ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
এআই কি মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে?

এআই কি মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের শেখার পদ্ধতি, চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতার জগতে দ্রুত পরিবর্তন আনছে। এ প্রযুক্তির সহায়তায় অল্প সময়ে জটিল বিষয় শেখা এবং নতুন ধারণা তৈরি করা সহজ হচ্ছে। তবে এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও দক্ষতা বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে সৃজনশীল কাজের মধ্যে বৈচিত্র্য কমে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে আই অ্যাম অ্যান এক্সপার্ট ইন এআই কনশাসনেস হিয়ার’স হাউ দিস নিউ ইন্টেলিজেন্স ইজ নাউ শেপিং আওয়ার্স শিরোনামের এক নিবন্ধে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন এআই নীতিবিদ ও দার্শনিক হেনরি শেভলিন। তাঁর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এআইয়ের প্রভাব শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে সীমাবদ্ধ নয় মানুষের জ্ঞান অর্জন, স্মৃতি, চিন্তাভাবনা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজেদের পরিবর্তন করার ক্ষমতা মানুষের দীর্ঘদিনের বৈশিষ্ট্য।ছয় সপ্তাহে দুই বছরের সমান শেখার অগ্রগতিশিক্ষাক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার শেখার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। মানুষের দক্ষতা ও শিক্ষকের নির্দেশনার সঙ্গে সমন্বয় করে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে শিক্ষার্থীদের শেখার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। নাইজেরিয়ার বেনিন সিটিতে পরিচালিত একটি গবেষণায় বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের বাইরে শিক্ষার্থীদের জেনারেটিভ এআইভিত্তিক শিক্ষকের সহায়তা দেওয়া হয়। শিক্ষকদের সহযোগিতায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এ কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা যে অগ্রগতি অর্জন করে, বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে তা প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় প্রায় দুই বছরের শেখার সমতুল্য।তবে এআই ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া গেলেই যে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব দক্ষতা একই হারে বাড়বে, তা নিশ্চিত নয়। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষার্থীকে সরাসরি উত্তর দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নাকি নিজে চিন্তা করে সমাধান খুঁজে পেতে সহায়তা করা হচ্ছে।এআইয়ের ওপর নির্ভরতায় পরীক্ষার ফল কমতে পারেশিক্ষার্থীদের ওপর এআইয়ের প্রভাব বোঝার জন্য ২০২৩ সালে তুরস্কের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গণিত শেখা নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়। গবেষণায় শিক্ষার্থীদের তিনটি দলে ভাগ করা হয়েছিল। একদল পাঠ্যবই ব্যবহার করে গণিত অনুশীলন করে। অন্য দুই দল ব্যবহার করে জিপিটি-৪-এর সাধারণ সংস্করণ এবং এমন একটি বিশেষায়িত সংস্করণ, যা সরাসরি উত্তর না দিয়ে ইঙ্গিতের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমাধানের দিকে এগিয়ে দেয়। ফলাফলে দেখা যায়, সাধারণ জিপিটি-৪ ব্যবহার করা শিক্ষার্থীদের অনুশীলনী পরীক্ষায় নম্বর প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছিল। কিন্তু পরে বই ছাড়া পরীক্ষা দেওয়ার সময় তাদের ফল পাঠ্যবই ব্যবহার করা শিক্ষার্থীদের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম ছিল।গবেষকদের ধারণা, এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এ ফলের একটি সম্ভাব্য কারণ। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের ইঙ্গিত দিয়ে সমাধান খুঁজতে সাহায্য করা বিশেষায়িত এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একই ধরনের ফল দেখা যায়নি। এ থেকে বোঝা যায়, এআইয়ের মাধ্যমে দ্রুত উত্তর পাওয়া এবং নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারা এক বিষয় নয়।সৃজনশীলতা বাড়লেও কমতে পারে বৈচিত্র্যলেখালেখি ও সৃজনশীল কাজেও এআইয়ের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ২৯৩ জন লেখককে নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় কয়েকজন লেখককে এআইয়ের দেওয়া গল্পের ধারণা ব্যবহার করতে বলা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, এআইয়ের সহায়তা পাওয়া গল্পগুলোকে তুলনামূলকভাবে বেশি সৃজনশীল বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে, যাঁদের সৃজনশীলতার মাত্রা আগে তুলনামূলকভাবে কম ছিল, তাঁদের কাজে উন্নতি বেশি দেখা গেছে।তবে এর পাশাপাশি গল্পগুলোর মধ্যে মিলও বেড়েছে। অর্থাৎ, এআই একজন লেখকের সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করলেও অনেকের সৃষ্টিশীল কাজ একে অপরের মতো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সৃজনশীলতার উন্নতি এবং সামগ্রিকভাবে সৃজনশীল বৈচিত্র্য বজায় রাখা দুটিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।প্রযুক্তির কারণে দক্ষতা হারানোর আশঙ্কা নতুন নয়নতুন প্রযুক্তি মানুষের চিন্তাশক্তি ও স্মৃতির ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, এ নিয়ে উদ্বেগ বহু পুরোনো। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটোও লেখার প্রচলন মানুষের স্মৃতিশক্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। প্লেটোর ফেড্রাস সংলাপে লেখার আবিষ্কার নিয়ে আলোচনায় সতর্ক করা হয়েছিল, লিখিত তথ্যের ওপর নির্ভরতা বাড়লে মানুষ নিজের স্মৃতির পরিবর্তে বাইরের তথ্যভান্ডারের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে।তবে লেখার প্রচলন মানুষের চিন্তাশক্তিকে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত করেনি। বরং জ্ঞান সংরক্ষণ, আদান-প্রদান ও বিকাশের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। ১৯৩০-এর দশকে মার্কিন ধ্রুপদি সাহিত্য গবেষক মিলম্যান প্যারি বলকান অঞ্চলের দক্ষিণ স্লাভিক কবিদের মৌখিক ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি দেখতে পান, অনেক কবি লিখতে না জানলেও স্মৃতি থেকে হাজার হাজার পঙ্‌ক্তির দীর্ঘ কবিতা আবৃত্তি করতে পারতেন। তাঁরা প্রতিবার কবিতাগুলো নতুনভাবে উপস্থাপনও করতেন।এ উদাহরণ দেখায়, কোনো দক্ষতার চর্চা কমে গেলে সময়ের সঙ্গে তা হারিয়ে যেতে পারে। প্রযুক্তি নতুন সক্ষমতা তৈরি করলেও পুরোনো কিছু দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিতে পারে।প্রযুক্তির সঙ্গে বদলেছে মানুষের জীবন ও মস্তিষ্কমানুষের ইতিহাসে প্রযুক্তি ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বহু উদাহরণ রয়েছে। আগুনের ব্যবহার ও রান্নার প্রচলন মানুষের পূর্বপুরুষদের খাবার থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তি পেতে সাহায্য করেছিল। দীর্ঘ সময়ে এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে মানুষের দাঁত, চোয়াল ও পরিপাকতন্ত্রের গঠনে পরিবর্তন এসেছে।কৃষিকাজের প্রসার মানুষের পক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষের খাদ্যের জোগান দেওয়া সহজ করেছে। তবে এর ফলে প্রকৃতির বিভিন্ন উদ্ভিদ, ভেষজ, মাশরুম ও বেরির মধ্যে কোনগুলো খাওয়ার উপযোগী, সে বিষয়ে বিস্তৃত জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তা কমেছে।পড়ার অভ্যাসও মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্রমে পরিবর্তন এনেছে। স্নায়ুবিজ্ঞানী স্তানিসলাস দ্যানে ও তাঁর সহকর্মীদের গবেষণায় দেখা গেছে, পড়তে শেখার ফলে মস্তিষ্কের দৃশ্য-প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার একটি অংশ লিখিত শব্দ শনাক্ত করার উপযোগী হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে মুখ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ওই অংশের প্রতিক্রিয়ায় সামান্য পরিবর্তনও আসতে পারে।দার্শনিক অ্যান্ডি ক্লার্কের বক্তব্য উদ্ধৃত করে শেভলিন বলেন, মানুষ স্বভাবগতভাবেই নিজের সক্ষমতা বাড়াতে বাইরের উপকরণ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে। মানুষের মস্তিষ্কের পরিবর্তনশীলতা এবং সংস্কৃতির নমনীয়তা এ বৈশিষ্ট্যেরই প্রকাশ।এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ব্যবহারের ধরনের ওপরশেভলিনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এআই মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর নতুন একটি মাধ্যম। এটি একদিকে এমন কিছু কাজ করতে পারছে, যা আগে প্রযুক্তির পক্ষে সম্ভব ছিল না; অন্যদিকে মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতা সম্প্রসারণের দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে।তবে এআই মানুষের জন্য কতটা উপকারী হবে, তা শুধু প্রযুক্তির সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে না। কীভাবে এটি তৈরি করা হচ্ছে এবং মানুষ কীভাবে ব্যবহার করছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্কের শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা গবেষণায় সরাসরি উত্তর দেওয়া এআই এবং নিজে সমাধান খুঁজতে সহায়তা করা এআইয়ের ফলাফলে পার্থক্য দেখা গেছে। অর্থাৎ, এমনভাবে এআই ব্যবহার করা সম্ভব, যাতে মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও শেখার ক্ষমতা বিকশিত হয়।মানবজাতি এখন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে মানুষের কী ধরনের সুবিধা বা ক্ষতি হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ইতিহাস বলছে, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মানুষের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষমতাও রয়েছে।

মানুষের বিকল্প নয়, এআইকে মানুষের হাতিয়ার হিসেবেই রাখতে হবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়, মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এর বিকাশ বন্ধ করে দেওয়া যেমন সমাধান নয়, তেমনি কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ব্যবহার বাড়ানোও ঝুঁকিপূর্ণ।মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে কে জিতবে—মূল প্রশ্ন সেটি নয়। বরং মানুষের তৈরি সমাজে যন্ত্রের সক্ষমতা কীভাবে কাজে লাগানো হবে এবং এআইয়ের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে বজায় থাকবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।বিশ্বে এআই নিয়ে দুটি বিপরীত ধারণা রয়েছে। এক পক্ষ মনে করে, এ প্রযুক্তি মানবজাতির প্রায় সব সমস্যার সমাধান করতে পারে। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, এআই মানবসভ্যতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তবে এই দুই চরম অবস্থানের বাইরে গিয়ে এর সুফল ও ঝুঁকি—দুটিই বিবেচনা করা প্রয়োজন।প্রযুক্তি নিজে ভালো বা খারাপ নয়; এর প্রভাব নির্ভর করে মানুষ কীভাবে সেটি তৈরি, ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ করছে তার ওপর। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রযুক্তি মানুষের জীবন বদলালেও সব পরিবর্তন ইতিবাচক হয়নি।এআইয়ের প্রভাব কর্মক্ষেত্রেও পড়ছে। নথি যাচাই, ই-মেইল লেখা কিংবা পরিকল্পনা তৈরির মতো কাজ এআই করতে পারলে প্রাথমিক পর্যায়ের অনেক চাকরির চাহিদা কমতে পারে। এতে বেকারত্বের পাশাপাশি মানুষের আয়, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।তবে এআইয়ের সুফলও রয়েছে। চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ে এটি চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারে। মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে করানো গেলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে মানুষের ভুলও কমানো যেতে পারে।তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি যন্ত্রের ওপর ছেড়ে দিলে নতুন প্রশ্ন তৈরি হবে—ভুল সিদ্ধান্তের দায় নেবে কে? এআই মানুষের ভুল কমাতে পারে, আবার মানুষের বিচারবোধকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।ভুল তথ্য ছড়ানো, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নজরদারির ক্ষেত্রেও এআই নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এর মাধ্যমে কম খরচে ও দ্রুত বিপুল পরিমাণ ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। ফলে সত্য ও কৃত্রিমভাবে তৈরি তথ্যের পার্থক্য করাও কঠিন হয়ে উঠবে।সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কোনো যন্ত্রের নেওয়া সিদ্ধান্তের দায় কার—প্রোগ্রামার, সামরিক কমান্ডার, অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নাকি রাষ্ট্র—তা নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে।এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলার অর্থ গবেষণা বন্ধ করা নয়। বরং কোথায় এআই ব্যবহার করা হবে, কোথায় হবে না এবং কী গতিতে এর ব্যবহার বাড়বে—সে বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, মানবিক জবাবদিহি ও মানুষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি মানুষ বনাম যন্ত্রের লড়াই নয়। প্রশ্ন হলো, মানুষ যন্ত্রের শক্তিকে নিজের কল্যাণে ব্যবহার করতে পারবে কি না। এআইকে মানুষের হাতে থাকা শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবেই রাখা ভবিষ্যতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।লেখক: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো

মানুষের বিকল্প নয়, এআইকে মানুষের হাতিয়ার হিসেবেই রাখতে হবে

এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ঝুঁকি: এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন

অ্যানথ্রপিকে তিন বছর কাজ করার পর পদত্যাগ করেছেন ২৭ বছর বয়সী এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন। বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উন্নত এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন।কক্সনের দাবি, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক দ্রুত নিজে নিজে সক্ষমতা বাড়াতে পারে এমন ‘সেলফ-ইমপ্রুভিং সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরির দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু এর সম্ভাব্য ঝুঁকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের প্রযুক্তি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘জুয়া’ খেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে।এআই খাতের অনেক শীর্ষ গবেষক ও নির্বাহী ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, আগামী এক দশকের মধ্যেই উন্নত এআই মানবজাতির জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলেও দাবি করেন কক্সন।তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের সুপারইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম সাইবার হামলা, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং বাস্তব সম্পদ ও ক্ষমতা অর্জনে মানুষের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম হতে পারে।অ্যানথ্রপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্স লিড ইভান হাবিঙ্গারও ঝুঁকির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত ধারণা, আগামী দশকে এআইয়ের কারণে মানবজাতির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার ঝুঁকি ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে। তবে বর্তমান এআই মডেলের ঝুঁকি তুলনামূলক কম বলে মনে করেন তিনি।কক্সন এআই উন্নয়নের গতি নিয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রয়োজনে মডেলের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর পদক্ষেপের কথাও বলেছেন তিনি। তাঁর পদত্যাগ এআই উন্নয়ন থামাবে না, তবে শিল্পের ভেতর থেকেই আসা এই সতর্কবার্তা সুপারইন্টেলিজেন্সের অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। সূত্র: এনডিটিভি

এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ঝুঁকি:  এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের উত্তরকে প্রভাবিত করার চেষ্টা ইসরাইলের

ইসরাইলের পক্ষে প্রচারণা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রে অস্তিত্বহীন একটি থিংক ট্যাংকের নামে বিপুল পরিমাণ লেখা প্রকাশ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের উত্তরকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এক অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।‘হ্যানোভার ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো বৈধ অস্তিত্ব, কার্যালয় কিংবা পরিচিত কর্মীর তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মাত্র নয় দিনে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে ১২৪টি প্রতিবেদন। ৬ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনের মোট শব্দসংখ্যা ৫ লাখ ৬০ হাজারের বেশি।এর মধ্যে ১২ ও ১৩ আগস্ট মাত্র দুই দিনে প্রকাশ করা হয় প্রায় ৩ লাখ ৫৪ হাজার শব্দের ৭৩টি প্রতিবেদন।গার্ডিয়ানের অনুসন্ধান অনুযায়ী, প্রতিবেদনগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে সেগুলোকে একটি নিরপেক্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণ হিসেবে মনে হয়। মূল লক্ষ্য ছিল এআই চ্যাটবটে ব্যবহারকারীদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তরের ক্ষেত্রে এসব কনটেন্টকে সামনে আনা।এসব প্রতিবেদনে এমন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা হয়—ইসরাইল কি গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে, ইসরাইল কি ফিলিস্তিনিদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করেছে এবং ইহুদিবাদের বিরোধিতা কি ইহুদিবিদ্বেষের সমান?তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব প্রতিবেদনের ভাষা ও তথ্য উপস্থাপনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগকে দুর্বল করার প্রবণতা ছিল।গার্ডিয়ানের হিসাবে, ১২৪টি প্রতিবেদনের মধ্যে ২০টিতে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যা বা বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ তুলে ধরে বলা হয়েছে, কোনো আদালত এখনো এসব বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেয়নি।অন্যদিকে, ৫৫টি প্রতিবেদনে গাজায় হতাহত ও ত্রাণ পরিস্থিতির পরিসংখ্যানকে ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত একটি পক্ষের’ তথ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া কঠিন—এমন একটি ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।পেছনে ইসরাইলের হয়ে কাজ করা মার্কিন প্রতিষ্ঠানওয়েবসাইটটির সঙ্গে নিউইয়র্কভিত্তিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠান পাইরো ইনকের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে। মার্কিন আইনের ‘ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট’ (এফএআরএ)-এর আওতায় পাইরো ইসরাইল সরকারের হয়ে কাজ করার বিষয়টি নথিভুক্ত করেছে।নথি অনুযায়ী, এ কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ১০ লাখ ডলারের একটি চুক্তিতে যুক্ত ছিল।অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্তিত্বহীন হ্যানোভার ইনস্টিটিউটকে ঘিরে এই কার্যক্রম ইসরাইলের বৃহত্তর অনলাইন প্রচারণার অংশ। মার্কিন নথিতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এই ধরনের প্রচারণায় কোটি কোটি ডলার ব্যয়ের তথ্যও উঠে এসেছে।এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এমন ওয়েবসাইট ও কনটেন্ট তৈরি করা, যেগুলো এআই সার্চ ও চ্যাটবটের উত্তরে উদ্ধৃত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।এআই প্রচারণায় নতুন কৌশলপ্রযুক্তি খাতে এ ধরনের কৌশলকে ‘জেনারেটিভ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন’ বা জিইও বলা হচ্ছে। সাধারণ সার্চ ইঞ্জিনে কোনো ওয়েবসাইটের অবস্থান ওপরে তোলার বদলে এ কৌশলের লক্ষ্য হলো চ্যাটজিপিটি, ক্লদ, জেমিনি কিংবা পারপ্লেক্সিটির মতো এআই সিস্টেমের উত্তরে নির্দিষ্ট তথ্য বা বয়ানকে বেশি দৃশ্যমান করা।গবেষকদের আশঙ্কা, এ ধরনের কনটেন্ট ভবিষ্যতে এআই মডেলের প্রশিক্ষণ-তথ্যের ভান্ডারে যুক্ত হলে এর প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।তবে এই প্রচারণা কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। গার্ডিয়ানের পরীক্ষায় দেখা গেছে, চ্যাটবটগুলো ইতিমধ্যে হ্যানোভার ইনস্টিটিউটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সতর্কতা দেখাতে শুরু করেছে। অর্থাৎ এসব প্রচারণামূলক কনটেন্ট এআইয়ের উত্তরে প্রভাব ফেললেও, কনটেন্টের উৎস নিয়ে সন্দেহের বিষয়টিও সামনে আসছে।যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রতি জনমতেও পরিবর্তনএদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রতি জনসমর্থন কমে যাওয়ার ইঙ্গিতও বিভিন্ন জরিপে পাওয়া গেছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্যালাপের এক জরিপে প্রথমবারের মতো ইসরাইলিদের তুলনায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি সহানুভূতি দেখানোর কথা জানান আমেরিকানরা।এপ্রিলের পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছেন।তবে ইসরাইলি সরকার যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ‘প্রভাব বিস্তার অভিযান’ চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাইরোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল রোজেনবার্গও বলেছেন, তাদের কাজ ছিল ইসরাইল সম্পর্কে ‘সঠিক ও তথ্যসূত্রসমৃদ্ধ’ তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং ভুল তথ্যের মোকাবিলা করা।বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা এআইয়ের যুগে তথ্যযুদ্ধের নতুন একটি দিক সামনে এনেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি এখন এআই চ্যাটবটের তথ্যভান্ডার ও উত্তরের কাঠামোকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে।ফলে এআই থেকে পাওয়া তথ্যের উৎস, নির্ভরযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের উত্তরকে প্রভাবিত করার চেষ্টা ইসরাইলের

এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও কাজের গতি বাড়াতে এর ব্যবহার হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও ও কণ্ঠ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ায় মিস-ইনফরমেশন ও ডিপফেক নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রযুক্তিবিদদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এআইয়ের অপব্যবহার সাইবার অপরাধ আরও জটিল করে তুলতে পারে।প্রযুক্তিবিদদের মতে, এআই ব্যবহার করে এমন ছবি ও ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা দেখে সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজে বোঝা সম্ভব নয় যে সেগুলো ভুয়া। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, ডেটা নিরাপত্তা এবং এআই মডেলের পক্ষপাত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।তথ্য ও প্রযুক্তিবিদ তানভীর হাসান জোহা বলেন, আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভুয়া তথ্য ও ডিপফেক। এগুলো মোকাবিলায় মানুষের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।এখনো হয়নি এআই নীতিমালাদেশে এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো নীতিমালা প্রণয়ন হয়নি। সরকার জানিয়েছে, এআই নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে এবং এ ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।গত ৭ জুলাই আইসিটি টাওয়ারে টেলিকম বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের কাছে এআই নীতিমালা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে এবং শিগগির নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এআই যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে, তেমনি এর অপব্যবহারও নানা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভুয়া তথ্য, ডিপফেক ও জনমত প্রভাবিত করার কাজে এআই ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার সক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়ছে ভুয়া ভিডিওসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব কনটেন্ট এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যে অনেকেই সেগুলোকে বাস্তব ঘটনা মনে করছেন। বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে এসব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হলেও প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক মানুষ তা করতে পারছেন না।সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে শেখ হাসিনাকে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও যৌথ সংবাদ সম্মেলন করতে দেখা যায়। পরে ভিডিওটি ভুয়া বলে জানা যায়।তথ্য যাচাইকারী সংস্থা ডিসমিসল্যাবের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাই মাসে বাংলাদেশে ইউটিউব চ্যানেলগুলোতে এআই দিয়ে তৈরি প্রায় এক হাজার ভুয়া ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। এসব ভিডিও জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।রাজনৈতিক কনটেন্টেও অপব্যবহারের অভিযোগসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বিরোধের ক্ষেত্রেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নামে পরিচালিত ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এআইয়ের অপব্যবহার শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়েই আলোচনার বিষয়। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক বট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নির্বাচনী জনমত প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক দ্বিদলীয় নীতি কেন্দ্র ‘Preparing for Artificial Intelligence and Other Challenges to Election Administration’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদপ্রযুক্তিবিদদের মতে, এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে অনেক কাজের ধরন বদলে যেতে পারে। ফলে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানবসম্পদের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে এআই ব্যবহারে নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এআই নীতিমালা তৈরির জন্য সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি ইউনেস্কোর পরামর্শ নিয়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে।

এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ