অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের
(কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের
একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার
অপ্রতিম হত্যার বিচার ও জড়িত ব্যক্তিদের
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক
অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে যান
চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।রোববার সকাল
সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের প্রথম
জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে
অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু
করেন। এর আগে সকাল
১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তাঁর প্রথম
জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।অবরোধের সময়
শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’,
‘অপ্রতিম হত্যার প্রশাসন জবাব দে’, ‘আমার
মা কাঁদে কেন, প্রশাসন জবাব
দে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন
জ্বালো’সহ বিভিন্ন স্লোগান
দেন। তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত
শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।পুলিশের ব্যর্থতার দায় নিতে হবেইংরেজি বিভাগের
শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজ শুধু
অপ্রতিমের জন্য এখানে আসিনি।
এটি সারা বাংলাদেশের চিত্র।
কুমিল্লাতেও প্রতিনিয়ত এসব হচ্ছে। এর
পরও পুলিশ সুপার অ্যাওয়ার্ড পান। আমরা অপ্রতিম
হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের
শিক্ষার্থী আরাফ ভূইয়া বলেন,
‘এটা সম্পূর্ণই পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা। পুলিশ বলে, “ক্লু পেয়েছি, ক্লু
পেয়েছি”; কিন্তু কী ক্লু তারা
পেয়েছে, তা আমরা জানি
না। এই ব্যর্থতার দায়
তারা যতক্ষণ না নেবে, আমরা
ততক্ষণ রাস্তায় আছি।’এর
আগে
দেওয়া
হয়েছিল ১২
ঘণ্টার আলটিমেটামঅপ্রতিম হত্যার
সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের
দাবিতে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে
হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত
আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতসহ
চার দফা দাবি তুলে
ধরেন তাঁরা।শিক্ষার্থীদের দাবির
মধ্যে ছিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত
প্রত্যেককে শনাক্ত করে ১২ ঘণ্টার
মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও ঘটনার বিস্তারিত
তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ এবং দ্রুত বিচার
নিশ্চিত করা।এ ছাড়া
কুমিল্লা শহর ও আশপাশের
এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা
নেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায়
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কুমিল্লা পুলিশ প্রশাসন, সদর দক্ষিণ থানা
ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বশীলদের স্বীকার করা এবং কুমিল্লা
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে স্থায়ী পুলিশ
ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়।শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম
হত্যাকাণ্ডসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কুমিল্লা প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে
দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় মহাসড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধসহ
কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।কুবি শিক্ষার্থী
হাসান অন্তর বলেন, ‘আমরা ১২ ঘণ্টার
আলটিমেটাম দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে
এসপিকে আমাদের কাছে এসে তদন্তে
কী কী পদক্ষেপ নেওয়া
হয়েছে, তা জানাতে হবে।
দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে আমরা
মহাসড়ক অবরোধ করব।’তিনি আরও
বলেন, এটি শুধু একটি
ঘটনার বিষয় নয় সাধারণ
শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ তৈরি
হয়েছে। প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়,
আমরা তা দেখব। এরপর
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অবস্থান
অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে।