মোখায় ইয়েমেনি বাহিনীর দুর্বলতা স্পষ্ট, হুথিদের অগ্রযাত্রার আশঙ্কা
ইরান-সমর্থিত হুথিদের দখল ঠেকাতে ইয়েমেনের
বন্দরনগরী মোখায় অবস্থানরত ইয়েমেনি ব্যাটালিয়নগুলো গত বৃহস্পতিবার অনেকটাই
অপ্রস্তুত ছিল। বাহিনীর তালিকায়
বিপুলসংখ্যক এমন সেনার নাম
ছিল, বাস্তবে যাঁদের কোনো অস্তিত্বই ছিল
না।‘ঘোস্ট
নেম’ বা ভুতুড়ে নামের
এসব সেনার নামে নিয়মিত বেতনও
দেওয়া হতো। ফলে কাগজে-কলমে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীকে
প্রকৃত শক্তির তুলনায় অনেক বড় দেখাত।
বাস্তবে বাহিনীর সদস্যসংখ্যা নথিতে উল্লেখ করা সংখ্যার মাত্র
প্রায় ২০ শতাংশ ছিল। মোখার
পতনকে সৌদি আরব ও
যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের ভুল
হিসেবে দেখছেন অনেকে। তাঁদের মতে, ওয়াশিংটন ও
রিয়াদের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করার
কারণেই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে।এ
ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় ইয়েমেনি বাহিনীর
ওপর চাপানো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, গতকাল পুরো দিন সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো
বিমান হামলা হয়নি। অথচ মাটির পরিস্থিতি
সম্পর্কে তাদের প্রতি মিনিটে তথ্য জানানো হচ্ছিল।
শেষ পর্যন্ত সৌদি বিমান সহায়তা
আসেনি।তবে
মোখা রক্ষায় ব্যর্থতার পেছনে ইয়েমেনের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন
অনেকে। বিষয়টি হুথিবিরোধী জোটের আরও বড় একটি
দুর্বলতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা
হচ্ছে। ইয়েমেনে
হুথিবিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যের অভাব রয়েছে। একই
সঙ্গে দেশটিতে কার্যকর কোনো ঐক্যবদ্ধ সামরিক
কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও নেই।এ
অবস্থায় হুথিরা আরও পূর্বদিকে অগ্রসর
হয়ে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে বলে
আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই
সঙ্গে তারা নিজেদের সেনা
ও সামরিক সক্ষমতা আরও সংগঠিত করছে।