরীক্ষামূলক নেটওয়ার্কে মডেলগুলোকে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়তেও দেখা গেছে।অ্যানথ্রপিকের মতে, এভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিলিপি তৈরি করতে সক্ষম কোনো ব্যবস্থা বন্ধ করা কঠিন হতে পারে। কারণ, এ ধরনের নেটওয়ার্কে বন্ধ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নাও থাকতে পারে। ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার এআই সিস্টেম নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, নতুন এই বিশ্লেষণ তাতে আরও মাত্রা যোগ করেছে। এসব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় সাইবার হামলা, মানুষের সীমিত তদারকিতে কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী ও কর্মীরাও দ্রুতগতিতে এআইয়ের উন্নয়ন নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। তাঁদের কেউ কেউ নিয়ন্ত্রণহীন এআই বিকাশের ফলে গুরুতর, এমনকি মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।অ্যানথ্রপিকের সতর্কবার্তা নিয়ে সংশয়তবে অ্যানথ্রপিকের আশঙ্কার সঙ্গে একমত নন সব সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের সাবেক প্রধান সিয়েরান মার্টিন মনে করেন, পরীক্ষায় ছোট আকারের এআই মডেল চালাতে পারা মানেই বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হওয়া নয়। তিনি বলেন, আমরা সস্তা টেলিভিশনে একটি ছোট মডেল চালাতে পেরেছি এতেই নিরাপত্তাসংকট তৈরি হয়েছে, এমনটা বলা যায় না।মার্টিনের মতে, অ্যানথ্রপিকের পোস্টটি একটি আকর্ষণীয় প্রযুক্তিগত গবেষণাপত্র হলেও এতে বিপদের মাত্রা বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ঝেংশিয়ং লি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, পরীক্ষাগুলো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিচালিত হলেও এআই কার্যত একটি ‘ওয়ার্ম’-এ পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা উদ্বেগজনক।কম্পিউটার নিরাপত্তার ভাষায়, ওয়ার্ম হলো এমন এক ধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম, যা নিজে থেকেই প্রতিলিপি তৈরি করে বিভিন্ন ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। লি বলেন, কোনো কেন্দ্রীয় সেবার ওপর নির্ভর না করে এ ধরনের ব্যবস্থা অসংখ্য ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়লে সেটি বন্ধ করার মতো নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নাও থাকতে পারে।২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সক্ষমতা অর্জনের আশঙ্কাঅ্যানথ্রপিকের অনুমান, ছোট আকারের এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা অতীতের ধারায় বাড়তে থাকলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের প্রতিলিপি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।প্রতিষ্ঠানটি আরও আশঙ্কা করছে, এআই মডেলগুলো নিজেদের কম্পিউটিং ক্ষমতা বাড়াতে আরও শক্তিশালী অবকাঠামো, বিশেষ করে ডেটা সেন্টারের প্রসেসরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উপায় খুঁজে বের করতে পারে। এমনটা সম্ভব হলে তারা অনেক বড় পরিসরে কম্পিউটিং ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে। তবে একজন গবেষকের মতে, অ্যানথ্রপিকের বক্তব্যকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য ঝুঁকির একটি বিশ্লেষণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।এআইয়ের সক্ষমতা যত বাড়ছে, ততই এর নিরাপদ ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য অপব্যবহার প্রতিরোধের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অ্যানথ্রপিকের সতর্কবার্তা সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।সূত্র: রয়টার্স

এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ঝুঁকি: এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন

অ্যানথ্রপিকে তিন বছর কাজ করার পর পদত্যাগ করেছেন ২৭ বছর বয়সী এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন। বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উন্নত এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন।কক্সনের দাবি, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক দ্রুত নিজে নিজে সক্ষমতা বাড়াতে পারে এমন ‘সেলফ-ইমপ্রুভিং সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরির দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু এর সম্ভাব্য ঝুঁকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের প্রযুক্তি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘জুয়া’ খেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে।এআই খাতের অনেক শীর্ষ গবেষক ও নির্বাহী ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, আগামী এক দশকের মধ্যেই উন্নত এআই মানবজাতির জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলেও দাবি করেন কক্সন।তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের সুপারইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম সাইবার হামলা, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং বাস্তব সম্পদ ও ক্ষমতা অর্জনে মানুষের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম হতে পারে।অ্যানথ্রপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্স লিড ইভান হাবিঙ্গারও ঝুঁকির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত ধারণা, আগামী দশকে এআইয়ের কারণে মানবজাতির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার ঝুঁকি ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে। তবে বর্তমান এআই মডেলের ঝুঁকি তুলনামূলক কম বলে মনে করেন তিনি।কক্সন এআই উন্নয়নের গতি নিয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রয়োজনে মডেলের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর পদক্ষেপের কথাও বলেছেন তিনি। তাঁর পদত্যাগ এআই উন্নয়ন থামাবে না, তবে শিল্পের ভেতর থেকেই আসা এই সতর্কবার্তা সুপারইন্টেলিজেন্সের অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। সূত্র: এনডিটিভি

এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ঝুঁকি:  এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন